ঢাকা ১১ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জাপানের বিপক্ষে রক্ষণভাগ আরও শক্তিশালী করতে হবে: গ্রাহাম পটার রাউজানে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল শিক্ষক দম্পতির পুরুষ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ছেন নারী রেফারি রেকর্ড গড়ে বিশ্ববাজারে আসছে  বিওয়াইডির এসইউভি ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা, নিখোঁজ ১১ হাজার সুইডেনকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে জাপান কোচ মহাবিশ্বে আমাদের গতি কত? ‘জানতাম সঠিক সময়েই ব্রাজিলের হয়ে সেরাটা দিতে পারব’: ভিনিসিয়ুস স্কলাস্টিকায় ‘এ’ লেভেলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসমাপনী উৎসব অ্যানিমেশনের ক্যানভাসে পাহাড় জয়ের গল্প বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, সই হলো ১৩ সমঝোতা স্মারক বিশ্বকাপে হলুদ কার্ডের নিয়মে পরিবর্তন, নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় একঝাঁক তারকা বাতিল আকীদা পন্থীগণ আজ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে : ছারছীনার পীর ছাহেব একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতকের মৃত্যু পার্বত্য চট্টগ্রামে অভিন্ন কর ব্যবস্থার দাবি নাগরিক পরিষদের ডে-লেবার নিয়োগ যাচাই-বাছাইয়ের নোটিশ নিয়ে ইবি প্রশাসনের লুকোচুরি কুকুরের গলায় ইট বেঁধে মেঘনায় নিক্ষেপ, নরসিংদীতে যুবক গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আবাসিক হোটেলে অভিযান, ১৪ তরুণ-তরুণী আটক বিশ্বকাপে কুরাসাওয়ের হয়ে ইতিহাস গড়লেন যে নারী শিশু একাডেমির নেতৃত্বে কি এখনো শিশুসাহিত্যিক ফিরিয়ে আনার সময় আসেনি! আশুরার শিক্ষায় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তায় এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশের সঙ্গে সেন্ট্রোর অংশীদারিত্ব নবায়ন জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে কিশোরীদের নেতৃত্বে ‘দুর্বার কন্যা’ মডেল বিইউএফটিতে ২২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় উৎসব অনুষ্ঠিত একজন ক্লান্ত মানুষের জন্য আশ্বাসের বাণীটি কী জানেন? রোহিঙ্গাদের সম্পদে পরিণত করুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মহিলা সমিতিতে ‘শ্রুতি সম্ভার’ সম্মাননা পাচ্ছেন ওয়াহিদা মল্লিক জলি প্রিয়াঙ্কার কড়া বার্তা…

শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ জনসহ ৪৭ আসামি খালাস

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৩৩ পিএম
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ জনসহ ৪৭ আসামি খালাস
ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত ৯ আসামিকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট

পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৯ জনসহ সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। সাজাপ্রাপ্ত ৪৭ আসামির সবাই বিএনপির নেতা-কর্মী। 

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তাদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি নিয়ে বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। 

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন কায়সার কামাল এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি আসামিদের ডেথ রেফারেন্স আপিলের ওপর শুনানি শেষে রায়ের জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চ ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

এদিকে মামলার রায় ঘোষণার পরপরই ঈশ্বরদীতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আনন্দ-উল্লাস করেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন নেতা-কর্মীরা। শহরে, পাড়া-মহল্লায় খণ্ড খণ্ড আনন্দ মিছিল বের করা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, এ জন্য শহরের রেলগেট ট্রাফিক মোড় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। 

ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত ৯ আসামি ছিলেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম আক্তারুজ্জামান, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক পৌর মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মকলেছুর রহমান বাবলু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, বিএনপি নেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ, সাবেক কমিশনার শামসুল আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান শাহীন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীন, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা নুরে আলম শ্যামল ও বিএনপি নেতা শহিদুল হক অটল। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা উত্তরাঞ্চলে দলীয় কর্মসূচিতে ট্রেনবহর নিয়ে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে প্রবেশের সময় হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানায় একটি মামলা হয়। 

মামলার পর পুলিশ কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র জমা দেয়। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মামলাটির পুনঃতদন্ত হয়। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল পুলিশ ঈশ্বরদীর ৪৭ জন বিএনপি নেতা-কর্মীর নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রত্যাখ্যান করে মামলা প্রত্যাহারের চেষ্টা করেন। কিন্তু আলোচিত রাজনৈতিক এই মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই। পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের তৎকালীন বিচারক মো. রুস্তম আলী রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের ষড়যন্ত্রে তৎকালীন আদালতের ফরমায়েশী রায় উল্লেখ করে মামলাটি প্রত্যাহার ও আসামিদের মুক্তির দাবি করে আসছিলেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। 

ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদরাসা পরিচালকের ১০ বছরের সাজা

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদরাসা পরিচালকের ১০ বছরের সাজা
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে হেফজখানায় মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদরাসার পরিচালককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। এই জরিমানার টাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর দুইটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মাদরাসা পরিচালকের নাম মো. আশরাফ আলী (৪৬)। তিনি ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ গোয়ালচামট মহল্লায় অবস্থিত রওজাতুন-নেছা মহিলা মাদরাসার পরিচালক এবং ওই মহল্লারই বাসিন্দা। তিনি ওই মাদরাসার একটি কক্ষে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ গোয়ালচামট মহল্লার রওজাতুন-নেছা মহিলা মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী হিসেবে পড়াশোনা করত। সে হেফজখানার শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাদরাসার হেফজখানার শ্রেণিকক্ষ থেকে নিজের থাকার কক্ষে ছাত্রীকে ডেকে নেন পরিচালক আশরাফ আলী। ওই দিন আশরাফের স্ত্রী-সন্তান বাসায় ছিল না। বাসা ফাঁকা থাকার এই সুযোগে ওই মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন আশরাফ। পরে দৌড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যায় ওই ছাত্রী। এরপর বাড়িতে এসে সে বাবা-মাকে এসব কথা জানায়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ঘটনার ১৭ দিন পর ৯ এপ্রিল মাদরাসা পরিচালক আশরাফ আলীকে একমাত্র আসামি করে ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই ছাত্রীর বাবা। তখন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও পরে তিনি ছাড়া পান। এরপর মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

মামলাটি তদন্ত করে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর হোসেন মাদরাসা পরিচালক আশরাফ আলীকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, আদালত জরিমানার ৭০ হাজার টাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আদালত ওই আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছেন। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষ বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।

এন কে বি নয়ন/এসএন

ট্রাকচালক হোসেন হত্যায় শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ২৬ জুলাই

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
ট্রাকচালক হোসেন হত্যায় শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ২৬ জুলাই
ছবি: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে ট্রাকচালক হোসেনকে গুলি করে হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৬ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এ মামলার আসামি সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করায়, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। 

আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৬ জুলাই অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য নতুন দিন ধার্য করেন।

মামলায় জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। সেদিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহত ব্যক্তির মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

শেখ হাসিনা ছাড়াও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু পলাতক আসামির মধ্যে রয়েছেন।

মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ চারজন কারাগারে আছেন। 

এ ছাড়াও জামিনে রয়েছেন ১০ জন।

থিওটোনিয়াস/

সিরাজগঞ্জে ডা. বাকি হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:০৮ এএম
সিরাজগঞ্জে ডা. বাকি হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন
ছবি: খবরের কাগজ

সিরাজগঞ্জের আলোচিত চিকিৎসক ডা. বাকি মির্জা হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার জানপুর মহল্লার বাসিন্দা ও একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি জাকারিয়া মাসুদ (৪৩) এবং সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের খাগা গ্রামের আনোয়ার হোসেন কিরণ (৪৫)।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামসুজ্জোহা শাহানশাহ জানান, রায় ঘোষণার সময় আনোয়ার হোসেন কিরণ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে অপর আসামি জাকারিয়া মাসুদ পলাতক।

তিনি আরও জানান, মামলার আরেক আসামি ডা. আবদুল লতিফ হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করায় আদালতের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে। রিভিশন নিষ্পত্তির পর তার বিরুদ্ধে বিচারকাজ পুনরায় শুরু হবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল রাতে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট চত্বরে সরকারি ব্যাচেলর কোয়ার্টারের নিজ কক্ষে ডা. বাকি মির্জাকে হাত-পা বেঁধে গলাকেটে হত্যা করা হয়। পরে এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মামলার এক আসামি রুহুল আমীন বাবুর মৃত্যু হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত বিরোধ ছিল। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে অবশেষে এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করলেন আদালত।

সিরাজুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

হত্যাচেষ্টার মামলায় মমতাজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
হত্যাচেষ্টার মামলায় মমতাজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৪ জুন) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার মমতাজকে আদালতে হাজির করা হলে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আজিজুল হক তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, ‌‘মামলার ঘটনায় মমতাজের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো দরকার। এ ছাড়া প্রয়োজন হলে তাকে পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।’

এ আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এবং বিরোধিতা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। 

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ‘এ মামলার ঘটনায় মমতাজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মমতাজকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মো. মুক্তার হোসেন নামের এক ব্যক্তি মিরপুর এলাকায় জুলাই গণ-আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলন দমনে হামলা, গুলিবর্ষণ করেন পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে মুক্তার আহত হন। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মুক্তার বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। এই মামলায় আজ মমতাজকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

মমতাজ একাধিকবার মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। গত বছরের ১২ মে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে মমতাজকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যা এবং হত্যাচেষ্টাসহ কয়েকটি মামলা আছে।

থিওটোনিয়াস/

শরীয়তপুরে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মামলায় ছেলেসহ কারাগারে বিএনপি নেতা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
শরীয়তপুরে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মামলায় ছেলেসহ কারাগারে বিএনপি নেতা
ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরের জাজিরায় চাঁদাবাজি, লুটপাট এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগে করা মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবরের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

বুধবার (২৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া। 

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তারের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

আদালত ও মামলার সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা ছোবহান মাদবরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবর। চাঁদা না দেওয়ায় গত বছরের ২ ডিসেম্বর রাতে কাজীরহাট এলাকার ছোবহান মাদবরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট, নগদ অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে দোকান দখল করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। 

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা করা হলে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরোয়ানা জারির পরও দীর্ঘদিন তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরে গত এপ্রিল মাস থেকে তারা হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে মঙ্গলবার (২৩ জুন) জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবর। আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী সোবহান মাদবর বলেন, আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল বিএনপি নেতা সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর লুটপাট চালিয়ে তারা দখলে নেয়। আমি ন্যায্য বিচারের দাবিতে আদালতের দারস্থ হয়েছি। আমি আদালতের কাছে আশা রাখি, যাতে ন্যায় বিচার পাই।

বাদী পক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া বলেন, আমার মক্কেলের কাছে চাঁদা দাবি করেছিল বিবাদী পক্ষ। পরে আমার মক্কেল আদালতের দারস্থ হলে গতকাল মঙ্গলবার বিচারক দুইজনের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। আমি আশা রাখি আদালতে আমার মক্কেল ন্যায়বিচার পাবে।

বিধান মজুমদার/খাদিজা রুমি/