ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩১, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর: হতে পারে ১০ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৩:১৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর: হতে পারে ১০ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আগামীকাল শুক্রবার নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে ১০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট শুক্রবার (২১ জুন) দুপুর ২টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১-২২ জুন নয়াদিল্লিতে অবস্থান করবেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই নিকট প্রতিবেশীর সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরে ১০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথা রয়েছে। এর মধ্যে যেসব চুক্তি বা সমঝোতার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলোর কয়েকটি আবারও নবায়ন হতে পারে। 

প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক সামনে রেখে সফরের বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে দুইপক্ষ কাজ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে বেশি গুরুত্ব পাবে নিরাপত্তার বিষয়। মায়ানমার পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট, ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য মনিপুরে সংকট, এ অঞ্চলে চীনের প্রভাবসহ সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা হবে।

এ ছাড়া বৈঠকে গুরুত্ব পাবে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। দুই দেশেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, জ্বালানিসহ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কীভাবে অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ ঝুঁকি মোকাবিলা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসা যায়, সে বিষয়টি আলোচনায় থাকবে। এ কারণে ভারতের ঋণচুক্তি বাস্তবায়নে নতুন রূপরেখা চুক্তি বা বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। 

অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, জ্বালানি, নতুন প্রযুক্তিসহ নানা বিষয়ে শীর্ষ বৈঠকে আলোচনা হবে। এ ছাড়া মহাকাশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতির মতো বিষয়গুলো সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্ত হত্যা, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ও ঋণ সহায়তার মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। 

বুধবার (১৯ জুন) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রতিনিধি পর্যায়ে বৈঠক এবং দুই দেশের মধ্যে এমওইউ ও চুক্তি স্বাক্ষর শেষে দুই নেতা বিবৃতি দেবেন।

এরপর সেখানেই (হায়দরাবাদ হাউস) রয়েছে মধ্যাহ্নভোজ। হায়দরাবাদ হাউস ত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। 

নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার আয়োজনও রয়েছে এই পর্বে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ভারতের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন নরেন্দ্র মোদি।

দুই দিনের সফর শেষে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অমিয়/

বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, যানজট নিয়ে ডিএমপির সতর্কতা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৩:৫০ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৩:৫১ পিএম
বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, যানজট নিয়ে ডিএমপির সতর্কতা

ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট যানজটের বিষয়ে রাজধানীর কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।

শুক্রবার (১২ জুলাই) ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় সড়কের মধ্যে অনেক যানবাহন বিকল হয়ে গেছে।

ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক যানবাহন বিকল হয়ে যাওয়ায় নগরীর সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফকিরাপুল, নয়াপল্টন, বায়তুল মোকাররম, শান্তিনগর, মালিবাগ, আরামবাগ, প্রগতি সরণি, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি রাপা প্লাজা, বংশাল, মিরপুর রোকেয়া সরণি, দয়াগঞ্জ ক্রসিং, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, নিমতলী, টয়েনবি সার্কেল রোড, ধানমন্ডি ২৭, এলিফ্যান্ট রোড, মৎস্য ভবন, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি, ঢাকা গেট ভিআইপি রোড ও মিরপুর মাজার রোড এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

পপি/

কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধীরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০২:১১ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ০২:৫৪ পিএম
কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধীরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: আইনমন্ত্রী
ছবি : খবরের কাগজ

যারা দেশের স্বাধীনতাবিরোধী ও বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল, কোটা আন্দোলনে সেই প্রেতাত্মাদের ষড়যন্ত্র অস্বীকার করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

শুক্রবার (১২ জুলাই) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আশা রাখছি, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা কোটা আন্দোলন নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের রায় মেনে নিয়ে ঘরে ফিরে যাবেন।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের জানমাল রক্ষা করা এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা সরকারের দায়িত্ব। সেখানে যদি কেউ বাধাগ্রস্ত করে, সরকারকে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এ সময় আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম সারওয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন, আখাউড়া পৌরসভা মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মনির হোসেন বাবুল, সেলিম ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে গিয়ে মনির হোসেন ও তাকজিল খলিফা কাজলের সমর্থদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।

জুটন বনিক/পপি/

এক কার্গো এলএনজি ও ৮০ হাজার টন সার কিনবে সরকার

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ১২:১৬ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ১২:১৭ পিএম
এক কার্গো এলএনজি ও ৮০ হাজার টন সার কিনবে সরকার
এলএনজি ও সার

সুইজারল্যান্ড থেকে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৫৮৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সুইজারল্যান্ডের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এই এলএনজি কিনবে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সচিবালয়ে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত দরপ্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এদিকে একই বৈঠকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কানাডা থেকে পৃথক দুটি লটে ৮০ হাজার টন মিউরেট-অব-পটাশ (এমওপি) আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ২৬০ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা।

সচিব জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (সংশোধনী ২০২১)-এর আওতায় মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (এমএসপিএ) স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট হতে এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সুইজারল্যান্ডের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫৮৩ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ৫২৮ টাকা। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি দাম পড়বে ১২ দশমিক ৫৮ মার্কিন ডলার। এর আগে আমদানি করা প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ছিল ১৩ দশমিক ৫৫৮ মার্কিন ডলার।

জানা যায়, স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ২৩টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমএসপিএর চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। পেট্রোবাংলা এক কার্গো এলএনজি সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ ২৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করলে চারটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে। এর মধ্যে তিনটি প্রস্তাব কারিগরি ও আর্থিকভাবে রেসপনসিভ হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ কমিটির (পিপিসি) সুপারিশে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেসার্স টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর মাধ্যমে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিতীয় এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা কমিটি। এর আগে গত ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন-২০২১’-এর আওতায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।

সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন: সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে তৃতীয় লটে ৪০ হাজার টন মিউরেট-অব-পটাশ (এমওপি) সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ সারের দাম ধরা হয়েছে ১৩০ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ধরা হয়েছে ২৭৫.৫০ মার্কিন ডলার। এর আগেও একই দাম ছিল। 

এদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কানাডার একই প্রতিষ্ঠান থেকে চতুর্থ লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট-অব-পটাশ (এমওপি) সার আমদানির আরও একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এই সারের দাম ধরা হয়েছে ১৩০ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন এমওপি সারের দাম ধরা হয়েছে ২৭৫.৫০ মার্কিন ডলার।

রাজধানীতে সকাল থেকে ঝুম বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ১২:৩১ পিএম
রাজধানীতে সকাল থেকে ঝুম বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা
ছবি : খবরের কাগজ

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শুক্রবার (১২ জুলাই) ভোর থেকে রাজধানীতে শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। কোথাও হাঁটুপানি তো কোথাও কোমরসমান পানি। 

তীব্র বৃষ্টিতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শাহজাহানপুর, মালিবাগ রেলগেট, মৌচাক, মগবাজার, মিরপুর, শেওড়াপাড়া, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, তেজকুনি পাড়া, ধানমন্ডিসহ রাজধানীর অনেক সড়কে পানি জমে যায়।

এতে বিপাকে পড়তে হয়েছে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের। পরীক্ষা ৯টায় শুরু হলেও অনেকে সময়মতো বের হতে পারেননি। কেউ কেউ বের হলেও যানবাহন না পাওয়ায় পড়েছেন বিপাকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বলেছে, দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী (৪৪-৮৮ মিমি/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (২৮৯ মিমি/ ২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে। ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

সালমান/  

কোটার বাস্তবসম্মত সংস্কার চায় সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০১:০৭ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ০১:০৭ এএম
কোটার বাস্তবসম্মত সংস্কার চায় সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম
ছবি: সংগৃহীত

কোটাব্যবস্থার যুক্তিসংগত ও বাস্তবসম্মত সংস্কার করা যেতে পারে বলে মনে করে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ’৭১। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন মত প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, ‘অনেক বছরের ব্যবধানে, বিশেষত মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫৩ বছর পার হওয়ার পর পূর্বেকার কোটাব্যবস্থার যুক্তিসংগত ও বাস্তবসম্মত সংস্কার হতে পারে। যাতে নতুন প্রজন্মের সত্যিকার মেধাবীরা বঞ্চিত না হয়।’ সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) এই বিবৃতি দেয় ফোরাম।

বিবৃতিতে ফোরাম মনে করিয়ে দিয়েছে, কোটাব্যবস্থার যেমন সংস্কার করতে হবে, তেমনি খেয়াল রাখতে হবে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেন স্বাধীনতাবিরোধীরা অনুপ্রবেশ করতে না পারে। দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় বীরদের আত্মত্যাগকে কটাক্ষ ও অবমূল্যায়ন করা হলে তা হবে দেশের জন্য চরম দুর্ভাগ্য ও উদ্বেগজনক। ফোরামের সভাপতি নূরুল আলম ও মহাসচিব হারুন হাবীব এই যৌথ বিবৃতি দেন। কোটাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ছাত্র সমাজের চলমান আন্দোলনের মধ্যে এই বিবৃতি দেয় সংগঠনটি।

কোটাব্যবস্থা চালুর প্রেক্ষাপট স্মরণ করে এতে বলা হয়, শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কোটাব্যবস্থার প্রচলন আছে। আরও আছে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তর প্রজন্মের জন্য সম্মানের ব্যবস্থা। সে কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা চালু করেছিলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চনা এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের রক্তাক্ত পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ ২১ বছর মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাবিদ্বেষী সামরিক শাসক ও তাদের রাজনৈতিক অনুসারীরা ক্ষমতায় থাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা কোটার সুবিধা পাননি। উল্টো অনেক ক্ষেত্রে তারা হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু তাই নয়, ওই সময় সুপরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ছাত্র আন্দোলনের ফলে সরকার সব ধরনের কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মনে করে, এই পরিপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক ও সুবিবেচনাপ্রসূত ছিল না।

এরপর মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের পক্ষ থেকে পরিপত্রের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। হাইকোর্ট ২০১৮ সালের পরিপত্রটি বাতিল ঘোষণা করে আদেশ দেন। সরকারের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়েছেন। তারপরও আন্দোলন দৃশ্যমান হচ্ছে।

নতুন প্রজন্মের নাগরিকদের জাতির শ্রেষ্ঠ সময় মুক্তিযুদ্ধকে জানার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে যারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তাদের সিংহভাগ ছিলেন গ্রামগঞ্জের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তারা কয়েক যুগ ধরে উপেক্ষিত ও অবহেলিত থেকেছেন। কিছু উন্নয়নের পরও জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজ এখনো পিছিয়ে আছে। পিছিয়ে আছে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও শারীরিক প্রতিবন্ধীরা। এ জন্য সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে তাদের সবার জন্য বিবেচনাপ্রসূত হারে কোটার ব্যবস্থা অবশ্যই যুক্তিসংগত। তবে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থার যুক্তিসংগত ও বাস্তবসম্মত সংস্কার করা যেতে পারে।