ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অসামান্য গদ্যশৈলীর রূপকার টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ১০ মুক্তমঞ্চে খেলা দেখা নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় চ‍্যাম্পিয়ন লিডিং ইউনিভার্সিটি দল আখাউড়ায় ‘পার্টনার কংগ্রেস’ গোল্ডেন বুট নিয়ে ভাবছেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ আসামির মামলায় আরও ৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অস্তিত্ব সংকটে মমতার তৃণমূল সরাসরি মোবাইলেই মিলবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পদত্যাগ করলেন ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমারের কাউকে কিছু প্রমাণ করার নেই: জোয়াও কানসেলো স্ত্রীকে নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ব্যবসায়ী সোহেল খুনের অভিযোগ সালমান শাহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬’ উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গোপালগঞ্জে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রেপ্তার ৬ অনুশীলনে নেইমার, বিশ্রামে অ্যালিসন চাঁদপুরে ৩ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুবদলের মোটরসাইকেল শোডাউন নারী কেলঙ্কারির ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ উদ্দিন বরখাস্ত বরগুনায় বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার ডান প্রান্তে রাফিনহার জায়গায় খেলতে প্রস্তুত মার্টিনেল্লি সিভিল সার্জনকে ‘ভাই’ বলায় ক্ষিপ্ত, বললেন ‘মহোদয়’ বলতে হবে সন্ত্রাসী ইমনের গ্রেপ্তার নিয়ে সিএমপির ব্যাখ্যা আইসক্রিমপ্রেমীদের জন্য সেভয়-এর নতুন চমক মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলার বিচার দাবিতে মানববন্ধন তারেক রহমানকে নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে ভিডিওতে হাবিবের গান চাপমুক্ত থাকার ৭টি কার্যকর উপায় ৩০ হাজার মামলার জটে স্থবির শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম: শিক্ষামন্ত্রী

১৩ ডিসেম্বর: বঙ্গোপসাগরের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৩৭ এএম
১৩ ডিসেম্বর: বঙ্গোপসাগরের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

পাকিস্তানকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো ভেটো দেয় রাশিয়া। এই দিনই বঙ্গোপসাগরের দিকে যাত্রা শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর।

তৎকালীন গভর্নর হাউসে জেনারেল নিয়াজির সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধীদের বৈঠক চলাকালে মিত্রবাহিনীর বিমান গভর্নর হাউসে বোমাবর্ষণ করে। পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর ডা. এ এম মালিক তখন দলবলসহ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আশ্রয় নেন। হানাদার বাহিনী সবদিকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় জেনারেল নিয়াজি রাওয়ালপিন্ডিতে বার্তা পাঠান, ‘আরও সাহায্য চাই’।

১৩ ডিসেম্বর অকুতোভয় তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকায় ঢুকে পড়েন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফিউল্লাহর ‘এস’ ফোর্স ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে ঢাকার উপকণ্ঠ ডেমরায় পৌঁছায়। যৌথবাহিনীর অগ্রবর্তী সেনা দল শীতলক্ষ্যা ও বালু নদী অতিক্রম করে ঢাকার ৫-৬ মাইলের মধ্যে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশের নিয়মিত বাহিনীর সর্বপ্রথম ইউনিট হিসেবে ঢাকার শীতলক্ষ্যার পূর্বপাড়ে মুরাপাড়ায় পৌঁছায়। 

৫৭ নম্বর ডিভিশনের দুটো ব্রিগেড এগিয়ে আসে পূর্বদিক থেকে। উত্তর দিক থেকে আসে জেনারেল গন্ধর্ব নাগরার ব্রিগেড এবং টাঙ্গাইলে নামা ছত্রীসেনারা। পশ্চিমে ৪ নম্বর ডিভিশনও মধুমতী পার হয়ে পৌঁছে যায় পদ্মার তীরে। এদিন মেজর হায়দার ২-৩টি গ্রুপ নিয়ে রূপগঞ্জে প্রবেশ করে ডেমরা দিয়ে। ২ নম্বর সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধারাও ঢাকার দিকে চলে আসেন। সবার লক্ষ্য একটাই, ঢাকাকে মুক্ত করা।

এদিন নিরস্ত্র জনতা রাস্তায় নেমে আসে। চারদিকে উড়তে থাকে বাঙালির বিজয় নিশান। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় শত শত পাকিস্তানি সেনা আত্মসমর্পণ করে। কুমিল্লার ময়নামতিতে আত্মসমর্পণ করে ১ হাজার ১৩৪ জন পাকিস্তানি সেনা। আর সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় আত্মসমর্পণ করে ৪৮ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের অধিনায়কসহ ১০৭ পাকিস্তানি সেনা। 

এদিন থেকে রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্টুডিওতে বসে বার্তা বিভাগীয় প্রধান কামাল লোহানী, আলী যাকের ও আলমগীর কবির ঘন ঘন সংবাদ বুলেটিন পরিবর্তন ও পরিবেশন করেন। প্রতি মুহূর্তে খবর আসছে- ঢাকা ছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা মুক্ত।

পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা একে একে দেশের শীর্ষ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করতে শুরু করে।

যশোর গণহত্যা দিবস ৪ এপ্রিল

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২১ পিএম
যশোর গণহত্যা দিবস ৪ এপ্রিল
যশোর রেলস্টেশন মাদ্রাসার ২৩ শহিদের ঐতিহাসিক গণকবর। ছবি: খবরের কাগজ

একাত্তরের সময়ে যশোরের এক নির্মমতার দিন ৪ এপ্রিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে যশোরের ইতিহাসের নৃশংসতম দিনগুলোর অন্যতম এটি। এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা শহরজুড়ে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। হত্যার শিকার হন যশোরের রাজনীতিক, শিক্ষক, ছাত্র ও পেশাজীবী, ধর্মীয় নেতারা। দিনটি যশোরবাসী ‘যশোর গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করেন। 

গণহত্যায় ৫১ জন নিহতের কথা বলা হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি ছিল। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর ২০২৪ সালে ২৪ মার্চ কয়েকজনকে শহিদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায় স্থান দেওয়া হয়। তবে বাকিরা পাননি কোনো স্বীকৃতি। নেই কোনো স্মৃতিস্মারকও। ওই দিনের শহিদদের স্বীকৃতির দাবিতে বছরের পর বছর ঘুরছেন স্বজনরা।

কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বলে ও ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, সারা দেশের মতো যশোরেও ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ প্রস্তুতি। আর এপ্রিলের শুরু থেকেই গোটা বাঙালি জাতি পুরোদমে যুদ্ধজয়ের প্রস্তুতিতে মাঠে নেমে পড়ে। এই যুদ্ধ প্রস্তুতিকে থামিয়ে দিতে নৃশংস হয়ে ওঠে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা। এ সময় যশোর ক্যান্টনমেন্টের পাক আর্মি শহরের বিভিন্ন স্থানে চালাতে থাকে বর্বরোচিত হামলা। যশোরে তাদের সবচেয়ে নৃশংসতম হামলার ঘটনাগুলোর অনেকটিই ঘটে ৪ এপ্রিল। এদিন যশোর ক্যান্টনমেন্টের পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা শহরের বিভিন্ন বাড়িতে ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব চালায়। প্রকাশ্যে গুলি করে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে এদিন তারা হত্যা করে শতাধিক বাঙালিকে। 

এদিন সবচেয়ে বড় ও নির্মম হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটে যশোর রেলস্টেশন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। সে দিনের সেই নারকীয় তাণ্ডবের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী রেলস্টেশন এলাকার শেখ আব্দুর রহিম জানান, ৪ এপ্রিল ভোরে শহরের রেলস্টেশন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ফজরের নামাজ শেষ করে কোরআন শরিফ পাঠ করছিলেন। এমন সময় স্থানীয় বিহারিদের সহায়তায় পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাণ্ডব চালায়। মাদ্রাসার বড় হুজুর আবুল হাসান যশোরী পাক আর্মিদের নিবৃত্ত করতে গেলে অবাঙালিরা পাক আর্মিদের জানায় এরা সবাই ইপিআর; পাকিস্তানের শত্রু। এর পরই পাক আর্মি নির্বিচারে গুলি চালায়। মাদ্রাসা প্রাচীরের ওপর থেকে এই দৃশ্য দেখে পালিয়ে যান আব্দুর রহিম। পরে দুপুরের দিকে তিনি এবং তার ভাই জাহাঙ্গীর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এসে দেখেন রক্তে ভেসে যাওয়া গোটা অঞ্চলে শুধু লাশ আর লাশ। এখানেই ছিল ২৩ জনের লাশ। তাদের মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় মিললেও বাকি ৭ জনের পরিচয় আজও জানা যায়নি। 

এদিন বিকেলে যশোর শহরের ফাতিমা হাসপাতালের পাশের ক্যাথলিক চার্চে ঢুকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে ইতালীয় ধর্মযাজক ফাদার মারিও ভেরোনেসিসহ আরও ছয়জন নিরীহ মানুষকে। 
বিকেল প্রায় ৪টার দিকে হানাদাররা গালিগালাজ করতে করতে চার্চে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শী পরেশ সরদারের বর্ণনায় উঠে আসে সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য–ফাদার মারিও দুই হাত উঁচু করে একজন সৈন্যের সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন। কিন্তু কোনো কথা শোনার সুযোগ না দিয়ে মুহূর্তেই তাকে গুলি করা হয়। এরপর একে একে গুলি করা হয় স্বপন বিশ্বাস, অনিল সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, পবিত্র বিশ্বাস, ফুলকুমারী তরফদার ও ম্যাগদালেনা তরফদারকে। কেউ প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও রক্ষা পাননি। ঘরের ভেতর ঢুকে দরজা ভেঙে–এমনকি নারীদেরও নির্মমভাবে মারপিট করা হয়। চার্চ প্রাঙ্গণ মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।

একই দিনে শহরের গুরুদাসবাবু লেনেও চলে পাক হানাদারদের নারকীয় তাণ্ডব। এই লেনের বাড়ি থেকে অ্যাডভোকেট সৈয়দ আমীর আলী ও তার তিন ছেলে যশোর মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের ছাত্র সৈয়দ নুরুল ইসলাম বকুল, সৈয়দ শফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থী আজিজুল হককে পাক সেনারা ক্যান্টনমেন্টে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে নির্মম নির্যাতনের পর তাদের হত্যা করে। 

তাদের মধ্যে ২০২৪ সালে রেলস্টেশন মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা হাবিবুর রহমান ও জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুর রউফ ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ আমীর আলী শহিদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন। 

যশোর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল বলেন, গণহত্যার শিকার শহিদদের স্বীকৃতির দাবি দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া যশোরের গণহত্যা দিবসের কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা স্মারক নেই। তিনি কবর সংরক্ষণ, শহিদদের স্বীকৃতি ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান।

নাটোর মুক্ত দিবস ২১ ডিসেম্বর

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:২১ পিএম
নাটোর মুক্ত দিবস ২১ ডিসেম্বর
ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হলেও নাটোর মূলত মুক্ত হয় আরও ৫ দিন পর ২১ ডিসেম্বর। ওইদিন নাটোরের উত্তরা গণভবনে ভারতীয় বাহিনীর কাছে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে নাটোর মুক্ত হয়।

পাকিস্তান বাহিনীর নাটোর ব্যারাক কমান্ডার পিএ ১৭০২ ব্রিগেডিয়ার নওয়াব আহমেদ আশরাফ ভারতীয় বাহিনীর আইসি ৪৫৫১ ব্রিগেডিয়ার রঘুবীর সিং পান্নুর কাছে আত্মসমর্পন করেন।

জানা যায়, মু্ক্তিযুদ্ধের সময় নাটোর ছিল পাকিস্তান হানাদারদের ২নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার। এখান থেকেই দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যুদ্ধ পরিচালনা করতো পাক বাহিনী। ১৬ ডিসেম্বর দেশের অন্যান্যস্থান শত্রুমুক্ত হলেও ২১ ডিসেম্বর আত্মসমর্পনের আগ পর্যস্ত পূরো নাটোর ছিল পাক বাহিনীর দখলে। নাটোরের উত্তরা গণভবন ছাড়াও আনছার কোয়ার্টার, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলেজ, নাটোর রাজবাড়ি, পিটিআই,নাটোর মহারাজা জেএন উচ্চ বিদ্যালয়,ভকেশনাল স্কুল,দিঘাপতিয়া কালিবাড়ি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ কার্যালয় ছিল পাক সেনাদের ঘাটি। এ সময় পাক হানাদার বাহিনী নাটোর সদর উপজেলার ফুলবাগান, ছাতনী, দত্তপাড়া, মোহনপুর, লালবাজার, কাপুড়িয়াপট্টি, শুকলপট্টি, মল্লিকহাটি, বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া ক্যাথলিক মিশন, গুরুদাসপুর উপজেলার নাড়িবাড়ি, সিংড়া উপজেলার হাতিয়ানদহ, কলম এবং লালপুর উপজেলার গোপালপুরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল চত্বরসহ ২০টি স্থানে গণহত্যা চালায়। 

১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাক বাহিনীর আত্মসমর্পনের পর বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী, নবাবজগঞ্জ প্রভৃতি স্থান থেকে পাকিস্তানি সেনারা নাটোরের পিটিআই স্কুল, আনসার হল, রিক্রিয়েশন ক্লাব, এনএস সরকারি কলেজ, নাটোর রাজবাড়ি ও দিঘাপতিয়া উত্তরা গণভবনে (তৎকালীন গভর্ণর হাউস) আশ্রয় নেয়। এরপর ২১ ডিসেম্বর উত্তরা গণভবন 
চত্বরে পাকিস্তান বাহিনীর নাটোর ব্যারাক কমান্ডার পিএ ১৭০২ ব্রিগেডিয়ার নওয়াব আহমেদ আশরাফ ভারতীয় বাহিনীর আইসি ৪৫৫১ ব্রিগেডিয়ার রঘুবীর সিং পান্নুর কাছে আত্মসমর্পন করেন। 

এ সময় পাকিস্তান বাহিনীর ১৫১ জন অফিসার, ১৯৮ জন জেসিও, ৫ হাজার ৫০০ সৈনিক, ১ হাজার ৮৫৬ জন আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য তাদের ৯টি ট্যাংক, ২৫টি কামান ও ১০ হাজার ৭৭৩টি ছোট অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করে। 

নাটোরের বীর প্রতীক সোলায়মান আলী দাবি করেন, পাকিস্তানি বাহিনী নাটোরের যে সকল স্থানে গণহত্যা চালিয়েছিল তার কিছুস্থানে গণকবর ও শহিদ মিনার নির্মিত হলেও তার যথোপোযুক্ত তত্বাবধান নেই। এখনও কোনো শহিদ স্মৃতি নির্মিত হয়নি বর্তমান সদর উপজেলা পরিষদের (মুক্তিযুদ্ধকালীন  মিলিটারি পুলিশ হেডকোয়ার্টার) ভেতরের শিমুলতলায়। তালিকা হয়নি গণকবরে শায়িত শহিদদের। সংরক্ষিত হয়নি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, যা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরের পরিত্যাক্ত ভবন সংস্কার করে করা যায়। সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়নি নাটোরের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। 

শুধুমাত্র বিশেষ দিন পালন ও শহিদদের স্মরণের মধ্যেই কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রাখলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ইতিহাস ভুলে যাবে দাবি করে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে তিনি সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের আশু পদক্ষেপ কামনা করেন।

কামাল মৃধা/অমিয়/

নওগাঁয় হানাদারমুক্ত দিবস পালিত

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৬ পিএম
নওগাঁয় হানাদারমুক্ত দিবস পালিত
ছবি: খবরের কাগজ

মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দু’দিন পর ১৮ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় নওগাঁ। এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) হানাদারমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে জেলাটিতে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় এ উপলক্ষে স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘একুশে পরিষদ নওগাঁ’ একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করে। প্যারীমোহন লাইব্রেরি চত্বর থেকে র‍্যালিটি বের হয়।

একুশে পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডি এম আব্দুল বারীর নেতৃত্বে আয়োজিত র‍্যালিতে একুশে পরিষদের সর্বস্তরের সদস্য ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

র‍্যালিটি কাচারি সড়ক, ঔষধপট্টি, ব্রিজের মোড়, প্রথম সড়ক ধরে মুক্তির মোড় হয়ে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে গিয়ে সমবেত হয়। সেখানে একুশে পরিষদের সভাপতি ডি এম আব্দুল বারীসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

এদিকে ১৮ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।

উল্লেখ্য, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস হলেও নওগাঁ মহকুমা তখন পাক সেনাদের দখলে ছিল। এ সময় পাক সেনারা মৃত্যুর ভয়ে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়নি। পাক সেনারা কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে সমবেত হয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। তাদের চাহিদা মোতাবেক ১৮ ডিসেম্বর বগুড়া থেকে মিত্রবাহিনীর একজন কমান্ডার এবং ভারতের বালুরঘাট থেকে পি ভি রায় নামের আরেকজন কমান্ডার নওগাঁয় এলে পাক সেনারা তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ে আত্মসমর্পণ করে। নওগাঁ হয় হানাদারমুক্ত।

এদিকে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দুই দিনে পাক সেনারা নওগাঁ শহরের সন্নিকটে জগৎসিংহপুরে একটি অভিযান চালিয়ে পাঁচজন নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করে।

ময়মনসিংহে মুক্তিযুদ্ধ: দিনের বেলায় কৃষক, রাতে গেরিলা

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৫ পিএম
ময়মনসিংহে মুক্তিযুদ্ধ: দিনের বেলায় কৃষক, রাতে গেরিলা
স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ যোদ্ধাদের স্মরণে ময়মনসিংহ শহরের পাটগুদাম এলাকায় নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির ইতিহাসে চূড়ান্ত বিজয়ের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের। এই বিজয়ের পেছনে যে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ময়মনসিংহ অঞ্চল। মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহ জেলা ছিল গুরুত্বপূর্ণ রণাঙ্গন। এই জনপদের মাটি আজও বহন করে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার রক্ত, আর প্রতিটি পথ-প্রান্তর সাক্ষ্য দেয় সাহস, ত্যাগ ও প্রতিরোধের ইতিহাস।

ময়মনসিংহের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ৭ মার্চ থেকেই ময়মনসিংহে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়। এরই মধ্যে ২৫ মার্চের কালরাতে ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ময়মনসিংহের ছাত্র, শিক্ষক, কৃষকসহ অনেক তরুণ কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই অস্ত্র হাতে তুলে নেন। আর যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, তারা দেশকে শত্রুমুক্ত করার লক্ষ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে এসেছিলেন ময়মনসিংহে।

ময়মনসিংহ অঞ্চল ছিল মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধভূমি। ২৫ মার্চের কালরাতের ভয়াবহতার পর এই সেক্টরের অধীনে সংগঠিত মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখযুদ্ধ ও গেরিলা অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে তোলে। রেললাইন ধ্বংস, সেতু ও কালভার্ট উড়িয়ে দেওয়া, সামরিক কনভয়ে অতর্কিত হামলাসহ সব কৌশলে মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুপক্ষের রসদ সরবরাহ ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে দেন। দিনের বেলায় কৃষক, রাতে গেরিলা–এই ছিল ময়মনসিংহের মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয়।

বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী ময়মনসিংহে ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালায়। জেলার প্রতিটি ইউনিয়নসহ গ্রামে গ্রামে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন ছিল নিয়মিত ঘটনা। এসব বর্বরতার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়েও মুক্তিযোদ্ধারা দমে যাননি। অনেকেই নিজের ঘরবাড়ি জ্বলে যেতে দেখেছেন, মা-বাবা কিংবা ভাইকে হারিয়েছেন, তবু তারা যুদ্ধের ময়দান ছাড়েননি। তাদের কাছে ব্যক্তিগত শোকের চেয়েও বড় ছিল নিজ মাতৃভূমির মুক্তি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহের মুক্তিযোদ্ধাদের বড় শক্তি ছিল সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন। গ্রামবাসী রাতের আঁধারে খাবার, আশ্রয় ও খবর দিয়ে সাহায্য করেছেন। নারীরা নিজেদের অলংকার বিক্রি করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ জুগিয়েছেন। এই সম্মিলিত প্রতিরোধ পাকিস্তানি বাহিনীর জন্য ময়মনসিংহকে এক ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে।

ডিসেম্বরের শুরুতেই যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। ৩ ডিসেম্বর থেকে চূড়ান্ত আক্রমণ শুরু হলে ময়মনসিংহে মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযান আরও জোরদার হয়। পাকিস্তানি বাহিনী বুঝে যায়, এই অঞ্চল আর ধরে রাখা সম্ভব নয়। একের পর এক ক্যাম্প ছেড়ে তারা পিছু হটতে থাকে। অবশেষে ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ ময়মনসিংহ শত্রুমুক্ত হয়। শহরে ও গ্রামে গ্রামে উড়তে থাকে লাল-সবুজের স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। মুক্তিযোদ্ধাদের কাঁধে তুলে নেয় জনতা, কিন্তু সেই উল্লাসের মধ্যেও ছিল অশ্রু-শহিদদের স্মরণে।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের সেই বিজয় চূড়ান্ত স্বীকৃতি পায়। এই দিনটি তাই শুধু রাষ্ট্রীয় বিজয়ের দিন নয়, ময়মনসিংহের প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের স্বীকৃতির দিন। যারা নামের তালিকায় নেই, যারা অচিহ্নিত কবরেই ঘুমিয়ে আছেন, তারাও এই বিজয়ের অংশীদার।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন অস্ত্র হাতে নিয়েছিলাম, তখন আমাদের কাছে স্বাধীনতা মানে ছিল বেঁচে থাকার অধিকার। আমরা কেউ বড় কোনো পদ-পদবির জন্য যুদ্ধে যাইনি, যাইনি কোনো পুরস্কারের আশায়। আমরা গিয়েছিলাম এই দেশের মানুষের সম্মান রক্ষা করতে, মায়ের ভাষা আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করতে।’

তিনি স্মৃতিচারণ করে আরও বলেন, ‘যুদ্ধের দিনগুলো ছিল ভয়াবহ। দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে হয়েছে, গভীর রাতে নদী পেরিয়েছি, অন্ধকার জঙ্গলে লুকিয়ে থেকেছি। চোখের সামনে সহযোদ্ধা গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেককে কাঁধে তুলে নিয়ে ফিরেছি–কেউ আর কথা বলেনি, কেউ আর কোনো দিন হাঁটতে পারেনি। কিন্তু আমরা পিছু হটিনি। কারণ আমরা জানতাম–পিছু হটার মানে পরাধীনতা মেনে নেওয়া।’

ময়মনসিংহের বিজয়ের ইতিহাসে আজ ১৬ ডিসেম্বর আমাদের শুধু গর্বিত করে না, দায়বদ্ধও করে। এই বিজয় আমাদের শেখায়–স্বাধীনতা কখনো উপহার নয়, এটি ছিনিয়ে আনতে হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সেই চেতনা ধারণ করাই এই দিনের প্রকৃত সম্মান। ময়মনসিংহের মাটি আজও উচ্চারণ করে–এই স্বাধীনতা রক্তে কেনা, এই বিজয় কোনো আপসের ফল নয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত হয়েছিল ১৫ ডিসেম্বর

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:১২ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত হয়েছিল ১৫ ডিসেম্বর
ছবি: সংগৃহীত

আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হয় উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর, গোলাম নবী সাটুসহ নাম না জানা হাজার শহিদদের রক্তের বিনিময়ে মুক্ত হয় এই জেলা।

বাঙলা মায়ের দামাল সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের এই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পার্শ্বে মহানন্দা নদীর তীরবর্তী গ্রাম রেহায়চর এলাকায় সংগঠিত হয় এক রক্তয়ী যুদ্ধ। পাকহানাদার বাহিনীর সাথে সুম্মুখযুদ্ধে ধ্বংস করে দেয় শত্রু বাহিনীর ১৮টি ট্রেঞ্চ ও ২০ থেকে ২২টি বাংকার। শত্রুমুক্ত হয় চাপাইনবাবগঞ্জ।

১৯৭১ সালে তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার অন্যান্য এলাকা মুক্ত হয়ে গেলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ছিল পাক হানাদার বাহিনী ও দেশীয় শত্রুদের দখলে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শত্রুমুক্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরকে। ১৩ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর শহর মুক্ত করতে কয়েকটি নৌকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রেহায়চর এলাকায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। সম্মুখযুদ্ধে একের পর এক পরাস্ত করতে থাকেন শত্রু বাহিনীকে। ১৪ ডিসেম্বর রাতের আধার কেটে সকালে সূর্য উঠার আগেই নির্ভিক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহাঙ্গীর সহযোদ্ধাদের নিয়ে বীরদর্পে এগিয়ে চলেন এবং ধ্বংস করে দেন শত্রু বাহিনী ১৮টি ট্রেঞ্চ ও ২০ থেকে ২২টি বাংকার। 

জাহাঙ্গীরের দুঃসাহসিক ও দুরন্ত আক্রমণে শত্রুরা আস্তানা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। রেহায়চর ঘাটের কাছেই শত্রুদের সর্বশেষ বাংকারটি দখল করতে যাওয়ার সময় হটাৎ একটি গুলি লাগে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের কপালে। সেখানেই শাহাদাৎ বরণ করেন তিনি। পরের দিন অর্থাৎ ১৫ ডিসেম্বর তাকে দাফন করা হয় হযরত শাহ নেয়ামাত উল্লাহ (রহ.)-এর পুণ্যভূমি বাংলার পুরাতন রাজধানী গৌড়ের সোনামসজিদ চত্বরে। এরপর আর কোনো যুদ্ধ হয়নি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। মুক্ত হয়ে যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ। 

তবে ১৪ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত হলেও বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে মুক্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ১৫ ডিসেম্বর।

আসাদুল্লাহ/অমিয়/