ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাজশাহীতে বিদ্যুতের খুঁটিতে যুবকের মৃত্যু ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা তদন্তের সময় বাড়ল চারদিন সুপার ফাইবার উৎপাদনে চীনের সাফল্য এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে কর্মী ফুটবল যখন ক্যারিয়ার ও স্বপ্ন পালকযুক্ত নতুন ডাইনোসরের ফসিল আবিষ্কার সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজার নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ শিশুদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে খেলাঘর আসর বরিশাল জেলা সম্মেলন তরুণদের সবচেয়ে বড় উৎসব ফুটবল বিশ্বকাপ তিস্তা রক্ষায় পরিকল্পিত ড্রেজিং, নির্মিত হবে টেকসই বাঁধ: পানিসম্পদমন্ত্রী পূবাইলে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু এনড্রিককে নিয়ে তাড়াহুড়ো নয় : আনচেলত্তি না ফেরার দেশে কবি আল মুজাহিদী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই বাংলাদেশকে ১৯৭ রানের লক্ষ্য দিল অস্ট্রেলিয়া ছুটির দিনে পর্যটকের ঢল, মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সমালোচনার জবাব দিতে হয় পারফরম্যান্সে: রদ্রিগো ফ্লোরা সিস্টেমসের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চুক্তি সম্পন্ন মাঠে নেইমারের প্রভাব ব্যাখ্যা করলেন দানিলো টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি সাগরিকায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ নিয়োগ দেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যোগ্যতা এইচএসসি পাস লোডশেডিং বন্ধ হোক ‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’ মন্ত্রীদের আচরণ যা হওয়া উচিত

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: ট্রাম্পের চাপে টালমাটাল ন্যাটো

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৫ এএম
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: ট্রাম্পের চাপে টালমাটাল ন্যাটো
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হস্তক্ষেপ ইস্যুতে ইউরোপীয় নেতারা নিজেদের অবস্থানে অনড়। তারা এই যুদ্ধে জড়াতে চান না। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ায় ন্যাটো মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর ফলে দীর্ঘদিনের ন্যাটো জোটকে চরম চাপের মুখে ফেলেছেন তিনি। উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ এই প্রণালি সচল রাখতে ‘অবদান রাখার প্রস্তুতি’ জানালেও বৃহত্তর যুদ্ধে জড়ানোর প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ট্রাম্প ইউরোপীয়দের এই সম্মিলিত বিরোধিতাকে অবজ্ঞা করেছেন। তিনি ন্যাটোকে ‘কাগজের বাঘ’ এবং এর সদস্যদেশগুলোকে ‘কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়েছেন। সম্প্রতি একটি ব্রিটিশ গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘ইরান ইস্যুতে ন্যাটোর এই দুর্বল সামরিক অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এই জোট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।’ 

একই সঙ্গে ট্রাম্প অর্থনৈতিক পরিণতির প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছেন। গত মঙ্গলবার সামাজিক  যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘আপনাদের নিজেদের লড়াই নিজেদের শিখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্যের জন্য আর থাকবে না।’ 

তিনি মূলত সেসব দেশের সমালোচনা করেছেন, যারা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী সংকট নিরসনে যুক্তরাজ্য আলোচনার উদ্যোগ নেবে। তিনি মনে করেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির লাগাম টানার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে চাপ সৃষ্টি করা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা নিশ্চিত করা।

চাপের মুখে যুক্তরাজ্যের অবস্থানে পরিবর্তন
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন। কিয়ার স্টারমারের যুদ্ধ সামলানোর পদ্ধতি নিয়ে ট্রাম্প বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় স্টারমার ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের ওপর হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুরোধ ফিরিয়ে দেন। এতে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও মরিশাসের চুক্তির কঠোর সমালোচনা শুরু করেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘আমরা উইনস্টন চার্চিলের সঙ্গে কাজ করছি না।’

ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করার পরপরই স্টারমার তার অবস্থানে পরিবর্তন আনেন। গত ১ মার্চ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের অংশ হিসেবে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলার জন্য চাগোস দ্বীপপুঞ্জের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ও ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেন। তবে ট্রাম্প এতে তুষ্ট হননি। সংঘাতের শুরুতে এই অঞ্চলে ব্রিটেনের দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। 

জাহাজ ও তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি বাড়লে ২০ মার্চ ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি আরও সম্প্রসারিত করা হয়। ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র জানান, বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে’ যুক্তরাজ্য। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, বৃহত্তর যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে দেশটির মূল অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। 

ফ্রান্স ও ইতালি সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অনড়
সংঘাতের শুরু থেকেই ফ্রান্স কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো প্রাথমিক হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তবে আঞ্চলিক অস্থিরতার জন্য তিনি তেহরানকেও দায়ী করেন। গত ১৭ মার্চ তিনি অঙ্গীকার করেন, হরমুজ প্রণালি খোলার অভিযানে ফ্রান্স ‘কখনোই অংশ নেবে না’। তিনি ইরানের জ্বালানি ও অবকাঠামোয় হামলা স্থগিত রাখার আহ্বান জানান।

ইসরায়েলগামী যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রবাহী বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ফ্রান্স ট্রাম্পের রোষানলে পড়ে। ট্রাম্প দেশটির ‘অসহযোগিতার’ সমালোচনা করেন। একইভাবে ইতালিও যুক্তরাষ্ট্র বোমারু বিমানকে সিসিলির সিগোনেলা ঘাঁটিতে অবতরণের অনুমতি দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কার্যালয় জানায়, প্রতিটি অনুরোধ ‘কেস-বাই-কেস’ ভিত্তিতে পরীক্ষা করা হয়। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো জানান, ১৯৫৪ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধকালে ঘাঁটি ব্যবহারের জন্য সংসদীয় অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বিরোধের কথা অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক চুক্তির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন।

স্পেনের স্পষ্ট বিরোধিতার কণ্ঠস্বর
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইরানে হামলার সবচেয়ে সোচ্চার বিরোধী। গত ৪ মার্চ তিনি বলেন, ‘ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। লাখ লাখ মানুষের ভাগ্য নিয়ে জুয়া খেলা সম্ভব নয়।’ তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করে সংলাপের পথে ফেরার আহ্বান জানান। মাদ্রিদ সরকার তেহরানে হামলার জন্য যৌথ ঘাঁটি ব্যবহারে বাধা দিলে ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে ‘সব বাণিজ্য বন্ধ’ করার হুমকি দেন।

পরবর্তী সময় হোয়াইট হাউস দাবি করে স্পেন তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। তবে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেজ তা সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি জানান, ইরানের ওপর হামলা ও ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে স্পেনের অবস্থান বিন্দুমাত্র বদলায়নি। স্পেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানের জন্য তাদের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় রোটা ও মোরোন ঘাঁটি থেকে ১৫টি বিমান সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

জার্মানি ও আয়ারল্যাল্ডের কৌশলী দূরত্ব
জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টাইনমায়ার এই সংঘাতকে ‘ভয়াবহ ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আসন্ন হামলার যুক্তি ধোপে টেকে না। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জও যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটন এ বিষয়ে জার্মানির সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি। জার্মানি বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এড়িয়ে চলছে।

আয়ারল্যান্ড সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিন জানান, হরমুজ প্রণালি রক্ষার অভিযানে অংশ নেওয়ার মতো আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা আয়ারল্যান্ডের নেই। তিনি যুদ্ধের ‘শান্তিপূর্ণ সমাধান’ চান। জুলাই মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের সভাপতিত্ব গ্রহণ করতে যাওয়া আয়ারল্যান্ড এই সংকটে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সামরিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ
ন্যাটো মিত্রদের ওপর ট্রাম্পের এই ক্রমাগত চাপ মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদি রণকৌশলের অংশ। ট্রাম্প মনে করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন সামরিক ছত্রচ্ছায়ায় থেকেও সংকটের সময় দায়িত্ব পালনে গড়িমসি করছে। বিশেষ করে ইরানের তেলের ওপর নির্ভরশীল অনেক ইউরোপীয় দেশের জন্য এই যুদ্ধ একটি অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অভাবনীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো এখন ভাবছে যে মার্কিন সহায়তা ছাড়াই তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। বিশেষ করে স্পেন ও ফ্রান্সের কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে ইউরোপ আর অন্ধভাবে মার্কিন সমরনীতি অনুসরণ করতে রাজি নয়। জার্মানির মতো শক্তিশালী অর্থনীতিগুলোও যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে শঙ্কিত। তাদের মতে, কোনো সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট প্ল্যান’ বা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা ছাড়া এই অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরমপন্থা উসকে দেবে।

ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সংকট
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে ‘স্পেশাল রিলেশনশিপ’ বজায় রাখা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা–এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে তিনি ট্রাম্পকে শান্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা হিতে বিপরীত হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি আরও বড় অংশগ্রহণ, যা ব্রিটেন এই মুহূর্তে দিতে প্রস্তুত নয়।

এ ছাড়া ইউরোপীয় নেতারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সরতে নারাজ। ট্রাম্পের ভাষায় তারা ‘কাপুরুষ’ হতে পারেন। কিন্তু তাদের দৃষ্টিতে তারা একটি অপ্রয়োজনীয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এড়াতে সচেষ্ট। ন্যাটোর এই অভ্যন্তরীণ ফাটল কেবল সামরিক নয়। এটি একটি গভীর রাজনৈতিক সংকট। আগামী কয়েক সপ্তাহ নির্ধারণ করবে এই জোট টিকে থাকবে নাকি ট্রাম্পের চাপে ইউরোপ ও আমেরিকার পথ আলাদা হয়ে যাবে। সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স, বিবিসি, দ্য হিল

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার জানায় যে, তাদের বাহিনী গত রাতে দক্ষিণ লেবানন জুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ ওই এলাকায় তীব্র লড়াইয়ের কথা জানিয়েছে, যা মূলত ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে হওয়া নতুন চুক্তিটিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

লেবাননে এই চলমান লড়াই নতুন স্বাক্ষরিত চুক্তিটিকে ভেস্তে দিতে পারে। কারণ এই চুক্তিতে লেবাননসহ "সব ফ্রন্টে" সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে ইসরায়েল ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করছে। একই সঙ্গে চুক্তিতে লেবাননের "আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব" নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

চলতি বছরের শেষের দিকে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহর হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননেই অবস্থান করবে।

ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার তার সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেন, যেখানে আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার যাওয়ার কথা ছিল। হোয়াইট হাউস এর পেছনে লজিস্টিক বা অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার সমস্যার কথা উল্লেখ করলেও, এই ঘোষণাটি মূলত আল-মায়াদিন (হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক মিত্র একটি প্যান-আরব স্যাটেলাইট চ্যানেল)-এর একটি রিপোর্টের পর আসে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে ইরান সুইজারল্যান্ডে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠাতে বিলম্ব করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে প্যালেস অব ভার্সাই-এ নৈশভোজের সময় ইরানের সঙ্গে এই প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভ্যান্স ইসরায়েলকে একটি স্পষ্ট ও কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন যে, ট্রাম্পই হচ্ছেন ‘এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি সহানুভূতিশীল।’ সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/

শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড
ছবি: রয়টার্স

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক মাউন্টেন রিসোর্টে শুক্রবার (১৯জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যে আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা আর হচ্ছে না। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র গত রাতে জানান যে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করার পূর্বপরিকল্পিত সফর থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। মূলত এর পরপরই সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে। যুদ্ধ বন্ধে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। সূত্র: রয়টার্স

তামান্না রুপা/

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:১২ পিএম
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি–পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড সফর করার কথা থাকলেও তা স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

শুক্রবার (১৯জুন) এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে একটি পূর্বপরিকল্পিত সফর পিছিয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর, ইরানের সাথে একটি নতুন দফা আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

এর আগে, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সমালোচনার মুখেও ভ্যান্স এই চুক্তির পক্ষে যুক্তি দেখান। একই সাথে তিনি ঘোষণা করেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি ৬০ দিনের আলোচনার সময়কাল শুরু হয়েছে।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫১ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫২ এএম
বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে
কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে। ছবি: সংগৃহীত

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে।

শুক্রবার (১৯ জুন) কাতারের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ চলাকালীন গোড়ালির এক ভয়াবহ চোটের শিকার হন তিনি। যার ফলে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে তার খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বর্তমানে ইতালিয়ান ক্লাব সাসুওলোতে খেলা এই মিডফিল্ডারের পায়ের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। এই চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে তার অন্তত তিন মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে এই ফুটবল মহোৎসবের বাকি অংশ কেবল দর্শক হয়েই কাটাতে হবে তাকে।

ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোর এক মারাত্মক ট্যাকেলের শিকার হন কোনে। ফাউলটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে রেফারি মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। চোট পাওয়ার পর মাঠে যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখা যায় কোনেকে। পরবর্তীতে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন তিনি।

কোণের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নাথান সালিবা। মাঠে নেমেই এক দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন তিনি, যা চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ফ্রি-কিক গোল। গোলটি করার পর সালিবা কোণের জার্সি উঁচিয়ে ধরে সতীর্থের প্রতি সম্মান ও এই গোলটি তাঁকে উৎসর্গ করেন।

ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ জানান, কাতারের খেলোয়াড় মাদিবো ম্যাচ শেষে কানাডার ড্রেসিংরুমে এসে কোণের কাছে তার এই মারাত্মক ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। 

পাপ্পু/নাঈম

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:০৬ এএম
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের পর বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর উপস্থিতি একপ্রকার মুছে গিয়েছিল। তবে দীর্ঘ ৫৫ বছর পর আবারও এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। সম্প্রতি চীনে তৈরি পাকিস্তানের নতুন ‘হাঙ্গর-ক্লাস’ সাবমেরিন করাচিতে পৌঁছেছে। এই সাবমেরিন মোতায়েনের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে স্থায়ী উপস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েছে ইসলামাবাদ। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর পাকিস্তানের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তানের নতুন এই সাবমেরিনের নাম রাখা হয়েছে পিএনএস হাঙ্গর। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের তৎকালীন ‘পিএনএস হাঙ্গর’ সাবমেরিনটি ভারতের ‘আইএনএস খুকরি’ নামের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল। স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে সেটিই ছিল প্রথম কোনো যুদ্ধজাহাজ ডুবির ঘটনা। যুদ্ধে পাকিস্তান পরাজিত হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তবে সেই ঘটনার ঐতিহাসিক প্রতীকী গুরুত্বকে সামনে রেখেই নতুন এই সাবমেরিন বহরের নামকরণ করা হয়েছে। পাকিস্তান মোট ৮টি হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিন যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে প্রথমটি গত সপ্তাহে করাচিতে এসে পৌঁছায়।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের ফ্লোটিলা এসকর্ট কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানান, এই নতুন হাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিনটি পাকিস্তানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা বহুদূর বাড়িয়ে দেবে। এটি পাকিস্তানকে নিজের উপকূলীয় আরব সাগর ছাড়িয়ে দূরবর্তী বঙ্গোপসাগরেও নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখার শক্তি জোগাবে। এই সাবমেরিনগুলোতে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রোপালশন’ প্রযুক্তি। এর ফলে সাবমেরিনগুলো ব্যাটারি চার্জ করার জন্য বারবার পানির ওপরে না উঠে, দীর্ঘ সময় পানির নিচে লুকিয়ে থাকতে পারে। ফলে এদের সহজে ট্র্যাক করা বা শনাক্ত করা যায় না। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই সাবমেরিনগুলোকে পাকিস্তানের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে।

পাকিস্তানের এই বঙ্গোপসাগরীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক দশক পর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং ২০২৪ সালের শেষ দিকে পাকিস্তানের একটি যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস সাইফ’ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে আসে। ১৯৭১ সালের পর এটিই ছিল বাংলাদেশে কোনো পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের প্রথম আগমন।

পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ২০ থেকে ২৭ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশের বিমান বাহিনীপ্রধান চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সফর করে দেশটির তৈরি জেএফ-১৭ ফাইটার জেট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশ যৌথ নৌ মহড়া ‘আমান-২৫’-এ অংশ নেয়। এ ছাড়া করাচি থেকে চট্টগ্রামে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলও শুরু হয়েছে। সূত্রমতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যৌথ মহড়ার বিষয়গুলো রয়েছে। তবে পাকিস্তানের এই তৎপরতা ভারতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবেই ভারতের পূর্ব নৌ কমান্ড এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায় কৌশলগতভাবে ভারতের একটি শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারতের সঙ্গেও ঢাকার সম্পর্কের নতুন উষ্ণতা তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের নৌবাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, যার কাছে রয়েছে পারমাণবিক সাবমেরিন এবং দুটি বিমানবাহী রণতরি। ফলে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরের সার্বিক সামরিক ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে না পারলেও, ভারতের কৌশলগত আঙিনায় তাদের এই নিয়মিত উপস্থিতি দিল্লির জন্য একটি স্থায়ী অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে