টানা চার দিন প্রবল যুদ্ধের পর একাত্তরের ৯ ডিসেম্বর মুক্ত হয় খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি এলাকা। এদিন বেলা ১১টায় ১৫৫ জন রাজাকার কপিলমুনি হাইস্কুল মাঠে মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণ-আদালতে উপস্থিত জনতার রায়ে ১৫৫ জন রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
৯ ডিসেম্বর গাইবান্ধা, নেত্রকোনা, খুলনার কপিলমুনি, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস, পাবনার সাঁথিয়া, গাজীপুরের শ্রীপুর, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ, গফরগাঁও, ত্রিশাল, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পাকিস্তানি হানাদারদের কবল থেকে মুক্ত করে মুক্তিবাহিনী।
এদিন মুক্তিযোদ্ধারা বেলা ১১টার দিকে কুমারখালী শহরের চারদিক ঘিরে ফেলে। এরপর পৌর এলাকার কুণ্ডুপাড়ায় রাজাকার ফিরোজ বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক যুদ্ধ হয় মুক্তিবাহিনীর। এ সময় হানাদার বাহিনী শহরে ঢুকে গণহত্যা চালায়। পরে প্রবল যুদ্ধের পরে মুক্ত হয় কুমারখালী।
এ দিন নেত্রকোনা শহরের নাগড়ায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর চতুর্মুখী হামলা চালায় মুক্তিবাহিনী। এই যুদ্ধে ৩ জন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন। এরপর স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
১১ নম্বর সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার আবদুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ মুক্তিযোদ্ধা শেরপুরের নকলা মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। জামালপুরে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর অনুরোধে কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ব্রহ্মপুত্র নদ অতিক্রম করে।
৫ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর শওকত আলীর নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধারা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ আক্রমণ করেন। এ সময় হানাদার বাহিনী মুক্তিবাহিনীর হামলার মুখে টিকতে না পেরে গোবিন্দগঞ্জ থেকে পালিয়ে লামাকাজীতে অবস্থান নেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে প্রবল যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় ‘এস’ ফোর্স। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ভারী অস্ত্র আর গোলাবারুদ নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করে। মিত্রবাহিনীর ৪০ জন শহিদ হন এদিন।
এদিন চট্টগ্রামের নাজিরহাটে মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের ওপর অতর্কিত হামলা করে পাকবাহিনী। এই খবর পেয়ে ফটিকছড়িসহ বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা নাজিরহাটে চলে আসেন। তুমুল যুদ্ধে ৫ জন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ হন।