যারা আলঝেইমার, পারকিনসনস ও মেরুদণ্ডের আঘাতজনিত রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য সুখবর রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র-সম্পর্কিত এই জটিল রোগ তিনটির চিকিৎসায় এখনো কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। তবে গবেষকরা একটি কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরির ব্যাপারে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছেন। যদি তারা এ ক্ষেত্রে পুরোপুরি সফলতা পান, তাহলে তা ওই রোগ তিনটির চিকিৎসায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।
খবরে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীরা এই তিনটি রোগের নতুন চিকিৎসার একটি উপায় বের করার জন্য কাজ শুরু করেছেন। গবেষণার অংশ হিসেবে তারা মহাকাশে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (আইএসএস) গবেষণাগারে ক্ষুদ্র মানবমস্তিষ্ক তৈরি করছেন। এরই মধ্যে মাত্র ৭২ ঘণ্টায় মস্তিষ্কের অর্গানয়েড বৃদ্ধির পরীক্ষায় সফলতাও পেয়েছেন তারা। তবে এই কাজটি আমাদের পৃথিবীতে করলে তাতে কয়েক মাস লেগে যেত।
অর্গানয়েড এমন ধরনের কোষের সমষ্টি, যা কৃত্রিমভাবে মানব-অঙ্গের গঠন ও কার্যকারিতা অনুকরণ করতে পারে। এর মাধ্যমে চিকিৎসার অযোগ্য স্নায়ুবিক রোগ নিরাময়ের জন্য নতুন পরীক্ষা নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। বায়োটেকনোলজি কোম্পানি অ্যাক্সোনিস থেরাপিউটিকস উদ্ভাবিত এই পরীক্ষায় কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোষে উপকারী জিন থেরাপির মাধ্যমে নতুন ঘরানার ভাইরাস ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের পরিবর্তিত ভাইরাসকে ভাইরাল ভেক্টর বলা হয়। পৃথিবীতে মস্তিষ্কের কোষ বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করার সময় মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু মহাকাশে প্রায় শূন্য মাধ্যাকর্ষণ শক্তি থাকায় সহজেই মানুষের মস্তিষ্কের অর্গানয়েড পরীক্ষা করে নতুন অর্গানয়েড তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন তারা।
অ্যাক্সোনিস থেরাপিউটিকসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শেন হেগার্টি বলেন, মহাকাশে মাইক্রোগ্র্যাভিটির পরিবেশে গবেষণা করার সুবিধা অনেক। ২০২৩ সালের আগস্টে অ্যাক্সোনিস থেরাপিউটিকস তাদের ভাইরাল ভেক্টর, পরিপক্ব নিউরন ও স্নায়ুকোষ ধারণকারী অ্যাস্ট্রোসাইট হিমায়িত করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠায়। সেখানে বায়োসেল নামে একটি মেশিনে সব রাখা হয়, যা কোষ গঠনের পরিবেশ তৈরি করে।
নাসার মহাকাশচারী মাইক ব্যারট মস্তিষ্কের অর্গানয়েড নমুনা নিয়ে এ পরীক্ষা করেন। সেখানে ভাইরাল ভেক্টরের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য বায়োসেল নামে একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এরপর ত্রিমাত্রিক টিস্যুর মাধ্যমে জিন থেরাপিসংক্রান্ত পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে মহাকাশে দ্রুত সময়ের মধ্যে মানবমস্তিষ্কের ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি করা গেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখ মানুষ আলঝেইমার ও পারকিনসনস রোগের চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। আর ১৮ হাজারের বেশি মানুষ মেরুদণ্ডের আঘাতজনিত রোগে ভুগে থাকেন। এই গবেষণা তাদের মধ্যে আশার আলো সঞ্চার করেছে। গবেষকরা বলছেন, ইতোমেধ্যে ইঁদুরের ওপর গবেষণাটি প্রযোগ করা হয়েছে। তাতে ভালো ফল পাওয়া গেছে। মানবদেহে গবেষণাটির কার্যকর প্রয়োগ সম্ভব হলে চিকিৎসা জগতে তা আমূল পরিবর্তন আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল


