ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

পিএসসির প্রশ্ন ফাঁসে তোলপাড়

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৪, ১১:১২ এএম
পিএসসির প্রশ্ন ফাঁসে তোলপাড়
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

পিএসসির প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে গত দুই দিন সারা দেশে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছে। সাংবিধানিক একটি প্রতিষ্ঠানের এমন সংবেদনশীল পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে খোদ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব পালন নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। সিআইডি যে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, তার মধ্যে সৈয়দ আবেদ আলীকে নিয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। আবেদ আলী ও তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন বিএফআইইউ। আগামী ৩০ দিন তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সব অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে করা মামলায় সংস্থাটির চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীসহ ছয়জন দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যদিকে পিএসসির পক্ষ থেকে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। পিএসসির চেয়ারম্যান বলেছেন, তদন্তে যদি প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ৫ জুলাইয়ের রেল বিভাগের পরীক্ষা বাতিল করা হবে।

আবেদ একসময় পিএসসির চেয়ারম্যানের গাড়িচালক ছিলেন। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ট্রলও করেছেন। আবেদের বিভিন্ন সময়ের কথা ও কর্মকাণ্ডগুলো ভাইরাল হয়ে যায়। শুধু প্রশ্ন ফাঁস করে একজন গাড়িচালক হয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন, যেটি আবেদ নিজেই সিআইডির কাছে স্বীকার করেছেন। প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি চাউর হওয়ার পর মাঠে নামে সিআইডির সাইবার টিম। তারা রাতভর অভিযানে নামে। অভিযানে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের অন্যতম হোতা নোমান সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার কাছে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে বাকিদের গ্রেপ্তার করে সিআইডি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা সিআইডির কাছে স্বীকার করেছেন যে তারা একটি প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সংঘবদ্ধ চক্র। তারা বিভিন্ন গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন। যাদের কাছে প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়, তাদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা করেও তারা নিয়েছেন। চক্রটি শুধু প্রশ্নই ফাঁস করেনি, বিভিন্ন সময় এই প্রশ্নগুলো বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেছে। এতে তারা মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। 

সিআইডি জানায়, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে গত সোমবার দিনভর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আবেদ আলীসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ওই দিন রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে সিআইডির উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র চন্দ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা নম্বর-১৫। গ্রেপ্তাররা হলেন পিএসসির উপপরিচালক মো. আবু জাফর ও মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর কবির, অফিস সহায়ক খলিলুর রহমান ও অফিস সহায়ক (ডিসপ্যাচ) সাজেদুল ইসলাম। এ ছাড়া সাবেক সেনাসদস্য নোমান সিদ্দিকী, ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে মিরপুরের ব্যবসায়ী আবু সোলায়মান মো. সোহেল, অডিটর প্রিয়নাথ রায়, ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী শাহাদাত হোসেন, ঢাকার ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত মো. মামুনুর রশীদ, শহিদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান মো. নিয়ামুন হাসান, ব্যবসায়ী সহোদর সাখাওয়াত হোসেন ও সায়েম হোসেন এবং লিটন সরকার।

এ বিষয়ে সিআইডির জনসংযোগ বিভাগের এসপি আজাদ রহমান গতকাল দুপুরে খবরের কাগজকে জানান, আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসার পর তারা বিষয়টি আমলে নেয়। প্রথাগত সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আসামিদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর সিআইডি একে একে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের আওতায় আনে। মামলার অন্য আসামিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করতে পারে, এমন আশঙ্কায় পালিয়ে গেছেন। তবে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

সূত্র জানায়, এ ঘটনায় মামলার পর সিআইডির তদন্তকারী একটি টিম পিএসসির কার্যালয়ে যায়। তারা গুরুত্বপূর্ণ সাত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা এ ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তারা পেয়েছেন। তাদের তথ্যগুলো তারা যাচাই-বাছাই করছেন। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে এই প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে পিএসসির রথী-মহারথীরা জড়িত রয়েছেন। যারা খুবই ভিআইপি কর্মকর্তা। তবে তাদের বিষয়ে আরও কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইনের আওতায় আনা হবে। 

সূত্র জানায়, এ ঘটনার পর পিএসসির সাবেক সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায়সহ ১৪ জন পলাতক রয়েছেন। যে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এর মধ্যে নিখিল হচ্ছেন এ চক্রের অন্যতম হোতা। আবেদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আবেদ ও নিখিল প্রশ্ন ফাঁসের বড় একটি চক্র গড়ে তুলেছিলেন। নিখিল বিভিন্ন স্থানে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করতেন। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে তার একটি চক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন জেলায় ফাঁস হওয়া প্রশ্নগুলো সরবরাহ করতেন। 

সূত্র জানায়, সিআইডি এ ঘটনায় আপাতত আবেদ আলীকে এ চক্রের মূল হোতা মনে করলেও তার সঙ্গে আরও বড় রথী-মহারথী জড়িত আছেন বলে ধারণা করছে। তারা চক্রের কয়েকজন সদস্যের নামও জানতে পেরেছেন। যারা কোচিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদেরও আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। 

সূত্র জানায়, আবেদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডির কাছে স্বীকার করেছেন যে তিনি অনেক দিন আগেই পিএসসির গাড়িচালক থাকলেও এই প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে অনেক দিন জড়িত। তার নিজস্ব বলয় গড়ে উঠেছে। পিএসসির প্রায় ২৫টি পরীক্ষার প্রশ্ন একাই ফাঁস করেছেন তিনি। এই প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে পিএসসির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জড়িত আছেন বলে স্বীকার করেছেন।

সিআইডির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার উপপরিচালক আবু জাফর কোচিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে স্বীকার করেছেন। রাজধানীর মালিবাগে তার একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে। এই কোচিংয়ের মাধ্যমেই তিনি প্রশ্ন ফাঁস করতেন বলে স্বীকার করেছেন। বিষয়টি পিএসসির একাধিক কর্মকর্তা জানলেও তিনি টাকা দিয়ে তাদের ম্যানেজ করেছেন বলে দাবি করেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর আলম তদবির-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে সিআইডি। জাহাঙ্গীর বিভিন্ন সময় পিএসসি সদস্যদের কাছে বিভিন্ন জনের কাছে তদবির করতেন। এতে তিনি কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ আয় করেছেন বলে জানা গেছে। 

১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি: ৬ জনের দায় স্বীকার
এদিকে পিএসসির প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে করা মামলায় সংস্থাটির চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীসহ ছয়জন দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। গতকাল মঙ্গলবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি দেন তারা। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া মামলার অন্য ১১ আসামিকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার জুয়েল চাকমা এই সাতজনকে আদালতে হাজির করেন। এরপর তারা ‘দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত’ হয়েছেন জানিয়ে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আদালতে দায়িত্বরত এবং পল্টন থানা-পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন এ তথ্য জানান।

গাড়িচালক আবেদ আলী ছাড়া জবানবন্দি দেওয়া অন্য পাঁচ আসামি হলেন ডিসপ্যাচ রাইডার খলিলুর রহমান, অফিস সহকারী সাজেদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন ও তার ভাই সায়েম হোসেন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লিটন সরকার।

আলমগীর হোসেন জানান, এই মামলায় গ্রেপ্তার বাকি ১১ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন মহানগর হাকিম তাহমিনা হক। তারা হলেন পিএসসির দুই উপপরিচালক আবু জাফর ও জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক আলমগীর কবির, অডিটর প্রিয়নাথ রায়, নারায়ণগঞ্জের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী শাহাদাত হোসেন, ঢাকার পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী মামুনুর রশীদ, শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়ামুন হাসান, ব্যবসায়ী আবু সোলায়মান মো. সোহেল, সাবেক সেনাসদস্য নোমান সিদ্দিকী ও জাহিদুল ইসলাম এবং আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম। এই ১০ জনের পক্ষে মো. রেজাউল করিমসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিন আবেদন করেছিলেন। বিচারক তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, পিএসসির অধীনে বিসিএসসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে একটি চক্র জড়িত বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয় একটি বেসরকারি টেলিভিশনে। গত রবিবার প্রচারিত ওই প্রতিবেদনে ওই চক্রের ছয়জনের ছবি প্রকাশ করা হয়। এদের মধ্যে আবেদ আলী ও তার পরিবারের বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিভিন্ন ছবি সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়।

এদিকে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এই দিন ধার্য করেন।

পিএসসির ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন: ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। একই সঙ্গে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি দেবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন। গতকাল পিএসসিতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক কমিশনের যুগ্ম সচিব ড. আব্দুল আলীম। বাকি দুই সদস্য হলেন পরিচালক দিলাওয়েজ দুরদানা ও মোহাম্মদ আজিজুল হক।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় পিএসসির পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত 
প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পিএসসি। এদের মধ্যে তিন কর্মকর্তা হলেন উপপরিচালক মো. আবু জাফর ও জাহাঙ্গীর আলম এবং সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর কবির। তাদের বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেন পিএসসির চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন। কর্মচারী দুজন হলেন ডিসপ্যাচ রাইডার মো. খলিলুর রহমান এবং অফিস সহায়ক মো. সাজেদুল ইসলাম। তাদের বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেন পিএসসির সচিব আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী।

বরখাস্তের আদেশ পৃথকভাবে হলেও সবার ক্ষেত্রে একই অভিযোগ আনা হয়। সেখানে গত ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রকাশ ও বিতরণের সঙ্গে জড়িত থাকা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী কর্তৃক অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩-এর ১১ ও ১৫ ধারা অনুযায়ী পল্টন থানায় ১৫/৩১০ নম্বর মামলা করা হয়েছে এবং মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৯(২) অনুসারে ৯ জুলাই হতে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

আবেদ আলী আমার গাড়িচালক ছিলেন না: পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক
পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সৈয়দ আবেদ আলী তার গাড়িচালক ছিলেন না। তিনি পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের আগেই আবেদ আলী চাকরিচ্যুত হন।

তিনি মুঠোফোনে খবরের কাগজের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমি ২০১৬ সালে পিএসসিতে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করি। তার আগেই আবেদ আলী চাকরিচ্যুত হন। আমি কখনো তাকে দেখিনি।’ 

মোহাম্মদ সাদিক গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সুনামগঞ্জ-৪ আসন (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।

পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে থাকাকালে মোহাম্মদ সাদিকের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) ছিলেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। বর্তমানে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব। গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনিও বলেন, ‘সাদিক স্যার যোগদানের আগেই আবেদ আলী চাকরিচ্যুত হন। সাদিক স্যারের গাড়িচালক ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক নামের একজন।’

আবেদ আলী পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ
এদিকে গতকাল ব্যাংকগুলোতে পাঠানো এক নির্দেশনায় প্রশ্ন ফাঁসে অভিযুক্ত পিএসসি চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী ও তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন বিএফআইইউ। আগামী ৩০ দিন তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সব অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেনসহ যাবতীয় তথ্য আগামী ৫ দিনের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সৈয়দ আবেদ আলী, তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সোহান, স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী এবং আবেদ আলীর মালিকানাধীন ঊসা রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্সের অ্যাকাউন্ট আগামী ৩০ দিনের জন্য অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশনা দেওয়া হলো। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আবেদ আলীর বাবা সৈয়দ আব্দুর রহমান এবং মা জয়গুন নেসার নাম উল্লেখ রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর এবং ঢাকার আগারগাঁও তালতলা সরকারি কলোনি ও মিরপুরের ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ অভিমত:

> সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে প্রস্তুত পিএসসি: সোহরাব হোসাইন
> তদন্তের ফল জনসমক্ষে : প্রকাশ করতে হবে: অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক
> কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে : আবুল কাসেম ফজলুল হক

সহিংসতায় রেলের ক্ষতি ২২ কোটি: রেলমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৮ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:০০ পিএম
সহিংসতায় রেলের ক্ষতি ২২ কোটি: রেলমন্ত্রী
রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতার কারণে গেল ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। এতে রেলের ২২ কোটি ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ২টায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

আজ থেকে সীমিত পরিসরে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

রেলমন্ত্রী বলেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার ফলে বিক্রি করা টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এর পরিমাণ ১৬ কোটি ৩৫ লাখের বেশি।

গেল মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ভিয়েতনাম ও জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম। 

রেল খাতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে সহিংসতা রেল যোগাযোগে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।

অমিয়/

নীলক্ষেত-নিউমার্কেট যেন বিরানভূমি

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:৫১ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:৫১ পিএম
নীলক্ষেত-নিউমার্কেট যেন বিরানভূমি
ঢাকার অন্যতম জমজমাট এলাকা নীলক্ষেত আর নিউ মার্কেট এখন পরিণত হয়েছে বিরানভূমিতে। ছবি: খবরের কাগজ

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট থমথমে অবস্থা শেষে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে দেশ। সাপ্তাহিক ছুটির পর নির্বাহী আদেশে টানা ৩ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে বুধবার (২৪ জুলাই) আংশিকভাবে খুলেছে অফিস-আদালত। অফিস-আদালতের পাশাপাশি খুলেছে রাজধানীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট এবং নীলক্ষেতের বইয়ের মার্কেট। কারফিউ শিথিলের সময় এই দুই মার্কেটের সব দোকান খুললেও ক্রেতা ছিল একেবারেই হাতে গোনা। নিউমার্কেটে কিছুসংখ্যক ক্রেতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও নীলক্ষেত বই মার্কেটে ক্রেতা বলতে গেলে ছিলই না। এ যেন বিরানভূমি।

সরেজমিনে এই চিত্র দেখা যায় রাজধানীর এ দুই মার্কেটে। ক্রেতা না আসায় অনেকের দুপুরের খাবারের টাকা পর্যন্ত ওঠেনি বলে দাবি অনেক বিক্রেতা। বিক্রি-বাট্টা আর ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় খোশগল্পে অলস সময় পার করতে দেখা গেছে এখানকার বিক্রেতাদের।

নিউমার্কেটের জান্নাত বোরকা বাজার লিমিটেড নামের দোকানে অন্যদিনগুলোতে গড়ে সর্বোচ্চ চব্বিশ-পঁচিশ পিস পর্যন্ত বোরকা বিক্রি হতো, সেখানে এখন একের বেশি বিক্রি করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিক্রয়কর্মী মো. বাবু বলেন, ‘দেশে যে কয় দিন ধরে গণ্ডগোল গেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা তো আর সব বোঝে না। তারা এখনো মনে করছে দেশ এখনো থমথমে আছে, যার ফলে মার্কেটে এখনো লোকজন আসছে না সেভাবে। কিন্তু এখন তো দেশ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।’

বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অন্যদিন অন্তত পনেরো-বিশ-চব্বিশ পিস বোরকা বিক্রি করি। সেখানে আজকে বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত বিক্রি করেছি মাত্র এক পিস। দুপুরে খেতে যে টাকা লাগবে, সেই টাকাটি উঠেছে শুধু। তা ছাড়া গেল সপ্তাহে মালিকের কাছ থেকে গত সপ্তাহের টাকাই নিইনি। এই সপ্তাহে তো বেচা-বিক্রিই নেই, জানি না মহাজনের কাছ থেকে কীভাবে টাকা নেব।’

ওই মার্কেটের রহমান ট্রেডার্স নামের দোকানটি বাহারি ক্রোকারিজে ভরপুর। এ দোকানের বিক্রেতা ইউসুফের দুপুরে খাবার খাওয়ার খরচই ওঠেনি। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই জায়গাতে ভরপুর মানুষ থাকত। অথচ সেখানে দেখেন এখন কী অবস্থা। বিসমিল্লাহ-বাট্টাই করতে পারি নাই। আমাদের খাবারের টাকা তো উঠা দূরের কথা, পকেট থেকে দেওয়া লাগতেছে। মনে হয়, যতক্ষণ না পর্যন্ত কারফিউ তুলে নিচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত ক্রেতা আসবে না।’

এদিকে নিউমার্কেট ১নং গেট সংলগ্ন ফুটপাতে বাহারি ধরনের টুপি বিক্রি করেন সিয়াম হোসেন সাইফ। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘লোকজনই তো নাই। বিক্রি হইব ক্যামনে। তারপরেও সবমিলাই ১ হাজার টাকার মতো বিক্রি করছি।’

নিউমার্কেটে কম-বেশি হাতে গোনা ক্রেতা থাকলেও রাজধানীর সবচেয়ে বড় বই বিক্রির মার্কেট নীলক্ষেতে ক্রেতা বলতে গেলে ছিল না ৷ এ মার্কেটের নকিব বুক সেন্টারের বিক্রয়কর্মী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘যেখানে গড়ে ১০-২০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। সেখানে এখন হাজার টাকা বিক্রি করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত ৫ দিন টানা বন্ধের পর আজ (গতকাল) দোকান খুললাম। যদিও এর মধ্যে যখন কারফিউ শিথিল হয়েছিল খুলছিলাম কিন্তু বিক্রি হয়নি। আজ (গতকাল) কোনো রকমে মাত্র ৩০০ টাকার বই বিক্রি করছি। বলা চলে দুপুরের খাবারের টাকা খালি উঠেছে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলন ১৬ জুলাই ৬ জনের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে গণবিজ্ঞপ্তি দেবে তদন্ত কমিশন

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:২৫ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:২৫ পিএম
১৬ জুলাই ৬ জনের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে গণবিজ্ঞপ্তি দেবে তদন্ত কমিশন
ফাইল ফটো

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুলাই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ৬ জনের মৃত্যুসহ সংঘর্ষ, লুটপাট ও সহিংসতার তথ্য সংগ্রহে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন। 

বুধবার (২৪ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের অডিটোরিয়ামের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় হাইকোর্টের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের নেতৃত্বে এক সদস্যের তদন্ত কমিশন।

বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বিলুপ্ত করে ২০১৮ সালে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ওই প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে গত ৫ জুলাই রায় দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। এ আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জুলাই সারা দেশে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং ৬ জন মারা যান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ জুলাই দ্য কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট-১৯৫৬-এর ৩ ধারার ক্ষমতাবলে আমাকে দিয়ে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে কমিশন কার্যক্রম শুরু করেছে। তারই আলোকে আমরা আজকে কমিশনের প্রথম মিটিং করলাম। গত ১৬ জুলাই ৬ জন ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ উদঘাটন ও তাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিবর্গকে চিহ্নিতকরণ এবং ৫ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত সংঘটিত অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তথ্য-প্রমাণাদি ৬ আগস্টের মধ্যে সরাসরি ডাকযোগে বা ই-মেইলের মাধ্যমে প্রদান করতে পারবেন। আমরা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভিন্ন নাগরিকের কাছে যেসব তথ্যাদি আছে সেগুলো আহ্বান করব। সেটা কী পদ্ধতিতে হবে, তা গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে। আর এমনিতে কমিশনের দৈনন্দিন কার্যক্রম আমরা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেব। সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার শাখা। আশা করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ হবে।’

১৬ জুলাইয়ের পরও অনেক মৃত্যুর ঘটনা আছে সেগুলো তদন্তের আওতায় আসবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে কমিশন বলে, ‘প্রজ্ঞাপনে যে টার্মস অব রেফারেন্স আছে, আমরা সেটা অনুযায়ী কার্যক্রম করব। এখন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপনে এই ৬ জনের ব্যাপারেই বলা হয়েছে। যে ঘটনাগুলো প্রজ্ঞাপনের পরে হয়েছে, সে মৃত্যুগুলোর বিষয়ে আইননানুগ ব্যবস্থা যেগুলো আছে, সেগুলো সেভাবেই চলবে।’

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে কমিশন বলে, ‘যেহেতু একটা অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছিল, কারফিউ ছিল, ছুটি ছিল। সেই কারণে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে আমরা আরেকটু গুছিয়ে নিয়েই ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করব। চেষ্টা করব সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার। একটা কথা বলতে পারি, আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমি সেই দায়িত্ব সম্পূর্ণ সততা, নিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে পালনের চেষ্টা করব। সে ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’ 

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুলাই ৬ জনের মৃত্যু, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা তদন্তে এক সদস্যের বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠন করা হয়। গত ১৮ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে কমিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিশনকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বন্ধ থাকছে ট্রেন চলাচল, মৈত্রী-মিতালীর টিকিট ফেরতের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:১৭ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:১৫ পিএম
বন্ধ থাকছে ট্রেন চলাচল, মৈত্রী-মিতালীর টিকিট ফেরতের সিদ্ধান্ত
ফাইল ফটো

সীমিত পরিসরে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে, গত ১৮ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত বাতিল হওয়া ঢাকা থেকে ভারতের শিলিগুড়িগামী মিতালী এক্সপ্রেস ও কলকাতাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেসের টিকিটের টাকাও ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এসব সিদ্ধান্তের কথা জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, সরকারের নির্দেশনায় ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে। 

এর আগে বুধবার (২৫ জুলাই) রেলসচিব ড. হুমায়ুন কবীর সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, আজ (২৫ জুলাই) থেকে কারফিউ শিথিল থাকাবস্থায় যাত্রীবাহী কিছু ট্রেন চালানো হবে। সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-টাঙ্গাইলসহ আরও কিছু রুটে কমিউটার ও লোকাল ট্রেন চলবে। ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি সচল হলে চলবে আন্তঃনগর ট্রেন।

মিতালী ও মৈত্রী এক্সপ্রেসের টিকিটের টাকা ফেরত পেতে পাসপোর্ট ও টিকিট নিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে যোগাযোগ করতে হবে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতার কারণে গেল ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল।

অমিয়/

মোকামের ১০০ টাকার আম রাজধানীতে ১৫০

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:০৯ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:১৯ পিএম
মোকামের ১০০ টাকার আম রাজধানীতে ১৫০
ছবি : খবরের কাগজ

কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সহিংতা ও চলমান কারফিউতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমচাষি ও আম ব্যবসায়ীরা। হাটবাজারগুলোতে সহজে ক্রেতা মিলছে না। আবার ইন্টারনেট না থাকায় অনলাইনে বিক্রিও হচ্ছে না। এতে তারা লোকসানে পড়েছেন। এসব এলাকায় কেজিতে ১০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে না আম। কিন্তু রাজধানীতে সেই আম ১৫০ টাকার কমে মিলছে না। 

বুধবার (২৪ জুলাই) বিভিন্ন বাজার ও মোকামের সংশ্লিষ্ট আম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 

বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁর বাগানগুলোতে বারি-৪, ফজলি, আম্রপালি জাতের আম রয়েছে। কিন্তু কারফিউর কারণে খুব বেশি আম বিক্রির জন্য হাটে আনতে পারছেন না বাগানি ও ব্যবসায়ীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট, রাজশাহীর বানেশ্বর, নওগাঁ জেলার সাপাহার সবচেয়ে বড় আমের মোকাম। এসব হাটে কারফিউর কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসতে পারছেন না। দু-একজন আম নিয়ে এলেও ক্রেতাসংকটের কারণে তা বিক্রি হচ্ছে না। ফলে প্রত্যাশিত দামও পাচ্ছেন না আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় অনলাইনেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আম বিক্রি হচ্ছে না। ফলে তারাও বিপাকে পড়েছেন। কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। 

জানতে চাইলে সাপাহার বাজারের আম ব্যবসায়ী মঈনুল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘জ্বালাও-পোড়াওয়ের কারণে কয়েক দিন ধরে দেশে কারফিউ চলছে। এতে ব্যাপারীরা আসতে পারছেন না। আবার ইন্টারনেট না থাকায় অনলাইনেও বিক্রি করা যাচ্ছে না। বিক্রি একেবারে কমে গেছে। কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে আম। তবে গতকাল কারফিউ শিথিলের সময় বাড়ানো হলে কাস্টমারের চাপ বাড়ে। সবচেয়ে ভালো আম্রপালি আম ৮৮ টাকা থেকে ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে আরও বেশি দামে বিক্রি করা যেত। এতে আমবাগানের মালিক ও আম ব্যবসায়ীরা ভালো দাম পেতেন।’ 

এদিকে রাজশাহীতেও কারফিউ জারির কারণে নগরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় হাটগুলোতে আম বিক্রি কমে গেছে। আবার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে না। ফলে গাছ থেকে আম নামাতে না পারায় গাছেই পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ১০০ টাকা কেজিও বিক্রি হয় না বলে আম বিক্রেতারা জানান।

কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের ফলের আড়তেই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে এই বাজারের শাহ আলী বাণিজ্যালয়ের জাহিদ বলেন, ‘আমের মৌসুম শেষ হয়ে আসছে। খিরসাপাতি ও হিমসাগর শেষ। আম্রপালি, বারি-৪ চলছে। বুধবার থেকে আমের দাম একটু বেশি। আম্রপালি ১২০-১৪০ টাকা কেজি ও বারি-৪ আম ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।’ 

সেই আম্রপালি বিভিন্ন বাজারে খুচরা বিক্রেতারা আরও বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার সরেজমিনে গেলে মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের ফল বিক্রেতা জসিম বলেন, আম্রপালি ১৪০-১৫০ টাকা, বারি-৪ আম ১৩০-১৪০ টাকা। ভালো আম। দাম বেশি। মৌসুম শেষ হয়ে আসছে। এ জন্য আর দাম কমবে না। এই বাজারের অন্য আম ব্যবসায়ীরাও বেশি দামে আম বিক্রি করছেন। কারওয়ান বাজারেও বেশি দামে আম বিক্রি হতে দেখা যায়। ১২০-১৪০ টাকার কমে কোনো আম পাওয়া যায় না। জামালসহ অন্যান্য বিক্রেতারা বলছেন, মোকামে বেশি। এ জন্য দাম চড়া।