ছাগলকাণ্ডে দেশজুড়ে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য সাবেক সদস্য মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানদের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে মতিউরের দুই স্ত্রী- লায়লা কানিজ ও শাম্মী আখতার শিভলী, প্রথম পক্ষের বড় সন্তান আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণব ও মেয়ে ফারজানা রহমান ইপ্সিতাকে ২১ দিন সময় বেঁধে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে নিজ ও তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তির নামে থাকা যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী কমিশনে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুলাই) দুদকের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন এই নোটিশ জারি করেছেন। দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মতিউর রহমানের দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গত ৪ জুন সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। পরে ২৩ জুন দুদকের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান শুরু হলে তাদের নামে থাকা অর্থসম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ, বিএসইসি, সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও ভূমি অফিসে চিঠি পাঠানো হয়। দুদকের চিঠি পেয়ে বিএফআইইউ ও বিএসইসি স্ব-উদ্যোগে মতিউর ও তার স্ত্রী-সন্তানের নামে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিও অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ২০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ১৬টি বিও অ্যাকাউন্টের তথ্য দুদকে পাঠিয়েছে। এদিকে ঢাকার তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স, সাভার, নরসিংদীর রায়পুরা, গাজীপুর সদর ও ময়মনসিংহের ভালুকাসহ বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে অন্তত ৫৫টি দলিলের তথ্য-উপাত্ত দুদকে এসেছে।