পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জিসান মির্জা ও মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের আয়কর নথি জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদের আয়কর নথি জব্দ করার আদেশ দিয়েছেন ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক তিনটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে দুদকের প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর আবেদনে বেনজীরের স্ত্রী ও কন্যার বিষয়ে দুটি শুনানি করেন। এর আগে দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদিন ওই আবেদন দাখিল করেন।
আয়কর নথি জব্দ করা সংক্রান্ত আবেদনে বলা হয়, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আয়কর রিটার্নসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে জিসান মির্জা ৩১ কোটি ৬৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৪৯ টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ১৬ কোটি ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৩৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এ ছাড়া তাহসিন রাইসার বিষয়ে আবেদনে বলা হয়, তিনি ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫ টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর দুদক বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিসান মির্জা এবং দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে পৃথক চারটি মামলা করে।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ প্রধান, যিনি একাধারে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও পুলিশের বিশেষ ইউনিট র্যাবেরও প্রধান ছিলেন।
ডিবির হারুনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আলোচিত সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদের আয়কর নথি জব্দ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার শুনানি শেষে একই আদালত এই আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদিন আদালতে আবেদন করেন। আবেদনটির পক্ষে শুনানি করেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।
আবেদনে বলা হয়, ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৭ কোটি ৫১ লাখ ১৭ হাজার ৮০৬ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন মর্মে মামলা তদন্ত চলছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার আয়কর রিটার্ন সংক্রান্ত কর অঞ্চল-৬, সার্কেল-১২৯, ঢাকার টিন নম্বর: ৫১২১৪৭১১৩২৭০-এর সব সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দ করা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া হারুনের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে রাজধানীতে দুই ডজন বাড়ি, অর্ধ-শতাধিক ফ্ল্যাট ও প্লটের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই ও জেদ্দাসহ বিভিন্ন জায়গায় তার অঢেল সম্পদের প্রাথমিক তথ্য পেয়ে ইতোমধ্যে মামলা করেছে দুদক।
২০২২ সালের জুলাই থেকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) ঢাকা মেট্রোপলিটনের (ডিএমপি) প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন হারুন অর রশীদ।