অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে ব্যভিচারের অভিযোগে করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রীর তামিমা সুলতানা তাম্মিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তের বিধান মতেই তামিমার দেওয়া তালাক কার্যকর হয়েছিল। ফলে আইনগতভাবে নাসিরের সাথে বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না মর্মে বিচারকের দেওয়া রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে মর্মে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম মামলার বিচার শেষে রায় ঘোষণা করেন।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নাসির ও তামিমাকে বুধবার (১০ জুন) বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
খালাসের কারণ হিসেবে রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন, 'নাসির-তামিমার বিয়েতে কোনো আইনগত বাধা ছিল না। আসামি তামিমার বিরুদ্ধে ৪৯৪ ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। ৪৯৪ ধারা প্রমাণ করতে গেলে প্রমাণ করতে হবে যে তার দ্বিতীয় বিয়েটা অবৈধ। সেক্ষেত্রে তামিমা তার আগের স্বামী রাকিবকে যে তালাক দিয়েছেন তা কার্যকর নয় মর্মে গণ্য করতে হবে। তামিমা যে রাকিবকে তালাক দিয়েছে তার তালাক নামা রয়েছে। তালাক রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। তালাক রেজিস্ট্রেশন বইতে তার স্বাক্ষর রয়েছে।
এদিকে, তালাকের নোটিশ দেওয়া হয়নি মর্মে আদালতে দাবি করেছেন বাদী।
কিন্তু, আসামিপক্ষ ডাক বিভাগের চিঠি পোস্ট করার রশিদ আদালতে দাখিল করেছে।
ডাকবিভাগের চিঠি বিলিকারক আদালতে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি নোটিশ নিয়ে গিয়েছিলেন, তবে তা গ্রহণ করেননি বাদী।
আদেশে বলা হয়, ২০১৬ সালে তামিমা মামলার বাদি রাকিবকে তালাক দেওয়ার পর থেকে ২০২১ সালে নাসিরকে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত বাদির সঙ্গে তামিমার মাত্র কয়েকবার দেখা হয়েছিল। এটা থেকে অনুমেয় যে তারা স্বামী স্ত্রীর মতো একই বাড়িতে বসবাস করে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন—এটা প্রমাণ হয় না।
এছাড়া তাদের শিশু সন্তান আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছে যে তার মা তাকে সঙ্গে করে হোটেল লা মেরিডিয়ানে গিয়ে তার বাবার সঙ্গে দেখা করেছিল।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, যেহেতু বাদি আসামি তামিমাকে তালাকে তাফউইজ প্রদানের ক্ষমতা দিয়েছিল, সেই ক্ষমতা প্রদান করে তিনি ২০১৬ সালে তাকে তালাক দিয়েছেন এবং তা রেজিস্ট্রিও হয়েছে। ফলে তালাক দেওয়ার দীর্ঘদিন পরে অর্থাৎ ২০২১ সালের নাসির-তামিমার দ্বিতীয় বিয়ে করতে আইনগত কোনো বাধা নেই।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অন্যান্য ধারাও বাদী প্রমাণ করতে পারেননি। সেহেতু আসামি তামিমা ও নাসির হোসেনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হলো।'
এর আগে, গত ৬ মে মামলার বাদী ও আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।
২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা
২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের সঙ্গে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারেন রাকিব।
এ ঘটনায় একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি দন্ডবিধি-র ৪৯৪/৫০০/৩৪ ধারার অভিযোগে আদালতে একটি নালিশী (সিআর) মামলা করেন রাকিব।
অভিযোগে বলা হয়, বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেন, যা ধর্মীয় ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবৈধ। এছাড়া নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ও তার কন্যা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সামাজিক মর্যাদাহানি হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির, তামিমা ও তার মা সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পরের বছরের ২৪ জানুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার বিচার চলাকালে ডাক বিভাগের একজন মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ও দুইজন চেয়ারম্যানসহ মোট১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়।
নাসির তামিমা খালাস পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ বাদী ও তার আইনজীবী ইসরাত হাসান জানিয়েছেন, রায়ের আদেশের পুর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর তারা আপিলে যাবেন।
আসামিদের অন্যতম আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আদালত যথার্থই রায় দিয়েছেন। সংক্ষুব্ধ পক্ষেরও আপিল করার আইনগত অধিকার রয়েছে।
এম এ জলিল উজ্জ্বল/এসএন