প্রতিদিন সকালে ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র তীরের জয়নুল আবেদীন উদ্যানে হাঁটতে যাই। ঈদগাহ মাঠের পেছনের মোড় থেকে একটি রাস্তা চলে গেছে সার্কিট হাউস মাঠের পশ্চিম পাশ দিয়ে উত্তর দিকে জয়নুল আবেদীন উদ্যানের গেটের দিকে। চলতি বছরের ৯ জুন এই রাস্তা দিয়ে কিছুটা উত্তর দিকে এগিয়ে গিয়ে বাম দিকে দেয়ালের পাশে দেখতে পাই কাকডুমুরগাছ। তার গায়ে ছিল থোকায় থোকায় ফল। ছবি তুলে ফেললাম ঝটপট।
কাকডুমুর শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট মাঝারি ধরনের বৃক্ষ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Ficus hispida, এটি Moraceae পরিবারের উদ্ভিদ। কাকডুমুরের অন্য বাংলা নামগুলো হচ্ছে জংলিডুমুর, বুনোডুমুর, পাতিডুমুর, কুডুরা, খুকসা, খোকসা, খোকসা ডুমুর, খসখসে, গজ বহই, গজ বুহই, গজ-বই ইত্যাদি। এই উদ্ভিদ ইংরেজিতে Devil Fig, Hairy Fig, Opposite-leaved Fig, Rough-leaved Fig ইত্যাদি নামে পরিচিত। এই গাছ অযত্নে-অবহেলায় এখানে-সেখানে জন্মায়। গাছও তুলনামূলকভাবে ছোট হয়ে থাকে। এর পাতা ১০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা, কিছুটা হৃৎপিণ্ড আকৃতির, খসখসে রোমযুক্ত। পাতার গায়ে ও বোঁটায় সূক্ষ্ম রোম বিদ্যমান। ছোট-বড় ফল গুচ্ছবদ্ধভাবে শাখা-প্রশাখায় জন্মে। ফলের গা খসখসে, পাকলে হলুদ বর্ণ হয়। বর্ষাকালে ফলন বেশি হয়।
অন্যান্য প্রজাতির ডুমুরের মতো এর পাতা খসখসে-প্রকৃতির। তাই এর আরেক নাম খরপত্রী। এই পাতা দিয়ে গ্রামাঞ্চলে অনেকে শিং, মাগুরজাতীয় মাছ কাটার আগে ঘষে পিচ্ছিলভাব পরিষ্কার করেন। এর পাতা প্রজাপতি ও মথের খাবার। এর ফল কাণ্ডের গায়ে থোকায় থোকায় জন্মে। পাখিরাই প্রধানত এই প্রজাতির ডুমুরের ফল খেয়ে থাকে এবং পাখির বিষ্ঠার মাধ্যমে বীজের বিস্তার ঘটে থাকে।
মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকায় এ প্রজাতির গাছ দেখা যায়। বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ এশিয়ার অনেক অঞ্চলে এবং অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায়।
কাকডুমুর কামোদ্দীপক, রক্ত পরিষ্কারক। এর ছালের ক্বাথ সোরিয়াসিস, জন্ডিস ও রক্তপিত্তের (নাক, মুখ দিয়ে রক্ত পড়া) রোগের জন্য উপকারী। জ্বর নিবারণের জন্য এর ছালের গুঁড়া ১-২ গ্রাম মাত্রায় দিনে তিন-চারবার খাওয়াতে হয়। অল্প মাত্রায় খেলে এটি টনিকের কাজ করে। কাকডুমুর স্ত্রীলোকের স্তন্যদুগ্ধ বৃদ্ধি করে। এর ফল, বীজ ও ছাল মূল্যবান বমনকারক ওষুধরূপে ব্যবহৃত হয়। কারও দাঁতে ব্যথা বা পাইরিয়া হলে কাকডুমুর ফলের কষ দাঁতের মাড়িতে লাগালে ভালো উপকার পাওয়া যায়।
লেখক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ
মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ।