ক্যানসারের নাম শুনলেই বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন এটি একটি মারাত্মক রোগ। এ রোগে আক্রান্তদের পরিণতি মৃত্যু। কিন্তু ৭০-এর দশকের পর থেকে ক্যানসারে আক্রান্তদের বেঁচে থাকার হার তিনগুণ বেড়েছে। তবে ইদানীং অল্পবয়সীদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্তের প্রবণতা বাড়ছে। বিষয়টি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে গবেষকদের। এই সংখ্যা আবার মহিলাদের মধ্যে বেশি।
আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির পক্ষ থেকে এক রিপোর্টে বলা হয়েছে বুক, পাকস্থলী, গোপনাঙ্গে ক্যানসারের হার সবচেয়ে বেশি। যদিও ক্যানসারের প্রভাব যেকোনো বয়সের মধ্যেই দেখা গিয়েছে। তবে কম বয়সের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বেশির ভাগ তরুণ প্রাপ্তবয়স্করা ক্যানসার নিয়ে চিন্তিত নয়। তারা তাদের ক্যারিয়ার গড়তে, পরিবার শুরু করতে এবং অন্যান্য মাইলফলক অর্জনের দিকে মনোনিবেশ করে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির মতে, প্রাথমিকভাবে শুরু হওয়া ক্যানসারের ক্ষেত্রে যেগুলো ৫০ বছরের কম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ঘটে, তা বার্ষিক ১ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরোনো প্রজন্মের মধ্যে দেখা হারের তুলনায় নতুন প্রজন্মের মধ্যে ১৭টি ভিন্ন ক্যানসারের হার ক্রমাগত বাড়ছে। খবরে বলা হয়েছে, ক্যানসারের পেছনে জিনগত বিষয় একটি বড় কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে। তবে যদি সহজ কয়েকটি নিয়ম মেনে চলেন তাহলে মিলতে পারে ক্যানসার থেকে মুক্তি।
যদি হঠাৎ করে ওজন বাড়তে শুরু করে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। এখান থেকে শুরু হতে পারে ক্যানসার। মোট ১৩ ধরনের ক্যানসার হতে পারে এখান থেকেই। তার মধ্যে রয়েছে ব্রেস্ট ক্যানসার, কোলন ক্যানসার, গলব্লাডার ক্যানসার, লিভার ক্যানসার। এই ধরনের ক্যানসারে ভুগছেন বর্তমান বিশ্বের ৪০ শতাংশ মানুষ।
যদি তামাকজাত দ্রব্য বর্জন করে চলতে পারেন তাহলে কম বয়সে ক্যানসার থেকে মুক্তি লাভ করতে পারবেন। সব ধরনের মাদক থেকেই ক্যানসারের জন্ম হয়। যদি মাদক থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারেন তাহলে নিজেকে বাঁচাতে পারবেন।
তেল-ঝাল-মসলাজাতীয় খাবার যত বেশি বর্জন করবেন ততই ভালো হবে। সেখানে যদি ফাইবার জাতীয় খাবার খান তাহলে দেহে ক্যানসারের প্রভাব কমবে। যত আপনার পাকস্থলীতে ফাইবার জাতীয় খাবার থাকবে ততই আপনি সুস্থ থাকবেন।
সাত ধরনের ক্যানসার হতে পারে মদ থেকে। তাই এটিকে যত বেশি এড়িয়ে চলবেন ততই ভালো হবে। যারা মদ না খেয়ে থাকতে পারেন না তাদের দেহে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ।
প্রবল রোদ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন। তাহলে সান ক্যানসার হবে না। নিজের ত্বককে যদি বাঁচিয়ে রাখতে পারেন তাহলে লাভ হবে আপনারই। যতটা নিজের জীবনকে সঠিক পথে রাখবেন তাতে লাভ হবে আপনারই। যত বেহিসাবি জীবনে অভ্যস্ত হবেন ততই দেহে বাসা বাঁধবে মারণ ক্যানসার।
তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তাদের করণীয় তালিকায় ক্যানসার প্রতিরোধের ব্যবস্থা যুক্ত করা আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনটি মূল পদক্ষেপ এক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করতে পারে। অল্প বয়সের জন্য উপযুক্ত স্ক্রিনিং, প্রতিরোধ এবং ঝুঁকি কমানোর বিকল্পগুলো জানা; পরিবারের ক্যানসার ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন থাকা ও স্বাস্থ্য উপসর্গগুলো শনাক্ত করে ডাক্তারের কাছে যাওয়া।
শিকাগো মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজিস্টরা তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের সতর্ক থাকার জন্য বিভিন্ন উপায় বাতলে দিয়েছেন। সেগুলো হলো ১. বছরে একজন প্রাথমিক যত্ন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, ২. পরিবারের ক্যানসার ইতিহাস জানা, ৩. জেনেটিক পরীক্ষা করা, ৪. বয়স-উপযুক্ত ক্যানসার স্ক্রিনিং এবং একটি এইচপিভি ভ্যাকসিন নেওয়া। সূত্র: বিবিসি ও আজকাল


