ঢাকা ৯ শ্রাবণ ১৪৩১, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪

বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুতে চাপ নেই

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৪, ০৮:১৬ এএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৪, ১০:২৭ এএম
বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুতে চাপ নেই
ছবি : খবরের কাগজ

ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা কর্মজীবী মানুষ। গতকাল শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশপথ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুতে চাপ থাকলেও আজ স্বাভাবিক সময়ের মতোই যানবাহন চলাচল করছে। 

শনিবার (১৫ জুন) সকাল ৭টায় ওই পথে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ লক্ষ্য করা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, দূরপাল্লার গণপরিবহনের পাশাপাশি এই মহাসড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছেন। ভোর থেকে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জ প্রান্তে যানবাহনের জটলা বা যাত্রীদের কোনো বিড়ম্বনা দেখা যায়নি। নির্বিঘ্নে ওই মহাসড়ক হয়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দিচ্ছে যানবাহনগুলো। 

পদ্মা সেতুর দক্ষিণবঙ্গ অভিমুখের টোলপ্লাজায় সাতটি বুথে নিরবচ্ছিন্ন টোল আদায় করা হচ্ছে। টোল আদায়ে প্রতি গাড়িতে সময় লাগছে মাত্র ৫-৬ সেকেন্ড।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ জিয়াউল হায়দার জানান, শুক্রবার বিকেলের পর থেকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। শনিবার ভোর থেকে এই পথে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে গন্তব্যে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গের মানুষ।

মঈনুউদ্দিন/অমিয়/

ধারণা ছিল এ ধরনের একটা আঘাত আসবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১১:১০ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১১:১০ পিএম
ধারণা ছিল এ ধরনের একটা আঘাত আসবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার একটা ধারণা ছিল এই ধরনের একটা আঘাত আসতে পারে।

বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এডিটরস গিল্ডসের উদ্যোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও হেড অব নিউজ এবং সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পূর্বানুমানের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমি জানতাম যে ইলেকশন করতে দেবে না। তারপরেও আমরা ইলেকশন করে ফেলেছি। ইলেকশন করার পর ইলেকশন গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটাও গ্রহণযোগ্য আমরা করতে পেরেছি। সরকার গঠন করতে পেরেছি। আমার একটা ধারণা ছিল এই ধরনের একটা আঘাত আবার আসবে।’

কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে অনেক বড় ষড়যন্ত্র ছিল জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এটা যে একটা বিরাট চক্রান্ত সেটা বোঝাই যাচ্ছিল। এই যে লোক চলে আসা, এবার আমরা আগে থেকে খবর পেয়েছি লোক ঢুকবে। গোয়েন্দা দিয়ে সব হোটেল, কোথায় থাকতে পারে সেগুলো নজরদারিতে আনা হয়েছে। কিন্তু ওরা সেখানে ছিল না; এরা চলে এসেছে ঢাকার ঠিক বাইরের পেরিফেরিতে (সংলগ্ন এলাকায়)।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব বাংলাদেশ থেকে শিবির-জামায়াত এসেছে। সঙ্গে ছাত্রদলের ক্যাডাররাও সক্রিয় ছিল। যতগুলো ঘটনা ঘটেছে এরাও (বিএনপি) কিন্তু সক্রিয় ছিল।’

আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আরেকটা জিনিস খেয়াল করবেন তখনও লাশ পড়েনি। কিন্তু স্টেট ডিপার্টমেন্টের (যুক্তরাষ্ট্রের) বক্তব্যে এসে গেল যে লাশ পড়েছে। তো লাশের খবর তাদের কে দিল? তাহলে লাশ ফেলার নির্দেশটা কে দিয়েছে? এটাও খবর নেওয়া দরকার এবং তারপরে লাশ পড়তে শুরু করল।’

কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতায় মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বাংলাদেশ টেলিভিশন, দুর্যোগ ভবন, সেতু ভবন, বিআরটিএ, ডেটা সেন্টারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন) এই ভাবে কেন সুযোগটা সৃষ্টি করে দিল সেই জবাবটাও জাতির কাছে তাদের দিতে হবে। আমরা তো বারবার তাদের সঙ্গে বসলাম। প্রজ্ঞাপন সেটাও করা হলো। তাদের কোনো দাবি তো পূরণ করা ছাড়া রাখিনি।’

আন্দোলনকারীদের এক দিন জাতির কাছে জবাব দিতে হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে দাবি তারা করেছিল কোটা সংস্কারের, যতটুকু চেয়েছিল তার থেকে অনেক বেশি দিয়েছি। যখন তাদের দাবি মেনে নেওয়া হলো, তারপরেও তারা এই জঙ্গিদের সুযোগ করে দিল কেন? কোটা আন্দোলনকারীদের জাতির কাছে এক দিন এই জবাব দিতে হবে। কেন মানুষের এত বড় সর্বনাশ করার সুযোগ করে দিল।’

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিষয়ে সরকারের সহানুভূতিশীল মনোভাবের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সব সময় তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছি। তাদের সব সময় নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যেসব ঘটনা ঘটেছে এটা কখনো ক্ষমা করা যায় না।’

দেশবাসীকে সব ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘যেভাবে ধ্বংসযজ্ঞ, পোশাক তৈরি করা হলো কালো প্যান্ট, সাদা শার্ট; ফলস (ভুয়া) আইডি কার্ড, পেছনে ব্যাগের মধ্যে কী আছে? পাথর আর ধারালো অস্ত্র। মসজিদে অস্ত্র নিয়ে ইমামকে মাইকিং করতে বাধ্য করা, এই যে জঙ্গিবাদের একটা বীভৎস চেহারা আজকে সবার সামনে চলে এলো এর বিরুদ্ধে জাতিকে, সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে গণমানুষের আর্থসামাজিক উন্নতির জন্য, তাদের আয় বৃদ্ধি, তাদের চলাচলের সুবিধার জন্য, তাদের জীবনমান উন্নত করবার জন্য যত স্থাপনা তৈরি করেছি, সব কটিতেই তারা আঘাত করেছে, সব কটি তারা ভেঙে দিয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘(এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে) ক্ষতিটা কার? নিশ্চয়ই জনগণের। এখানে তো জনগণকেই রুখে দাঁড়াতে হবে, এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, জনগণকেই সোচ্চার হতে হবে। কারণ এরা তো কোনো দিনই দেশে ভালো কিছু করতে পারেনি।’

বিগত বছরগুলোতে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকা এবং স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জঙ্গিবাদ দমন করে দীর্ঘসময় একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছি। সেই জায়গাটায় আজকে চরম একটা আঘাত দিল।’

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কারফিউ দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি তো চাইনি আমাদের গণতান্ত্রিক ধারায় এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটুক, আমাদের কারফিউ দিতে হোক। একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশে এটা আমাদের কাম্য ছিল না। কিন্তু আজকে না দিয়ে (কারফিউ) কোনো উপায় ছিল না। না দিলে আরও যে কত লাশ পড়ত তার হিসাব নেই।’

তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী, দীর্ঘ সংগ্রামের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত ছিল, দেশের উন্নতিও করতে পেরেছিলাম। মাত্র ১৫ বছরের মধ্যে যে উন্নয়ন করেছি, আর কে পেরেছে এর আগে।’

গণমাধ্যমগুলোকে সঠিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এটা ঠিক অনেকে গুজবে কান দেয়। কান নিয়ে গেছে চিলে, ওটার পিছে ছোটে, কানে হাত দিয়ে দেখল না কান আছে কি না। মিথ্যাচারের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করেন, মানুষ যাতে সঠিত তথ্য জানতে পারে সেভাবে সংবাদগুলো পরিবেশন করুন।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি এর সুফলও মানুষ পেল, কুফলও মানুষ পেল। আপনাদের কাছে যা তথ্য আছে, আপনারা তা ব্যাপকভাবে প্রচার করে জনমত সৃষ্টি করুন।’

মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান। স্বাগত বক্তৃতা করেন এডিটরস গিল্ডসের প্রেসিডেন্ট মোজাম্মেল হক বাবু। এরপর একে একে সিনিয়র সাংবাদিকরা বক্তৃতা করেন।

 

ঢাকার ধ্বংসযজ্ঞ ঘুরে দেখলেন ৩০ রাষ্ট্রদূতসহ ৬৯ কূটনীতিক

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৬ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৬ পিএম
ঢাকার ধ্বংসযজ্ঞ ঘুরে দেখলেন ৩০ রাষ্ট্রদূতসহ ৬৯ কূটনীতিক
ফাইল ছবি

কোটা সংস্কার আন্দোলনকালে নাশকতাকারীদের আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞের শিকার রাজধানীর সরকারি স্থাপনাগুলো দেখে স্তম্ভিত হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা। 

বুধবার (২৪ জুলাই) কূটনীতিকদের সরকারি স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশন, বনানী সেতু ভবন, দুর্যোগ ভবন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের ধ্বংসযজ্ঞ দেখানো হয়েছে। আরও কিছু স্থাপনা দেখানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু যানজটের কারণে দেখানো সম্ভব হয়নি। এসব স্থাপনার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তারা স্তম্ভিত। তারা বলেছেন বাংলাদেশের সঙ্গে আছেন। 

আন্দোলনকালে কতজন মারা গেছেন, এমন কিছু কূটনীতিকরা জানতে চেয়েছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জানতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি, বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যারা আগুন দিয়েছে তাদের ভিডিও ফুটেজ আছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে তাদের বিচার করা হবে। একজনকেও রেহাই দেওয়া হবে না।’

ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের ৬৯ জন কূটনীতিক এসব ধ্বংযজ্ঞ পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে রাষ্ট্রদূতই রয়েছেন ৩০ জন। মাত্র এক দিনের নোটিশে এত বিপুলসংখ্যক কূটনীতিক দেখতে যাবেন, এটা নজিরবিহীন।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের বিক্ষোভে যেসব পাকিস্তানিকে দেখা গেছে, তাদের ব্যাপারে পাকিস্তানকে কিছু জানানো হবে না। কারণ এসব পাকিস্তানি পাকিস্তানে থাকেন না। তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। আজকের পরিদর্শনে পাকিস্তানের হাইকমিশনারও ছিলেন। তিনিও ধ্বংসযজ্ঞ দেখে হতভম্ব।’ 

বিক্ষোভ করায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই বাংলাদেশিরা গ্রেপ্তার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১০:০২ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১০:৪৭ পিএম
বিক্ষোভ করায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই বাংলাদেশিরা গ্রেপ্তার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি : খবরের কাগজ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শুধু আরব আমিরাত নয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দিয়েছে। দেশগুলোর বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করায় ৫৭ জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাদের মধ্যে ৩ জনকে যাবজ্জীবন, ৫৩ জনকে ১০ বছর এবং ১ জনকে ১১ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আরব আমিরাত অতি দ্রুত ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশিদের বিচার করেছে বলে অভিযোগ এনে নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। বুধবার (২৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়। 

আরব আমিরাতে ৫৭ বাংলাদেশির সাজা

আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আমিরাতি নিউজ এজেন্সি (ডব্লিউএএম) জানিয়েছে, কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই ব্যক্তিরা তাদের নিজ দেশের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন যে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশ কয়েকটি সড়কে বড় ধরনের বিক্ষোভের আয়োজন করেছিলেন।

খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার ওই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। পরদিন শনিবার আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বিবৃতি দিয়ে প্রবাসীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, কেউ উল্লিখিত কাজগুলো করলে তাকে কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। তার ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে, জেল-জরিমানা হতে পারে, তাকে আমিরাত থেকে ফেরত পাঠানো হতে পারে বা ভবিষ্যতে তার আমিরাতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক বসবাস করেন। পাকিস্তান ও ভারতের পর দেশটিতে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশের।

দ্রুত ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচার করা হয়েছে: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

বুধবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশগ্রহণের ভিত্তিতে দ্রুত বিচারের পর ৫৭ বাংলাদেশি বিক্ষোভকারীকে নির্বিচারে আটক, দোষী সাব্যস্ত এবং দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি, আপত্তিজনকভাবে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যা ন্যায্যতা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুতর উদ্বেগ বাড়ায়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত এক দশকে আমিরাতে নাগরিক অধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, অনলাইন ও অফলাইনের মতো প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সমাবেশের কঠোর বিধিনিষেধ এবং শান্তিপূর্ণ ভিন্নমতকে অপরাধীকরণ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ আইনে গ্রেপ্তার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শুধু আরব আমিরাত নয়, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই বিক্ষোভ করার অপরাধে বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ আইনে গ্রেপ্তার করেছে। এখানে বাংলাদেশের কিছু করার নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশিদের জন্য আরব আমিরাত ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে বলে যা বলা হচ্ছে সেটা গুজব। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের আগে আরও যাচাই করা দরকার। এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিশ্চিত করেছে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস।’

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নজর রাখছে পেন্টাগন : মুখপাত্র

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৬ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৬ পিএম
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নজর রাখছে পেন্টাগন : মুখপাত্র
মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার

বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। একই সঙ্গে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে পেন্টাগন বলেছে, তারা এই অব্যাহত সহিংসতা দেখতে চায় না। 

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মার্কিন পেন্টাগনের মুখপাত্র মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, ‘পেন্টাগন কীভাবে বাংলাদেশে চলমান ছাত্র বিক্ষোভকে পর্যবেক্ষণ করছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি চালিয়ে গণহত্যা চালাচ্ছে? আন্দোলনে শত শত মানুষ নিহত ও আরও হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং দেশব্যাপী কারফিউ জারি করা হয়েছে। জনগণ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে আর সেনাবাহিনী রাস্তায় নেমেছে। নিরাপত্তা বাহিনী জাতিসংঘের সাঁজোয়া যান ব্যবহার করছে, যার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ বিষয়ে আপনাদের পর্যবেক্ষণ কী?’

জবাবে পেন্টাগনের মুখপাত্র মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার বলেন, ‘অবশ্যই আমরা বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে আমার সহকর্মীরা যা বলেছে, আমিও সেটির প্রতিধ্বনি করতে চাই। আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি এবং অবশ্যই আমরা অব্যাহত সহিংসতা দেখতে চাই না।’

২২৩ পদে উপনির্বাচনের ভোট স্থগিত

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৫ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৫ পিএম
২২৩ পদে উপনির্বাচনের ভোট স্থগিত
নির্বাচন কমিশন

দেশব্যাপী চলমান জরুরি অবস্থার কারণে আগামী ২৭ জুলাই স্থানীয় সরকারের ২২৩ পদে উপনির্বাচনের ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার (২৪ জুলাই) সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল আলম খবরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, দেশব্যাপী কারফিউসহ চলমান প্রেক্ষাপটে আপাতত স্থগিত এসব উপনির্বাচনের ভোটের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আলম ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ভোট স্থগিত থাকবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কারফিউ উঠে গেলে ভোটের তারিখ পরিবর্তন করে নতুন তারিখে ভোটগ্রহণ করতে পারে ইসি। 

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, বিভিন্ন জেলা পরিষদের ২৩টি পদে, পৌরসভার ৫টি পদে এবং ইউনিয়ন পরিষদের ১৯৫টি পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের সব ধরনের প্রস্তুতিই ছিল। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকাগুলোতে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা, ভোটের দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারাও প্রস্তুত ছিলেন। 

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এসব উপনির্বাচনে ভোটে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল গত ৪ জুলাই, দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয় ৫ জুলাই, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে বাদ পড়া সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের আপিলের শেষ সময় ছিল ৬ থেকে ৮ জুলাই, আপিলের নিষ্পত্তি করা হয় ৯ জুলাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল ১০ জুলাই এবং চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয় ১১ জুলাই। 

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীরা প্রচারের জন্য ১৫ দিন সময় পেয়েছিলেন। নতুন তারিখ হলে তাদের প্রচারের সময় বাড়তে পারে। আগামী ২৭ জুলাই এসব উপনির্বাচনে ইভিএমে (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। 

এলিস/সালমান/