ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

চীনের সঙ্গে ২১ দলিল সই, সাত প্রকল্প ঘোষণা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ০২:৪৮ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৩ পিএম
চীনের সঙ্গে ২১ দলিল সই, সাত প্রকল্প ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীন উভয় দেশ বিদ্যমান ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ থেকে ‘বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশদারিত্বে’ উন্নীত হতে ২১টি দলিল সই করেছে। যার মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন এবং আরও সাতটি প্রকল্পের ঘোষণা রয়েছে।

বুধবার (১০ জুলাই) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর উপস্থিতিতে দলিলগুলো সই হয়। 

এর আগে সকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মূলত রোহিঙ্গা ইস্যু, ব্যবসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী নথি বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন।

অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাতে সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা, ৬ষ্ঠ ও ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ, বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে চুক্তি সই হয়।

দলিলগুলো হচ্ছে-
১) ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই।
২) চায়না ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএফআরএ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংকিং এবং বীমা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই।
৩) বাংলাদেশ থেকে চীনে তাজা আম রপ্তানির জন্য উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত (ফাইটোস্যানিটারি) উপকরণ বিষয়ে প্রটোকল সই।
৪) অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি সহায়তা ক্ষেত্রে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
৫) বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহায়তা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
৬) বাংলাদেশে প্রকল্পে চায়না-এইড ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের ‘সম্ভ্যাবতা সমীক্ষা’ বিষয়ে আলোচনার একটি সাইনিং অব মিনিটস (কার্যবিবরণী) সই।
৭) চীনের সহায়তায় ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চায়না মৈত্রী সেতু সংস্কার প্রকল্পের চিঠি বিনিময়।
৮) নাটেশ্বর প্রত্নতাত্বিক স্থাপনা পার্ক প্রকল্পে চায়না-এইড কনস্ট্রাকশনের সম্ভ্যাবতা সমীক্ষা বিষয়ে চিঠি বিনিময়।
৯) চীনের সহায়তায় নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু প্রকল্প বিষয়ে চিঠি বিনিময়। 
১০) মেডিকেল সেবা এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সহযোগিতা শক্তিশালী করতে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
১১) অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদারে সমঝোতা স্মারক সই।
১২) গ্রিন অ্যান্ড লো-কার্বন উন্নয়ন বিষয়ে সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই।
১৩) বন্যার মৌসুমে ইয়ালুজাংবু (ব্রহ্মপুত্র) নদীর হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য বাংলাদেশ দেওয়ার বিধি বিষয়ক সমঝোতা স্মারক নবায়ন। 
১৪) চীনের জাতীয় বেতার ও টেলিভিশন প্রশাসন এবং বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। 
১৫) চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) মধ্যে পারষ্পরিক সমঝোতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই।
১৬) চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) এবং বিটিভির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই।
১৭) সিনহুয়া নিউজ অ্যাজেন্সি ও বিটিভির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই।
১৮) চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এবং বাংলদেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের মধ্যেও একটি স্মারক সই। 
১৯) অপর আরেকটি দলিল সই করে সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। 
২০) একটি সমঝাতা স্মারক নবায়ন করে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
২১) টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

সাতটি ঘোষণাপত্র হলো-
১) চীন-বাংলাদেশ মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে যৌথ সম্ভ্যাবতা সমীক্ষা সমাপ্তি ঘোষণা।
২) চীন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি ত্বরান্বিতকরণ নিয়ে আলোচনা শুরুর ঘোষণা।
৩) ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্পের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণের সমাপ্তির ঘোষণা।
৪) ডাবল পাইপ লাইন প্রকল্পের সঙ্গে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং এর ট্রায়াল রান সমাপ্তির ঘোষণা।
৫) রাজশাহী ওয়াসা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালুর ঘোষণা।
৬) শানদং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়. গাজীপুর এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।
৭) বাংলাদেশে লুবান ওয়ার্কশপ নির্মাণের ঘোষণা।

সূত্র: বাসস

অমিয়/

সহিংসতায় রেলের ক্ষতি ২২ কোটি: রেলমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৮ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৮ পিএম
সহিংসতায় রেলের ক্ষতি ২২ কোটি: রেলমন্ত্রী
রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতার কারণে গেল ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। এতে রেলের ২২ কোটি ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দপুর ২টায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

আজ থেকে সীমিত পরিসরে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

রেলমন্ত্রী বলেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার ফলে বিক্রি করা টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এর পরিমান ১৬ কোটি ৩৫ লাখের বেশি।

গেল মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ভিয়েতনাম ও জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম। 

রেল খাতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে সহিংসতা রেল যোগাযোগে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।

অমিয়/

নীলক্ষেত-নিউমার্কেট যেন বিরানভূমি

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:৫১ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:৫১ পিএম
নীলক্ষেত-নিউমার্কেট যেন বিরানভূমি
ঢাকার অন্যতম জমজমাট এলাকা নীলক্ষেত আর নিউ মার্কেট এখন পরিণত হয়েছে বিরানভূমিতে। ছবি: খবরের কাগজ

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট থমথমে অবস্থা শেষে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে দেশ। সাপ্তাহিক ছুটির পর নির্বাহী আদেশে টানা ৩ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে বুধবার (২৪ জুলাই) আংশিকভাবে খুলেছে অফিস-আদালত। অফিস-আদালতের পাশাপাশি খুলেছে রাজধানীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট এবং নীলক্ষেতের বইয়ের মার্কেট। কারফিউ শিথিলের সময় এই দুই মার্কেটের সব দোকান খুললেও ক্রেতা ছিল একেবারেই হাতে গোনা। নিউমার্কেটে কিছুসংখ্যক ক্রেতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও নীলক্ষেত বই মার্কেটে ক্রেতা বলতে গেলে ছিলই না। এ যেন বিরানভূমি।

সরেজমিনে এই চিত্র দেখা যায় রাজধানীর এ দুই মার্কেটে। ক্রেতা না আসায় অনেকের দুপুরের খাবারের টাকা পর্যন্ত ওঠেনি বলে দাবি অনেক বিক্রেতা। বিক্রি-বাট্টা আর ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় খোশগল্পে অলস সময় পার করতে দেখা গেছে এখানকার বিক্রেতাদের।

নিউমার্কেটের জান্নাত বোরকা বাজার লিমিটেড নামের দোকানে অন্যদিনগুলোতে গড়ে সর্বোচ্চ চব্বিশ-পঁচিশ পিস পর্যন্ত বোরকা বিক্রি হতো, সেখানে এখন একের বেশি বিক্রি করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিক্রয়কর্মী মো. বাবু বলেন, ‘দেশে যে কয় দিন ধরে গণ্ডগোল গেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা তো আর সব বোঝে না। তারা এখনো মনে করছে দেশ এখনো থমথমে আছে, যার ফলে মার্কেটে এখনো লোকজন আসছে না সেভাবে। কিন্তু এখন তো দেশ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।’

বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অন্যদিন অন্তত পনেরো-বিশ-চব্বিশ পিস বোরকা বিক্রি করি। সেখানে আজকে বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত বিক্রি করেছি মাত্র এক পিস। দুপুরে খেতে যে টাকা লাগবে, সেই টাকাটি উঠেছে শুধু। তা ছাড়া গেল সপ্তাহে মালিকের কাছ থেকে গত সপ্তাহের টাকাই নিইনি। এই সপ্তাহে তো বেচা-বিক্রিই নেই, জানি না মহাজনের কাছ থেকে কীভাবে টাকা নেব।’

ওই মার্কেটের রহমান ট্রেডার্স নামের দোকানটি বাহারি ক্রোকারিজে ভরপুর। এ দোকানের বিক্রেতা ইউসুফের দুপুরে খাবার খাওয়ার খরচই ওঠেনি। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই জায়গাতে ভরপুর মানুষ থাকত। অথচ সেখানে দেখেন এখন কী অবস্থা। বিসমিল্লাহ-বাট্টাই করতে পারি নাই। আমাদের খাবারের টাকা তো উঠা দূরের কথা, পকেট থেকে দেওয়া লাগতেছে। মনে হয়, যতক্ষণ না পর্যন্ত কারফিউ তুলে নিচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত ক্রেতা আসবে না।’

এদিকে নিউমার্কেট ১নং গেট সংলগ্ন ফুটপাতে বাহারি ধরনের টুপি বিক্রি করেন সিয়াম হোসেন সাইফ। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘লোকজনই তো নাই। বিক্রি হইব ক্যামনে। তারপরেও সবমিলাই ১ হাজার টাকার মতো বিক্রি করছি।’

নিউমার্কেটে কম-বেশি হাতে গোনা ক্রেতা থাকলেও রাজধানীর সবচেয়ে বড় বই বিক্রির মার্কেট নীলক্ষেতে ক্রেতা বলতে গেলে ছিল না ৷ এ মার্কেটের নকিব বুক সেন্টারের বিক্রয়কর্মী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘যেখানে গড়ে ১০-২০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। সেখানে এখন হাজার টাকা বিক্রি করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত ৫ দিন টানা বন্ধের পর আজ (গতকাল) দোকান খুললাম। যদিও এর মধ্যে যখন কারফিউ শিথিল হয়েছিল খুলছিলাম কিন্তু বিক্রি হয়নি। আজ (গতকাল) কোনো রকমে মাত্র ৩০০ টাকার বই বিক্রি করছি। বলা চলে দুপুরের খাবারের টাকা খালি উঠেছে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলন ১৬ জুলাই ৬ জনের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে গণবিজ্ঞপ্তি দেবে তদন্ত কমিশন

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:২৫ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:২৫ পিএম
১৬ জুলাই ৬ জনের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে গণবিজ্ঞপ্তি দেবে তদন্ত কমিশন
ফাইল ফটো

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুলাই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ৬ জনের মৃত্যুসহ সংঘর্ষ, লুটপাট ও সহিংসতার তথ্য সংগ্রহে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন। 

বুধবার (২৪ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের অডিটোরিয়ামের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় হাইকোর্টের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের নেতৃত্বে এক সদস্যের তদন্ত কমিশন।

বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বিলুপ্ত করে ২০১৮ সালে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ওই প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে গত ৫ জুলাই রায় দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। এ আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জুলাই সারা দেশে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং ৬ জন মারা যান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ জুলাই দ্য কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট-১৯৫৬-এর ৩ ধারার ক্ষমতাবলে আমাকে দিয়ে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে কমিশন কার্যক্রম শুরু করেছে। তারই আলোকে আমরা আজকে কমিশনের প্রথম মিটিং করলাম। গত ১৬ জুলাই ৬ জন ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ উদঘাটন ও তাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিবর্গকে চিহ্নিতকরণ এবং ৫ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত সংঘটিত অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তথ্য-প্রমাণাদি ৬ আগস্টের মধ্যে সরাসরি ডাকযোগে বা ই-মেইলের মাধ্যমে প্রদান করতে পারবেন। আমরা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভিন্ন নাগরিকের কাছে যেসব তথ্যাদি আছে সেগুলো আহ্বান করব। সেটা কী পদ্ধতিতে হবে, তা গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে। আর এমনিতে কমিশনের দৈনন্দিন কার্যক্রম আমরা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেব। সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার শাখা। আশা করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ হবে।’

১৬ জুলাইয়ের পরও অনেক মৃত্যুর ঘটনা আছে সেগুলো তদন্তের আওতায় আসবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে কমিশন বলে, ‘প্রজ্ঞাপনে যে টার্মস অব রেফারেন্স আছে, আমরা সেটা অনুযায়ী কার্যক্রম করব। এখন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপনে এই ৬ জনের ব্যাপারেই বলা হয়েছে। যে ঘটনাগুলো প্রজ্ঞাপনের পরে হয়েছে, সে মৃত্যুগুলোর বিষয়ে আইননানুগ ব্যবস্থা যেগুলো আছে, সেগুলো সেভাবেই চলবে।’

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে কমিশন বলে, ‘যেহেতু একটা অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছিল, কারফিউ ছিল, ছুটি ছিল। সেই কারণে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে আমরা আরেকটু গুছিয়ে নিয়েই ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করব। চেষ্টা করব সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার। একটা কথা বলতে পারি, আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমি সেই দায়িত্ব সম্পূর্ণ সততা, নিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে পালনের চেষ্টা করব। সে ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’ 

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুলাই ৬ জনের মৃত্যু, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা তদন্তে এক সদস্যের বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠন করা হয়। গত ১৮ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে কমিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিশনকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বন্ধ থাকছে ট্রেন চলাচল, মৈত্রী-মিতালীর টিকিট ফেরতের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:১৭ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:১৫ পিএম
বন্ধ থাকছে ট্রেন চলাচল, মৈত্রী-মিতালীর টিকিট ফেরতের সিদ্ধান্ত
ফাইল ফটো

সীমিত পরিসরে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে, গত ১৮ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত বাতিল হওয়া ঢাকা থেকে ভারতের শিলিগুড়িগামী মিতালী এক্সপ্রেস ও কলকাতাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেসের টিকিটের টাকাও ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এসব সিদ্ধান্তের কথা জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, সরকারের নির্দেশনায় ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে। 

এর আগে বুধবার (২৫ জুলাই) রেলসচিব ড. হুমায়ুন কবীর সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, আজ (২৫ জুলাই) থেকে কারফিউ শিথিল থাকাবস্থায় যাত্রীবাহী কিছু ট্রেন চালানো হবে। সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-টাঙ্গাইলসহ আরও কিছু রুটে কমিউটার ও লোকাল ট্রেন চলবে। ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি সচল হলে চলবে আন্তঃনগর ট্রেন।

মিতালী ও মৈত্রী এক্সপ্রেসের টিকিটের টাকা ফেরত পেতে পাসপোর্ট ও টিকিট নিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে যোগাযোগ করতে হবে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতার কারণে গেল ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল।

অমিয়/

মোকামের ১০০ টাকার আম রাজধানীতে ১৫০

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:০৯ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:১৯ পিএম
মোকামের ১০০ টাকার আম রাজধানীতে ১৫০
ছবি : খবরের কাগজ

কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সহিংতা ও চলমান কারফিউতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমচাষি ও আম ব্যবসায়ীরা। হাটবাজারগুলোতে সহজে ক্রেতা মিলছে না। আবার ইন্টারনেট না থাকায় অনলাইনে বিক্রিও হচ্ছে না। এতে তারা লোকসানে পড়েছেন। এসব এলাকায় কেজিতে ১০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে না আম। কিন্তু রাজধানীতে সেই আম ১৫০ টাকার কমে মিলছে না। 

বুধবার (২৪ জুলাই) বিভিন্ন বাজার ও মোকামের সংশ্লিষ্ট আম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 

বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁর বাগানগুলোতে বারি-৪, ফজলি, আম্রপালি জাতের আম রয়েছে। কিন্তু কারফিউর কারণে খুব বেশি আম বিক্রির জন্য হাটে আনতে পারছেন না বাগানি ও ব্যবসায়ীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট, রাজশাহীর বানেশ্বর, নওগাঁ জেলার সাপাহার সবচেয়ে বড় আমের মোকাম। এসব হাটে কারফিউর কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসতে পারছেন না। দু-একজন আম নিয়ে এলেও ক্রেতাসংকটের কারণে তা বিক্রি হচ্ছে না। ফলে প্রত্যাশিত দামও পাচ্ছেন না আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় অনলাইনেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আম বিক্রি হচ্ছে না। ফলে তারাও বিপাকে পড়েছেন। কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। 

জানতে চাইলে সাপাহার বাজারের আম ব্যবসায়ী মঈনুল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘জ্বালাও-পোড়াওয়ের কারণে কয়েক দিন ধরে দেশে কারফিউ চলছে। এতে ব্যাপারীরা আসতে পারছেন না। আবার ইন্টারনেট না থাকায় অনলাইনেও বিক্রি করা যাচ্ছে না। বিক্রি একেবারে কমে গেছে। কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে আম। তবে গতকাল কারফিউ শিথিলের সময় বাড়ানো হলে কাস্টমারের চাপ বাড়ে। সবচেয়ে ভালো আম্রপালি আম ৮৮ টাকা থেকে ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে আরও বেশি দামে বিক্রি করা যেত। এতে আমবাগানের মালিক ও আম ব্যবসায়ীরা ভালো দাম পেতেন।’ 

এদিকে রাজশাহীতেও কারফিউ জারির কারণে নগরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় হাটগুলোতে আম বিক্রি কমে গেছে। আবার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে না। ফলে গাছ থেকে আম নামাতে না পারায় গাছেই পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ১০০ টাকা কেজিও বিক্রি হয় না বলে আম বিক্রেতারা জানান।

কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের ফলের আড়তেই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে এই বাজারের শাহ আলী বাণিজ্যালয়ের জাহিদ বলেন, ‘আমের মৌসুম শেষ হয়ে আসছে। খিরসাপাতি ও হিমসাগর শেষ। আম্রপালি, বারি-৪ চলছে। বুধবার থেকে আমের দাম একটু বেশি। আম্রপালি ১২০-১৪০ টাকা কেজি ও বারি-৪ আম ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।’ 

সেই আম্রপালি বিভিন্ন বাজারে খুচরা বিক্রেতারা আরও বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার সরেজমিনে গেলে মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের ফল বিক্রেতা জসিম বলেন, আম্রপালি ১৪০-১৫০ টাকা, বারি-৪ আম ১৩০-১৪০ টাকা। ভালো আম। দাম বেশি। মৌসুম শেষ হয়ে আসছে। এ জন্য আর দাম কমবে না। এই বাজারের অন্য আম ব্যবসায়ীরাও বেশি দামে আম বিক্রি করছেন। কারওয়ান বাজারেও বেশি দামে আম বিক্রি হতে দেখা যায়। ১২০-১৪০ টাকার কমে কোনো আম পাওয়া যায় না। জামালসহ অন্যান্য বিক্রেতারা বলছেন, মোকামে বেশি। এ জন্য দাম চড়া।