ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩১, রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪

ঈদযাত্রা সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া-যানজটে ভোগান্তি, রেলে স্বস্তি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ১১:১৪ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ১১:১৮ পিএম
সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া-যানজটে ভোগান্তি, রেলে স্বস্তি
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষ। শুক্রবার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলেঙ্গায় দেখা যায় তীব্র যানজট। ছবি: খবরের কাগজ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী যাত্রার তৃতীয় দিনে শুক্রবার ঢাকা থেকে দেশের নানা প্রান্তে সড়কপথে যাতায়াতে দিনভর নানা রকম ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার সঙ্গে যানজট ও পরিবহনসংকট যুক্ত হয়ে দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয় আরও। তবে রেলযাত্রা ছিল স্বস্তিদায়ক। আগের দুই দিনের মতো শুক্রবার রেলে শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি। 

বাসে অতিরিক্ত ভাড়া, বাস-সংকট 

শুক্রবার সকালে মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগগামী অধিকাংশ বাসের টিকিট নেই। অনেক যাত্রী টিকিট কাটতে এসে ফিরে গেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একতা পরিবহন ছাড়াও এনা পরিবহন, শাহ ফতেহ আলী পরিবহন, ন্যাশনাল ট্রাভেলস,দেশ ট্রাভেলসসহ বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে কোনো টিকিট না পাওয়ার কথা জানান যাত্রীরা। টাঙ্গাইলগামী যাত্রী ফয়সাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বলেন, ‘আমি ৩ ঘণ্টা ধরে টার্মিনালে বসে আছি। নিরালার কাউন্টার ম্যানেজার বলেছেন, বাস না এলে টিকিট দেওয়া হবে না। মহাখালী থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ভাড়া ২৫০ টাকা। ভাড়া বাড়ানোর জন্য বাস-সংকটকে একটা অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান তারা।’

গাবতলী বাস টার্মিনালের অধিকাংশ কাউন্টারের ব্যবস্থাপক জানান,  চাঁদরাত পর্যন্ত সব টিকিটের বুকিং এরই মধ্যে শেষ। ফলে অনেক যাত্রী চাইলেও নির্ধারিত বা পছন্দের পরিবহনে ভ্রমণ করতে পারবেন না। সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার নয়ন, হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আল-আমিন জানান, টিকিটের বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হবে না এবার। পরিস্থিতি বুঝে কর্তৃপক্ষ দু-একটি বাস ঈদের বহরে যুক্ত করতে পারে কাল রবিবার।

গাবতলীতে দিগন্ত পরিবহনের কাউন্টার কর্মী জয়নুল জানান, প্রতিদিন গড়ে ১০-১২টি বাস গাবতলী ছেড়ে গেলেও শুক্রবার ছেড়েছে ৭টি। মহাসড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট থাকায় বাসগুলো ঢাকায় সময়মতো ফিরে আসতে পারছে না।  

গাবতলী ও মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ চেয়ারম্যান  নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত যে ভাড়া, তার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুরোটা সময় টার্মিনালে রয়েছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মহাসড়কে যানজট, খোলা ট্রাকে দূরপাল্লার যাত্রী

ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে গতকাল শুক্রবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে থেমে থেমে যানজট ছিল দিনভর। সাসেক প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান থাকায় কাঁচপুর থেকে আড়াইহাজারের পুরিন্দাবাজার পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছিল গতকাল। মহাসড়কের এই অংশে নানা স্থানে সিএনজি-অটোরিকশা স্ট্যান্ড, বাস স্টপেজ আর বাজার থাকায় যানজট প্রবল আকার ধারণ করে। যানজটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনায় যাত্রীদের বেশ ভোগান্তি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার একটি কাউন্টারে কিশোরগঞ্জগামী যাত্রী হাসিব মাহমুদ বলেন, ‘কিশোরগঞ্জের নিয়মিত ভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। অথচ আজ নেওয়া হচ্ছে ৭০০ টাকা।’ 

যাত্রীদের হয়রানি ও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমি বাইন হীরা। পরিবহন মালিক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা আদায় করছেন বলে জানান তিনি। 

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে বলিয়ারপুর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার, শ্রীপুর-থেকে ইপিজেড দেড় কিলোমিটার ও বাড়ইপাড়া থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটারসহ ১৭ কিলোমিটার সড়কে যানবাহনের ধীরগতি ছিল। এসব পয়েন্ট পাড়ি দিতে আধা ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা সময় বেশি লেগেছে বলে দাবি করেছেন যাত্রীরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনায় শ্রমিকরা দেড় ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখলে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এই ঘটনার জের ছিল অনেকক্ষণ পর্যন্ত। কাউন্টারগুলোতে বাস দেরি করে আসায় অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। মেঘনা সেতু টোলপ্লাজায় পশু ও পণ্যবাহী যানবাহনের বাড়তি চাপ দেখা গেছে। হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক শরফুদ্দিন আহাম্মদ জানান, ‘ঈদযাত্রায় মানুষের চাপ বেশি থাকায় গাড়ির চাপ ছিল কয়েক গুণ। তবে যানজট যেন তীব্র আকার ধারণ না করে, সে জন্য আমরা বেশ সতর্ক ছিলাম।’ 

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কালিহাতী উপ‌জেলার পুংলী এলাকায় গতকাল ভোরে মালবাহী এক‌টি ট্রাক উল্টে যায়। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মীর মো. সাজেদুর রহমান জানান, এতে পুংলী এলাকা থেকে টাঙ্গাইলের আশিকপুর বাইপাস পর্যন্ত এলাকাজু‌ড়ে যানজটের সৃ‌ষ্টি হয়। প‌রে সকাল সা‌ড়ে ৮টার দি‌কে মালামালসহ ট্রাক‌টি স‌রি‌য়ে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার কার‌ণে সা‌র্ভিস লেন দি‌য়ে প‌রিবহন চলাচল ক‌রে। এদিকে উত্তরবঙ্গ থেকে ছে‌ড়ে আসা ঢাকাগামী প‌রিবহন‌গুলো বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এলাকা হ‌য়ে ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল সড়‌ক দি‌য়ে চলাচল করায় দিনভর যানজট লেগেই ছিল। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-ভূঞ‌াপুর-টাঙ্গাইল সড়‌কের ভূঞাপুর উপ‌জেলার গো‌বিন্দাসীর বাগবাড়ী থেকে কা‌লিহাতীর নারা‌ন্দিয়া পর্যন্ত ১০ কি‌লো‌মিটার এলাকায় যানজ‌টের সৃ‌ষ্টি হ‌য়।

এদিন এ মহাসড়কে বেশ কিছু ট্রাকে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। ঢাকার একটি গার্মেন্টসের কর্মী মারুফা বলেন, ‘ঈদে বাড়ি ফিরতে হবে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে হবে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।’ আরেকটি ট্রাকে বগুড়া যাচ্ছিলেন জিহাদ হাসান নামে এক যাত্রী। তিনি বলেন, ‘গাবতলী বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখি কোনো টিকিট নেই। খবর নিয়ে জানলাম, ৬০০ টাকায় এই ট্রাকে বগুড়ায় যেতে পারব। ঝুঁকি হলেও কী  আর করব! আমার তো বাড়ি যেতেই হবে।’ 

এলেঙ্গা হাইও‌য়ে পু‌লি‌শ ফাঁড়ির ইনচার্জ মীর মো. সাজেদুর রহমান জানান, গতকাল ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে তেমন কোনো যানজট না থাকলেও প‌রিবহ‌নের চাপ ছিল অনেক। মহাসড়ক ও আঞ্চ‌লিক সড়‌কে যান চলাচল স্বাভা‌বিক রাখ‌তে পর্যাপ্তসংখ‌্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা‌হিন‌ীর সদস‌্য মোতা‌য়েন করা হয়েছে। পাশাপা‌শি হাইও‌য়ে পু‌লি‌শের সদস‌্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। 

সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম ওয়াদুদ জানান, উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও শুক্রবার কোনো যানজট ছিল না। ঈদযাত্রা  যানজটমুক্ত ও মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে জেলা পুলিশ, জেলা ট্রাফিক বিভাগ ও হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায় সাড়ে ৮০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশপথ বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতেও শুক্রবার যানজট লেগে যায়। পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ী পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটারজুড়ে যানজট ছিল। মাওয়ায় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার ভোর থেকে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায় যানবাহনগুলোকে টোল দেওয়ার জন্য কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে সেতু এলাকায় যানবাহনের কিছুটা ধীরগতি রয়েছে।’ 

শুক্রবার দুপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এবার চাপ আছে, যানজট নেই। সড়কে চাপ হবে। তবে রাস্তার জন্য যানজট হয়নি। এবার আমরা আরও সর্তক হয়েছি।’ 

রেলযাত্রায় তৃতীয় দিনে স্বস্তি 

ঈদুল আজহার ছুটিতে রেলযাত্রার তৃতীয় দিনে গতকাল শুক্রবার ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে স্বস্তি ফিরেছে। আগের দু’দিনের মতো শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি। উত্তরবঙ্গ, পূর্বাঞ্চল আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলো যথাসময়ে ঢাকা ছেড়ে গেছে। আগের দু’দিন কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের চাপ থাকলেও শুক্রবার সকাল ১০টার পরে তেমন চাপ আর দেখা যায়নি।  

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময় ছেড়ে গেছে। এখন আর প্রথম দিনের মতো ট্রেনে কোনো বিলম্ব নেই। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট পর সকাল সোয়া ৯টায় ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে গেছে রংপুর এক্সপ্রেস। এছাড়া সকাল সাড়ে ১০টার কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ১০টা ৪০ মিনিটে স্টেশন ছেড়ে যায়।

টিকিট কালোবাজারি আটক

শুক্রবার ট্রেনের ৫০০ টিকিটসহ ১২ কালোবাজারিকে আটক করেছে র‌্যাব। কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল মো. ফিরোজ কবীর বলেন, ঢাকার কমলাপুর ও আশপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। এই কালোবাজারি চক্রের কাছ থেকে আগামী ১০ দিনের অরিজিনাল টিকিট পাওয়া গেছে। এগুলোর হার্ডকপি ও সফট কপি রয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেসের টিকিট ৩ হাজার টাকা করে বিক্রি করছে।

প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন খবরের কাগজের মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।

সংসদকে হাইকোর্টের ৪ পরামর্শ সীমান্তের ১০ মাইল বিজিবির সম্পত্তি ঘোষণা করা হোক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৪, ১২:৩২ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৪ এএম
সীমান্তের ১০ মাইল বিজিবির সম্পত্তি ঘোষণা করা হোক
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তরেখা থেকে দেশের ভেতরে ১০ মাইল পর্যন্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সম্পত্তি ঘোষণা করাসহ জাতীয় সংসদকে চার দফা পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রায় ৩৬ বছর আগের একটি ফৌজদারি মামলার আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া রায়ে এসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

গত বছর ৩ আগস্ট এ রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক বেঞ্চ। শনিবার (১৩ জুলাই) রাতে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ১১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে অপর তিনটি পরামর্শ হলো- বিজিবির সম্পত্তি ঘোষণার ফলে ১০ মাইলের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সব ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে সমমূল্যের সরকারি খাস সম্পত্তি থেকে তাদের নামে বরাদ্দ করা যেতে পারে। সীমান্তরেখা থেকে ৮ কিলোমিটার ভূমি সম্পূর্ণ ফাঁকা ও সমান থাকবে। যেন এই ৮ কিলোমিটারের প্রতি ইঞ্চি ভূমি ৮ কিলোমিটার দূর থেকে পরিষ্কার দেখা যায় এবং সীমান্তরেখা থেকে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার মধ্যবর্তী স্থান বিজিবির স্থাপনা, প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ডের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে এই রায় ও আদেশের অনুলিপি ই-মেইলের মাধ্যমে অধস্তন আদালতের সব বিচারক, বিজিবি মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সব সংসদ সদস্যকে পাঠানোর জন্য রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, বাংলাদেশের সীমান্তের নিরাপত্তা কার্যকরভাবে রক্ষা, আন্তরাষ্ট্র সীমান্তে অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হলে এবং জাতীয় রাজস্ব আয় ফাঁকি প্রতিরোধ করতে হলে জাতীয় সংসদকে এই পরামর্শগুলো গুরুত্ব-সহকারে বিবেচনা করতে হবে।

পর্যবেক্ষণে আদালত আরও বলেছেন, ২০১০ সালে বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) নাম বিলুপ্ত করে প্রতিষ্ঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মূল দায়িত্ব হলো দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও আন্তরাষ্ট্র সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ করা। তাই বিজিবিকে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে যেকোনো মূল্যে সীমান্তেই থাকতে হবে। অন্যদিকে আন্তরাষ্ট্র সীমান্ত অপরাধ তথা চোরাচালান প্রতিরোধের নিমিত্তেও সীমান্ত এলাকায় নজরদারি করতে হবে। তাহলে বিজিবির সেই সীমানা কতটুকু? সীমান্তরেখা থেকে দেশের অভ্যন্তরে কত মাইলের মধ্যে তাদের নজরদারির এখতিয়ার থাকবে? 

সে ক্ষেত্রে সীমান্ত রক্ষা বাহিনী তথা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের এখতিয়ারাধীন এলাকা ১৯৭২ সালে এবং ২০১০ সালের আইনে বলা নাই। তবে ১৯৭৪ সালে দি রেকর্ড অব জুট গ্রোয়ার্স (বর্ডার এরিয়া) অ্যাক্টের ২(ক) ধারায় সীমান্ত এলাকার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সংজ্ঞা পর্যালোচনায় এটি কাচের মতো স্পষ্ট যে, সীমান্তরেখা থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১০ মাইল পর্যন্ত এলাকাকে সরকার ১৯৭৪ সালে ‘সীমান্ত এলাকা’ ঘোষণা করেছে। সুতরাং এটা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যায়, বাংলাদেশ রাইফেলস বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কার্যপরিধি তথা এখতিয়ারাধীন এলাকা সীমান্তরেখা থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১০ মাইল। 

মূল মামলার বিষয় সম্পর্কে জানা গেছে, ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে যশোর সীমান্তে চাচড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে ১৫টি ভারতীয় শাড়িসহ জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি)। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৯৮৮ সালের ১৩ এপ্রিল এক রায়ে জাকিরের তিন বছর কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে জাকির হাইকোর্টে আপিল করলে দীর্ঘ শুনানির পর রায় ও দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়। বাতিল আদেশের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিডিআর সদস্যরা যে স্থান থেকে জাকিরকে গ্রেপ্তার করেছেন সেই স্থানে অভিযান চালানোর আইনগত এখতিয়ার ছিল না। গত বছর ৩ আগস্ট ঘোষিত ওই রায়ে আসামি ও আপিলকারীকে অব্যাহতি তথা খালাস দেওয়া হয়। আসামি ও তার জামিনদারকে জামিননামার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মতলু মল্লিক/এমএ/

কথায় গানে বাতিঘরের ২০ বছর

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৪ পিএম
কথায় গানে বাতিঘরের ২০ বছর
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। ছবি: খবরের কাগজ

গল্প, কবিতা, উপন্যাস, অনুবাদ- সাহিত্যের সব শাখার বরেণ্য লেখকরা জড়ো হলেন বিকেলে। এসেছিলেন এ প্রজন্মের সব নন্দিত কবি, গল্পকার, অনুবাদকরা। শুভেচ্ছা আশীর্বাদ জানাতে এসেছিলেন অগ্রজ প্রকাশকরা। লেখক, প্রকাশকের অভূতপূর্ব মিলনমেলা হয়ে উঠেছিল চেইন বুক শপ বাতিঘরের ২০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান।

ঢাকার বাংলামোটরে চেইন বুক শপ বাতিঘরের ‘মুক্ত আলাপ ও গান’ আয়োজনে মুখর ছিল শনিবার (১৩ জুলাই) বিকেলে। 

আয়োজনের মধ্যমণি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘বাংলাদেশ একটা ভয়ংকর জায়গা। এখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালে তাকে পালিশ করতে অনেক লোক দাঁড়িয়ে যায়। সেখানে লাইব্রেরি করা তো খুবই কঠিন।’

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা শহরে লাইব্রেরি থাকলেও সেগুলো কেন চলে না, তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘শহরে শহরে লাইব্রেরিগুলো চলছে না। কারণ পাঠক হেঁটে গিয়ে বই পড়তে চায় না। আমরা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে যখন বই পড়া কর্মসূচি শুরু করেছিলাম, তখন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম মানুষের হাতে বই ধরাব। ইতোমধ্যে দুই কোটি পাঠকের হাতে বই ধরিয়েছি। কিন্তু এর পেছনেও অনেক লোক লেগে গেছে। মানুষ এত ক্ষুদ্রমনা!’

সারা দেশে ২০০টি বইমেলার আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে একটি বড় বইমেলা হয়, সেটি ঢাকায়। কিন্তু সারা দেশকে বঞ্চিত রেখে শুধু রাজধানীকে বৈভবপূর্ণ করে জাতি সম্পূর্ণ হতে পারে না। এই বইমেলা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

প্রকাশকদের উদ্দেশে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘যারা বইয়ের দোকান করে, তাদের প্রকাশক হওয়ার দরকার নেই। আবার যারা প্রকাশক, তাদের বইয়ের দোকান করার দরকার নেই। চেইন বুক শপকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলেই তারা যেন প্রকাশনায় যুক্ত হয়।’

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বইয়ের দোকান পরিচালনা করা বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ। সেখানে ২০ বছর ধরে বুক শপ পরিচালনা ও প্রকাশনার মাধ্যমে বইপ্রেমীদের আকৃষ্ট করার জন্য বাতিঘরকে অভিনন্দন জানাতে হয়। তবে বাতিঘরকে শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য দিয়ে বিবেচনা করলে হবে না। বাতিঘর একটি সামাজিক উদ্যোগ, এটিকে সামাজিক ব্যবসা হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। এটি জ্ঞানপিপাসু মানুষের আকর্ষণের জায়গা হয়ে থাকুক।’ 

লেখক-গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বাতিঘর বই বিক্রেতা, নাকি প্রকাশনা এ নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। কখনো মনে হয়, বাতিঘরে প্রকাশনা কম গুরুত্ব পাচ্ছে। আসলে প্রকাশক হিসেবে টিকে থাকা খুব চ্যালেঞ্জের। সে চ্যালেঞ্জ বাতিঘর একা মোকাবিলা করবে, নাকি আরও সব প্রকাশনার সঙ্গে মিলে করবে, তাও দেখার বিষয়। কথা হলো, পাঠক যদি থাকে তাহলে লেখকও থাকবে, প্রকাশকও থাকবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, এই কংক্রিটের শহরে বাতিঘর হলো মরূদ্যান। ওয়াটারস্টোনের মতো একটি চেইন বুক শপ হবে এই ঢাকায়, সেখানে বই পড়ার অভ্যাস ফিরে আসবে, বইয়ের জন্য এত টাকা বিনিয়োগ হবে, এটিই তো ছিল অবিশ্বাস্য।

কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান, আলতাফ পারভেজ, কবি ও প্রাবন্ধিক এজাজ ইউসুফী, ইফতেখারুল ইসলাম, মোহিত কামাল, লেখক কিযী তাহনিন, কবি-সাংবাদিক সোহরাব হাসান, লেখক-অনুবাদক মোজাফফর হোসেন, লেখক অরুণ বিশ্বাস শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়াও সময় প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ, অনুপম প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মিলন কান্তি নাথ, ভাষাচিত্র প্রকাশক খন্দকার সোহেল এই মিলনমেলায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। 

 

খবরের কাগজের প্রতিবেদন ‘প্রটোকল বাহিনী’কে তিরস্কার করলেন ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১০:২৯ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১০:২৯ পিএম
‘প্রটোকল বাহিনী’কে তিরস্কার করলেন ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

দৈনিক খবরের কাগজে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ‘প্রটোকল বাহিনী’র (বিতর্কিত নেতা-কর্মীদের) সদস্যদের তিরস্কার করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ভবিষ্যতে তারা যেন নেতাদের নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অপকর্ম না করে সেজন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদেরসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। এই বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে খবরের কাগজে প্রকাশিত ‘ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রটোকল বাহিনীর দৌরাত্ম্য চরমে’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়েন। তখন ‘প্রটোকল বাহিনী’র সদস্য নাহিদ কামাল পলাশ, পরশ খান শাকিব, ওয়ালিউর রহমান বুলেট, নাজমুল মুন্সিসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তবে তথাকথিত প্রটোকল বাহিনীর প্রধান মাহমুদুল আসাদ রাসেল উপস্থিত ছিলেন না।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দৈনিক খবরের কাগজ হাতে নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এসব সদস্যের দিকে আঙুল তুলে বলেন, ‘দেখো তোমাদের নামে পত্রিকায় কী লিখেছে!’ তিনি পত্রিকার প্রতিবেদনের অর্ধেক অংশ পড়েও শোনান বিতর্কিত ওই নেতা-কর্মীদের। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ সময় ‘প্রটোকল বাহিনী’র সদস্যদের তিরস্কার করেন। তিনি বলেন, ‘এইসব অপকর্মের জন্য তোমাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’  

এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, কখন থেকে এই বাহিনীর দৌরাত্ম্য বেড়েছে সেটা আমাদের জানতে হবে। ২০০৮-এ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে তো মতলববাজদের দেখা যায়নি। দল ক্ষমতায় আসার পর এই কার্যালয়ে (ধানমন্ডির কার্যালয়ে) মতলববাজদের আনাগোনা বাড়ল কেন? সেই সময় অফিসের দায়িত্বে কোন নেতা ছিলেন? কাদের ছত্রচ্ছায়ায় বিতর্কিতরা অফিসে আসা-যাওয়া করছে? নাছিম সতর্ক করে বলেন, এদের কারণে দলের ক্ষতি হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন সাবেক এমপি আব্দুস সোবহান গোলাপ।  

বাহাউদ্দিন নাছিমের কথা শেষ হলে তথাকথিত প্রটোকল বাহিনীর উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, এদের কারণে হাঁটাচলা করতে পারি না। গাড়িতে উঠতে-বসতে এবং গাড়ি থেকে নামতে এরা সবসময় ঘিরে ধরে ছবি তুলে তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে অপকর্ম করে। আমি এদেরকে চাই না।এরকম বাহিনীতো আমার দরকার নাই। একপর্যায়ে সবাইকে সতর্ক ও তিরস্কার করেন ওবায়দুল কাদের। 

রাজু/এমএ/

কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় দাবি পরিবর্তন কেন, প্রশ্ন তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১০:১৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ১০:২০ পিএম
কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় দাবি পরিবর্তন কেন, প্রশ্ন তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। ছবি: সংগৃহীত

কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দফায় দফায় দাবি পরিবর্তন কেন করা হচ্ছে? এ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

শনিবার (১৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এই প্রশ্ন করেন। 

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের মাধ্যমে সরকারি পরিপত্র আবারও পুনর্বহাল হওয়ার পর, আন্দোলনকারীদের প্রাথমিক দাবি পূরণ হওয়া, তাদের মৌলিক দাবি এবং সরকারের অবস্থান একইরকম প্রতীয়মান হওয়া সত্ত্বেও যারা বারবার দাবি পরিবর্তন করে বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং এখনো আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ তৈরি করছে আমি মনে করি তারা কোটা পদ্ধতির সংস্কার চায় না, তাদের অন্য কোনো দুরভিসন্ধি আছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দফায় দফায় তাদের দাবি পরিবর্তন করা হচ্ছে। আমরা সবাই জানি রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ আছে। নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইসভা। এ তিনটি অঙ্গ কীভাবে কাজ করে সে বিষয়ে যদি ধারণা না থাকে তখনই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বারবার তারা দাবি পরিবর্তন করছে, একেকবার রাষ্ট্রের একেক অঙ্গের কাছ থেকে তারা দাবি জানাচ্ছে, এখানে মনে হচ্ছে তাদের সম্যকধারণার কিছুটা অভাব আছে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, প্রথমে আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে সরকারের জারি করা যে পরিপত্র বাতিল করা হয়েছিল তা পুনর্বহাল করতে হবে। এটি পুনর্বহাল করার ক্ষমতা শুধু বিচার বিভাগেরই আছে। কাজেই ধরে নেওয়া যায়, বিচার বিভাগ, অর্থাৎ হাইকোর্ট ২০১৮ সালে সরকার যে পরিপত্র বাতিল করেছিল, সেটি তারা হাইকোর্টের কাছে দাবি জানিয়েছিল পুনর্বহাল করার। কিন্তু হাইকোর্টের আদেশ রাস্তায় আন্দোলন করে পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। এটি পরিবর্তনের একমাত্র উপায়, সর্বোচ্চ আদালতে যেতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যখন হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে এবং আইনি লড়াই শুরু হয়েছে, তখন সরকারের অবস্থান এবং আন্দোলনকারীদের অবস্থান একই হয়ে গেলো। আন্দোলনকারীরা তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করলেন এবং তারা সরকারের সঙ্গে পক্ষভুক্ত হলো। অথচ, আন্দোলনকারীরা আবার তাদের দাবি পরিবর্তন করে বলা শুরু করল যে, সরকারকে কমিশন গঠন করতে হবে। যখন সরকার হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে সর্বোচ্চ আদালতে আইনি প্রক্রিয়ায় ঢুকে গেছে, সে অবস্থায় কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করা বা সংস্কার করার ঘোষণা দেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। কারণ এটা অসাংবিধানিক হবে। কিন্তু তারা (আন্দোলনকারীরা) সেই অসাংবিধানিক দাবি করা শুরু করল। এর মধ্যে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা সুপ্রিমকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা বা ‘স্ট্যটাস কো’ নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। সর্বোচ্চ আদালত ‘সাবেজক্ট ম্যাটারের’ ওপর চার সপ্তাহের জন্য ‘স্ট্যাটাস কো’ আদেশ দিয়েছেন এবং যার ফলে কোটা বিষয়ে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র আবার পুনর্বহাল হলো। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে এও বলা হয়েছে যে, হাইকোর্টের আদেশ অপারেশনে থাকলো না। অর্থাৎ সরকারের পরিপত্র পুনর্বাহল হয়ে গেলো। আন্দোলনকারীদের সেই দাবি চার সপ্তাহের জন্য পূরণ হয়ে গেলো, যেটা তাদের প্রাথমিক দাবি ছিলো। সর্বোচ্চ আদালতও আন্দোলনকারীদের আহ্বান জানিয়ে বলছে যে তাদের বক্তব্য পেশ করার জন্য আদালতের দরজা সবসময় খোলা।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ তথা সরকার যখন আদালতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মীমাংসার পথে এগোচ্ছে তখন আন্দোলনকারীরা আবার তাদের দাবি পরিবর্তন করে বলা শুরু করে, বিচারবিভাগ নয়, নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে সমাধান চায়। অথচ সর্বোচ্চ আদালতের প্রক্রিয়া পুরোপুরি সমাপ্ত না করে সরকার এ বিষয়ে কোনো কিছুই করতে পারবে না। এ বিষয়ে কোনো ঘোষণাও দিতে পারবে না। এটি তো সবারই জানা।

তিনি আরও বলেন, কোটা বিষয়ে মূলত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে, আদালত কিংবা সংসদের বিষয় নয় এটি। সর্বশেষ যখন হাইকোর্ট বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের আংশিক প্রকাশ হলো, সে রায়ে হাইকোর্ট সরকার তথা নির্বাহী বিভাগকে কোটা সংস্কারের জন্য পরামর্শ দিয়েছে। তখন তাদের দাবি আবার পরিবর্তন হয়ে গেলো। এখন তারা দাবি করছে সংসদ বা আইনসভাকে আইন করতে হবে। প্রথমে আদালতের কাছে দাবি, তারপর নির্বাহী বিভাগের কাছে দাবি, তারপর এখন সংসদের কাছে দাবি। সরকার পক্ষের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ আদালতে তাদের যুক্তি উপস্থাপনেও এ বিষয়টি এনেছেন এবং আরও জোরালোভাবে আনবেন যে কোটা বিষয়ে নীতি বা পলিসি সিদ্ধান্ত নির্বাহী বিভাগেরই কাজ, এটি আদালতের নয়। কাজেই সংসদে এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের দাবি একেবারেই অজ্ঞতাপ্রসূত।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, একটি স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, ‘মেধা না কোটা, কোটা না মেধা, মেধা, মেধা’। স্লোগানটি খুবই যৌক্তিক। আমি এ স্লোগানের পক্ষে। অবশ্যই মেধা। কিন্তু এই স্লোগানের মাধ্যমে যে বক্তব্য হাজির করা হচ্ছে সেখানে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। কোটায় নিয়োগের ক্ষেত্রেও মেধাবীদের বিবেচনা করা হচ্ছে। একটা পর্যায় পর্যন্ত মেধার মাধ্যমে বাছাই করা হচ্ছে। কোটার বিপক্ষে যখন মেধাকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এটি অসত্য বলা হচ্ছে কারণ কোটার সুবিধা পাওয়ার জন্য মেধাতালিকায় যেতে হচ্ছে। যে কারণে পৃথিবীর সবদেশেই কোটা ব্যবস্থা আছে এবং প্রয়োজন। বৈষম্য দূর করার জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক বিবেচনা প্রয়োজন। কোটা বৈষম্য তৈরি করে না। কোটার উদ্দেশ্য পিছিয়ে পড়া, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর বৈষম্য নিরসন। সরকার বৈষম্যের নিরসন করে মেধার মূল্যায়ন করতে চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা মেধার মূল্যায়ন চায়। এ স্পিরিটের সঙ্গে আমি একমত। কিন্তু মেধার মূল্যায়ন করতে গিয়ে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী, যারা নিগৃহীত, বঞ্চণার শিকার, যারা এ দেশ তৈরি করেছেন সেই মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার যাতে পিছিয়ে না যায় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের পুরো বিষয়টি জানা-বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তাদের বুঝতে হবে তাদের দাবি ও সরকারের অবস্থান একই জায়গায় মিলে গেছে। আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে সরকারের অবস্থান সংগতিপূর্ণ। কিন্তু কিছু মানুষ সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আবেগকে ব্যবহার করে তাদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। এ জায়গায় তাদের সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে।

আবদুল্লাহ আল মামুন/এমএ/

জাতীয় প্রেসক্লাবে ফল উৎসব ও বাউল গান

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৬ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৯ পিএম
জাতীয় প্রেসক্লাবে ফল উৎসব ও বাউল গান
ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনের মঞ্চে ছিল বাউল গানের হৃদয়গ্রাহী পরিবেশনা। সেই গান শুনতে শুনতে সপরিবারে রকমারি ফলের স্বাদ আস্বাদন করছেন সাংবাদিকরা। দেশীয় নানারকম ফলের সম্ভার ও জমকালো বাউল গানের আসর ঘিরে শনিবার (১৩ জুলাই) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ ছিলে উৎসবমুখর। এবারের বার্ষিক ফল উৎসবে ছিল ৪০ ধরনের বেশি ফলের প্রদর্শনী। 

ক্লাব সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আয়োজিত এবারের ফল উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান এমপি। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন এমপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সাংস্কৃতিক উপকমিটির আহ্বায়ক সীমান্ত খোকন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি হাসান হাফিজ, যুগ্ম সম্পাদক মো. আশরাফ আলী, কোষাধ্যক্ষ শাহেদ চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা কমিটি সদস্য ফরিদ হোসেন, কাজী রওনাক হোসেন, শাহনাজ সিদ্দীকি সোমা, কল্যাণ সাহা, শাহনাজ বেগম পলি, জুলহাস আলম, মোহাম্মদ মোমিন হোসেন ও ক্লাবের সিনিয়র সদস্যরা।

ফল উৎসবে গান পরিবেশন করেন দেশের জনপ্রিয় বাউলশিল্পী রাফি তালুকদার, ফারহানা পারভীন, সাবরিনা নওশীন টুশী, সমীর বাউল, সরদার হীরক রাজা, মৌসুমী ইকবাল, বিপাশা পারভীন ও বাউলা গ্রুপ।

উৎসবে ফল সম্ভারের মধ্যে ছিল- আম্রপালি, ফজলি ও হাঁড়িভাঙা আম, কাঁঠাল, জাম্বুরা, কলা, কামরাঙ্গা, আমলকী, আমড়া, পেঁপে, কাঁঠাল, আনারস, ওর বড়ই, কামরাঙা, পেয়ারা, করমচা, লটকন, ড্রাগন, ডেউয়া, টিপাটিপি, জামরুল, তাল, আপেল, জাম্বুরা, লিচু, কাঠলিচু, বিলাতি গাব, জাম, সফেদা, তরমুজ ও বাঙ্গিসহ নানা ধরনের দেশি ফল। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ফল উৎসব ও বাউল গান উপভোগ করেন ক্লাব সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গ।

এলিস/এমএ/