সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে পেশাগতভাবে বিকল্প দক্ষতা ও সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখক শফিক রেহমান।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকলে একদিন সেই পেশাই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে গণমাধ্যম সম্মিলনে শফিক রেহমান এসব কথা বলেন।
শফিক রেহমান বলেন, ‘এরশাদের আমলে যেমন বিতাড়িত হয়েছি, হাসিনা আমলেও হয়েছি। কিন্তু আমি জানতাম- আমি চাইলে মালদ্বীপ, ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা ইংল্যান্ডে গিয়ে কাজ করতে পারব। কারণ আমার হাতে সাংবাদিকতার বাইরে আরও দক্ষতা ছিল।’
নিজের পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল সংগীত দিয়ে। পরে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতা করার যোগ্যতাও রাখেন।
‘আমি এমএ ইন ইকোনমিক্স করেছি। এই বহুমুখী প্রস্তুতির কারণেই আমি আজ স্বাধীনভাবে লিখতে ও বলতে পারি- যে কেউ ক্ষমতায় থাকুক না কেন’, বলেন তিনি।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করলেও শফিক রেহমান বলেন, ঐক্য টেকসই করতে হলে সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
‘মাসের শেষে সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে হয়। সেই নিশ্চয়তা ছাড়া সাংবাদিকতার স্বাধীনতা টেকে না’, মন্তব্য করেন তিনি।
এ জন্য সাংবাদিকদের নিয়মিত পড়াশোনা ও বিশেষায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফরেন সার্ভিস, অর্থনীতি, রাজনীতি কিংবা সিরিয়া-তুরস্কের মতো নির্দিষ্ট ইস্যুতে বিশেষজ্ঞ হতে পারলে সাংবাদিকের মর্যাদা বাড়ে।’
মিডিয়ায় সাম্প্রতিক হামলা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে শফিক রেহমান বলেন, কিছু সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত হওয়ার পর ঐক্যের ডাক এলেও অতীতে অনেক গণমাধ্যম আক্রান্ত হলে সেই সংহতি দেখা যায়নি।
‘ঐক্য চাই, কিন্তু সেটি হতে হবে নীতির ভিত্তিতে’, বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের ‘দালাল’ আখ্যা দেওয়ার প্রবণতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পক্ষ বদলের এই সংস্কৃতি সাংবাদিকতার সম্মান ক্ষুণ্ন করছে।
‘এই পথে গেলে সম্মান বাড়ে না, কমে’, বলেন শফিক রেহমান।
বক্তব্যের শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সম্মানিত সাংবাদিক হতে হলে কষ্ট করতে হবে, পড়তে হবে। এই সম্মান আপনাদেরই ফিরিয়ে আনতে হবে।’
জয়ন্ত/অমিয়/