এ সপ্তাহে বিজ্ঞান অঙ্গনের প্রধান ঘটনা ছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে দুই নভোচারীর ফিরে আসা। তাদের আট দিনের মিশনটি শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে ২৮৬ দিনে। ২০২৪ সালের ৫ জুন ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে নভোচারী বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে করে যাত্রা করেন। তবে এতে হিলিয়াম লিক-সহ একাধিক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।
স্টারলাইনারের প্রকল্পটি আগেও বেশ কয়েকবার পিছিয়েছে। তবুও শুরুর দিকে নাসা আশ্বস্ত করেছিল, নভোচারীরা এ সমস্যা নিয়েও মহাকাশযানটিতে করে ফিরতে পারবেন। তবে নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা পরিত্যাগ করা হয়।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র সময় বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিটে তারা স্পেসএক্স ড্রাগন ক্যাপসুলের মাধ্যমে ফ্লোরিডার উপকূলে সফলভাবে অবতরণ করেন। তাদের মহাকাশে আটকেপড়া নিয়ে আলোচনা হলেও, উইলমোর ও সুনীতা তা মানতে নারাজ। সিএনএনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে উইলমোর বলেন, ‘মহাকাশ অভিযানের প্রস্তুতি এমনভাবে নেওয়া হয় যে, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত থাকি। আমরা আটকে ছিলাম না, আমরা পরিত্যক্তও নই।’
নাসার কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের দীর্ঘ মিশন মহাকাশ অভিযানে নতুন কিছু নয়। অনির্ধারিত পরিস্থিতির জন্য সব সময় বিকল্প পরিকল্পনা রাখা হয়। অভিযানের লক্ষ্য সফল হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, এ ঘটনা ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকবে। বিশেষ করে নতুন মহাকাশযান প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।
/আবরার জাহিন


