বাংলাদেশের লাভ কতটুকু হবে তা খতিয়ে দেখার পর খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা সাখাওয়াত বলেন, ‘রামগড় স্থলবন্দর থেকে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হবে তা নিরূপণে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একটি কমিটি গঠন হবে। কমিটির মাধ্যমে লাভ-ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হবে। কমিটির সদস্যরা রামগড়ে পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণে এসে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লাভ-ক্ষতি খতিয়ে দেখবেন। বিশেষ করে রামগড় স্থলবন্দর চালু হলে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হবে কি হবে না, লোকজন কত যাবে, রাজস্ব আয় কি পরিমাণ হবে ইত্যাদি দেখে কমিটি তাদের মতামত জানাবে। তাদের এ মতামতের ওপর ভিত্তি করে রামগড় স্থলবন্দর চালুর সিদ্ধান্ত হবে।’
তিনি বলেন, ‘ভারতের উদ্দেশ্য চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে রামগড় স্থলবন্দরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মালামাল ভারতে নিয়ে যাওয়া। এজন্য তারা সাব্রুমে রেলপথও স্থাপন করেছে। এ রেলের মাধ্যমে পণ্যের কনটেইনার বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাবে। কিন্তু এতে বাংলাদেশের কী লাভ হবে, তা দেখতে হবে। এটা এসেসমেন্ট করার জন্য দুই-তিন দিনের মধ্যে একটি কমিটি গঠন করব। কমিটি তাদের কাজ শুরুর আগে আমি সরেজমিনে দেখে গেলাম।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘রাস্তাঘাট তৈরি হচ্ছে। এতে ভারতের লোন আছে, বিশ্ব ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের টাকা আছে।’
রামগড় স্থলবন্দরের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যতগুলো বন্দর পরিদর্শন করেছি, তার মধ্যে রামগড় বন্দরের কাজ খুবই দ্রুতগতিতে হয়েছে। ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে অনেক কাজই করা হয়ে গেছে।’
রামগড় স্থলবন্দর, তথা মৈত্রী সেতু বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা সাখাওয়াত বলেন, ‘এটা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলতে পারবেন। আমি এখন আর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ পদে নেই।’
ফেনী নদী থেকে ভারত অবৈধভাবে পাম্প মেশিন বসিয়ে একতরফাভাবে পানি তুলে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এটা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিষয়। ভারত শুষ্ক মৌসুমে পানি নিচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে লিখিত অভিযোগ পেলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারব।’
সাখাওয়াত হোসেন স্থলবন্দরে এসে প্রথমেই ফেনী নদীর ওপর ভারতের নির্মিত মৈত্রী সেতু পরিদর্শন করেন। তিনি সেতুর মধ্যবর্তী শূন্যরেখা পর্যন্ত যান। পরে স্থলবন্দরের উন্নয়ন কাজ পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন শেষে রামগড় ইমিগ্রেশন ভবনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান, রামগড় স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. সরওয়ার আলম, জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল, বিজিবির গুইমারার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এসএম আবুল এহসান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতা আফরিনসহ বন্দরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
দিদারুল/নাবিল/