নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নৌপথের নিরাপত্তা ও ঘাটের চাঁদাবাজি বন্ধের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথ সচল রাখতে কাজ করছে সরকার।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে ভোলার ইলিশাঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।
ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'আজ ৩ দিন ভোলা জেলা ঘুরে দেখেছি। আমি ভোলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি লঞ্চঘাট তৈরির ব্যবস্থা করে দিয়েছি, যাতে এখানকার মানুষের উন্নতি হয়। ভালো একটি যোগাযোগব্যবস্থা থাকলে তখন সে জায়গা অনেক উন্নত হয়।'
নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, 'নদীতে প্রতিবছর পলি জমছে। সব নদীতে ড্রেজিং করতে হচ্ছে, এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নদী আছে এবং নৌযান যাতায়াত করে এমন নদীতে ড্রেজিং হচ্ছে। প্রয়োজনে ভোলাতেও নদী ড্রেজিং করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান পরিবহন পথ হলো নদী। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটির কাজ হচ্ছে নদীগুলো সচল রাখা। ভোলা নদী ভাঙনপ্রবল এলাকা, সরকার নদীভাঙন রোধে চেষ্টা করছে। আমরা যতই রেল করি, সেতু বানাই, কিন্তু আবহমান কাল থেকে নৌপথের গুরুত্ব রয়েছে। এসব নৌপথ ভালোভাবে ব্যবহারের জন্য সবার প্রতি আহ্বান রইলো।'
উপদেষ্টা আরও বলেন, 'নৌপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ঘাটে টিকিটের দাম বেশিসহ যাত্রী হয়রানি অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাত্রী হয়রানি এবং ঘাটে নির্ধারিত ভাড়া থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিলে ঘাট ইজারা বাতিল করে দেওয়া হবে।'
এ সময় তিনি বলেন, 'ভোলায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পাঁচটি আধুনিক মানের লঞ্চঘাট ও ল্যান্ডিং স্টেশন করা হবে। এসব ঘাটে যাত্রীরা পাবেন সর্বাধিক সুবিধা। বিগত দিনের চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান। পরে ৩ দিনের সফর শেষে বরিশালের বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভোলা ত্যাগ করেন।'
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটির চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান প্রমুখ।
ইমতিয়াজুর রহমান/জোবাইদা/