মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব একটি বহুল আলোচিত বিষয়। বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের জন্য অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। কিছু গ্রহে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ থাকার সম্ভাবনাও দেখছেন তারা।
তবে কিছু অনুপোযোগী স্থানেও প্রাণের অনুকূল পরিবেশ গড়ে উঠতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মত দিয়েছেন। তাদের এই অভিমত প্রাণের যে সাধারণ সূত্র তার সঙ্গে একেবারেই বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সঠিক পরিস্থিতিতে এবং নিয়ন্ত্রিত মহাজাগতিক বিকিরণের জেরে আদতে বসবাসের অযোগ্য স্থানেও প্রাণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
কীভাবে তা সম্ভব? কেনই বা এত দিন পর এ কথা জানা গেল? আসলে এ ধরনের বিকিরণে মৌলিক জৈবযৌগগুলোর ক্ষতি করার মতো যথেষ্ট শক্তি রয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাবে আমাদের মতো প্রাণীদের শরীরে ক্যানসারের মতো মরণরোগ দেখা দেয়।
শুধু অতিবেগুনি রশ্মি, এক্স-রে এবং গামা রশ্মিই নয়, বরং উচ্চগতির মহাজাগতিক কণার স্রোতও এ ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। তবে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র এবং বায়ুমণ্ডলের কারণে আমরা কিছুটা হলেও সুরক্ষিত। সে কারণেই এত দিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, এ ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা না থাকলে সেই গ্রহে প্রাণের কোনো সম্ভাবনাই থাকার কথা নয়।
কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে, এ ধরনের ‘ক্ষতিকর’ বিকিরণ আদতে প্রাণের অনুকূল পরিবেশও তৈরি করে দেয়। মহাকাশে থাকা উচ্চশক্তির কণাগুলোর আয়নীকরণের ক্ষমতা রয়েছে। ফলে এগুলো ভূগর্ভস্থ পানি কিংবা বরফের অণু থেকে ইলেকট্রনকে আলাদা করতে পারে। একে বলা হয় রেডিওলাইসিস। মহাজাগতিক রশ্মিগুলোর প্রভাবে অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা, অন্ধকার পরিবেশেও অণুজীবদের বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট শক্তি উৎপাদিত হতে পারে।
নতুন গবেষণায় আরও জানা গেছে, এ মুহূর্তে শনির উপগ্রহ এনসেলাডাসে ভিনগ্রহীদের বসবাসের জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। তালিকায় এর পরেই রয়েছে মঙ্গল। তৃতীয় স্থানে রয়েছে বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা।
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী দিমিত্রা আত্রির কথায়, ‘এখন থেকে শুধু সূর্যালোকযুক্ত, উষ্ণ গ্রহগুলোর পরিবর্তে আমরা ঠাণ্ডা এবং অন্ধকার স্থানগুলোতেও প্রাণের সন্ধান করতে পারব। আর সে কারণেই এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনাকেই বদলে দিতে চলেছে!’ আর এটা যদি সত্য হয়, তা হলে বলা যাবে, ভিনগ্রহী ‘এলিয়েন’দের আদতে সাহায্য করছে মহাজাগতিক বিকিরণ! ইন্টারনেট থেকে।


