বিজেপির বঙ্গ জয়ের পর গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে আবার ভোট চুরির অভিযোগে সরব হয়েছেন কংগ্রেস এমপি রাহুল গান্ধী। ‘বাংলায় ভোট চুরি হয়েছে’ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে সুর মিলিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতার দাবি, লোকসভায় বিজেপির প্রতি ছয়জনের একজন এমপি ভোট চুরি করে জিতেছেন। হরিয়ানাকে বিজেপির ভোট চুরির আঁতুড়ঘর বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।
গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিয়ে সরব হন রাহুল। তিনি লেখেন, ‘ভোট চুরির মাধ্যমে কখনো আসন হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে তো কখনো গোটা সরকার। লোকসভায় বর্তমানে বিজেপির ২৪০ জন এমপি রয়েছেন। কিন্তু তাদের প্রতি ছয়জনের একজন ভোট চুরি করে এখানে এসেছেন। এদের চিহ্নিত করাও কঠিন নয়। তাহলে কি বিজেপির ভাষায় এদের ঘুষপেটিয়া (অনুপ্রবেশকারী) বলব? আর অবশ্যই হরিয়ানা। এখানে তো গোটা সরকারই অনুপ্রবেশকারী।’
রাহুলের আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নির্বাচনি প্রক্রিয়া পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সব প্রতিষ্ঠানে মোদি সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এরা সব প্রতিষ্ঠানকে কুক্ষিগত করে রাখে এবং এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিয়ে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন-প্রক্রিয়ায় কারচুপি করে।’ রাহুল মনে করেন, ‘বিজেপি সত্যকে ভয় পায়। সঠিকভাবে নির্বাচন হলে এই দলটি ১৪০টি আসনও জিততে পারত না।’
প্রসঙ্গত, গত সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ্যে আসার পর রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছে। রাহুল বলেন, ‘আমরা মমতাদির সঙ্গে একমত, আসাম ও বাংলায় নির্বাচন কমিশনের মদদে বিজেপি ভোট চুরি করেছে। বাংলায় ১০০টির বেশি আসন চুরি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নিরাপত্তা শিথিল
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি শান্তিনিকেতন থেকে সরিয়ে ফেলা হলো পুলিশের স্ক্যানার। পুলিশি নিরাপত্তাসংক্রান্ত যেসব সামগ্রী ছিল অভিষেকের বাড়িতে, সেসবও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিষেকের বাড়িতে যে মানের স্ক্যানার বসানো ছিল, সেই মানের স্ক্যানার সাধারণত বিমানবন্দরে, রেলস্টেশনে বা বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের দপ্তরে থাকে। গতকাল বুধবার দুপুরে মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে অভিষেকের বাড়ি থেকে নিচে নামাতে হয়েছে সেই স্ক্যানার।
গত মঙ্গলবার রাতেও পুলিশি প্রহরা ছিল ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটের শান্তিনিকেতনে। কিন্তু গতকাল বুধবার দুপুরে দেখা গেল, শান্তিনিকেতনের সামনে কোনো অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেই। বাড়ির সামনে যে পুলিশ বুথটি রয়েছে, সেটিও বুধবার ফাঁকা। পুলিশের একটি কুইক রেসপন্স টিমের গাড়ি অবশ্য দাঁড়িয়ে ছিল বাড়ির সামনে। এ ছাড়া স্থানীয় থানার এক পুলিশ কর্মীকে বাড়ির সামনে ‘রাউন্ড’ দিতেও দেখা গেল।
তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেকের শান্তিনিকেতনের সামনে গত মঙ্গলবার রাতেও গার্ডরেল বসানো ছিল। পুলিশ কর্মীরা মোতায়েন ছিলেন সেখানে। তবে গতকাল সে দৃশ্য বদলে গিয়েছে। নেই কোনো অতিরিক্ত প্রহরা। অভিষেকের শান্তিনিকেতনের সামনে যে পুলিশ বুথ রয়েছে, সেটির লাগোয়া বাতিস্তম্ভে ঝুলছে বিজেপির পতাকা। বাড়ির সামনে লাইন দিয়ে যে চেয়ার পাতা থাকত, সেসবও তুলে দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার থেকেই দফায় দফায় বেশ কিছু জায়গা থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির গলির সামনের ‘সিজার ব্যারিকেড’ খুলে দেওয়া হয়েছে গত মঙ্গলবার। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দপ্তরের সামনে থেকেও বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হয় মঙ্গলবারই। এরপর বুধবার সকালে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের বাড়ি এবং কার্যালয়ের সামনে থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা পাকাপোক্তভাবে সরে গেল।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, সংবাদ প্রতিদিন