ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
২৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি মেক্সিকোর চোখ গ্রুপসেরায়, দ.কোরিয়ার সামনে নকআউট নিশ্চিতের সুযোগ অপেক্ষা ফুরাচ্ছে ওচোয়ার! ইংল্যান্ডকে জিততে দিল না ঘানা মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গেলেন ফ্রান্সের কোচ অতঃপর দেম্বেলে… প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত?

শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৫৫ পিএম
আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৬ এএম
শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গতকাল সোমবার এই রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আরেক আসামি পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার এবং দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে ১ হাজার ৪০০ জনকে হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দান, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের’ অধীনে মোট পাঁচ অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলো হচ্ছে- ১. গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, ২. হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ প্রদান, ৩. রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, ৪. রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা ও ৫. আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানো।

এর মধ্যে তিনটিতে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার দ্বিতীয় আসামি আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে রাজধানীর চানখাঁরপুল ও আশুলিয়ায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। এই দুই ঘটনায় পাঁচ বছরের সাজা হয়েছে মামলার তৃতীয় আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের। তার উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। রায় উপলক্ষে এদিন সকালে তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলার অন্য দুই সদস্য শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল মামলার শুরু থেকেই বিদেশে অবস্থান করছেন।

মামলার পাঁচটি অভিযোগের সব কটিই প্রমাণ হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগ ‘প্ররোচনা, হত্যার নির্দেশ এবং বলপ্রয়োগ থামাতে ব্যর্থতার’ দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড হয় শেখ হাসিনার।

দ্বিতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একসঙ্গে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ে দ্বিতীয় অভিযোগ প্রসঙ্গে বলা হয়, এই অভিযোগের ক্ষেত্রে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জন ‘নিরস্ত্র আন্দোলনকারীর’ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় সম্পৃক্ততার জন্য দায়ী করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। আর পঞ্চম অভিযোগে একই দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং ষষ্ঠজনকে জীবিত অবস্থায় আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ আনা হয়।

চানখাঁরপুলে ছয়জন নিরস্ত্র আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যায় সহযোগিতা ও তা প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং পঞ্চম অভিযোগের আশুলিয়ায় পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলায় সহযোগিতা ও তা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধেও চানখাঁরপুলে ছয়জন নিরস্ত্র আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যায় সহযোগিতা ও তা প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং পঞ্চম অভিযোগের আশুলিয়ায় পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলায় সহযোগিতা ও তা প্রতিরোধে ব্যর্থতায় দায় প্রমাণিত হয়েছে। তবে তার দণ্ড কমিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে রায়ে বলা হয়, ঘটনার ‘সম্পূর্ণ ও সত্য বিবরণ’ দেওয়ার মাধ্যমে ‘অবদান’ এবং ‘ঘটনা স্বীকার করায়’ রাজসাক্ষী হিসেবে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় তিন বিচারক এজলাসে আসেন। রায় পড়া শুরুর আগে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মামলা-সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ দেন। এ সময় ট্রাইব্যুনাল জানান, রায়টি মোট ৪৫৩ পৃষ্ঠার। এরপর রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পড়ে শোনান বিচারকরা। বেলা ১টা ৮ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।

এদিন রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল অঙ্গনসহ পুরো রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিল সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাব।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকালীন বিভিন্ন ঘটনায় করা মামলায় এটিই প্রথম রায়। এ রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাস থেকে সরাসরি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সম্প্রচার করা হয়।

এদিন শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবর পাওয়ামাত্র ট্রাইব্যুনালের ফটকের সামনে উল্লাস শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। তাদের মধ্যে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় সেখানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম মামলা হয়েছিল। এরপর ৩৯৭ দিনের মাথায় প্রথম কোনো মামলার রায় এল।

এই মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয় গত ৮ অক্টোবর। এরপর যুক্তিতর্ক শুরু হয় গত ১২ অক্টোবর, আর সম্পন্ন হয় ২৩ অক্টোবর।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায়কে ‘যুগান্তকারী’ ও ‘ভবিষ্যতের জন্য বার্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এজলাসে উপস্থিত থেকে রায় শোনেন তিনি। এ সময় চিফ প্রসিকিউটরসহ প্রসিকিউশনের সদস্যরা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

রায় ঘোষণা শেষে গণমাধ্যমকে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমরা মনে করি এই রায় শহিদদের প্রতি, দেশের প্রতি, এ দেশের মানুষের প্রতি, গণতন্ত্রের প্রতি, সংবিধানের প্রতি, আইনের শাসনের প্রতি এবং আগামী প্রজন্মের প্রতি দায় পরিশোধের স্বার্থে একটি যুগান্তকারী রায়। এই রায় জনমানুষের মনে প্রশান্তি আনবে এবং বাংলাদেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আদালত এই মামলার দুজন আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এর মধ্যে একজন আসামি রাজসাক্ষী হওয়ায় সার্বিক বিবেচনায় আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

শেখ হাসিনার সাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি বিবেচনায় নিয়ে আদালত সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন। ‘ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ে’র জন্য আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আইনের বিধান অনুযায়ী, আসামিরা যেদিন গ্রেপ্তার হবেন, সেদিন থেকেই তাদের সাজা কার্যকর হবে। রাষ্ট্র আইনিভাবে যা করা সম্ভব, তাই করবে।

রায় থেকে তিনি জানান, শহিদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছেন।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই মামলায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো বিষয় ছিল না। তাই এ বিষয়ে আদালত কোনো মন্তব্য করেননি।

রায় শোনা শেষে বের হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাতির প্রতিজ্ঞা পূরণ হয়েছে। এতে প্রমাণ হয়েছে অপরাধী যতই ক্ষমতাশালী হোক, তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে যত বড় অপরাধী হোক, অপরাধের জন্য তাকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। এটাও প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো জটিল অপরাধের বিচার করতে সক্ষম।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘যে ১ হাজার ৪০০ তরতাজা তরুণ জীবন দিয়েছেন, এ রায়ের ফলে তাদের পরিবারে কিছুটা স্বস্তিই প্রসিকিউশনের প্রাপ্তি। একটি বিচারিক প্রক্রিয়াকে সম্পন্ন করার মাধ্যমে এই জাতিকে বিচারহীনতার কলঙ্ক থেকে মুক্ত করার আমাদের যে ক্ষুদ্র প্রয়াস, সেটা যদি সফল হয়, সেটাতেই আমাদের সাফল্য।’

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘যে ধরনের সাক্ষ্য-প্রমাণ এখানে দেখানো হয়েছে, বিশ্বের যেকোনো আদালতের মানে এই সাক্ষ্য-প্রমাণ উতরে যাবে। পৃথিবীর যেকোনো আদালতে এই সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে আজ যেসব আসামিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তারা একই শাস্তি দেবেন।’

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ‘কষ্ট’ পাচ্ছেন বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তারপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আমির হোসেন। তিনি আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষেও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী।

এজলাসে বসে রায় শোনার পর বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি কষ্ট পাচ্ছি। আমার আসামির সাজা হয়েছে। সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে। আমাকে কষ্ট দিবে না? এটিই স্বাভাবিক। এটিই আমার বক্তব্য।’

আইনি দিক তুলে ধরে এ আইনজীবী বলেন, ‘আমার পক্ষে এই মামলায় কোনো আপিলের সুযোগ নাই, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমার মক্কেলরা এসে ট্রাইব্যুনালের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন অথবা তারা কোনোভাবে গ্রেপ্তার হবেন। এর আগ পর্যন্ত আপিল বিভাগে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নাই।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা তো দেখেছেন যে আমাকে রায়ের কপিও ট্রাইব্যুনাল দেবেন না বলেছেন। এই যে দেবেন না, সেটাও আইনে আছে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে আমির হোসেন বলেন, ‘আমার যুক্তিতর্ক নেয়নি তা তো বলব না। আমার যুক্তিতর্ক তো ওনারা নিয়েছেন। অনেক কিছু তো নিয়েছেন। নেওয়ার পরে ট্রাইব্যুনালের কাছে মনে হয়েছে, আমার যুক্তির চাইতেও ওনাদের যুক্তি আরও বেশি শক্তিশালী। সেটা মনে করে তারা সেইভাবে রায় দিয়েছেন। অতএব আমারটা নেয়নি, এটা আমি বলব না। আমি বলব, এই রায়ে আমি কষ্ট পাচ্ছি।’

জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী
অ্যাডভোকেট শফিক নজরুল। ছবি: খবরের কাগজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ে আদিবার ছবি ব্যবহার করে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার মামলায় অ্যাডভোকেট শফিক নজরুলকে চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন সাতদিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, 'বার কাউন্সিল পরীক্ষা ও সরকারকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে আসামি প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন। 

প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ের ছবি ব্যবহার করেন ও ফেসবুকে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেন। তাকে রিমান্ডে নিলে চক্রের অন্যান্য সদস্য ও অর্থ লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।'

শুনানির সময় বিচারকের অনুমতি নিয়ে আসামি বলেন, 'ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রশ্ন বাবদ কার কাছ থেকে কোথায়, কখন টাকা নিয়েছি তার প্রমাণ নেই। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না আমি পরীক্ষার আগে সাজেশন দিয়েছি। আমি একজন এক্সপার্ট। ১০০ প্রশ্নের সবটাই কমন পড়েছে। আমি কি সাজেশন দিতে পারব না? মিথ্যে মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার করেছে। তারপর বেঁধে রেখেছে। পুলিশের কি এই ক্ষমতা আছে?’

আসামি পক্ষে রিমান্ডের আবেদন বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে রিমান্ড মঞ্জুর করার আবেদন জানায়। শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন বিচারক। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট শফিক নজরুল ‘LAW DOCTOR’ পেজের মাধ্যমে ‘১০০টি এমসিকিউ পড়লেই নিশ্চিত পাস’ এমন বিজ্ঞাপন প্রচার করতেন। 

নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করতেন এবং পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করতেন। 

এক ভুক্তভোগীর অভিযোগে বলা হয়, ৮ লাখ টাকা দাবি করে ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়। পরে গত ১২ জুনের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করা হয়।

জলিল উজ্জ্বল/নাঈম

পদত্যাগ করলেন ১৮ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
পদত্যাগ করলেন ১৮ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থানের সঙ্গে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ১৮ জন জামায়াত সমর্থিত আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো পৃথক পদত্যাগপত্রে তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

পদত্যাগপত্রে তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন না হওয়া, বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এসব কারণে সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন, অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভুঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া পদত্যাগকারী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন, ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।

পদত্যাগপত্রে তারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তারা অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

নাঈম/

সালমান শাহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
সালমান শাহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল
চিত্রনায়ক সালমান শাহ।

চিত্রনায়ক সালমান শাহের খুনের রহস্য উদঘাটনে তার দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা মামলার বাদীর আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার বাদী সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করার আবেদন করেন। 

আবেদনে বলা হয়, “মামলাটি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান আছে। প্রাকৃতিক কারণে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃতদেহের দেহাবশেষ পাওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারি সালমান শাহের মরদেহ আদালতের নির্দেশে উত্তোলন করা হলে তা মাত্রাতিরিক্ত পচনশীল অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল মর্মে উল্লেখ করা হয়। সালমান শাহের মরদেহ হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে সেখানেই কবরস্থ আছে। এজন্য তার মরদেহ বারবার উত্তোলনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে, বাধার সৃষ্টি হতে পারে ও সংঘর্ষ হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা রয়েছে। মরদেহ উত্তোলনের বিষয়ে সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীরও ব্যাপক আপত্তি আছে।

গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) জিয়াউল মোর্শেদ মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গত ২৪ মে একই আদালত মরদেহ উত্তোলনের আবেদন মঞ্জুর করেন। 

ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক গত বছর ২০ অক্টোবর রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে। এ বিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম এ মামলাটি করেন।

জলিল উজ্জ্বল/নাঈম

টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এদিন প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এ কারণে আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।

এর আগে, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগ এনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের ও আনিসুল হক। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান ও মো. আব্দুস সালাম সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল এ মামলার আসামি।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড (সিএনএস)-কে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পূর্বের বৈধ টেন্ডার বাতিল করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়।
সিএনএস লিমিটেডকে টাকার অংকে নয় বরং মোট আদায়কৃত টোলের ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে (ভ্যাট ও আইটি ব্যতীত) কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটি টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে। অথচ ২০১০-২০১৫ মেয়াদে একই সেতুতে যৌথভাবে এমবিইএল-এটিটি কোম্পানিকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দিতে খরচ হয়েছিল মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি।

২০২২-২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড একই ধরনের প্রযুক্তিতে তিন বছরের জন্য ৬৭ কোটি টাকায় চুক্তি পায়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে প্রায় ১১২ কোটি টাকা হয়। ফলে সিএনএস লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ায় সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্তরা/

ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের ফাঁসি

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০২:১২ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০২:২২ পিএম
ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের ফাঁসি
আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের। ইনসেটে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশু তাবাচ্ছুম

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলার আসামি আবু তাহেরকে ফাঁসি ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২২ জুন) দুপুর ১২টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এই আলোচিত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত আসামিকে ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার এই টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হত্যার পর মরদেহ গুম করার অপরাধে আসামিকে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার দিন থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত ১১৬ দিনের মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও রায় ঘোষণা হলো, যা ঝিনাইদহের আদালতে এক অনন্য নজির।

আদালত ও মামলায় রায় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।

ঘটনার পরদিন পুলিশ আসামি আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে গত ২৬ মে তাবাসসুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক জেল্লাল হোসেন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। গত ১৬ জুন মামলার চার্জ গঠন, ১৭ জুন সাক্ষ্য গ্রহন এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সোমবার রায় ঘোষনার দিন ধার্য করেন আদালত।

সরকার পক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম ও আসামি পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন।

মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এই সর্বোচ্চ সাজার রায় দেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম জানান, ১১৬ দিনে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচার ব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ হলো।

অন্যদিকে, শিশু তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আসামি আবু তাহেরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।

মাহফুজুর রহমান/আজহার