বস্ত্র ও পাট এবং নৌ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। দেশে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করা জরুরি।
শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর)) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২ হাজার ৬৯৯ জন। এই দীর্ঘ সময়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা মন্ত্রণালয়গুলোকে চুরি ও দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছেন।’
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি মনে করি অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার দরকার নেই। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার করা উচিত। নুরেমবার্গ ট্রায়ালের মতো। হত্যার সব প্রমাণ আছে। নির্দেশদাতা হিসেবে বিচার হবে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ কমিশন গঠনে আমি অনেক দৃঢ় অবস্থানে আছি। পুলিশের অস্ত্র কী করে সাধারণ পোশাকের মানুষের হাতে গেল, তা নিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। ডিজিএফআইয়ের কাজ ছিল আন্তঃবাহিনীর নিরাপত্তা লঙ্ঘন নিয়ে কাজ করা, সময়ের সঙ্গে যা বদলে গেছে। ৫ আগস্ট সরকারের পতন না হলে আমি এবং আমার সঙ্গের লোকজন আয়নাঘরে বন্দি হতাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘পলিটিক্যাল পার্টি অ্যাক্ট নিয়ে কাজ করা হবে। নৌ মন্ত্রণালয়ের নাম পাল্টে জাহাজ ও বন্দর মন্ত্রণালয় নাম রাখার প্রস্তাব করব আমি। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত শুধু পুলিশ হেফাজতেই ১ হাজার ৪৮টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এখন আমাদের সবাইকে সামনে দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করতে হবে।’
সেমিনারে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, ‘ঘুরেফিরে দিন শেষে আমাদের রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ফেরত যেতে হবে।
মানবাধিকার কমিশন গঠনে কোনো স্বচ্ছতা নেই। ১৫ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ হলো এই জুলাই-আগস্টের আন্দোলন। নিকট অতীত নিয়ে আলোচনা করা হয়, পূর্বের কথা বলি না। সরকারের উচিত যে স্থাপনাগুলোতে মানুষকে গুম করে রাখা হতো, আয়নাঘর, টর্চার সেল- সেগুলোকে সংরক্ষণ করা। বিগত ১৫ বছরে ছয় হাজারের বেশি ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে। যারা তদন্তে ছিলেন সে সময়, তাদের আসামি হিসেবে যুক্ত করা প্রয়োজন। কোন প্রক্রিয়ায় আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ঠাণ্ডা মাথার খুনি হিসেবে গড়ে তুলছি, তা নিয়ে যেন কথা বলি। সেনাবাহিনীর নিচু থেকে উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তাকে গুম করা হয়েছে, আমরা জানতাম না। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।’
সেমিনারে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন সিজিএসের চেয়ার মুনিরা খান, কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এলিনা খান, গণফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মো. নূর খান, ট্রান্স নারী অধিকার কর্মী জয়া শিকদার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান, অ্যাডভোকেট দিলরুবা শারমিন, ব্যারিস্টার আহসান হাবীব ভূঁইয়া, রাজনীতি বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, নারী অধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান, ‘মায়ের ডাক’-এর আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইমা আক্তার রীতা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌহিদ সিয়াম, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক সালেহ আহমেদ, গণ-অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও জি নাইনের সাধারণ সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।