ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

শেখ হাসিনাকে পাশে চান গ্লোবাল ফান্ড-স্টপ টিবি জোটের নেতারা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৩:৫৬ পিএম
শেখ হাসিনাকে পাশে চান গ্লোবাল ফান্ড-স্টপ টিবি জোটের নেতারা

গ্লোবাল ফান্ড ও স্টপ টিবি পার্টনারশিপের নেতারা গ্লোবাল ফান্ডের চ্যাম্পিয়নদের জোটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় বলে জানিয়েছেন গ্লোবাল ফান্ডের নির্বাহী পরিচালক পিটার স্যান্ডস ও স্টপ টিবি পার্টনারশিপের নির্বাহী পরিচালক ড. লুসিকা দিতিউ।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে তারা এ আবেদন জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার সময় বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সংস্থা দুটির নেতৃবৃন্দের তালিকায় রয়েছেন।

সংস্থা দুটি বাংলাদেশে টিবি, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়া এবং এর অর্থায়ন নিয়ে কাজ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বিস্তৃত ও গভীর করতে চায়।’

প্রেস সচিব বলেন, তারা আসলে চান যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তহবিল সংগ্রহের জন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন।

তিনি বলেন, উভয় নির্বাহী পরিচালকই টিবি, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়া সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এটিকে ‘বিস্ময়কর’ বলে উল্লেখ করেন।

মো. নাঈমুল ইসলাম খান আরও তুলে ধরেন যে, পাহাড়ি এলাকা ছাড়া বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাংলাদেশের এইচআইভি পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এই অর্জনগুলো তারা তুলে ধরবেন।’

এ প্রসঙ্গে আগামী দিনে তাদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে দুই নির্বাহী পরিচালক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনি যোগ দিলে বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প বিশ্ব অঙ্গনে তুলে ধরা হবে। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশের চাহিদাও জোরালো হবে।’

তারা উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এই সাফল্যগুলো অর্জন করেছে এবং আর কিছু সহায়তা পেলে বাংলাদেশ এসব রোগ নির্মূলের চূড়ান্ত লক্ষ্য স্পর্শ করার সাফল্য অর্জন করতে পারবে।

বৈঠকে গ্লোবাল ফান্ডের নির্বাহী পরিচালক পিটার স্যান্ডস এবং স্টপ টিবি পার্টনারশিপের নির্বাহী পরিচালক ড. লুসিকা ডিটিউ দাবি করেন যে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার মানুষ যক্ষ্মাসংক্রান্ত কারণে মারা যায়।

প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন এবং বৈঠকে উপস্থিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। 

তারা জানান, তাদের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রায় ২৬ হাজার থেকে ২৭ হাজার মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যক্ষ্মাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বের করতে একটি জরিপ চালাতে বলেন। গ্লোবাল ফান্ড এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে। তারা দ্রুত টিবি শনাক্ত করতে এআই চালিত হাই-টেক এক্স-রে মেশিন দিয়ে দেশে মোবাইল ডায়াগনস্টিক ডেভেলপমেন্ট পরিচালনায়ও বাংলাদেশকে সাহায্য করবে।’

প্রেস সচিব উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাহী পরিচালকদ্বয় দেশের এইচআইভি-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন।
তারা সম্মত হন যে ‘এইচআইভি সম্পর্কিত সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের প্রচেষ্টা বন্ধ করা উচিত নয়, যদিও বাংলাদেশ এ বিষয়ে খুব ভালো করছে। এতে অবশ্যই আত্মতৃপ্তিতে ভোগা উচিত হবে না, যা খারাপ সংবাদ বয়ে আনতে পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অর্জন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং দেশকে আরও ভালো অবস্থানে আনতে পারে সে জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরালোভাবে চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, অপুষ্টি ও পরিচ্ছন্নতাকে যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

নাঈমুল ইসলাম খান আরও বলেন, তারা সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী এবং বাংলাদেশের জন্য তহবিল নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।

কমিউনিটি ক্লিনিক ইস্যু সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্তভাবে তার কার্যক্রম এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে কীভাবে সহায়তা করছে তা বর্ণনা করেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গ্লোবাল ফান্ড হলো এইচআইভি, টিবি ও ম্যালেরিয়াকে পরাস্ত করতে এবং সবার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ, আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশ্বব্যাপী অংশীদারত্বমূলক সংস্থা।

তারা সবচেয়ে মারাত্মক সংক্রামক রোগগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে, এসব রোগ বৃদ্ধিতে ইন্ধন দেয় এমন অন্যায়কে চ্যালেঞ্জ করতে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টিরও বেশি দেশে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও মহামারি প্রস্তুতিকে জোরদার করতে বছরে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সংগ্রহ ও বিনিয়োগ করে।

তারা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে এমন সমাধান খুঁজে বের করতে বিশ্বনেতা, সম্প্রদায়, সুশীল সমাজ, স্বাস্থ্যকর্মী ও বেসরকারি খাতকে একত্রিত করে এবং তা বিশ্বব্যাপী নিয়ে যায়।

স্টপ টিবি পার্টনারশিপ হলো ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেসের (ইউএনওপিএস) একটি প্রতিষ্ঠান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এর সেক্রেটারিয়েট অবস্থিত।

২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ অংশীদারত্ব সারা বিশ্বের এক হাজার ৬০০টি অংশীদার সংস্থাকে (আন্তর্জাতিক ও প্রযুক্তিগত সংস্থা, সরকারি প্রোগ্রাম, গবেষণা ও অর্থায়ন সংস্থা, ফাউন্ডেশন, এনজিও, সুশীল সমাজ ও সম্প্রদায়ের গোষ্ঠী এবং বেসরকারি খাতসহ) সংঘবদ্ধ করে যক্ষ্মা (টিবি) বিশ্বব্যাপী নির্মূলে নেতৃত্ব দেয়। সূত্র: বাসস

অমিয়/

সাত জেলায় গ্রেপ্তার আরও ৩০০

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৩০ এএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৩০ এএম
সাত জেলায় গ্রেপ্তার আরও ৩০০
ছবি : ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় সারা দেশে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। এ অভিযানে গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল বুধবার (২৪ জুলাই) পর্যন্ত ৯ জেলায় তিন শতাধিক আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১০৩ জন, গাইবান্ধায় ৯, পঞ্চগড়ে ৩, লক্ষ্মীপুরে ১৭, নাটোরে ১৭, টাঙ্গাইলে ২৫ ও নরসিংদীতে ১০২ জন। 

খবরের কাগজের ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

গাইবান্ধা: সহিংসতার ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় দুই মামলায় শতাধিক জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বুধবার বিকেল ৪টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টা) গ্রেপ্তার হয়েছেন ৯ জন। এ নিয়ে দুই মামলায় গতকাল পর্যন্ত ৫৫ জন গ্রেপ্তার হলো। মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা।

পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ে কোটা আন্দোলনে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মামলায় গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে ওই দুই মামলায় ৪৪ জন আসামি গ্রেপ্তার হলো। পঞ্চগড় থানা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

লক্ষ্মীপুর: নাশকতার মামলায় লক্ষ্মীপুরে বিএনপি-জামায়াতের আরও ১৭ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ডিএসবির কর্মকর্তা এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া। এ নিয়ে গত তিন দিনে ৬০ জন বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হলেন।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ও চট্টগ্রাম জেলায় আরও ১০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হয়েছেন মোট ৭০৩ জন। গ্রেপ্তাররা সবাই বিএনপি-জামায়াতের কর্মী-সমর্থক। চট্টগ্রামে গত এক সপ্তাহে ২৭টি মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন ও সিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কাজী মো. তারেক আজিজ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

নাটোর: নাটোরে বিএনপি-জামায়াতের ১৭ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল বিভিন্ন সময়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জজকোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

টাঙ্গাইল: কোটা সংস্কার ইস্যুকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলে গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত আরও ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত ১৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি স্থাপনা ভাঙচুরসহ কয়েকটি ঘটনায় টাঙ্গাইলে চার থানায় ১০টি মামলা হয়েছে। পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও শ্রমিকনেতা বাদী হয়ে এসব মামলা করেন। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নরসিংদী: নরসিংদী জেলা পুলিশের সর্বশেষ দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলা কারাগারসহ সহিংসতার ঘটনায়, হত্যা ও বিভিন্ন অপরাধ এনে সাতটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ১০২ জন আসামি। এদিকে কারাগার থেকে লুট হওয়া ৮৫টি অস্ত্রের মধ্যে ৩৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার ঘটনায় ৯ মামলায় ৩০৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে পিবিআই কার্যলয় ও একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল।

শাবিপ্রবির ফটকে ‘সহিংসতায়’ গ্রেপ্তার ৩৮: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটক ও আশপাশে ‘সহিংসতায়’ এ পর্যন্ত ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার ৩৮ জনকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় শ্যেন অ্যারেস্ট দেখানো হবে। আজ বৃহস্পতিবার অথবা আগামী রবিবার আদালতের মাধ্যমে তা কাযকর করা হবে। সিলেট মেট্রোপলিন পুলিশ (এসএমপি) সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। জালালাবাদ থানায় শাবিপ্রবির ফটকসহ চারপাশে সহিংসতার ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি তিন হাজার।

ধারণা ছিল এ ধরনের একটা আঘাত আসবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১১:১০ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১১:১০ পিএম
ধারণা ছিল এ ধরনের একটা আঘাত আসবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার একটা ধারণা ছিল এই ধরনের একটা আঘাত আসতে পারে।

বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এডিটরস গিল্ডসের উদ্যোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও হেড অব নিউজ এবং সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পূর্বানুমানের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমি জানতাম যে ইলেকশন করতে দেবে না। তারপরেও আমরা ইলেকশন করে ফেলেছি। ইলেকশন করার পর ইলেকশন গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটাও গ্রহণযোগ্য আমরা করতে পেরেছি। সরকার গঠন করতে পেরেছি। আমার একটা ধারণা ছিল এই ধরনের একটা আঘাত আবার আসবে।’

কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে অনেক বড় ষড়যন্ত্র ছিল জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এটা যে একটা বিরাট চক্রান্ত সেটা বোঝাই যাচ্ছিল। এই যে লোক চলে আসা, এবার আমরা আগে থেকে খবর পেয়েছি লোক ঢুকবে। গোয়েন্দা দিয়ে সব হোটেল, কোথায় থাকতে পারে সেগুলো নজরদারিতে আনা হয়েছে। কিন্তু ওরা সেখানে ছিল না; এরা চলে এসেছে ঢাকার ঠিক বাইরের পেরিফেরিতে (সংলগ্ন এলাকায়)।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব বাংলাদেশ থেকে শিবির-জামায়াত এসেছে। সঙ্গে ছাত্রদলের ক্যাডাররাও সক্রিয় ছিল। যতগুলো ঘটনা ঘটেছে এরাও (বিএনপি) কিন্তু সক্রিয় ছিল।’

আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আরেকটা জিনিস খেয়াল করবেন তখনও লাশ পড়েনি। কিন্তু স্টেট ডিপার্টমেন্টের (যুক্তরাষ্ট্রের) বক্তব্যে এসে গেল যে লাশ পড়েছে। তো লাশের খবর তাদের কে দিল? তাহলে লাশ ফেলার নির্দেশটা কে দিয়েছে? এটাও খবর নেওয়া দরকার এবং তারপরে লাশ পড়তে শুরু করল।’

কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতায় মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বাংলাদেশ টেলিভিশন, দুর্যোগ ভবন, সেতু ভবন, বিআরটিএ, ডেটা সেন্টারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন) এই ভাবে কেন সুযোগটা সৃষ্টি করে দিল সেই জবাবটাও জাতির কাছে তাদের দিতে হবে। আমরা তো বারবার তাদের সঙ্গে বসলাম। প্রজ্ঞাপন সেটাও করা হলো। তাদের কোনো দাবি তো পূরণ করা ছাড়া রাখিনি।’

আন্দোলনকারীদের এক দিন জাতির কাছে জবাব দিতে হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে দাবি তারা করেছিল কোটা সংস্কারের, যতটুকু চেয়েছিল তার থেকে অনেক বেশি দিয়েছি। যখন তাদের দাবি মেনে নেওয়া হলো, তারপরেও তারা এই জঙ্গিদের সুযোগ করে দিল কেন? কোটা আন্দোলনকারীদের জাতির কাছে এক দিন এই জবাব দিতে হবে। কেন মানুষের এত বড় সর্বনাশ করার সুযোগ করে দিল।’

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিষয়ে সরকারের সহানুভূতিশীল মনোভাবের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সব সময় তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছি। তাদের সব সময় নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যেসব ঘটনা ঘটেছে এটা কখনো ক্ষমা করা যায় না।’

দেশবাসীকে সব ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘যেভাবে ধ্বংসযজ্ঞ, পোশাক তৈরি করা হলো কালো প্যান্ট, সাদা শার্ট; ফলস (ভুয়া) আইডি কার্ড, পেছনে ব্যাগের মধ্যে কী আছে? পাথর আর ধারালো অস্ত্র। মসজিদে অস্ত্র নিয়ে ইমামকে মাইকিং করতে বাধ্য করা, এই যে জঙ্গিবাদের একটা বীভৎস চেহারা আজকে সবার সামনে চলে এলো এর বিরুদ্ধে জাতিকে, সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে গণমানুষের আর্থসামাজিক উন্নতির জন্য, তাদের আয় বৃদ্ধি, তাদের চলাচলের সুবিধার জন্য, তাদের জীবনমান উন্নত করবার জন্য যত স্থাপনা তৈরি করেছি, সব কটিতেই তারা আঘাত করেছে, সব কটি তারা ভেঙে দিয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘(এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে) ক্ষতিটা কার? নিশ্চয়ই জনগণের। এখানে তো জনগণকেই রুখে দাঁড়াতে হবে, এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, জনগণকেই সোচ্চার হতে হবে। কারণ এরা তো কোনো দিনই দেশে ভালো কিছু করতে পারেনি।’

বিগত বছরগুলোতে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকা এবং স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জঙ্গিবাদ দমন করে দীর্ঘসময় একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছি। সেই জায়গাটায় আজকে চরম একটা আঘাত দিল।’

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কারফিউ দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি তো চাইনি আমাদের গণতান্ত্রিক ধারায় এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটুক, আমাদের কারফিউ দিতে হোক। একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশে এটা আমাদের কাম্য ছিল না। কিন্তু আজকে না দিয়ে (কারফিউ) কোনো উপায় ছিল না। না দিলে আরও যে কত লাশ পড়ত তার হিসাব নেই।’

তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী, দীর্ঘ সংগ্রামের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত ছিল, দেশের উন্নতিও করতে পেরেছিলাম। মাত্র ১৫ বছরের মধ্যে যে উন্নয়ন করেছি, আর কে পেরেছে এর আগে।’

গণমাধ্যমগুলোকে সঠিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এটা ঠিক অনেকে গুজবে কান দেয়। কান নিয়ে গেছে চিলে, ওটার পিছে ছোটে, কানে হাত দিয়ে দেখল না কান আছে কি না। মিথ্যাচারের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করেন, মানুষ যাতে সঠিত তথ্য জানতে পারে সেভাবে সংবাদগুলো পরিবেশন করুন।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি এর সুফলও মানুষ পেল, কুফলও মানুষ পেল। আপনাদের কাছে যা তথ্য আছে, আপনারা তা ব্যাপকভাবে প্রচার করে জনমত সৃষ্টি করুন।’

মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান। স্বাগত বক্তৃতা করেন এডিটরস গিল্ডসের প্রেসিডেন্ট মোজাম্মেল হক বাবু। এরপর একে একে সিনিয়র সাংবাদিকরা বক্তৃতা করেন।

 

ঢাকার ধ্বংসযজ্ঞ ঘুরে দেখলেন ৩০ রাষ্ট্রদূতসহ ৬৯ কূটনীতিক

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৬ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৬ পিএম
ঢাকার ধ্বংসযজ্ঞ ঘুরে দেখলেন ৩০ রাষ্ট্রদূতসহ ৬৯ কূটনীতিক
ফাইল ছবি

কোটা সংস্কার আন্দোলনকালে নাশকতাকারীদের আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞের শিকার রাজধানীর সরকারি স্থাপনাগুলো দেখে স্তম্ভিত হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা। 

বুধবার (২৪ জুলাই) কূটনীতিকদের সরকারি স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশন, বনানী সেতু ভবন, দুর্যোগ ভবন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের ধ্বংসযজ্ঞ দেখানো হয়েছে। আরও কিছু স্থাপনা দেখানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু যানজটের কারণে দেখানো সম্ভব হয়নি। এসব স্থাপনার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তারা স্তম্ভিত। তারা বলেছেন বাংলাদেশের সঙ্গে আছেন। 

আন্দোলনকালে কতজন মারা গেছেন, এমন কিছু কূটনীতিকরা জানতে চেয়েছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জানতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি, বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যারা আগুন দিয়েছে তাদের ভিডিও ফুটেজ আছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে তাদের বিচার করা হবে। একজনকেও রেহাই দেওয়া হবে না।’

ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের ৬৯ জন কূটনীতিক এসব ধ্বংযজ্ঞ পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে রাষ্ট্রদূতই রয়েছেন ৩০ জন। মাত্র এক দিনের নোটিশে এত বিপুলসংখ্যক কূটনীতিক দেখতে যাবেন, এটা নজিরবিহীন।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের বিক্ষোভে যেসব পাকিস্তানিকে দেখা গেছে, তাদের ব্যাপারে পাকিস্তানকে কিছু জানানো হবে না। কারণ এসব পাকিস্তানি পাকিস্তানে থাকেন না। তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। আজকের পরিদর্শনে পাকিস্তানের হাইকমিশনারও ছিলেন। তিনিও ধ্বংসযজ্ঞ দেখে হতভম্ব।’ 

বিক্ষোভ করায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই বাংলাদেশিরা গ্রেপ্তার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১০:০২ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৪৭ পিএম
বিক্ষোভ করায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই বাংলাদেশিরা গ্রেপ্তার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি : খবরের কাগজ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শুধু আরব আমিরাত নয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দিয়েছে। দেশগুলোর বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করায় ৫৭ জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাদের মধ্যে ৩ জনকে যাবজ্জীবন, ৫৩ জনকে ১০ বছর এবং ১ জনকে ১১ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আরব আমিরাত অতি দ্রুত ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশিদের বিচার করেছে বলে অভিযোগ এনে নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। বুধবার (২৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়। 

আরব আমিরাতে ৫৭ বাংলাদেশির সাজা

আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আমিরাতি নিউজ এজেন্সি (ডব্লিউএএম) জানিয়েছে, কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই ব্যক্তিরা তাদের নিজ দেশের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন যে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশ কয়েকটি সড়কে বড় ধরনের বিক্ষোভের আয়োজন করেছিলেন।

খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার ওই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। পরদিন শনিবার আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বিবৃতি দিয়ে প্রবাসীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, কেউ উল্লিখিত কাজগুলো করলে তাকে কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। তার ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে, জেল-জরিমানা হতে পারে, তাকে আমিরাত থেকে ফেরত পাঠানো হতে পারে বা ভবিষ্যতে তার আমিরাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক বসবাস করেন। পাকিস্তান ও ভারতের পর দেশটিতে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশের।

দ্রুত ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচার করা হয়েছে: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

বুধবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশগ্রহণের ভিত্তিতে দ্রুত বিচারের পর ৫৭ বাংলাদেশি বিক্ষোভকারীকে নির্বিচারে আটক, দোষী সাব্যস্ত এবং দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি, আপত্তিজনকভাবে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যা ন্যায্যতা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুতর উদ্বেগ বাড়ায়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত এক দশকে আমিরাতে নাগরিক অধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, অনলাইন ও অফলাইনের মতো প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সমাবেশের কঠোর বিধিনিষেধ এবং শান্তিপূর্ণ ভিন্নমতকে অপরাধীকরণ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ আইনে গ্রেপ্তার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শুধু আরব আমিরাত নয়, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই বিক্ষোভ করার অপরাধে বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ আইনে গ্রেপ্তার করেছে। এখানে বাংলাদেশের কিছু করার নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশিদের জন্য আরব আমিরাত ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে বলে যা বলা হচ্ছে সেটা গুজব। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের আগে আরও যাচাই করা দরকার। এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিশ্চিত করেছে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস।’

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নজর রাখছে পেন্টাগন : মুখপাত্র

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৬ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৬ পিএম
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নজর রাখছে পেন্টাগন : মুখপাত্র
মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার

বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। একই সঙ্গে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে পেন্টাগন বলেছে, তারা এই অব্যাহত সহিংসতা দেখতে চায় না। 

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মার্কিন পেন্টাগনের মুখপাত্র মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, ‘পেন্টাগন কীভাবে বাংলাদেশে চলমান ছাত্র বিক্ষোভকে পর্যবেক্ষণ করছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি চালিয়ে গণহত্যা চালাচ্ছে? আন্দোলনে শত শত মানুষ নিহত ও আরও হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং দেশব্যাপী কারফিউ জারি করা হয়েছে। জনগণ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে আর সেনাবাহিনী রাস্তায় নেমেছে। নিরাপত্তা বাহিনী জাতিসংঘের সাঁজোয়া যান ব্যবহার করছে, যার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ বিষয়ে আপনাদের পর্যবেক্ষণ কী?’

জবাবে পেন্টাগনের মুখপাত্র মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার বলেন, ‘অবশ্যই আমরা বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে আমার সহকর্মীরা যা বলেছে, আমিও সেটির প্রতিধ্বনি করতে চাই। আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি এবং অবশ্যই আমরা অব্যাহত সহিংসতা দেখতে চাই না।’