দেশে বিতর্ক ও বিভাজনের রাজনীতির অভিজ্ঞতা নতুন নয়। সব সময়ই বিতর্ক-বিভক্তি ছিল, এখনো আছে। বিভেদ, বিতর্ক ও বিরোধিতা পৌঁছেছে রাজনৈতিক অঙন থেকে সমাজজীবন ও পারিবারিক-ব্যক্তি পর্যায়ে। রাজধানী, মহানগর ও শহর ছাড়িয়ে বিভেদ-বিভাজন এখন দেশের তৃণমূল ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও। এই বিতর্ক, বিভাজনের শত্রুতা এখন বাড়ছেই। বিয়ে-শাদির সম্পর্কের মধ্যেও রাজনৈতিক বিভেদ প্রভাব ফেলছে। রাজনৈতিক কারণে নিজ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি, রেষারেষি, দূরত্ব ও অপ্রীতিকর ঘটনার বেশ কিছু চিত্র উঠে এসেছে খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধিদের অনুসন্ধানে।
বরিশালের জেলা প্রতিনিধি মঈনুল ইসলাম সবুজের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, নগরীতে দুই ভাই দুই দলের নেতা। একজন বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের, অপরজন আওয়ামী যুবলীগের নেতা। তারা হলেন- বরিশালের ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকার বাসিন্দা মোমেন শিকদার ও সাহিন শিকদার। মোমেন শিকদার যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা। সাহিন শিকদার বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। মোমেন শিকদারের নিজস্ব ভবনের নিচতলায় দুই ভাইয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়। গত এক দশক ধরে তারা দুই ভাই ওই অফিসের পাশাপাশি কক্ষে বসতেন, কাজ করতেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে দুই ভাইয়ের বিভেদ এখন চরমে। ৫ আগস্টের পর সাহিন শিকদার অফিসে আসা ছেড়ে দিয়েছেন। দুই ভাইয়ের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ। শুধু সাহিন শিকদার আর মোমেন শিকদার নন, জেলায় ভিন্ন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অন্য পরিবারগুলোর মধ্যেও রয়েছে প্রকাশ্য বিরোধ।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাহিন শিকদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগেও বড় ভাইয়ের কাছে বিএনপির বিভিন্ন লেভেলের লোকজন আসতেন। নানা কথা হতো। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অফিসে তেমন একটা যাওয়া হয় না। কারণ, বড় ভাইয়ের কাছে আসা লোকজনের সঙ্গে কখন কোন কথায় দ্বন্দ্ব বেঁধে যায় বলা-তো যায় না। এ নিয়ে পারিবারিক কোনো সমস্যা হোক, তা চাই না। তাই, ওই অফিসে যাতায়াত কমিয়ে দিয়েছি।’
বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম শাহিন বলেন, ‘আমার ভাই চাচাতো ভাইয়েরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আওয়ামী লীগের শাসন আমলে তারা বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর ক্ষতি করেনি। তবে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কারণে তাদের নিয়ে বিএনপির ফোরামে কথা উঠলে বিব্রত বোধ করি। তার পরেও রক্তের সম্পর্ক তো কাটা যায় না।’
এ বিষয়ে বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যে প্রভার পড়ার কথা ছিল তা বরিশালেও পড়েছে। দলীয় একক পরিবারের চেয়ে মিশ্রিত পরিবারগুলোতে বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা অনেকটা নিরাপদে রয়েছেন।’
চট্টগ্রামের ব্যুরো চিফ ইফতেখারুল ইসলাম জানান, জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা কোন্দল, বসত বাড়িতে হামলা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে সরকারি কর্মস্থলে দুই কর্মচারীর দীর্ঘ অনুপস্থিতির ঘটনাও ঘটেছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১৩ নম্বর নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে একটি সালিশ বৈঠকে যান রাউজান উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সোহেল ও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন। সেখান থেকে তাদের অপহরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন ভুক্তভোগী দুই নেতার হাত, পা, চোখ বেঁধে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে ৩ মাইল দূরের চৌধুরী হাটের পাশে মাঝের চরে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে দুর্বৃত্তরা। বিএনপির দুই গ্রুপের আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মামলাও হয়েছে।
আওয়ামী সরকারের পতনের পর চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আধিপত্য বিস্তার করছে বিএনপি জামায়াত, যুবদল, ছাত্রদল ও ছাত্র শিবির। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জায়গায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও বিএনপি ও জামায়াতের একটা প্রভাব তৈরি হয়েছে। ফলে প্রশাসন এখন তাদের সহযোগিতা নিচ্ছে। বাঁশখালীতে বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের পদ-পদবি ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করাদের বাড়িতে সরকার পতনের পর হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার পতনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হলো। কিন্তু সবাইকে তো ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর যে আচরণ সেটা কিন্তু সন্তোষজনক নয়। সারা দেশে একটা অরাজকতা তৈরি হয়ে গেছে। সরকারও এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এখন দল-বদল হয়েছে, লুটপাট-চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি।’
খুলনা প্রতিনিধি মাকসুদুর রহমান জানান, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে দুটি মালিক সমিতির কার্যালয় দখলের ঘটনা ঘটে। একই ঘটনা ঘটে রূপসা চিংড়ি বণিক সমিতির ক্ষেত্রে। সরকার পরিবর্তনের পর শিরোমণি শুল্ক ঘাট, ফুলতলা উপজেলা ঘাট ও মন্দির ঘাট দখলের ঘটনা ঘটে। যে দল উৎখাত হয়েছে, তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ ছাড়া খুলনার সবচেয়ে বড় গরুর হাট ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া ও আঠারো মাইল হাট দখল হয়ে গেছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে অনেক নিরীহ ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীকে। ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। খুলনার রূপসা স্ট্যান্ড রোড, চাঁনমারী, রূপসা মাছ বাজার, শেখপাড়া বাজার, গোবরচাকা, টুটপাড়া, জিন্নাহপাড়া, লবণচরা, চানমারী বাজার, বানিয়াখামারসহ আশপাশ এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী বাহিনীর সশস্ত্র মহড়ার ঘটনা ঘটে। সাবেক সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সাবেক সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ৬ সেপ্টেম্বর তেরখাদায় কোলা বাজারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য সৈয়দ ফারুক মীরকে কুপিয়ে হত্যা করা-
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা জানান, জনতার আন্দোলনের মুখে সরকার পরিবর্তিত হয়েছে। এটি স্বাভাবিক কোনো ঘটনা ছিল না। এক্ষেত্রে এ ধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হওয়া অবান্তর কিছু না। একটি শ্রেণি নিজেদের সুবিধার্থে এক ধরনের প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এতে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা থাকা দরকার। পাশাপাশি জনগণেরও সচেতনতার দরকার রয়েছে।
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি কামরুজ্জামান মিন্টু জানান, সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতারা পালিয়েছেন। বালুমহাল দখলে রাখা লীগ নেতারা আর নেই। এমন সময়ে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী বালুমহাল কবজায় নিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। এতে ওয়ার্ড কিংবা ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির আরেকটি পক্ষ সুবিধা নিতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।
এ ছাড়া কোন্দলের রাজনীতির মারপেঁচে এক নেতা আরেক নেতার অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। একে অপরকে বহিষ্কারের চেষ্টা করছেন। শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।
এদিকে ক্ষমতার পালাবদলের পর শিল্পাঞ্চল এলাকা হিসেবে পরিচিত ভালুকায় একটি পক্ষ জুট ও শ্রমিক পরিবহনের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে তৎপরতা শুরু করেছে।
স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দাবি, যারা প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর দখলবাজি শুরু করে এরা দলের প্রকৃত নেতা-কর্মী নন। যারা দলকে ভালোবাসে, তারা নিজেদের স্বার্থ চিন্তা করে না। যারা অবৈধভাবে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তৎপর, দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অন্যরাও সচেতন হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগরের সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, আমরা মারামারি কিংবা কোন্দল দেখতে চাই না। সমাজের প্রতিটি জায়গায় শান্তি চাই। এ জন্য ভূমিকা রাখতে হবে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাসহ সচেতন মহলের।
রাজশাহীর প্রতিনিধি এনায়েত করিম জানান, রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে জেলায় হত্যা, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, ছিনতাই এবং পুকুর ও প্রতিষ্ঠান দখলের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে। এক দশক আগে দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলায় পা হারানো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতা আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে গত ৭ সেপ্টেম্বর পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গণপিটুনির শিকার হয়ে প্রাণ হারানোর চার দিন আগে কন্যা সন্তানের জনক হন তিনি।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর কথাকাটাকাটির জেরে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বড় পালশা গ্রামে আওয়ামী লীগ কর্মী একসার আলীর হাঁসুয়ার কোপে সাদ্দাম হোসেন (৩০) নামে বিএনপির এক কর্মী খুন হয়েছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর বাগমারা উপজেলার গাঙ্গপাড়া জনতা ব্যাংকের সামনে থেকে আফজাল হোসেন নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাই করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়। একই দিনে তাহেরপুর পৌরসভা এলাকায় পৃথক স্থানে চারজনকে পিটিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের গাঙ্গপাড়া এলাকায় রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাসিবুল আলমের ৯০ বিঘা জলকর দখল ও প্রায় ২ কোটি টাকার মাছ লুটপাট করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বাড়িও। রাজশাহীর হড়গ্রাম এলাকার মিজান নামে এক ব্যক্তি জানান, ৬ আগস্ট একদল লোক অস্ত্রসহ তার জমি দখল করতে আসে। এ সময় তাকে অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। পরে স্থানীয় জনতা তাদের আটকে রেখে অস্ত্র উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। একই দিনে নগরীর বাজে সিলিন্দা এলাকাতে খসরু পারভেজ নামে এক ব্যক্তির জমি দখলের চেষ্টা করা হয়। তিনি জানান, ৬ আগস্ট একদল লোক বিএনপির কর্মী পরিচয়ে তার জমি দখলের চেষ্টা করে। এ সময় তারা ওই জমিতে থাকা গ্যারেজে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ৯ আগস্ট মেহেরচণ্ডি এলাকার শাহিন আক্তারের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চলায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। একই দিন রাতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজশাহী জেলার সভাপতি আহমদ শফি উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, জাতির সফলতা ধ্বংসে নয়, গঠনে। সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মারামারি, হানাহানি, লুটতারাজ একটি জাতিকে ভালো কিছু দেয় না। তাই এগুলো দ্রুত বন্ধ করতে হবে।
রংপুর প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম রানা জানান, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জেলায় শুরু হয়েছে দখলবাজি। হাট-ঘাট, বালুমহাল দখলদারি, অন্যের জমি দখল নিয়ে পুরোনো দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ নতুন করে সামনে এসেছে। রংপুর সুশীল সমাজের প্রতিনিধি অধ্যক্ষ ফখরুল আলম বেনজু জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক না হওয়ায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন