গাঁজা সেবনে মস্তিষ্কের স্নায়ু সংযোগ কমে যায়, যা ‘সাইকোসিস বা মনোরোগ’-এর ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের ক্ষেত্রে আরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। সাইকোসিস পরবর্তী সময়ে সিজোফ্রেনিয়ার মতো মারাত্মক মানসিক রোগ সৃষ্টি করতে পারে। সাইকোসিস একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তি বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এই বিচ্ছিন্নতা প্রায়ই হ্যালুসিনেশন ও বিভ্রমের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি পরিচালিত গবেষণাটি সম্প্রতি ‘জামা সাইকিয়াট্রি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, সুস্থ ব্যক্তিদের তুলনায় সাইকোসিসের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে স্নায়ু কোষের সংযোগ (সিনাপটিক ডেনসিটি) উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে। এদের মধ্যে যারা গাঁজায় আসক্ত, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া আরও তীব্র হয়।
গাঁজা বহুদিন ধরে মানসিক রোগ, বিশেষত সিজোফ্রেনিয়ার ঝুঁকি বাড়ানোর জন্য দায়ী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তবে এই প্রথমবার গবেষকরা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন শনাক্ত করেছেন।
এই গবেষণার কাজ করেছেন রোমিনা মিজরাহি। তিনি বলেন, ‘গাঁজা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক পরিশোধন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে, যা মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশের জন্য অপরিহার্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক গাঁজা সেবনকারী সাইকোসিস বা মানসিক রোগে আক্রান্ত হন না। তবে যাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি, আমাদের গবেষণা সেই কারণগুলো স্পষ্ট করেছে।’
গবেষকরা ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৫০ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর উন্নত মস্তিষ্ক স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ গবেষণা চালিয়েছেন। এদের মধ্যে কারও কারও মধ্যে সম্প্রতি সাইকোসিসের লক্ষণ দেখা গেছে, আবার কেউ কেউ উচ্চ ঝুঁকিতে ছিলেন।
গবেষকরা জানিয়েছেন, সাইকোসিসের প্রাথমিক পর্যায় ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় স্নায়বিক সংযোগের ঘাটতি লক্ষ করা গেছে। এই ঘাটতির সঙ্গে নেতিবাচক উপসর্গ, যেমন সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও উদ্দীপনার অভাব সম্পর্কিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। গবেষণা বলছে, এই স্নায়বিক অস্বাভাবিকতা ভবিষ্যতে সিজোফ্রেনিয়ার দিকে ধাবিত করতে পারে।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কম সিনাপটিক ডেনসিটিরে কারণে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা, কাজ বা পড়াশোনার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়। তবে বর্তমানে ব্যবহৃত মানসিক রোগের ওষুধগুলো শুধু হ্যালুসিনেশন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে এই ধরনের জটিল উপসর্গ দূর করতে ব্যর্থ হবে।
গবেষক দলের প্রধান বেলেন ব্লাস্কো বলেন, ‘বর্তমান ওষুধগুলো সামাজিক সম্পর্ক ও দৈনন্দিন জীবনের মান বজায় রাখতে যে সমস্যাগুলো হয়, তা সমাধানে কার্যকর নয়। সিনাপটিক ডেনসিটির ওপর ভিত্তি করে আমরা ভবিষ্যতে এমন থেরাপি তৈরি করতে পারি, যা মানসিক রোগীদের জীবনের মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।’
গবেষকরা ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের এই পরিবর্তনগুলো আরও বিশদ আকারে গবেষণার পরিকল্পনা করছেন। এর মাধ্যমে মানসিক রোগের ঝুঁকি আগে থেকে নির্ধারণ ও প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হতে পারে। সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট


