ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ আজ এক উৎসবমুখর কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ আবহে চলছে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু নির্ধারণে আজকের এই দফার গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে আজ হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ৩টে পর্যন্ত রাজ্যে গড়ে প্রায় ৭৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। জেলাভিত্তিক হিসেবে এখন পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলি জেলা শতাংশে এগিয়ে রয়েছে। বিকেলের কড়া রোদ উপেক্ষা করেই বুথগুলোর সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে, যা একটি উচ্চ শতাংশের ভোটদানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আজকের সবথেকে হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র হলো কলকাতার ভবানীপুর, যেখানে রাজনৈতিক হেভিওয়েটদের সরাসরি লড়াই চলছে। দুপুর নাগাদ এই কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা দাবি করেছেন পরাজয় নিশ্চিত জেনেই শাসক দল বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোটদান থেকে বিরত রাখতে চাইছে।
সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ডায়মন্ড হারবার ও ফলতা এলাকায় বিজেপির অভিযোগ, একাধিক বুথে ইভিএম মেশিনে কারচুপি করার চেষ্টা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের কিছু এলাকায় ড্রাম ভর্তি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। নদীয়ার চাপড়া ও শান্তিপুরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পানিহাটি এলাকায় আরজি কর ইস্যু কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফায় মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। যেকোনো বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে ড্রোন নজরদারির পাশাপাশি প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি তদারকি করছে কমিশন। সন্ধ্যা ৬টায় ভোট শেষ হওয়ার পর সমস্ত ইভিএম কড়া নিরাপত্তায় স্ট্রং রুমে সিলগালা করে রাখা হবে। আগামী ৪ মে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বাংলার মসনদে শেষ পর্যন্ত কারা বসতে চলেছেন। বিকেলের শেষ মুহূর্তেও ভোটারদের উপস্থিতি গণতন্ত্রের এই মহোৎসবকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে।