ভারতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাতীয় আদমশুমারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কাজে দেশটির ৩০ লাখের বেশি সরকারি কর্মী অংশ নিয়েছেন। এক বছরব্যাপী এই প্রক্রিয়াটি দেশটির কল্যাণমূলক কর্মসূচি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিলম্বিত হওয়া এই আদমশুমারি গতকাল বুধবার শুরু হয় এবং আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত চলবে। প্রথম ধাপে গণনাকারীরা প্রায় এক মাস ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এতে বসতবাড়ির অবস্থা, আবাসন এবং জীবনযাত্রার মান সম্পর্কিত তথ্য নথিভুক্ত করা হবে।
এই তথ্য সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এবং অনলাইনেও সংগ্রহ করা হবে। নাগরিকরা স্মার্টফোন অ্যাপ ব্যবহার করেও তথ্য দিতে পারবেন। দ্বিতীয় ধাপ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে, যেখানে মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য, যেমন ধর্ম ও জাত (কাস্ট) সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
ভারতে জাত বা কাস্ট একটি প্রাচীন সামাজিক স্তরবিন্যাস পদ্ধতি, যা মানুষের সামাজিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং সম্পদ, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।
দেশটিতে শত শত কাস্ট গোষ্ঠী রয়েছে, বিশেষ করে হিন্দু সমাজে, যা পেশা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তবে এসব গোষ্ঠীর জনসংখ্যা নিয়ে পর্যাপ্ত বা হালনাগাদ তথ্য নেই। বিভিন্ন সরকার অতীতে পূর্ণাঙ্গ কাস্ট গণনা করতে অনীহা দেখিয়েছে। কারণ এতে সামাজিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আদমশুমারি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করে সরকারি কল্যাণমূলক কর্মসূচির বণ্টন ও বিভিন্ন নীতিনির্ধারণ করা হয়।
এ ছাড়া এই তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির রাজনৈতিক মানচিত্রও পরিবর্তিত হতে পারে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা ও রাজ্যসভায় আসনসংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।
২০২৩ সালের একটি আইনে আইনসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। ফলে আসনসংখ্যা বাড়লে নারী প্রতিনিধিত্বও বৃদ্ধি পাবে। সমর্থকরা বলছেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করতে এই তথ্য অত্যন্ত জরুরি। তবে সমালোচকদের মতে, একটি বৈশ্বিক শক্তি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকা দেশের জন্য জাতভিত্তিক বিভাজন গুরুত্ব পাওয়া উচিত নয়।
ভারতে সর্বশেষ বিস্তারিত জাতসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হয়েছিল ১৯৩১ সালে, ব্রিটিশ শাসনামলে। স্বাধীনতার পর ১৯৫১ সালের প্রথম জনগণনা থেকে শুধু দলিত ও আদিবাসী, অর্থাৎ তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির তথ্য গণনা করা হয়েছে।
সর্বশেষ জনগণনা হয় ২০১১ সালে, যেখানে জনসংখ্যা ছিল ১২১ কোটি। বর্তমানে তা ১৪০ কোটির বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ভারতকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে পরিণত করেছে। ভারত ২০২৩ সালে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড নেশনস পপুলেশন ফান্ড (ইউএনএফপি)। সূত্র: রয়টার্স