ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

বাংলা ব্লকেড কারওয়ান বাজারে অবরুদ্ধ রেললাইন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৩:৫৬ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩২ পিএম
কারওয়ান বাজারে অবরুদ্ধ রেললাইন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ছবি: সংগৃহীত

কোটাবিরোধী আন্দোলনের এক দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাজধানীর কাওরানবাজার ও মহাখালীর আমতলীতে রেললাইন অবরোধ করে রেখেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ফলে ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরের দিকে ঢাকা রেলওয়ে থানা কমলাপুর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদাউস আহমেদ বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘দুপুর ১২টার পর কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রেললাইনে কাঠ ফেলে অবরোধ করে রেখেছে। আমরা খবর পেয়ে দ্রুত এখানে চলে এসেছি। যাতে করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রেললাইন অবরুদ্ধ থাকায় ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িক সময়ে জন্য বন্ধ আছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত রেল চলাচল স্বাভাবিক করতে।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ রেললাইন অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

পর্যাক্রমে আন্দোলন আরও বেগবান হবে বলেও জানান তারা।

কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রেললাইনে ওপরে কাঠের বিভিন্ন গুড়ি ও বাঁশ ফেলে অবরোধ করছে। এ ছাড়াও রেল ক্রসিংয়ের ব্যারিয়ার ফেলে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এতে রেলগেইট দিয়ে কোনও যানবাহনও চলাচল করতে পারছে না। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী বহনকারী গাড়িগুলোকে চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।

সাদিয়া নাহার/অমিয়/

‘বাংলাদেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া বানাতে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে’

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৪ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৭ পিএম
‘বাংলাদেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া বানাতে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে’
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী; ফাইল ছবি

বাংলাদেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লিবিয়া বানাতে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। 

তিনি বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলন যখনই শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে যাচ্ছিল ঠিক তখনই স্বার্থান্বেষী মহল তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ঢাকার শহরে অগ্নিসন্ত্রাস, তাণ্ডব, বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা, মেট্রোরেল স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়া, সেতু ভবন, ডাটা সেন্টার ইত্যাদি পুড়িয়ে দিলো। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সমগ্র পৃথিবীর সঙ্গে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। বাংলাদেশকে পরিত্যক্ত দেশ হিসেবে তৈরি করার মহাপরিকল্পনা ছিল।’

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

এ সময় উপস্থিতি ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েলসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। পরে বন্দরের ছয় হাজার ৭০০ শ্রমিকের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী।
 
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর একটি সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে তাদের সেই ষড়যন্ত্রের রাজনীতি প্রতিহত হয়েছে। তাদের স্বপ্ন বাংলাদেশকে ভিখারী রাষ্ট্রে পরিণত করা, দেশকে উন্নত হতে না দেওয়া, বিদেশ থেকে উসকানি পেয়ে তারা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের একমাত্র বাধা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে তারা উৎখাত করতে চায়, যা কখনোই সম্ভব নয়। শেখ হাসিনা সুস্থ থাকলে বাংলাদেশ সুস্থ থাকবে। তার একটি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের মানুষকে সুস্থ করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের এগিয়ে যেতে সাহস ও শক্তি দেন। ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত  আমাদের বাংলাদেশ। তাদের, মুক্তিযোদ্ধাদের, নির্যাতিত মানুষের দায়িত্ব পালন করা আমাদের দায়িত্ব।’ 

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দারিদ্রতা জয় করে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছেন। এটা তাদের পছন্দ নয়। দেশের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বকে ধরে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এ ঘোষণা মানুষকে আনন্দিত করেছে। কারফিউ জারির শুরুতে দেশের সার্বিক অবস্থা ফিরিয়ে আসতে শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের লাইফ লাইন চট্টগ্রাম বন্দর এক মিনিটের জন্য বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া হয়নি। করোনা পরবর্তী মানবসৃষ্ট এ মহামারী সাহস ও দেশপ্রেম দিয়ে, বন্দরের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে, বন্দরকে সচল রেখেছেন এজন্য বন্দরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যে কোন মূল্যে চট্টগ্রাম বন্দরকে রক্ষা করব- এটা হোক সকলের শপথ।’

শফিকুল ইসলাম/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

সহিংসতায় রেলের ক্ষতি ২২ কোটি: রেলমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৮ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:০০ পিএম
সহিংসতায় রেলের ক্ষতি ২২ কোটি: রেলমন্ত্রী
রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতার কারণে গেল ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। এতে রেলের ২২ কোটি ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ২টায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

আজ থেকে সীমিত পরিসরে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

রেলমন্ত্রী বলেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার ফলে বিক্রি করা টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এর পরিমাণ ১৬ কোটি ৩৫ লাখের বেশি।

গেল মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ভিয়েতনাম ও জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম। 

রেল খাতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে সহিংসতা রেল যোগাযোগে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।

অমিয়/

নীলক্ষেত-নিউমার্কেট যেন বিরানভূমি

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:৫১ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:৫১ পিএম
নীলক্ষেত-নিউমার্কেট যেন বিরানভূমি
ঢাকার অন্যতম জমজমাট এলাকা নীলক্ষেত আর নিউ মার্কেট এখন পরিণত হয়েছে বিরানভূমিতে। ছবি: খবরের কাগজ

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট থমথমে অবস্থা শেষে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে দেশ। সাপ্তাহিক ছুটির পর নির্বাহী আদেশে টানা ৩ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে বুধবার (২৪ জুলাই) আংশিকভাবে খুলেছে অফিস-আদালত। অফিস-আদালতের পাশাপাশি খুলেছে রাজধানীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট এবং নীলক্ষেতের বইয়ের মার্কেট। কারফিউ শিথিলের সময় এই দুই মার্কেটের সব দোকান খুললেও ক্রেতা ছিল একেবারেই হাতে গোনা। নিউমার্কেটে কিছুসংখ্যক ক্রেতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও নীলক্ষেত বই মার্কেটে ক্রেতা বলতে গেলে ছিলই না। এ যেন বিরানভূমি।

সরেজমিনে এই চিত্র দেখা যায় রাজধানীর এ দুই মার্কেটে। ক্রেতা না আসায় অনেকের দুপুরের খাবারের টাকা পর্যন্ত ওঠেনি বলে দাবি অনেক বিক্রেতা। বিক্রি-বাট্টা আর ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় খোশগল্পে অলস সময় পার করতে দেখা গেছে এখানকার বিক্রেতাদের।

নিউমার্কেটের জান্নাত বোরকা বাজার লিমিটেড নামের দোকানে অন্যদিনগুলোতে গড়ে সর্বোচ্চ চব্বিশ-পঁচিশ পিস পর্যন্ত বোরকা বিক্রি হতো, সেখানে এখন একের বেশি বিক্রি করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিক্রয়কর্মী মো. বাবু বলেন, ‘দেশে যে কয় দিন ধরে গণ্ডগোল গেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা তো আর সব বোঝে না। তারা এখনো মনে করছে দেশ এখনো থমথমে আছে, যার ফলে মার্কেটে এখনো লোকজন আসছে না সেভাবে। কিন্তু এখন তো দেশ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।’

বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অন্যদিন অন্তত পনেরো-বিশ-চব্বিশ পিস বোরকা বিক্রি করি। সেখানে আজকে বিকেল পৌনে চারটা পর্যন্ত বিক্রি করেছি মাত্র এক পিস। দুপুরে খেতে যে টাকা লাগবে, সেই টাকাটি উঠেছে শুধু। তা ছাড়া গেল সপ্তাহে মালিকের কাছ থেকে গত সপ্তাহের টাকাই নিইনি। এই সপ্তাহে তো বেচা-বিক্রিই নেই, জানি না মহাজনের কাছ থেকে কীভাবে টাকা নেব।’

ওই মার্কেটের রহমান ট্রেডার্স নামের দোকানটি বাহারি ক্রোকারিজে ভরপুর। এ দোকানের বিক্রেতা ইউসুফের দুপুরে খাবার খাওয়ার খরচই ওঠেনি। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই জায়গাতে ভরপুর মানুষ থাকত। অথচ সেখানে দেখেন এখন কী অবস্থা। বিসমিল্লাহ-বাট্টাই করতে পারি নাই। আমাদের খাবারের টাকা তো উঠা দূরের কথা, পকেট থেকে দেওয়া লাগতেছে। মনে হয়, যতক্ষণ না পর্যন্ত কারফিউ তুলে নিচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত ক্রেতা আসবে না।’

এদিকে নিউমার্কেট ১নং গেট সংলগ্ন ফুটপাতে বাহারি ধরনের টুপি বিক্রি করেন সিয়াম হোসেন সাইফ। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘লোকজনই তো নাই। বিক্রি হইব ক্যামনে। তারপরেও সবমিলাই ১ হাজার টাকার মতো বিক্রি করছি।’

নিউমার্কেটে কম-বেশি হাতে গোনা ক্রেতা থাকলেও রাজধানীর সবচেয়ে বড় বই বিক্রির মার্কেট নীলক্ষেতে ক্রেতা বলতে গেলে ছিল না ৷ এ মার্কেটের নকিব বুক সেন্টারের বিক্রয়কর্মী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘যেখানে গড়ে ১০-২০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। সেখানে এখন হাজার টাকা বিক্রি করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত ৫ দিন টানা বন্ধের পর আজ (গতকাল) দোকান খুললাম। যদিও এর মধ্যে যখন কারফিউ শিথিল হয়েছিল খুলছিলাম কিন্তু বিক্রি হয়নি। আজ (গতকাল) কোনো রকমে মাত্র ৩০০ টাকার বই বিক্রি করছি। বলা চলে দুপুরের খাবারের টাকা খালি উঠেছে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলন ১৬ জুলাই ৬ জনের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে গণবিজ্ঞপ্তি দেবে তদন্ত কমিশন

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:২৫ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:২৫ পিএম
১৬ জুলাই ৬ জনের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে গণবিজ্ঞপ্তি দেবে তদন্ত কমিশন
ফাইল ফটো

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুলাই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ৬ জনের মৃত্যুসহ সংঘর্ষ, লুটপাট ও সহিংসতার তথ্য সংগ্রহে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন। 

বুধবার (২৪ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের অডিটোরিয়ামের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় হাইকোর্টের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের নেতৃত্বে এক সদস্যের তদন্ত কমিশন।

বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বিলুপ্ত করে ২০১৮ সালে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ওই প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে গত ৫ জুলাই রায় দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। এ আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জুলাই সারা দেশে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং ৬ জন মারা যান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ জুলাই দ্য কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট-১৯৫৬-এর ৩ ধারার ক্ষমতাবলে আমাকে দিয়ে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে কমিশন কার্যক্রম শুরু করেছে। তারই আলোকে আমরা আজকে কমিশনের প্রথম মিটিং করলাম। গত ১৬ জুলাই ৬ জন ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ উদঘাটন ও তাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিবর্গকে চিহ্নিতকরণ এবং ৫ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত সংঘটিত অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তথ্য-প্রমাণাদি ৬ আগস্টের মধ্যে সরাসরি ডাকযোগে বা ই-মেইলের মাধ্যমে প্রদান করতে পারবেন। আমরা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভিন্ন নাগরিকের কাছে যেসব তথ্যাদি আছে সেগুলো আহ্বান করব। সেটা কী পদ্ধতিতে হবে, তা গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে। আর এমনিতে কমিশনের দৈনন্দিন কার্যক্রম আমরা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেব। সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার শাখা। আশা করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ হবে।’

১৬ জুলাইয়ের পরও অনেক মৃত্যুর ঘটনা আছে সেগুলো তদন্তের আওতায় আসবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে কমিশন বলে, ‘প্রজ্ঞাপনে যে টার্মস অব রেফারেন্স আছে, আমরা সেটা অনুযায়ী কার্যক্রম করব। এখন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপনে এই ৬ জনের ব্যাপারেই বলা হয়েছে। যে ঘটনাগুলো প্রজ্ঞাপনের পরে হয়েছে, সে মৃত্যুগুলোর বিষয়ে আইননানুগ ব্যবস্থা যেগুলো আছে, সেগুলো সেভাবেই চলবে।’

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে কমিশন বলে, ‘যেহেতু একটা অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছিল, কারফিউ ছিল, ছুটি ছিল। সেই কারণে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে আমরা আরেকটু গুছিয়ে নিয়েই ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করব। চেষ্টা করব সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার। একটা কথা বলতে পারি, আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমি সেই দায়িত্ব সম্পূর্ণ সততা, নিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে পালনের চেষ্টা করব। সে ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’ 

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুলাই ৬ জনের মৃত্যু, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা তদন্তে এক সদস্যের বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠন করা হয়। গত ১৮ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে কমিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিশনকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বন্ধ থাকছে ট্রেন চলাচল, মৈত্রী-মিতালীর টিকিট ফেরতের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:১৭ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:১৫ পিএম
বন্ধ থাকছে ট্রেন চলাচল, মৈত্রী-মিতালীর টিকিট ফেরতের সিদ্ধান্ত
ফাইল ফটো

সীমিত পরিসরে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে, গত ১৮ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত বাতিল হওয়া ঢাকা থেকে ভারতের শিলিগুড়িগামী মিতালী এক্সপ্রেস ও কলকাতাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেসের টিকিটের টাকাও ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এসব সিদ্ধান্তের কথা জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, সরকারের নির্দেশনায় ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে। 

এর আগে বুধবার (২৫ জুলাই) রেলসচিব ড. হুমায়ুন কবীর সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, আজ (২৫ জুলাই) থেকে কারফিউ শিথিল থাকাবস্থায় যাত্রীবাহী কিছু ট্রেন চালানো হবে। সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা-টাঙ্গাইলসহ আরও কিছু রুটে কমিউটার ও লোকাল ট্রেন চলবে। ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি সচল হলে চলবে আন্তঃনগর ট্রেন।

মিতালী ও মৈত্রী এক্সপ্রেসের টিকিটের টাকা ফেরত পেতে পাসপোর্ট ও টিকিট নিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে যোগাযোগ করতে হবে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতার কারণে গেল ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল।

অমিয়/