স্পেনের পাহাড়ি অঞ্চলে দাড়িওয়ালা শকুনের পুরনো বাসা ঘেঁটে মিলেছে অবিশ্বাস্য এক ঐতিহাসিক ভান্ডার। বিজ্ঞানীরা সেখানে পেয়েছেন শত শত বছর পুরনো মানবনির্মিত জিনিস— যার মধ্যে সবচেয়ে পুরনো একটি ৭০০ বছরেরও বেশি বয়সী স্যান্ডেল।
গবেষকদের দাবি, এটি শুধু কোনো সাধারণ বাসা নয়; বরং যেন প্রকৃতির তৈরি এক “জীবন্ত জাদুঘর”, যেখানে যুগের পর যুগ ধরে জমে রয়েছে মানুষের ইতিহাসের টুকরো টুকরো স্মৃতি।
স্পেনের জাতীয় গবেষণা পরিষদের পাইরেনীয় ইকোলজি ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা ২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে দশটিরও বেশি দাড়িওয়ালা শকুনের বাসা বিশ্লেষণ করেন। প্রতিটি বাসা স্তর ধরে পরীক্ষা করে তাঁরা উদ্ধার করেন ২০০টিরও বেশি বস্তু, যার মধ্যে প্রায় ৯ শতাংশই মানুষের তৈরি।
কার্বন পরীক্ষা বলছে, এই বাসাগুলোর কিছু অংশের বয়স ১৩শ শতক পর্যন্ত পুরনো। সবচেয়ে পুরনো নিদর্শনটি হলো ঘাস ও ডাল দিয়ে তৈরি একজোড়া স্যান্ডেল।
তবে শুধু স্যান্ডেলই নয়— বাসা থেকে মিলেছে মধ্যযুগীয় চামড়ার মুখোশ সদৃশ আঁকা টুকরো, ১৮শ শতকের ঝুড়ির অংশ, ধনুকের তীর, ঘোড়ার লাগাম, দড়ি ও কাঠের সরঞ্জাম।
গবেষণার নেতৃত্বে থাকা পরিবেশবিদ অ্যান্টনি মারগালিদা বলেন, “আমরা জানতাম দাড়িওয়ালা শকুন নানা জিনিস টেনে এনে বাসা বানায়। কিন্তু এত পুরনো ও এত সংখ্যক বস্তু পাওয়া একেবারেই অপ্রত্যাশিত।”
দাড়িওয়ালা শকুন সাধারণত পাহাড়ের গুহা বা পাথুরে খাঁজে বাসা বানায়। এসব জায়গার তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা প্রায় একই থাকে, ফলে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জিনিসগুলো প্রায় অক্ষত অবস্থায় রয়ে গেছে।
গবেষক মারগালিদা বলেন, “এই নিদর্শনগুলো আমাদের জানায় মানুষ কেমন পোশাক পরত, কীভাবে শিকার করত, আর সেই সময়ের প্রাণিকূল কেমন ছিল।”
করনেল ইউনিভার্সিটির পাখিবিজ্ঞানী জন ফিটজপ্যাট্রিক বলেন, “এ গবেষণা শকুন সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে নতুন দিক দেখিয়েছে। তারা শুধু প্রকৃতির অংশ নয়, বরং মানুষের ইতিহাসেরও এক নীরব রক্ষক।”
বিশ্বজুড়ে শকুন সংরক্ষণে কাজ করা ইভান বুয়েকলি মনে করেন, “ইথিওপিয়া বা তিব্বতের মতো জায়গায় পুরনো বাসাগুলো অধ্যয়ন করলে মানবসভ্যতার আরও অজানা অধ্যায় উন্মোচিত হতে পারে।”
দাড়িওয়ালা শকুন বর্তমানে IUCN Red List-এ “প্রায় বিপন্ন (Near Threatened)” হিসেবে তালিকাভুক্ত। গবেষকদের মতে, পুরনো বাসার বিশ্লেষণ এই প্রজাতির আবাসস্থল, খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশগত ঝুঁকি বোঝাতে বড় ভূমিকা রাখবে।


