ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সিলেটে একদিনে হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু নাটোরে বলাৎকার মামলায় ২ জন কারাগারে ডলার স্থিতিশীল, বেড়েছে ইউরো ও পাউন্ডের দাম চাঁদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত ১৯৭৮ সালে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাবা, ৪৮ বছর পর একই মাঠে প্রধানমন্ত্রী ছেলে লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় ভাঙচুর সিলেটে বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন চা শ্রমিকরা ‘সমর্থকরা আর্জেন্টিনার এই দলকে নিয়ে পাগল’, ইতিহাস গড়ার পর মেসি সিলেট পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ইরানি কৌশলেই উপসাগর থেকে গোপনে তেল সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ইতিহাস বদলানোর হুঙ্কার টমাস টুখেলের ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজারবাসী রংপুরে আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান ভুট্টু গ্রেপ্তার আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস কচুয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতির হুমকি, ‘সাংবাদিকতা ছুটিয়ে দেব’ ৬০ বছরের অপেক্ষা বনাম ক্রোয়াট ধারাবাহিকতা নওগাঁ সীমান্তে স্থানীয়দের হাতে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তি সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি জাহাঙ্গীরনগরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুনঃতদন্তের দাবি লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় প্রকল্পের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা শাহরাস্তিতে নারীর পেট থেকে ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা বিশ্বমঞ্চে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক, ক্লোসাকে ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা!
Nagad desktop

ইরানের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযানের ছক কষছে

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১০:২৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযানের ছক কষছে
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বললেও তারা গোপনে ইরানে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।

রবিবার  (২৯ মার্চ) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকজন প্রস্তুত আছে। মার্কিন সেনারা স্থলে নামলেই তাদের আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদেরও চূড়ান্তভাবে জবাব দেওয়া হবে।’

এদিকে ইসরায়েলি হামলা তীব্র হওয়ার মধ্যে ইরানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী তেহরান ও আশপাশের অঞ্চল এবং আলবোরজ প্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হচ্ছে।

এ হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করার চুক্তিতে রাজি না হলে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো হবে। তিনি আলোচনার সময়সীমা ১০ দিন বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করেছেন এবং একটি ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছেন, যাকে সমালোচকরা ‘অত্যন্ত কঠোর’ বলছেন।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, পেন্টাগন কয়েক সপ্তাহের সীমিত স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে খার্গ দ্বীপ, যা ইরানের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং হরমুজ প্রণালি-সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা।

যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সেনা ইউএসএস ত্রিপোলি জাহাজে করে অঞ্চলে পৌঁছেছে। এ ছাড়া ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের আরও হাজার হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা গত রবিবার তেহরানে অস্ত্র গবেষণা ও উৎপাদন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ১২০টির বেশি বোমা ফেলেছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২ হাজার ৭৬ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ২১৬ জন শিশু রয়েছে।

মেহর নিউজ এজেন্সি জানায়, ওসমাভানদান গ্রামের একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছে। এতে পাঁচটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং ২২টি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসফাহান শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও হামলা হয়েছে, এতে চারজন কর্মচারী আহত হয়েছেন। এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা অঞ্চলটির দুটি মার্কিন বা ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু করবে।

ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৬০০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলায় অন্তত ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন।

গত রবিবার তেহরানে কাতারের আল-আরাবি টিভির অফিস থাকা একটি বাণিজ্যিক ভবনেও হামলা হয়। বিস্ফোরণে ভবনের দেয়াল ও জানালা উড়ে যায়। ক্যামেরাম্যান মোহাম্মদ রেজা শাদেমান বলেন, ‘আমরা বেঁচে গেছি, এটা অলৌকিক ঘটনা। এখানে কোনো সামরিক লক্ষ্য ছিল না।’

এদিকে সংঘর্ষ বাড়ার মধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষতিপূরণ, ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ, যুদ্ধবিরতি, ভবিষ্যৎ সংঘাত প্রতিরোধ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি।

গত রবিবার ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া সাত দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তারা শনাক্ত করেছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। ইসরায়েলের নেগেভ অঞ্চলের একটি শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যেখানে কীটনাশক তৈরির একটি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৌভাগ্যক্রমে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র বিরশেবা শহরের কাছে খোলা স্থানে আঘাত হানে। এতে ১১ জন আহত হয়। হাইফা বন্দরের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। সংঘাত প্রশমনে পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসলামাবাদে বৈঠক করেছেন।

গালফ অঞ্চলে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ১৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪২টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। সৌদি আরব ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা বলেছে। কুয়েত ও বাহরাইনে সাইরেন বাজানো হয়।

ইরান জানিয়েছে, তারা জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইরানের এক নৌ কমান্ডার দাবি করেছেন, তারা হরমুজ প্রণালি-সংলগ্ন জলসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী কাছে এলে উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হবে।

যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়ছে। তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপে পড়ছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। সূত্র: আল জাজিরা

ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৮ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৮ এএম
ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক নতুন এক আর্থিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি যিনি এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন।

গত ১২ জুন মাস্কের মহাকাশযান প্রস্তুতকারক এবং মহাকাশ যাত্রা সেবা প্রদানকারী কোম্পানি স্পেসএক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয় প্রতি শেয়ার ১৫০ ডলারে, যা নির্ধারিত তালিকামূল্যের (১৩৫ ডলার) চেয়েও বেশি। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে এ প্রক্রিয়ায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে স্পেসএক্স। এর ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

স্পেসএক্স ও টেসলায় থাকা নিজের শেয়ারের মূল্য মিলিয়ে বর্তমানে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

এই বিপুল সম্পদের পরিমাণ বোঝাতে বিশ্লেষকরা একটি উদাহরণ দিয়েছেন। যদি কেউ প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার করে, দিনে ২৪ ঘণ্টা ও বছরে ৩৬৫ দিন খরচ করেন, তাহলেও ১ ট্রিলিয়ন ডলার শেষ করতে ১১৪ বছরের বেশি সময় লাগবে। অর্থাৎ মাস্কের সম্পদ এতটাই বিশাল যে তিনি এখন থেকে টানা ওই হারে অর্থ ব্যয় করলেও প্রায় ২১৪০ সাল পর্যন্ত তা চলতে পারে।

তবে এই সম্পদের বেশিরভাগই কাগুজে সম্পদ (পেপার ওয়েলথ)। অর্থাৎ এটি ব্যাংকে জমা থাকা নগদ অর্থ নয়, বরং টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের মূল্যায়নের পরিবর্তনের সঙ্গে এ সম্পদের পরিমাণও ওঠানামা করতে পারে।

মাস্কের সম্পদের ব্যাপ্তি বোঝার আরেকটি উপায় হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির সঙ্গে এর তুলনা করা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ২০টি দেশের অর্থনীতির আকার ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থাৎ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পুরো অর্থনীতির চেয়েও বেশি সম্পদের মালিক এখন ইলন মাস্ক।

এদিকে ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, মাস্কের সম্পদের পরিমাণ গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন এবং অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি। এমনকি তার সম্পদ বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেটের সম্পদের প্রায় সাত গুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।সূত্র: এনডিটিভি

খাদিজা রুমি/অমিয়/

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় টাইমস স্কয়ারে হাতাহাতি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া সমর্থকদের

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় টাইমস স্কয়ারে হাতাহাতি আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া সমর্থকদের
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ ‘জে’–এর উদ্বোধনী ম্যাচে বুধবার কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া।

এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে নিউ ইয়র্কের ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারে দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। মরক্কো ওয়ার্ল্ড নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফুটবল ভক্তদের উৎসবমুখর জমায়েতটি হঠাৎ করেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিউ ইয়র্কের অন্যতম এই আইকনিক স্থানে জড়ো হওয়া সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, দুই দেশের সমর্থকরা একে অপরকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছেন এবং অঙ্গভঙ্গি করছেন।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরু উদ্যাপন করতে টাইমস স্কয়ারে আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া ও ফ্রান্সের হাজার হাজার সমর্থক সমবেত হয়েছিলেন। শুরুতে পরিবেশটি উৎসবমুখর ছিল; ভক্তরা পতাকা ওড়াচ্ছিলেন এবং জাতীয় সংগীত গাইছিলেন।

কিন্তু আর্জেন্টিনার একদল সমর্থকের সঙ্গে আলজেরীয় সমর্থকদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে মুহূর্তেই পরিবেশ বদলে যায়।

পুলিশ পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে দেয় যাতে নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তবে এই সংঘর্ষে বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এসএন/

জলবায়ুজনিত ৩ ঝুঁকিতে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশু: ইউনিসেফ

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:০১ পিএম
জলবায়ুজনিত ৩ ঝুঁকিতে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিশু: ইউনিসেফ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশি শিশু জলবায়ুজনিত অন্তত তিনটি ঝুঁকির মুখে  রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বের কিছু অঞ্চলে এই প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের এ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের প্রতিবেদনে বিশ্বের প্রায় ২৪০ কোটি শিশুর বসবাসের স্থানের সাথে মিল রয়েছে এমন আটটি জলবায়ুজনিত প্রভাবের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই আটটি প্রভাব হলো: উপকূলীয় বন্যা, নদীভিত্তিক বন্যা, খরা, ক্রান্তীয় ঝড়, তাপপ্রবাহ (অন্তত টানা তিন দিন উচ্চ তাপমাত্রা, তবে দেশভেদে ভিন্ন হয়), চরম তাপমাত্রা, দাবানল ও বালুঝড়।

প্রতিবেদনটিতে মূলত ১১০ কোটি শিশুর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যারা অন্তত তিনটি ঝুঁকির সম্মুখীন। এর মধ্যে অধিকাংশ স্থানে মিল পাওয়া যায় এমন তিন ঝুঁকি হলো- খরা, চরম তাপমাত্রা (৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে) এবং তাপপ্রবাহ। এই তিনটির যৌথ প্রভাবে প্রায় ২৯ কোটি ৬০ লাখ শিশুকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে নাইজেরিয়ার ৭ কোটি ৪০ লাখ, পাকিস্তানের ৩ কোটি ৪০ লাখ এবং ভারতের ৩ কোটি ২০ লাখ শিশু।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ বছরে এই ‘তিনটি বা তার বেশি’ ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় সব শিশু অন্তত একটি ঝুঁকির মুখে। ২০০ কোটি শিশু অন্তত দুটি ঝুঁকির মুখে, যেখানে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ শিশু অন্তত চারটি ঝুঁকির সম্মুখীন। সাতটি বা এর বেশি জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা ১ লাখ ২৩ হাজার শিশুর মধ্যে প্রায় ৪৬ হাজার শিশুই রয়েছে মিয়ানমারে।

ইউনিসেফের প্রধান ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ক্ষেত্রে শিশুরাই সবার আগে রয়েছে।’

শিশুদের জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কোথায়- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক টম স্লেমেকার বলেন, ‘এর সংক্ষিপ্ত কোনো  উত্তর নেই।’

স্লেমেকার বলেন, ‘তবে সব অঞ্চল সমান নয়। কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আমরা দেখতে পাই। এগুলো মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে বেশি কেন্দ্রীভূত।’

বাংলাদেশ, ভারত, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তানের মতো যেসব দেশে শিশু জনসংখ্যা বেশি, সেসব দেশ অন্তত তিনটি ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুর সংখ্যার দিক থেকে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। তবে শতকরা হারের হিসাবে সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলো, বিশেষ করে সাহেল অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক ক্ষেত্রে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সীমিত সক্ষমতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটি বর্তমানে মানবিক সংকটে রয়েছে। সেখানে পানি, বিদ্যুৎ ও খাদ্যের প্রাপ্যতা সীমিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাদের ৯৫ শতাংশের বেশি শিশু অন্তত তিনটি জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

বিশেষ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে ৩৯টি দ্বীপরাষ্ট্র। এসব দেশের সামনে সীমিত মিঠাপানির উৎস, আমদানি নির্ভরতা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের পর সহজে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ না থাকার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

স্টারবাকসের বিতর্কিত প্রচারণা, ইতিহাস পাঠে কর্মীদের জন্য অর্ধদিবস বন্ধ সব শাখা

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
স্টারবাকসের বিতর্কিত প্রচারণা, ইতিহাস পাঠে কর্মীদের জন্য অর্ধদিবস বন্ধ সব শাখা
ছবি সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে অনিচ্ছাকৃতভাবে মিল রেখে একটি প্রচারণা চালায় স্টারবাকস। এ কারণে স্টারবাকস সেখানে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, আগামী সপ্তাহে দেশজুড়ে স্টারবাকসের সব শাখা অর্ধেক বেলা (হাফডে) বন্ধ রাখা হবে। বন্ধের সময়ে কর্মীরা দেশের ইতিহাস এবং সামাজিক সংবেদনশীলতা বিষয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।

স্টারবাকস কোরিয়া একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপের প্রচারণা চালু করেছিল, যার নাম ছিল “ট্যাঙ্ক ডে”। তবে এই প্রচারণা ১৯৮০ সালের গুয়াংজু গণ-অভ্যুত্থানের বার্ষিকীর সময় চালু হওয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওই অভ্যুত্থান দমনে সামরিক বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১৬৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যদিও অনেকের মতে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় লাইসেন্স চুক্তির আওতায় স্টারবাকস পরিচালনাকারী শিনসেগে গ্রুপ এ ঘটনার পর দেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান চুং ইয়ং-জিনও কর্মীদের সঙ্গে প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।

আগামী বুধবার (১৭ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা থেকে তিন ঘণ্টার জন্য দেশজুড়ে স্টারবাকসের সব শাখা বন্ধ থাকবে। এরপর সেগুলো পরদিন পর্যন্ত আর খোলা হবে না। সোমবার (১৫ জুন) সব কর্মীকে ইতিহাস সচেতনতা ও সামাজিক সংবেদনশীলতা বিষয়ে ভিডিওভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

১৯৯৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাত্রা শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী একযোগে স্টারবাকস সব শাখা বন্ধ করছে  কোরিয়া।

বিতর্কিত প্রচারণাটি ছিল স্টারবাকসের “ট্যাঙ্ক সিরিজ” টাম্বলারকে কেন্দ্র করে। প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে জানায়, এটি ১৫ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চলা বিভিন্ন পণ্যের প্রচারণার একটি অংশ মাত্র। পরে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার জন্য তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।

গত মাসে বিতর্কের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনাকে “অমানবিক ও লজ্জাজনক আচরণ” বলে আখ্যা দেন। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন স্টারবাকস শাখার সামনে বিক্ষোভ হয় এবং বয়কটের আহ্বানের ফলে বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় বলে জানা যায়।

গওয়াংজু অভ্যুত্থান দমনের সময় শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, সেনাদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে মারধর, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগও পরে তদন্তে প্রমাণিত হয়। এই আন্দোলনই পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি করে এবং ১৯৮৭ সালের গণআন্দোলনের মাধ্যমে সামরিক শাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সমালোচকদের দাবি, প্রচারণায় ব্যবহৃত কিছু স্লোগানও ১৯৮৭ সালের গণতন্ত্র আন্দোলনের স্মৃতির সঙ্গে মিলে যায়। শিনসেগে গ্রুপ জানিয়েছে, বিপণন স্লোগান তৈরিতে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহার করা হয়েছিল।

সামরিক শাসক  ১৯৮৮ সালে ক্ষমতা ছাড়েন। পরে রাষ্ট্রদ্রোহ ও দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেও রাষ্ট্রপতির ক্ষমার মাধ্যমে মুক্তি পান। ২০২১ সালে ৯০ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালে গওয়াংজুতে নারীদের ওপর সংঘটিত যৌন সহিংসতার ঘটনায় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়। এছাড়া তার নাতি  নিহতদের স্বজনদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তার দাদাকে “পাপী ও হত্যাকারী” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।সূত্র: বিবিসি 

খাদিজা রুমি/ 

ভারতে ২২ জুন পর্যন্ত জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ 'টেলিগ্রাম' ব্লক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
ভারতে ২২ জুন পর্যন্ত জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ 'টেলিগ্রাম' ব্লক
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম। আগামী ২২ জুন পর্যন্ত পুরো দেশজুড়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল টেস্টিং অ্যাজেন্সি।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা?

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতের আসন্ন মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET-UG 2026-এর পুনঃপরীক্ষা) কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থীদের প্রতারিত করতে এবং ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়াতে একটি চক্র এই প্ল্যাটফর্মটিকে ব্যবহার করছিল। এই 'চিটিং র‍্যাকেট' বা প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা বন্ধ করতে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মূল কারণ ও অন্যান্য বিধিনিষেধ:পুনঃপরীক্ষা রক্ষা:

এর আগে গত মে মাসে হওয়া পরীক্ষাটি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে বাতিল করা হয়েছিল। আগামী ২১ জুন সেই পরীক্ষার পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতেই ২২ জুন পর্যন্ত অ্যাপটি ব্লক রাখার নির্দেশ দিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। 

ব্লক করার পাশাপাশি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের 'মেসেজ এডিটিং' (বার্তা সংশোধন) ফিচারটিও নিষ্ক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ, অতীতে অনেকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পুরনো মেসেজ এডিট করে প্রশ্নপত্র বসিয়ে ভুয়া 'প্রশ্ন ফাঁসের' প্রমাণ সাজাতো, যা সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করত।

ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি জানিয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং একটি নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/