জনগণ সবার আগে স্বৈরাচারী মাফিয়াপ্রধান খুনি হাসিনার ফাঁসি দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) ভোলায় জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের জনমত তৈরিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণসংযোগের অংশ হিসেবে জেলা শহরে লিফলেট বিতরণ ও পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সারজিস বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে হাসিনাসহ যাদের নির্দেশে এত মানুষকে খুন করা হয়েছে, রক্ত ঝরানো হয়েছে, তাদের বিচারের শাস্তির স্পষ্ট কথা এই ঘোষণাপত্রে থাকতে হবে। আমরা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা একাত্মতা প্রকাশ করে আমাদের ৭ দফা দাবিকে যৌক্তিক বলে জানিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই ঘোষণাপত্রে সবার আগে ছাত্রদের অভ্যুত্থানে আওয়ামী খুনি ও দোসরদের বিচার নিশ্চিত করার স্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে। এই ঘোষণাপত্রে প্রতিটি জেলা ও উপজেলার শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের আত্মত্যাগের কথা উঠিয়ে আনতে হবে। এটি যেন কয়েকজনের কথা না হয়।’
সারজিস আলম বলেন, ‘খুনি হাসিনা গোপালগঞ্জের সিন্ডিকেট বসিয়েছে। তার পরিবার প্রতিটি জায়গায় সিন্ডিকেট বসিয়ে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। সেগুলো শেষ করে সমতার একটি বাংলাদেশ দেখতে চায় মানুষ।’
গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আহতদের সরকারি খরচে চিকিৎসা, আওয়ামী খুনি ও তাদের দোসরদের বিচার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব পরিষ্কারভাবে উল্লেখসহ সাত দফা যৌক্তিক দাবি নিয়ে জুলাই ঘোষণাপত্র রাষ্ট্র দ্রুত বাস্তবায়ন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির পক্ষে জেলার বাংলা স্কুল মোড়, সদর রোড, নতুনবাজার এলাকায় ঘোষণাপত্রের ৭ দফা দাবিতে লিফলেট বিতরণ করেন সারজিস। পরে সরকারি স্কুল সংলগ্ন ইলিশা ফোয়ারা মোড়ে পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহিদ জসিম উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সহানুভূতি জানান। এ ছাড়া জসিম উদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন তিনি।
কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, সহসমন্বয়ক রাসেল মাহমুদ, সমন্বয়ক এম এ সাঈদ, কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুর রহমান তুহিন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন ফয়সাল, জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ জেলার শত শত ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন।
ইমতিয়াজ/নাবিল/সালমান/