ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতাপার্টির’ বিক্ষোভ আজ ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে বায়ুদূষণে বদলে যাচ্ছে ভ্রূণের জিন জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধে নাকাল ঘিওর বাজার ছায়ানটে শুরু হলো দুই দিনের নজরুল উৎসব রাজধানীবাসীকে ফেরাতে সিটি বাসও গেছে ঢাকার বাইরে ৬ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৬ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ ‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত
Nagad desktop

যুদ্ধবিরতির অর্থ যুদ্ধের সমাপ্তি নয়: মোজতবা খামেনি

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৮ এএম
যুদ্ধবিরতির অর্থ যুদ্ধের সমাপ্তি নয়: মোজতবা খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার সব সামরিক ইউনিটকে গোলাবর্ষণ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু একই সঙ্গে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এটি যুদ্ধের শেষ নয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং-এ (আইআরআইবি) পঠিত এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, ‘এটি যুদ্ধের শেষ নয়, তবে সেনাবাহিনীর সব শাখার উচিত সর্বোচ্চ নেতার আদেশ মেনে যুদ্ধবিরতি পালন করা।’

ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই যুদ্ধবিরতির অর্থ যুদ্ধের সমাপ্তি নয় এবং শত্রুপক্ষ- যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনোভাবে পদক্ষেপ নিলে তাদের হাত বন্দুকের ট্রিগারেই থাকবে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে: ‘পুনরায় জোর দিয়ে বলা হচ্ছে যে, এর অর্থ যুদ্ধের সমাপ্তি নয়... আমাদের হাত ট্রিগারেই রয়েছে। শত্রুপক্ষ থেকে সামান্যতম ভুল হলেও তার জবাব পূর্ণ শক্তিতে দেওয়া হবে।’

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা চালিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে। গত ৩৯ দিনে এই সংঘাতে বিভিন্ন দেশের অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইরানের জনগণের আত্মত্যাগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, ‘এখন আমরা ইরানের মহান জাতিকে এই সুসংবাদ দিচ্ছি যে, যুদ্ধের প্রায় সব উদ্দেশ্যই অর্জিত হয়েছে এবং আপনাদের সাহসী সন্তানরা শত্রুকে ঐতিহাসিক অসহায়ত্ব ও স্থায়ী পরাজয়ে পর্যবসিত করেছে।’

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির দাবিতে ইরানের কাছে একটি ১৫ দফা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিল এবং আলোচনার ভিত্তি হিসেবে একটি সংশোধিত ১০ দফা প্রস্তাবনা পেয়েছে। প্রস্তাবনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে ইরান বলেছে, এতে কিছু মৌলিক বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এগুলো হলো- ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত; প্রতিরোধে ইরানের মিত্রশক্তির সব অংশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার আবশ্যকতা; এই অঞ্চলের সব ঘাঁটি ও অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবাহিনীর প্রত্যাহার; হরমুজ প্রণালীতে একটি নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল প্রতিষ্ঠা করা, যা সম্মত প্রোটোকল অনুযায়ী ইরানের আধিপত্য নিশ্চিত করবে; হিসাব অনুযায়ী ইরানকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান; সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা এবং বোর্ড অব গভর্নরস ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব প্রত্যাহার; বিদেশে ইরানের অবরুদ্ধ সব সম্পদ ও সম্পত্তি ছাড়; এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবে এসব বিষয় অনুমোদন।

ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ‘১০ দফা পরিকল্পনায় নির্ধারিত নীতিগুলো মেনে নেওয়ার শর্তে’ আলোচনায় বিস্তারিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত হলে তারা যুদ্ধের সমাপ্তি মেনে নেবে।

তেহরান নিশ্চিত করেছে যে, আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে এবং তা দুই সপ্তাহ ধরে চলবে। তবে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে আলোচনার সময় আরও বাড়ানো যেতে পারে। 

এতে আরও বলা হয়, ‘এই সময়ে পূর্ণ জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং পূর্ণ শক্তিতে বিজয় উদযাপন অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।’

একে ‘রণক্ষেত্রে শত্রুর আত্মসমর্পণ’ আখ্যা দিয়ে ইরান বলেছে, যদি এই যুদ্ধবিরতি আলোচনায় একটি চূড়ান্ত রাজনৈতিক সাফল্যে পরিণত হয়, তবে তারা এটিকে একটি ‘মহান ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উদযাপন করবে। অন্যথায় তাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যাবে। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়া-ইউক্রেন বন্ধে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরু করার পর এই প্রথম পুতিনকে সরাসরি প্রকাশ্যে চিঠি লিখলেন জেলেনস্কি। চিঠিতে তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের ২৬ বছরের ক্ষমতার ব্যাপক সমালোচনা করেন।

পুতিনের কাছে পাঠানো খোলা চিঠিতে জেলেনস্কি বলেছেন, ইউরোপের এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ফিরে আসা পর্যন্ত ‘অপেক্ষা করাটা ভুল হবে’। তার মতে, কেবল ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই শান্তির রাস্তা তৈরি হতে পারে।

চিঠিতে প্রস্তাবিত আলোচনার সময়সীমা পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। যদিও যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আগেই এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন পুতিন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বৈঠকের ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন যে, এই দুই নেতার বৈঠক হলে তা ‘দারুণ হবে’।

ক্রেমলিন চিঠিটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, পুতিনকে এর বিষয়বস্তু জানানো হবে। অবশ্য জেলেনস্কির চিঠির ভাষা ছিল দৃঢ় এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যঙ্গাত্মকও। যেখানে সম্প্রতি রুশ ভূখণ্ডে ইউক্রেনের চালানো হামলাগুলোর দিকেও ইঙ্গিত রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ ২৬ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে বয়সের প্রভাব পুতিনের ওপর পড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া চিঠিতে একটি আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।

জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘ইউক্রেন আমাদের অর্থাৎ আপনার এবং আমার- সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাব দিচ্ছে। আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব করছি।’ যদিও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব নতুন নয়, এর আগেও এমনটা হয়েছিল। যার প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিন জানিয়েছিল যে, জেলেনস্কি চাইলে মস্কোতে গিয়ে পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।

তবে এবার লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, কিয়েভ প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ‘পুরোপুরি ইরানের ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত’। জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘ইউরোপের যুদ্ধ আবারও মনোযোগের কেন্দ্রে ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভুল হবে।’

সেন্ট পিটার্সবার্গে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পুতিন জানিয়েছেন, তিনি ‘নিশ্চিতভাবেই ইউক্রেনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক’, তবে তিনি এ-ও যোগ করেছেন যে, উভয় পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে। পুতিন ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্প যেহেতু ইরান নিয়ে ব্যস্ত, তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ জেলেনস্কিকে ভূখণ্ড সমর্পণের জন্য রাজি করাতে পারে।
পুতিনের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, ইউক্রেনকে অবশ্যই রাশিয়ার আংশিক দখলে থাকা চারটি অঞ্চল- দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। ন্যাটোতে যোগদানের চেষ্টা থেকে ফিরে আসতে হবে।

ইউক্রেন এই শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে। কিয়েভের মতে, ভূখণ্ড ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে রাশিয়া আরও আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে। যেমনটা তারা ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের আট বছর পর ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর সময় করেছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং জেনেভা, আবুধাবি ও ইস্তাম্বুলে পূর্ববর্তী শান্তি আলোচনাগুলোও ব্যর্থ হয়েছে।

১৮০০ শব্দেরও বেশি দীর্ঘ এই চিঠিতে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘এমন নয় যে ইউক্রেনে আমরা রুশ সৈন্যদের ভাগ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে আপনার যুদ্ধ আমাদের দেশে যা কিছু নিয়ে এসেছে তার পর। তবে আমি ইউক্রেনীয়দের নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা আমাদের মানুষদের হারাচ্ছি এবং প্রতিটি ক্ষতি আমাদের কাছে বেদনাদায়ক।’

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জ্বালানিসংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তিনি অনুরোধ জানান, ‘এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথে পা বাড়াতে ভয় পাবেন না। এখন আপনার কাছে প্রধানত এটাই চাওয়া হচ্ছে।’

সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো দেশে এই মুখোমুখি আলোচনা হতে পারে বলেও প্রস্তাব দিয়েছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিয়ে সিবিহা বলেছেন, ‘যুদ্ধ শেষ করার জন্য এই খোলা চিঠি একটি অর্থবহ প্রস্তাব। ‘আমরা এই প্রস্তাবের একটি অর্থবহ জবাব আশা করছি। এখন এই যুদ্ধ শেষ করার সময়। শান্তির পথ বেছে নেওয়ার সময় এসেছে,’ তিনি যোগ করেন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের এই চিঠিটি এমন এক দিনে এসেছে যেদিন পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি বড় অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিচ্ছেন।

আর এর আগের দিনই রাশিয়ার একটি শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল কিয়েভ, যে ঘটনাকে জেলেনস্কি তার বার্তায় ‘পরিদর্শন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অধিকৃত ক্রিমিয়ার সিমফেরোপোল এলাকায় চারজনের মৃত্যুর জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে রুশ-সমর্থিত কর্তৃপক্ষ। যদিও ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা একটি জ্বালানি ডিপোতে আঘাত করেছিল।

গত বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে পুতিন তাৎক্ষণিকভাবে একটি বৈঠক বা চুক্তি হওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, জেলেনস্কি ইউক্রেনের বৈধ প্রতিনিধি কি না, তা আইনজ্ঞদের এবং আইনি বিশ্লেষণের বিষয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশকে শান্তি আলোচনার জন্য কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তাদের দেখা করাটা দারুণ হবে। তাদের দেখা করা উচিত।’
উভয় পক্ষকে কী ধরনের ছাড় দিতে হবে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি তা ‘বলতে চান না’। তিনি যোগ করেন, ‘আমি চাই তারা প্রত্যেকেই কিছু ছাড় দিক এবং আমার মনে হয় তারা তা করবে।’

 সূত্র: বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান

দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতাপার্টির’ বিক্ষোভ আজ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতাপার্টির’ বিক্ষোভ আজ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আজ শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে এক শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

তিনি আজ সকাল ৮টায় দিল্লির বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি এবং বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ অন্য নেতারা সরাসরি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যাবেন। সেখানে তারা যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য পুলিশের আনুষ্ঠানিক অনুমতি চাইবেন।

ভারতে ফেরার প্রাক্কালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় দিপকে লেখেন, তিনি নিজের ভাগ্যকে দেশের সংবিধানের হাতে সঁপে দিয়ে দেশে ফিরছেন। একই সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে প্রস্তাবিত এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলার আগাম নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) দায়ের করা হয়েছিল। তবে গতকাল আদালত এই বিষয়ে জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ উৎপত্তি মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক মামলার শুনানির সময় জাল ল ডিগ্রিধারী বেকার যুবকদের ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই মন্তব্যকে ঘিরে ইন্টারনেট দুনিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতক অভিজিৎ দিপকের হাত ধরে এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের সূচনা হয়।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংগঠনের বিশাল অনুসারী রয়েছে, যার মধ্যে কেবল ইনস্টাগ্রামেই তাদের ফলোয়ার সংখ্যা ৮০ লাখের বেশি। এই আন্দোলনকে ইতোমধ্যে অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক সমর্থন জানিয়েছেন। এ ছাড়া তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা শশী থারুরসহ বিভিন্ন দলের নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন।

গত বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস, বিজেতা দাহিয়া ও আশুতোষ রাঙ্কা জানান, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এই আন্দোলন। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সবাইকে এই বিক্ষোভে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বিশৃঙ্খলা এড়াতে সমর্থকদের বিমানবন্দরের পরিবর্তে সরাসরি থানায় আসার অনুরোধ করেছেন মুখপাত্র সৌরভ দাস।

আজ কর্মসূচি সফল ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ‘করণীয় ও বর্জনীয়’ নির্দেশনাবলী জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে–বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় জাতীয় পতাকা (ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা) ও শিক্ষার প্রতীক হিসেবে একটি বই সঙ্গে রাখা, পুরো কর্মসূচির ভিডিও ধারণ করা, কোনো উস্কানিতে পা না দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দেখামাত্র পুলিশে সোপর্দ করা। এ ছাড়া গরম আবহাওয়ার কারণে পর্যাপ্ত পানি পান করা, সানস্ক্রিন ব্যবহার, ক্যাপ পরিধান এবং খালি পেটে না এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কোনো তর্কে না জড়িয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল উপহার দেওয়ারও অনুরোধ করেছে সংগঠনটি।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বায়ুদূষণে বদলে যাচ্ছে ভ্রূণের জিন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
বায়ুদূষণে বদলে যাচ্ছে ভ্রূণের জিন
ছবি: সংগৃহীত

এতদিন আমরা জেনে আসছি বাতাসের বিষাক্ত ধূলিকণা শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করছে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতেও থাবা বসাচ্ছে বায়ুদূষণ। বাতাসে ভাসমান বিষাক্ত কণা পৌঁছে যাচ্ছে মায়ের প্লাসেন্টায়, যা বদলে দিচ্ছে গর্ভস্থ শিশুর জিনের বিন্যাসও।

দূষণের পরিধি যতই বেশি হচ্ছে, ততই কমছে গর্ভস্থ শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ। বদলে যাচ্ছে জিনের বিন্যাসও। শহরাঞ্চলের দূষিত আবহাওয়ায় গর্ভাশয়ে বেড়ে ওঠা শৈশবের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমনই শঙ্কার কথা তুলে ধরেছে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এমস)-এর চিকিৎসকরা। তাতে বলা হয়েছে, দূষণকবলিত অঞ্চলগুলোতে ভ্রূণের মস্তিষ্ক, ফুসফুস এবং যকৃতে দূষিত কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে তা আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

বাতাসে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম দূষিত কণা প্লাসেন্টায় প্রবেশ করছে। এই প্লাসেন্টাই মায়ের শরীর থেকে খাদ্য ও অক্সিজেন ভ্রূণে পৌঁছে দেয়। ফলে সেখানে জমে থাকা দূষিত পদার্থ ভ্রূণের শরীরেও ঢুকে যায়। এমসের চিকিৎসকদের দাবি, দূষিত বাতাসের পিএম ২ দশমিক ৫ এবং পিএম ১০ কণাগুলো এতটাই সূক্ষ্ম যে তা মায়ের ফুসফুস ও রক্ত হয়ে সরাসরি প্লাসেন্টায় পৌঁছে যায় এটি সেখানে মূলত তিনটি উপায়ে ক্ষতি করে।

প্রথমত, গর্ভস্থ শিশুর শরীরে থাকা আইজিএফবিপি৩ নামে একটি জিনের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। এই জিনই শিশুর বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ঘটায়। ফলে জিনটি নষ্ট হতে থাকলে মায়ের গর্ভেই শিশুর বিকাশ থমকে যায়। দ্বিতীয়ত, বিষাক্ত কণাগুলো রক্তনালির গঠনে বাধা দেয়, ফলে মায়ের থেকে শিশুর শরীরে খাদ্যকণা ও অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না। তৃতীয়ত, শিশুর মস্তিষ্কে স্নায়বিক গঠনও বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মাতে পারে শিশু।

গর্ভস্থ অবস্থায় শিশুর যেসব ক্ষতি হয়

সময়ের আগে জন্মাতে পারে শিশু, ওজনও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হতে পারে। জন্মের পর পরই শিশু শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ভবিষ্যতে সেই শিশুরই সিওপিডি বা হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে মায়ের গর্ভেই শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে, ফলে শাররিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মাতে পারে শিশু।

দূষণের প্রভাবে অন্তঃসত্ত্বার রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা মা ও শিশু দুজনের জন্যই প্রাণঘাতী হতে পারে। মা যদি দূষণকবলিত এলাকায় থাকেন, তা হলে গর্ভপাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ইঁদুরের ওপর করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, গর্ভে দূষণের শিকার হওয়া শিশুরা পরবর্তী সময়ে স্নায়বিক রোগের শিকার হয়েছে। এতে শিশুর বুদ্ধিমত্তা ও আচরণগত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি

মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

নাইজারের সাহারা মরুভূমিতে একটি ট্রাক বিকল হওয়ার পর সুপেয় পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মুসলমানদের একটি উৎসবে যোগ দিয়ে মালি থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাদের কাছে থাকা পানি ফুরিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে নাইজারের আগাদেজ গভর্নরেট।

বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, ট্রাকের আরোহীরা একটি মুসলিম ধর্মীয় উৎসব শেষে মালি থেকে নিজ দেশে ফিরছিলেন। যাত্রাপথে নাইজার ও আলজেরিয়ার মধ্যকার প্রধান ‘আসামাকা’ সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র থেকে ৮০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে পশ্চিমে ট্রাকটি বিকল হয়ে পড়ে।

নাইজারের আগাদেজ গভর্নর এক বিবৃতিতে বলেছেন, ভ্রমণকারীরা ওই সময় মরুভূমির প্রতিকূল পরিবেশে আটকা পড়েন। চরম তাপমাত্রা এবং পানির কোনও উৎস বা সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকায় তাদের জন্য বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

কয়েকদিন ধরে ট্রাক চালক ও যাত্রীরা মিলে ট্রাকটি মেরামেতের চেষ্টা করেছে। কিন্তু চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ক্রমেই পানিশূন্যতা ও তৃষ্ণায় একে একে প্রাণ হারান অন্তত ৪৯ জন। ট্রাকের ভেতরে এবং এর আশেপাশে তাদের মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে গভর্নরের বিবৃতিতে।

ঘটনাস্থলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাঠানো উদ্ধারকারীদল মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে গণকবর দিয়েছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপমুখী যাত্রার অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ট্রানজিট করিডোর হয়ে আছে সাহারা মরুভূমির এই অঞ্চল। প্রতি বছরই তীব্র গরম, পানির অভাব ও দুর্গম পরিবেশের কারণে এই পথে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’
প্রতীকী ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন গবেষকরা। এই ভ্যাকসিনটি ভাইরাসের বড় একটি গ্রুপকে ধ্বংস করতে পারে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো মহামারি প্রতিরোধে সাহায্য করবে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই দাবি করেছেন।

গবেষকরা জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এবারই প্রথম ভ্যাকসিনের মূল উপাদানটি সম্পূর্ণভাবে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। এরপর সেটি মানুষের শরীরে ট্রায়াল বা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই ভ্যাকসিনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা সব ধরনের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করবে। এর মধ্যে কোভিডের সব ভ্যারিয়েন্ট যেমন থাকবে, তেমনি পশুপাখির শরীরে থাকা অন্যান্য করোনাভাইরাসও থাকবে, যা ভবিষ্যতে মানুষের মধ্যে মহামারি ছড়াতে পারে।

এই কাজটির এখনো প্রাথমিক ধাপ চলছে। তবে গবেষক দলটি ইতোমধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) ও ইবোলার জন্য আলাদা ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে।

ভ্যাকসিনটি যেভাবে কাজ করে
সাধারণত প্রচলিত ভ্যাকসিনগুলো ভাইরাসের বর্তমান কোনো স্ট্রেন বা রূপ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। কিন্তু কেমব্রিজের গবেষকরা একটু ভিন্ন পথ বেছে নেন। বিভিন্ন নজরদারি কর্মসূচির মাধ্যমে আগে থেকে রেকর্ড করা একগুচ্ছ করোনাভাইরাসের জেনেটিক কোড সংগ্রহ করেন তারা। 

এই জেনেটিক কোডগুলোকে বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এরপর এআই একটি ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ ডিজাইন করে। অ্যান্টিজেন হলো ভ্যাকসিনের সেই গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শেখায়। এআইয়ের ডিজাইন করা এই সুপার-অ্যান্টিজেন মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে এমনভাবে তৈরি করে, যাতে পুরো ভাইরাস পরিবার মিউটেশন বা রূপবদল করলেও শরীর তার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে। এমনকি পশু থেকে মানুষের শরীরে নতুন কোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও এটি কাজ করবে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন হীনি বলেন, ‘এটিই প্রথম এআইয়ের ডিজাইন করা কোনো অ্যান্টিজেন মানুষের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।’ প্রযুক্তিটির সাফল্যে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বিবিসি নিউজকে বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য হলো এমন ভ্যাকসিন তৈরি করা, যা শুধু আজকের ভাইরাস থেকেই আমাদের বাঁচাবে না, বরং ভবিষ্যতে যে ভাইরাসগুলো পরবর্তী মহামারি বা রোগ ছড়াতে পারে, সেগুলো থেকেও সুরক্ষা দেবে। মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতিতে এটি একটি মৌলিক পরিবর্তন।’

ট্রায়ালের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ভ্যাকসিনটি নিরাপদ কি না, তা যাচাই করতে ৩৯ জন মানুষের ওপর প্রথম পরীক্ষা চালানো হয়। এরপর প্রায় ২০০ জনের ওপর দ্বিতীয় আরেকটি গবেষণা করা হবে, যা থেকে বোঝা যাবে এটি মানুষের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে কতটা ভালোভাবে প্রস্তুত করছে।

‘জার্নাল অব ইনফেকশন’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব এখনো ‘পরিমিত’ বা মাঝারি। তবে তা সত্ত্বেও এটি বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের অধ্যাপক সল ফস্ট, যিনি এই ট্রায়ালের কিছু অংশ পরিচালনা করেছেন, তিনি বলেন, ‘ভাইরাস যখন দ্রুত রূপ পরিবর্তন করে, তখন সম্ভাব্য মহামারির জন্য ভ্যাকসিন ডিজাইনে এই প্রযুক্তিটি অনেক বেশি কার্যকর।’

কেমব্রিজের দলটি এখন একটি সর্বজনীন ‘সিজনাল ফ্লু’ ভ্যাকসিনের ওপর এনিম্যাল ট্রায়াল বা পশুর ওপর গবেষণা চালাচ্ছে, যা প্রতিবছর পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে না। এ ছাড়া তারা ‘এইচ৫এন১’ বার্ড ফ্লু ও ইবোলার মতো রক্তক্ষরণকারী জ্বরের ভ্যাকসিনের ওপরও কাজ করছে। কঙ্গোতে বর্তমানে ইবোলার এমন একটি প্রজাতির প্রাদুর্ভাব চলছে, যার কোনো ভ্যাকসিন নেই।

অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের পরিচালক অধ্যাপক অ্যান্ডি পোলার্ড এই গবেষণার প্রশংসা করে বলেন, এআই প্রযুক্তি ভ্যাকসিন গবেষণায় আমূল পরিবর্তন আনবে। এটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন হবে তা আগে থেকেই অনুমান করতে পারবে। ফলে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ দ্রুত হবে ও মানুষের জীবন বাঁচবে।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান মন্ত্রী লর্ড ভ্যালেন্স একে ব্রিটিশ বিজ্ঞানের আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম মানব ট্রায়ালে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ায় এই কাজ ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে মানুষের কল্যাণে দ্রুত ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।’
সূত্র: বিবিসি