ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩১, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জানাল প্লেটোর সমাধিস্থল

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৪, ১২:০৫ পিএম
আপডেট: ০১ মে ২০২৪, ১২:০৫ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জানাল প্লেটোর সমাধিস্থল
ছবি: সংগৃহীত

প্রচুর ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে নানা ধরনের সমস্যার সমাধান করছেন গবেষকরা। রোগ নির্ণয়, নতুন মৌল শনাক্ত করা থেকে শুরু করে নানা জটিল সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হচ্ছে এই ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

এবার ইতালির পিসা ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাচীন যুগের প্যাপিরাস কাগজে থাকা একটি লেখা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে তারা জানতে পেরেছেন, কোথায় গ্রিক দার্শনিক প্লেটোকে সমাহিত করা হয়েছে।

প্যাপিরাস কাগজগুলো পাওয়া যায় মাউন্ট ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ৭৯ সালে ধ্বংস হয়ে যাওয়া পম্পেই নগরীর পাশের শহর হারকিউলেনিয়ামে। এই কাগজগুলোর অবস্থা এতটাই নাজুক ছিল যে হাতের স্পর্শে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারত। সেখানেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে এসেছে। অপটিক্যাল ইমেজিং, থার্মাল ইমেজিং ও টোপোগ্রাফি ব্যবহার করে প্যাপিরাসে থাকা ১ হাজার শব্দ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন গবেষকরা, যা মূল লেখাগুলোর ৩০ শতাংশের কাছাকাছি।

এর স্ক্যান করা ডেটা বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জানিয়েছে, কাগজগুলোর একটিতে দার্শনিক গ্যাদারার ফিলোডেমাসের লেখা রয়েছে। যিনি অ্যাথেন্সে পড়াশোনা করেছিলেন এবং পরবর্তী সময় ইতালিতে এসে বসবাস করেছিলেন।

তার লেখায় তিনি প্লেটো, প্লেটোর প্রতিষ্ঠিত একাডেমি (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) ও তার সমাধিস্থল সম্পর্কেও লিখেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, প্লেটোকে একাডেমির মধ্যেই তার জন্য সংরক্ষিত বাগানেই সমাহিত করা হয়েছিল।

ঐতিহাসিকরা জানতেন যে, ৩৪৮ থেকে ৩৪৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের মধ্যে মারা যাওয়া প্লেটোকে তার প্রতিষ্ঠিত একাডেমিতেই সমাহিত করা হয়েছিল। কিন্তু সঠিক স্থান সম্পর্কে তারা নিশ্চিত ছিলেন না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর এই গবেষণা সমাধিস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিয়েছে।

ইউরোপীয় দর্শনের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন প্লেটো। তিনি ছিলেন সক্রেটিসের সরাসরি ছাত্র। আরেক বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের গুরু।

সূত্র: এনডিটিভি 

 

 

আমেরিকার তিন রাজ্যে হত্যা করা হবে ৫ লাখ প্যাঁচা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৪:৫০ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৪:৫০ পিএম
আমেরিকার তিন রাজ্যে হত্যা করা হবে ৫ লাখ প্যাঁচা
ছবি: সংগৃহীত


বিলুপ্তির হাত থেকে বিপন্ন প্রজাতির স্পটেড বা দাগযুক্ত প্যাঁচাকে বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রের বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তারা আগামী তিন দশকে ব্যারেড প্রজাতির প্রায় ৫ লাখ প্যাঁচা মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছেন।

গত সপ্তাহে ইউএস ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের প্রকাশিত কৌশলের বরাত দিয়ে ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ওরেগন, ওয়াশিংটন এবং ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের বনাঞ্চলে স্পটেড প্যাঁচার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা। পশ্চিম উপকূলের ঘন জঙ্গলে প্রায় ৫ লাখ ব্যারেড প্যাঁচা গুলি করে মেরে ফেলবেন প্রশিক্ষিত শুটাররা।

আমেরিকান এক সংস্থার প্রকাশিত নথি থেকে জানা গেছে, আগামী তিন দশকে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ব্যারেড প্যাঁচা গুলি করে মেরে ফেলা হবে। পূর্ব আমেরিকা থেকে আগত এই আক্রমণকারী প্রজাতিরা পশ্চিমা অঞ্চলে ঢুকে পড়ায় তাদের সঙ্গী হিসেবে থাকা বিপন্ন স্পটেড প্যাঁচার বাস্তুসংস্থান দখল করে নিচ্ছে। ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের ছোট প্যাঁচা, উত্তরের স্পটেড প্যাঁচা ও ক্যালিফোর্নিয়ার স্পটেড প্যাঁচাগুলো আক্রমণকারী ব্যারেড প্যাঁচার কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে।

স্পটেড প্যাঁচা এবং ব্যারেড প্যাঁচা উভয়ই উত্তর আমেরিকার স্থানীয় প্রজাতি। ব্যারেড প্যাঁচা বড় এবং আক্রমণাত্মক। তারা স্পটেড প্যাঁচার খাদ্য এবং আবাসস্থল দখল করছে। ফলে স্পটেড প্যাঁচার সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, কিছু এলাকায় এগুলো বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। ব্যারেড প্যাঁচার বংশবৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায়, এদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের অরেগন রাজ্যের তত্ত্বাবধায়ক কেসিনা লি বলেন, ‘কয়েক দশকের সহযোগিতামূলক সংরক্ষণ প্রচেষ্টার পরও উত্তরের স্পটেড প্যাঁচা বিপদে পড়ছে। এগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। স্পটেড প্যাঁচাগুলো নিজের সমগোত্রের প্যাঁচার কাছেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এক প্রজাতির পাখিকে বাঁচাতে আরেক প্রজাতিকে হত্যা করার পদ্ধতি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। এই পদ্ধতি পশ্চিমা উপকূলে সামুদ্রিক মাছ রক্ষায় সি লায়ন মেরে ফেলার সঙ্গে মিল রয়েছে।

কিছু সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই পদ্ধতিকে মেনে নিয়েছেন, আবার কেউ কেউ মনে করেন, এটি প্রয়োজনীয় বনাঞ্চল সংরক্ষণ থেকে দৃষ্টি এড়ানোর একটি কৌশল। আগামী বসন্তে বন্দুক দিয়ে গুলি করে ব্যারেড প্যাঁচা হত্যা করা শুরু হতে পারে। মেগাফোনের সাহায্যে রেকর্ড করা ব্যারেড প্যাঁচার ডাক বাজিয়ে পাখিগুলোকে আকৃষ্ট করা হবে, পরে তাদের গুলি করা হবে। মৃত পাখি গুলোকে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেওয়া হবে।

/আবরার জাহিন

ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসারে জটিলতা কেন?

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৪:৪৮ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৪:৪৮ পিএম
ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসারে জটিলতা কেন?
ছবি; সংগৃহীত

ধূমপান ফুসফুসের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হলেও, অধূমপায়ীদের ক্ষেত্রেও এ রোগটি কেন দেখা দেয়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে আসছেন। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাস্ট্রাজেনেকা’ ও ‘ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউট’ এর গবেষক দল এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেছেন। তাদের গবেষণা অনুসারে, ‘নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার (এনএসসিএলসি)’ নামক ক্যানসারের চিকিৎসা ব্যর্থতার পেছনে বিশেষ ধরনের ‘জেনেটিক মিউটেশন’ ও ‘জিনোম ডুপ্লিকেশন’ দায়ী হতে পারে।

এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত বিজ্ঞান জার্নাল ‘ন্যাচার কমিউনিকেশনস’-এ। গবেষণায় দেখা গেছে, ফুসফুসের ক্যানসার কোষে বিশেষ ধরনের ‘জেনেটিক মিউটেশন’ থাকলে, সেই কোষগুলোর জিনোম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে এসব ক্যানসার কোষের চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। যুক্তরাজ্যে ক্যানসারে আক্রান্তদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এটি ক্যানসারে মৃত্যুরও প্রধান কারণ।

এনএসসিএলসির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ‘এপিডার্মাল গ্রোথ ফ্যাক্টর রিসেপ্টর জিন (ইজিএফআর)’-এর মিউটেশন। যুক্তরাজ্যে ‘এনএসসিএলসি’তে আক্রান্ত ১০-১৫ শতাংশ রোগীর মধ্যে, বিশেষ করে অধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে, এই ইজিএফআর মিউটেশন দেখা যায়। এই মিউটেশন ক্যানসার কোষ দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

১৫ বছরেরও আগে ইজিএফআরকে লক্ষ করে ‘ইজিএফআর ইনহিবিটর্স (EGFR Inhibitors)’ নামে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। তবে এই চিকিৎসা সব রোগীর ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকরী নয়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে টিউমারের আকার ছোট হলেও, অন্যদের বিশেষ করে ‘পি-৫৩’ জিনের রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তেমন ভালো হয় না। যে কারণে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও কম থাকে। আর এখন পর্যন্ত এ ভিন্নতার কারণগুলো অস্পষ্ট ছিল। এই রহস্য উন্মোচনের জন্য গবেষকরা সর্বশেষ ইজিএফআর ইনহিবিটার ‘ওসিমার্টিনিব’-এর ওপর করা গবেষণার ডেটা আবার বিশ্লেষণ করেছেন। তারা শুধু ইজিএফআর মিউটেশন যুক্ত রোগীদের তুলনায় ইজিএফআর ও পি-৫৩ উভয় জিনের মিউটেশনযুক্ত রোগীদের ডেটাও পরীক্ষা করেছেন।

‘ইউসিএল ক্যানসার ইনস্টিটিউট’-এর ক্লিনিকাল অনকোলজিস্ট পরামর্শক ড. ক্রিস্পিন হিলি বলেছেন, ‘এই গবেষণা থেকে আমরা দেখতে পেয়েছি, মিউটেশন ও জিনোমিক প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে রোগীদের শনাক্ত করা সম্ভব। যারা ইজিএফআর ইনহিবিটার থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। ফলে তাদের আরও ভালো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।’

/আবরার জাহিন

ভিনগ্রহে পচা ডিমের গন্ধযুক্ত রাসায়নিকের সন্ধান

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৪:৪৬ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৪:৫০ পিএম
ভিনগ্রহে পচা ডিমের গন্ধযুক্ত রাসায়নিকের সন্ধান
এক্সোপ্ল্যানেট এইচডি ১৮৯৭৩৩বি। ছবি: সংগৃহীত

২০০৫ সালে আবিষ্কৃত হয়েছে ‘এইচডি ১৮৯৭৩৩ব’ নামের ভিনগ্রহ। আগে থেকে এই গ্রহের বিশেষ অবস্থার জন্য পরিচিতি রয়েছে। জুপিটার বা বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে আকারে কিছুটা বড় এই গ্যাসীয় গ্রহের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি। এর রং কোবাল্ট নীল। এখানে নিরবচ্ছিন্ন ঝড়ের কারণে গলিত কাচের বৃষ্টি হয়। তবে এই কাচের বৃষ্টি প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ায় অনুভূমিকভাবে বয়ে চলে, যার গতি প্রতি ঘণ্টায় ৮ হাজার ৪৮ কিলোমিটার। এখন এর সঙ্গে যোগ হলো আরও একটি বিশেষত্ব, যা হচ্ছে পচা ডিমের গন্ধযুক্ত রাসায়নিকের সন্ধান। বিশ্বজগতের এ রহস্যময় গ্রহ সম্পর্কে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই নতুন তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো পচা ডিমের গন্ধের জন্য দায়ী হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে পাওয়া গেছে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের নতুন তথ্যে এইচডি ১৮৯৭৩৩বি গ্রহ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এই গ্রহ আমাদের সৌরজগতের বাইরে অবস্থিত, এ জাতীয় গ্রহগুলোকে এক্সোপ্ল্যানেট (exoplanet) বলা হয়।

এই গবেষণার প্রধান লেখক জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞানী গুয়াংওয়ে ফু বলেন, ‘হ্যাঁ, এই দুর্গন্ধ নিঃসন্দেহে গ্রহটির কুখ্যাতি আরও বাড়িয়ে দেবে। এটি এমন একটি গ্রহ যেখানে মানুষ যেতে চাইবে না, তবে গ্রহবিজ্ঞান সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে এটি গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

এক্সোপ্ল্যানেট এইচডি ১৮৯৭৩৩বি

এইচডি ১৮৯৭৩৩বি গ্রহ ‘হট জুপিটার’ নামে পরিচিত। এটি সৌরজগতের বৃহস্পতির মতো গ্যাসীয় জায়ান্ট গ্রহ। তবে এটি তার নক্ষত্রের অনেক কাছে থাকায় বৃহস্পতির চেয়ে অনেক বেশি গরম। গ্রহটি সূর্যের চেয়ে তার নক্ষত্রের চারদিকে ১৭০ গুণ কাছে ঘুরে। এটি তার নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করতে মাত্র দুদিন সময় নেয়। যেখানে বৃহস্পতির সূর্যের চারদিকে একবার প্রদক্ষিণ সম্পূর্ণ করতে ১২ বছর লাগে।

গ্রহটির নক্ষত্রমুখী অংশের তাপমাত্রা প্রায় ৯৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৭০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট), যা আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ বুধের চেয়েও ১৩ গুণ বেশি। এমন ঘটনা খুবই বিরল বলে জানান গুয়াংওয়ে ফু। এই গ্রহটি পৃথিবী থেকে ৬৪ আলোকবর্ষ দূরে ‘ভল্পেকুলা’ নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত। এক আলোকবর্ষ হলো আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে।

গুয়াংওয়ে ফু আরও বলেন,‘ এত কাছে অবস্থানের কারণে গ্রহটি উজ্জ্বল এবং এর বায়ুমণ্ডলের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ সহজ। এই গবেষণায় পাওয়া হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো উপাদান অন্য অনেক দূরবর্তী গ্রহে শনাক্ত করা অনেক কঠিন হয়ে উঠত। আমাদের অনুমান ছিল, এটা শুধু বৃহস্পতি গ্রহে থাকতে পারে। তবে প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরে এটি শনাক্ত করা গেছে। আমরা এই গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজছি না। কারণ এই গ্রহ অনেক গরম। তবে এতে হাইড্রোজেন সালফাইড পাওয়ার বিষয়টি অন্যান্য গ্রহে এই অণু খুঁজে পাওয়া ও বিভিন্ন ধরনের গ্রহ কীভাবে গঠিত হয়, সে সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।’

বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘ন্যাচার (Nature)’-এ নতুন গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তথ্য ব্যবহার করেছেন গবেষকরা। সূত্র: রয়টার্স

মরু শ্যাওলা মঙ্গলে প্রাণের সূচনা করতে পারে!

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ০২:০৭ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৪, ০২:০৭ পিএম
মরু শ্যাওলা মঙ্গলে প্রাণের সূচনা করতে পারে!
ছবি: সংগৃহীত

চীনের বিজ্ঞানীরা মোজাভে মরুভূমি ও অ্যান্টার্কটিকায় জন্মানো ‘সিন্ট্রিচিয়া ক্যানিনারভিস’ নামের এক বিশেষ ধরনের মরু শ্যাওলা আবিষ্কার করেছেন, যা মঙ্গল গ্রহের রুক্ষ পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। এই আবিষ্কার মঙ্গল গ্রহে প্রাণের বিকাশ ঘটানোর সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

মরু শ্যাওলাটি খরা, উচ্চমাত্রার বিকিরণ ও চরম ঠাণ্ডা পরিবেশেও ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্যাওলাবিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী স্টুয়ার্ট ম্যাকড্যানিয়েল বলেন, ‘স্থলজ উদ্ভিদ চাষ করা যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

মঙ্গল গ্রহের কঠিন পরিবেশে এই শ্যাওলা ব্যবহারের কথা ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। চীনা গবেষকরা ‘দ্য ইনোভেশন জার্নাল’-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে মঙ্গলগ্রহে মরু শ্যাওলার ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন। গবেষণাপত্রে গবেষক আগাতা জুপানস্কা জানিয়েছেন, ‘মরু শ্যাওলা মঙ্গলপৃষ্ঠের পাথুরে উপাদানকে সমৃদ্ধ ও রূপান্তরিত করতে সাহায্য করতে পারে।’

এই শ্যাওলা কেবল কঠিন পরিবেশে বেঁচে থাকে না, বরং পানিশূন্য পরিবেশেও দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে। এমনকি এসব শ্যাওলা মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম তাপমাত্রাতেও পাঁচ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও মরু শ্যাওলা টিকে থাকে। গামা রশ্মির সংস্পর্শে এসেও এই শ্যাওলার বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। রুক্ষ পরিবেশ থেকে ফিরে এসে স্বাভাবিক বৃদ্ধির নজির খুব কম গাছেরই রয়েছে।

বেশির ভাগ গাছপালা মহাকাশ ভ্রমণের চাপ সহ্য করতে পারে না। তাই বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতেই মঙ্গল গ্রহের মতো তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডল ও বিকিরণ তৈরি করে মরু শ্যাওলার সহনশীলতা পরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, সিন্ট্রিচিয়া ক্যানিনারভিস মঙ্গলের পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। সূত্র: ডেইলি মেইল

/আবরার জাহিন

 

বিমানে ঝাঁকুনি বাড়ছে কেন? বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ০২:০৪ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৪, ০২:০৪ পিএম
বিমানে ঝাঁকুনি বাড়ছে কেন? বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

বিমানে যাত্রা করার সময় হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগার অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকের হয়েছে। চারপাশের আকাশ পরিষ্কার, নীল এবং শান্ত, তারপরও হঠাৎ করেই বিমানটি ঝাঁকুনি দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেভাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিমান চালক ও বিমান ইতিহাসবিদ ড্যান বাব এই ঝাঁকুনিকে ‘ক্লিয়ার-এয়ার টার্বুলেন্স’ বলে অভিহিত করেছেন। এটি উচ্চ আকাশে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের সময় একটি পরিচিত ঝুঁকি।

ককপিট থেকে এটি দেখা যায় না। এটি ফ্লাইট ডেকের আবহাওয়া রাডারেও ধরা পড়ে না। বাব আরও বলেন, ‘এটি যেন প্রতি ঘণ্টা ৬০ মাইল গতিতে গাড়ি চালানোর সময় একটি গভীর গর্তে আঘাত করার মতো। এই ঝাঁকুনি যাত্রীরা অনুভব করেন, আশা করি তারা আহত হবেন না।’

তবে এতে আহত হওয়া বা তার চেয়েও খারাপ পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ২০২৪ সালের মে মাসে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি বিমান লন্ডন থেকে রওনা হওয়ার পরে প্রবল ঝাঁকুনির মধ্যে পড়ে। এই অপ্রত্যাশিত ঝাঁকুনিতে ৮৩ জন যাত্রী আহত হন ও একজন মারা যান।

যদিও এই ঘটনা বিশেষভাবে গুরুতর ছিল। এই ধরনের ঝাঁকুনিতে মৃত্যুর ঘটনা বিরল, তবে সামগ্রিকভাবে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে। বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর জন্য দায়ী আমাদের উষ্ণ হওয়া বায়ুমণ্ডল।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞানের অধ্যাপক পল উইলিয়ামস জানান, ‘বর্তমানে আমাদের কাছে শক্ত প্রমাণ রয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝাঁকুনি বাড়ছে। আমরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছি, ১৯৭৯ সাল থেকে উত্তর আটলান্টিকে গুরুতর ক্লিয়ার-এয়ার টার্বুলেন্স বা স্পষ্ট আকাশে ঝাঁকুনি ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।’ গবেষকরা স্যাটেলাইট চালু হওয়ার পর থেকে চার দশকের বায়ুমণ্ডলীয় ডেটা বিশ্লেষণ করে ক্লিয়ার-এয়ার টার্বুলেন্সের ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা নির্ধারণ করেছেন।

গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মহাদেশীয় অংশেও একই রকম এই বৃদ্ধি লক্ষ করা যায়। উত্তর আটলান্টিক ও যুক্তরাষ্ট্র এই দুই জায়গায় বিশ্বের  কয়েকটি ব্যস্ততম বিমান যাতায়াতের রুট রয়েছে।