পেশাগত ও সামাজিকভাবে সাংবাদিকরা নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পুঁজিপতিদের হাতে সংবাদপত্রের মালিকানা থাকায় স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করা যাচ্ছে না।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে বজলুর রহমান স্মৃতিপদক প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিকতার বড় গুণ সাহসিকতা। সাহস না থাকলে সাংবাদিকতা হয় না। সে জন্য তাদের স্বাধীনতাও প্রয়োজন। তবে পেশাগত ও সামাজিকভাবে সাংবাদিকরা এখন নিরাপদ নন। আবার অনেক ক্ষেত্রে পুঁজিপতিদের হাতে সংবাদপত্রের মালিকানা থাকায় সাংবাদিকরা স্বাধীনও নন।’
সাংবাদিকতার নিরাপত্তাঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতা কখনোই নিরাপদ নয়। সম্প্রতি বিভুরঞ্জন সরকারের আত্মহনন সে কথাই পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। পেশাগত জীবনে হতাশার কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’
নিজের সাংবাদিক হতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও সাংবাদিক হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তখন এই পেশায় জীবিকার নিশ্চয়তা ছিল না। সে জন্য শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হই। তবে সরাসরি সাংবাদিকতা না করলেও সাংবাদিকের সঙ্গে রয়েছে আমার আত্মিক যোগাযোগ।’
দৈনিক সংবাদের সম্পাদক স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক বজলুর রহমানের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সংবাদে ছদ্মনামে লেখা গাছপাথর শিরোনামের ওই কলাম পাঠক মনোযোগ ও আগ্রহ নিয়ে পড়তেন। বজলুর রহমানের উৎসাহ না থাকলে দীর্ঘ ১৪ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে ওই লেখা সম্ভব হতো না।’
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এখন ‘নয়া দিগন্ত’ নামে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করছেন।
এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতার জন্য দুই সাংবাদিককে ২০২৪ সালের বজলুর রহমান স্মৃতিপদক প্রদান করা হয়। প্রিন্ট মিডিয়া শাখায় ‘একটি আইকনিক বিভ্রান্তি’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন দেশ রূপান্তর পত্রিকার আলোকচিত্র সম্পাদক সাহাদাত পারভেজ। ইলেকট্রনিক মিডিয়া শাখায় একাত্তর টেলিভিশনে প্রচারিত ‘রণাঙ্গনের স্মৃতি’ শীর্ষক ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন একাত্তর টেলিভিশনের হেড অব নিউজ মো. শফিকুল ইসলাম। এই দুজন সাংবাদিক পুরস্কার হিসেবে এক লাখ টাকার চেক এবং সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী। প্রিন্ট মিডিয়ার পুরস্কার জয়ীর নাম ঘোষণা এবং শংসাবচন পাঠ করেন জুরি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা ও শংসাবচন পাঠ করেন জুরি বোর্ডের আরেক সদস্য বিশিষ্ট সাংবাদিক সোহরাব হাসান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। জুরি বোর্ডের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক স্মরণে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন অভিনয়শিল্পী ত্রপা মজুমদার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী রফিকুল ইসলাম।
স্বাগত বক্তব্যে সারওয়ার আলী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব যারা গণমাধ্যমগুলোতে তুলে ধরেন, তাদের কাজের স্বীকৃতি ও অনুপ্রেরণা দিতে এই পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে বজলুর রহমানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বিশিষ্ট রাজনীতিক মতিয়া চৌধুরী, তার পরিবার ও বন্ধুদের সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতার জন্য বজলুর রহমান স্মৃতিপদক প্রবর্তন করে।