ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপে মেসির ১৮ গোল: কোন দলের বিপক্ষে কত দেখে নিন যে কারণে বন্ধ ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচ এমবাপ্পের গোলে ইরাকের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে ফ্রান্স গোল করেই রোনালদোর রেকর্ডে ভাগ বসালেন এমবাপ্পে বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন বোগডানোভিচ জন্মদিনের আগের রাতে ঝলমলে মেসি রাউন্ড ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে? আর্জেন্টিনার ৫ গোলের ৫টিই মেসির পাঁচ বছর পর আবারও আইসিসির মাসসেরা মুশফিক বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোলের কীর্তিতে নাম লেখালেন মেসি মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা গ্যালারির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মুখটি এবার বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন

সহিংসতার বিস্তার তৃণমূলেও

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৫৮ পিএম
আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৪, ০১:১২ পিএম
সহিংসতার বিস্তার তৃণমূলেও
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

দেশে বিতর্ক ও বিভাজনের রাজনীতির অভিজ্ঞতা নতুন নয়। সব সময়ই বিতর্ক-বিভক্তি ছিল, এখনো আছে। বিভেদ, বিতর্ক ও বিরোধিতা পৌঁছেছে রাজনৈতিক অঙন থেকে সমাজজীবন ও পারিবারিক-ব্যক্তি পর্যায়ে। রাজধানী, মহানগর ও শহর ছাড়িয়ে বিভেদ-বিভাজন এখন দেশের তৃণমূল ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও। এই বিতর্ক, বিভাজনের শত্রুতা এখন বাড়ছেই। বিয়ে-শাদির সম্পর্কের মধ্যেও রাজনৈতিক বিভেদ প্রভাব ফেলছে। রাজনৈতিক কারণে নিজ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি, রেষারেষি, দূরত্ব ও অপ্রীতিকর ঘটনার বেশ কিছু চিত্র উঠে এসেছে খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধিদের অনুসন্ধানে। 

বরিশালের জেলা প্রতিনিধি মঈনুল ইসলাম সবুজের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, নগরীতে দুই ভাই দুই দলের নেতা। একজন বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের, অপরজন আওয়ামী যুবলীগের নেতা। তারা হলেন- বরিশালের ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকার বাসিন্দা মোমেন শিকদার ও সাহিন শিকদার। মোমেন শিকদার যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা। সাহিন শিকদার বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। মোমেন শিকদারের নিজস্ব ভবনের নিচতলায় দুই ভাইয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়। গত এক দশক ধরে তারা দুই ভাই ওই অফিসের পাশাপাশি কক্ষে বসতেন, কাজ করতেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে দুই ভাইয়ের বিভেদ এখন চরমে। ৫ আগস্টের পর সাহিন শিকদার অফিসে আসা ছেড়ে দিয়েছেন। দুই ভাইয়ের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ। শুধু সাহিন শিকদার আর মোমেন শিকদার নন, জেলায় ভিন্ন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অন্য পরিবারগুলোর মধ্যেও রয়েছে প্রকাশ্য বিরোধ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাহিন শিকদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগেও বড় ভাইয়ের কাছে বিএনপির বিভিন্ন লেভেলের লোকজন আসতেন। নানা কথা হতো। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অফিসে তেমন একটা যাওয়া হয় না। কারণ, বড় ভাইয়ের কাছে আসা লোকজনের সঙ্গে কখন কোন কথায় দ্বন্দ্ব বেঁধে যায় বলা-তো যায় না। এ নিয়ে পারিবারিক কোনো সমস্যা হোক, তা চাই না। তাই, ওই অফিসে যাতায়াত কমিয়ে দিয়েছি।’ 

বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম শাহিন বলেন, ‘আমার ভাই চাচাতো ভাইয়েরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আওয়ামী লীগের শাসন আমলে তারা বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর ক্ষতি করেনি। তবে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কারণে তাদের নিয়ে বিএনপির ফোরামে কথা উঠলে বিব্রত বোধ করি। তার পরেও রক্তের সম্পর্ক তো কাটা যায় না।’

এ বিষয়ে বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যে প্রভার পড়ার কথা ছিল তা বরিশালেও পড়েছে। দলীয় একক পরিবারের চেয়ে মিশ্রিত পরিবারগুলোতে বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা অনেকটা নিরাপদে রয়েছেন।’ 

চট্টগ্রামের ব্যুরো চিফ ইফতেখারুল ইসলাম জানান, জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা কোন্দল, বসত বাড়িতে হামলা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে সরকারি কর্মস্থলে দুই কর্মচারীর দীর্ঘ অনুপস্থিতির ঘটনাও ঘটেছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১৩ নম্বর নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে একটি সালিশ বৈঠকে যান রাউজান উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সোহেল ও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন। সেখান থেকে তাদের অপহরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন ভুক্তভোগী দুই নেতার হাত, পা, চোখ বেঁধে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে ৩ মাইল দূরের চৌধুরী হাটের পাশে মাঝের চরে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে দুর্বৃত্তরা। বিএনপির দুই গ্রুপের আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মামলাও হয়েছে। 

আওয়ামী সরকারের পতনের পর চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আধিপত্য বিস্তার করছে বিএনপি জামায়াত, যুবদল, ছাত্রদল ও ছাত্র শিবির। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জায়গায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও বিএনপি ও জামায়াতের একটা প্রভাব তৈরি হয়েছে। ফলে প্রশাসন এখন তাদের সহযোগিতা নিচ্ছে। বাঁশখালীতে বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের পদ-পদবি ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করাদের বাড়িতে সরকার পতনের পর হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার পতনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হলো। কিন্তু সবাইকে তো ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর যে আচরণ সেটা কিন্তু সন্তোষজনক নয়। সারা দেশে একটা অরাজকতা তৈরি হয়ে গেছে। সরকারও এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এখন দল-বদল হয়েছে, লুটপাট-চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি।’

খুলনা প্রতিনিধি মাকসুদুর রহমান জানান, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে দুটি মালিক সমিতির কার্যালয় দখলের ঘটনা ঘটে। একই ঘটনা ঘটে রূপসা চিংড়ি বণিক সমিতির ক্ষেত্রে। সরকার পরিবর্তনের পর শিরোমণি শুল্ক ঘাট, ফুলতলা উপজেলা ঘাট ও মন্দির ঘাট দখলের ঘটনা ঘটে। যে দল উৎখাত হয়েছে, তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ ছাড়া খুলনার সবচেয়ে বড় গরুর হাট ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া ও আঠারো মাইল হাট দখল হয়ে গেছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে অনেক নিরীহ ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীকে। ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। খুলনার রূপসা স্ট্যান্ড রোড, চাঁনমারী, রূপসা মাছ বাজার, শেখপাড়া বাজার, গোবরচাকা, টুটপাড়া, জিন্নাহপাড়া, লবণচরা, চানমারী বাজার, বানিয়াখামারসহ আশপাশ এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী বাহিনীর সশস্ত্র মহড়ার ঘটনা ঘটে। সাবেক সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সাবেক সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ৬ সেপ্টেম্বর তেরখাদায় কোলা বাজারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য সৈয়দ ফারুক মীরকে কুপিয়ে হত্যা করা- 

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা জানান, জনতার আন্দোলনের মুখে সরকার পরিবর্তিত হয়েছে। এটি স্বাভাবিক কোনো ঘটনা ছিল না। এক্ষেত্রে এ ধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হওয়া অবান্তর কিছু না। একটি শ্রেণি নিজেদের সুবিধার্থে এক ধরনের প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এতে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা থাকা দরকার। পাশাপাশি জনগণেরও সচেতনতার দরকার রয়েছে। 

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি কামরুজ্জামান মিন্টু জানান, সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতারা পালিয়েছেন। বালুমহাল দখলে রাখা লীগ নেতারা আর নেই। এমন সময়ে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী বালুমহাল কবজায় নিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। এতে ওয়ার্ড কিংবা ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির আরেকটি পক্ষ সুবিধা নিতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।

এ ছাড়া কোন্দলের রাজনীতির মারপেঁচে এক নেতা আরেক নেতার অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। একে অপরকে বহিষ্কারের চেষ্টা করছেন। শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।

এদিকে ক্ষমতার পালাবদলের পর শিল্পাঞ্চল এলাকা হিসেবে পরিচিত ভালুকায় একটি পক্ষ জুট ও শ্রমিক পরিবহনের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে তৎপরতা শুরু করেছে। 

স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দাবি, যারা প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর দখলবাজি শুরু করে এরা দলের প্রকৃত নেতা-কর্মী নন। যারা দলকে ভালোবাসে, তারা নিজেদের স্বার্থ চিন্তা করে না। যারা অবৈধভাবে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তৎপর, দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অন্যরাও সচেতন হয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগরের সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, আমরা মারামারি কিংবা কোন্দল দেখতে চাই না। সমাজের প্রতিটি জায়গায় শান্তি চাই। এ জন্য ভূমিকা রাখতে হবে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাসহ সচেতন মহলের। 

রাজশাহীর প্রতিনিধি এনায়েত করিম জানান, রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে জেলায় হত্যা, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, ছিনতাই এবং পুকুর ও প্রতিষ্ঠান দখলের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে। এক দশক আগে দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলায় পা হারানো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতা আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে গত ৭ সেপ্টেম্বর পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গণপিটুনির শিকার হয়ে প্রাণ হারানোর চার দিন আগে কন্যা সন্তানের জনক হন তিনি। 

গত ২৬ সেপ্টেম্বর কথাকাটাকাটির জেরে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বড় পালশা গ্রামে আওয়ামী লীগ কর্মী একসার আলীর হাঁসুয়ার কোপে সাদ্দাম হোসেন (৩০) নামে বিএনপির এক কর্মী খুন হয়েছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর বাগমারা উপজেলার গাঙ্গপাড়া জনতা ব্যাংকের সামনে থেকে আফজাল হোসেন নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাই করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়। একই দিনে তাহেরপুর পৌরসভা এলাকায় পৃথক স্থানে চারজনকে পিটিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের গাঙ্গপাড়া এলাকায় রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাসিবুল আলমের ৯০ বিঘা জলকর দখল ও প্রায় ২ কোটি টাকার মাছ লুটপাট করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বাড়িও। রাজশাহীর হড়গ্রাম এলাকার মিজান নামে এক ব্যক্তি জানান, ৬ আগস্ট একদল লোক অস্ত্রসহ তার জমি দখল করতে আসে। এ সময় তাকে অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। পরে স্থানীয় জনতা তাদের আটকে রেখে অস্ত্র উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। একই দিনে নগরীর বাজে সিলিন্দা এলাকাতে খসরু পারভেজ নামে এক ব্যক্তির জমি দখলের চেষ্টা করা হয়। তিনি জানান, ৬ আগস্ট একদল লোক বিএনপির কর্মী পরিচয়ে তার জমি দখলের চেষ্টা করে। এ সময় তারা ওই জমিতে থাকা গ্যারেজে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ৯ আগস্ট মেহেরচণ্ডি এলাকার শাহিন আক্তারের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চলায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। একই দিন রাতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজশাহী জেলার সভাপতি আহমদ শফি উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, জাতির সফলতা ধ্বংসে নয়, গঠনে। সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মারামারি, হানাহানি, লুটতারাজ একটি জাতিকে ভালো কিছু দেয় না। তাই এগুলো দ্রুত বন্ধ করতে হবে। 

রংপুর প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম রানা জানান, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জেলায় শুরু হয়েছে দখলবাজি। হাট-ঘাট, বালুমহাল দখলদারি, অন্যের জমি দখল নিয়ে পুরোনো দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ নতুন করে সামনে এসেছে। রংপুর সুশীল সমাজের প্রতিনিধি অধ্যক্ষ ফখরুল আলম বেনজু জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক না হওয়ায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন

গোটা জাতির জন্য অকল্যাণকর

দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন নীতির প্রভাব সীমিত থাকে এবং মূল্যবান রাজস্ব সুযোগ হাতছাড়া হয়। বর্তমানে চার স্তরবিশিষ্ট জটিল কর কাঠামোর কারণে তামাক পণ্য এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আছে। ফলে ধূমপায়ীরা ধূমপান ছাড়ার পরিবর্তে সস্তা ব্র্যান্ডের সিগারেটে চলে যাচ্ছেন, যা কর বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে।

সোমবার (২২জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: তামাক কর ও নীতি সংস্কারের শেষ সুযোগ’ শীর্ষক পোস্ট-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন নীতির প্রভাব সীমিত থাকে এবং মূল্যবান রাজস্ব সুযোগ হাতছাড়া হয়। ‘শুধু দাম বেড়েছে কি না, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং এই বৃদ্ধি তামাকের ব্যবহার কমাতে এবং সরকারি রাজস্ব সর্বোচ্চ করতে যথেষ্ট কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন রাজস্বের বড় সুযোগ নষ্ট হয়। একই সঙ্গে ই-সিগারেটের নিয়ন্ত্রণমূলক সংজ্ঞা দুর্বল করে এগুলোকে কার্যত সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া আগামী দিনগুলোতে তরুণদের জন্য একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বিষয়ে উপস্থাপনা পেশ করেন পিপিআরসির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মুহম্মদ ইহতিসাম হাসান। তিনি দেখান, ২০২৪ সাল থেকে বাজারে সামগ্রিক সিগারেট সরবরাহ কমতে শুরু করলেও বারবার কর ও মূল্য সমন্বয়ের পরও তামাক পণ্য এখনো সাশ্রয়ী রয়ে গেছে। তামাক সেবন হ্রাস এবং যুবসমাজকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করার প্রস্তাব দেন তিনি। এ ছাড়া প্রতি ১০ স্টিকের প্যাকেটের ন্যূনতম মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের দাবি জানানো হয়, যাতে মূল্যবৃদ্ধির টাকা সরাসরি সরকারের রাজস্বে জমা হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ যদি চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তরিত হতে চায়, তবে তামাক করকে প্রধান হাতিয়ার করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন নাহীন শিমুল তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন পণ্যের দ্রুত বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল। ছবি: সংগৃহীত

শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষিণ এশীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৩ ও ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ‘দক্ষিণ এশিয়ায় শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নেওয়া’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

কলম্বোর বান্দারানায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সামার্পণ বড়ুয়া।

সম্মেলনে শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশু কল্যাণে টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

এ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা খাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

নাঈম/

চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষে সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টার দিকে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন। 

এর আগে মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দালিয়ানে তিনি দুই দিন কর্মব্যস্ত সময় কাটাবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরের মূল কর্মসূচি শুরু হবে আজ মঙ্গলবার। দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। 

এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিং যাবেন। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সের এক্সক্লুসিভ ভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান ও তার সহধর্মিণী। এ সময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম ও ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

রিফাত/

সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত
ছবি: প্রতীকী

ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প হয়। 

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ ইউএসজিএস ভূমিকম্পের তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৪।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল, নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

এদিকে, রাজধানীতে ঝাঁকুনি অনুভূত হলে বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে আতঙ্কে বাসা থেকে বের হয়ে যান।

নাঈম/

‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:২১ পিএম
‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা বন্ধে আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদে দাবি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ। 

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে এসব দাবি উত্থাপিত হয়। 

এদিন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি, জ্বালানিখাত, গ্যাস সংকট এবং জিআই পণ্য নিয়েও সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

এর আগে বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। এ দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সংসদ সদস্য বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য দেন।
অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান। 

তিনি বলেন, ‘যে দল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তারা এ দেশে রাজনীতি করতে পারে না। ফ্যাসিস্টদের মতো স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা উচিত।’ 

তিনি বলেন, ‘অতীতে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং শাপলা চত্বরে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও দেশবাসী দেখেছে। একই সঙ্গে তিনি কওমি মাদরাসার জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান।’

বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে, হৃদরোগের রিং এবং চোখের লেন্সের শুল্ক কমানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

অন্যদিকে কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ মসজিদ ও মাদরাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের দাবি জানান। 

তিনি বলেন, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে মানুষ নামাজ পড়বে, কোরআন শরীফ পড়বে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল মসজিদকে রাজনৈতিক সভার জায়গা বানিয়েছে।’ 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মসজিদ ও মাদরাসায় যেন কোনো রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ করতে না পারে, সে জন্য আইন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেমন মাঠে, স্কুলে বা হলরুমে রাজনৈতিক সভা করি, তাদেরও সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আল্লাহর ঘরকে রাজনৈতিক মঞ্চ বানানো উচিত নয়।’

এদিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। 

তিনি বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক হওয়া প্রয়োজন। ভারতের নতুন হাইকমিশনারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তার কারণও খুঁজে বের করতে হবে।’

সীমান্তে ‘পুশইন’ বা অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জিএম সিরাজ বলেন, ‘মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে। ভারতবিরোধিতা কিংবা বাংলাদেশবিরোধিতা কোনো পক্ষের জন্যই ভালো নয়।’

এদিকে সংসদ কক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ’স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই, অনেক মন্ত্রীর চেয়ার খালি পড়ে আছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে এসে মন্ত্রীদের উপস্থিতি পাচ্ছি না।’

এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি কাম্য। 

তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকলে সংসদ আরও কার্যকর হয়।’ 

তবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্ত্রীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘অনেক মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে অর্থমন্ত্রী সবসময় উপস্থিত আছেন এবং বাজেট-সংক্রান্ত সব প্রশ্নের উত্তর তিনিই দেবেন।’

অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দেশে বর্তমানে পাঁচটি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত রয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। তবে দৈনিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সংসদকে জানান, বর্তমানে দেশে ৬৪টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে জামদানি শাড়ি, ইলিশ, রাজশাহী সিল্ক, ঢাকাই মসলিন, বগুড়ার দই, টাঙ্গাইল শাড়ি ও কুমিল্লার রসমালাই উল্লেখযোগ্য।
 
এলিস/রিফাত/