‘মুখে অনেকেই টাকা অতি তুচ্ছ, অর্থ অনর্থের মূল বলিয়া থাকেন; কিন্তু জগৎ এমনই ভয়ানক স্থান যে, টাকা না থাকিলে তাহার স্থান কোথাও নাই, সমাজে নাই, স্বজাতির নিকটে নাই, ভ্রাতা-ভগ্নীর নিকট কথাটার প্রত্যাশা নাই…’- কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে রচিত বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসের এই কথাগুলো তো আমাদের জীবনের চরম বাস্তবতারই প্রতিধ্বনি। আর এই বাস্তবতাকে অতি সূক্ষ্ম-সুন্দরভাবে নিজের সাহিত্যকর্মে যিনি ফুটিয়ে তুলেছেন সেই কালজয়ী গদ্যশিল্পী, বাংলা সাহিত্যের অমর দিকপাল ঔপন্যাসিক, নাট্যকার এবং বিষাদ সিন্ধুর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের ১১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১৯ ডিসেম্বর)।
১৯১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন এই গদ্যশিল্পী। সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। তার স্মৃতি রক্ষার্থে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পদমদীতে মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মীর মশাররফ হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বেলা ১১টায় তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
মীর মশাররফ হোসেন তার বহুমুখী প্রতিভার মাধ্যমে উপন্যাস, নাটক, প্রহসন, কাব্য ও প্রবন্ধ রচনা করে আধুনিক যুগে মুসলিম রচিত বাংলা সাহিত্যে সমৃদ্ধ ধারার প্রবর্তন করেন।
তার রচিত গ্রন্থগুলো হলো- রত্নবতী (উপন্যাস), বসন্তকুমারী (নাটক), জমিদার দর্পণ (নাটক), গড়াই ব্রিজ বা গৌড়ী সেতু (কবিতাগ্রন্থ), এর উপায় কি (প্রহসন), বিষাদ সিন্ধু (ঐতিহাসিক উপন্যাস), সঙ্গীতলহরী, গো-জীবন (প্রবন্ধ), উদাসীন পথিকের মনের কথা (জীবনী), গাজী মিয়ার বস্তানী (রম্য রচনা) প্রভৃতি।
১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গড়াই নদীর তীরে লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন এই মনীষী। তার প্রকৃত নাম সৈয়দ মীর মশাররফ হোসেন। তার বাবার নাম সৈয়দ মীর মুয়াজ্জম হোসেন ও মায়ের নাম দৌলতন নেছা।
পপি/