ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে স্যামসাংয়ের নতুন ল্যাপটপ গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিচার শুরু যাত্রা ও সার্কাসে অশ্লীলতা বরদাশত নয় : সংস্কৃতিমন্ত্রী আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা মাধবদীর ‘মমতা’ সিনেমা হল বিক্রির বিজ্ঞাপন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠে বসে মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার জয় দেখলেন নাদিয়া-নাঈম যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু বৈশ্বিক শিল্প ইতিহাসের ভূ-রাজনীতিতে নারী শিল্পী নগরায়ণ, পরিবেশ বিপর্যয় ও বরেন্দ্র জনপদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’ সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ আর কতকাল এ বৈষম্যের খেলা? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে ইতিবাচক পুনরুদ্ধার, তবে রয়ে গেছে চরম সমতার ঘাটতি বাংলাদেশের দুর্বল শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন চাই সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন, বিয়ের প্রলোভনে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল
Nagad desktop

রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘপ্রধান

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:১৯ পিএম
রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘপ্রধান
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতিসংঘের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বাংলাদেশকে এই সমস্যার জন্য তহবিল নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলিসংক্রান্ত হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান গত শুক্রবার জাতিসংঘের রোহিঙ্গা মুসলিম মায়ানমারের অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর আসন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন নিয়ে আলোচনা করতে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় জাতিসংঘ মহাসচিব এই প্রতিশ্রুতি দেন। 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে এই সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মহাসচিব গুতেরেস কক্সবাজার ও রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা স্মরণ করে রোহিঙ্গাদের জন্য তার উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তারা নিয়মিত বৈষম্য ও মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের শিকার।

তিনি আট বছর ধরে মায়ানমারের প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অব্যাহত উদারতার প্রশংসা করেন। গুতেরেস এই সংকটময় মুহূর্তে রাখাইনে জাতিসংঘের নেতৃত্বে মানবিক সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশের অপরিহার্য ভূমিকার স্বীকৃতি দেন। 

এ সময় বাংলাদেশের খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একত্রিত করার জন্য মহাসচিবকে অনুরোধ করেন। যাতে এই বছর অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে এই সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

ড. রহমান রাখাইন রাজ্যের গুরুতর মানবিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরে সতর্ক করে দেন, আসন্ন দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি সংঘাতপূর্ণ রাজ্যটিতে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে। তিনি হ্রাস পাওয়া বিদেশি তহবিল পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং পর্যাপ্ত সম্পদ সংগ্রহের জন্য তার সদিচ্ছার আহ্বান জানান। তিনি গুতেরেসকে সাহায্য প্রদানকারী ও গ্রহীতাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানান। এ সময় রোহিঙ্গা শিবিরে সহিংসতা, ভয়ভীতি, বৈষম্য ও স্থানচ্যুতি থেকে মুক্ত রাখতে এবং বিমান ও বোমা হামলা বন্ধ নিশ্চিতেরও আহ্বান জানানো হয়।

ড. রহমান মহাসচিবকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সংস্কার প্রচেষ্টা সম্পর্কেও অবহিত করেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের আরও শক্তিশালী ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

জবাবে মহাসচিব দাভোসে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার সাম্প্রতিক সময়ে বৈঠকের কথা স্মরণ করেন এবং সংস্কার প্রচেষ্টার প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ব্যবস্থায় বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্বের প্রতি তার ব্যক্তিগত মনোযোগের আশ্বাসও দেন।

ড. রহমান ইউএনডিপি প্রশাসক আচিম-স্টেইনার এবং জাতিসংঘের শান্তি কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জিন-পিয়ের-ল্যাক্রোইক্সের সঙ্গেও পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এ সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সেবার মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বুধবার (১৭ জুন) বিকালের দিকে ঢাকা থেকে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও শৌচাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের সার্বিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা, ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ নেন।

পরিদর্শনের সময় ৩৩৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফের মধ্যে অর্ধশতাধিকের বেশি কর্মীকে অনুপস্থিত দেখতে পান প্রতিমন্ত্রী। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. কামরুল কিবরিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে শোকজের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য সব ধরনের ছুটি বাতিলের নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি বলেন, 'কারও যদি এখানে চাকরি করতে ইচ্ছে না হয়, তাহলে অন্য জায়গায় চলে যাবে।'

প্রতিমন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা তাকে ঘিরে ধরেন। তারা হাসপাতালের নানা অনিয়ম, ভোগান্তি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব অভিযোগ শোনার পর প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি প্রায় পরিত্যক্ত ঘোষণার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের শৌচাগারের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা চান এবং হাসপাতালকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেন।

এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। হাসপাতালে কীভাবে মাদকসেবী ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ঘটছে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেন।

পরিচালককে উদ্দেশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'হঠাৎ করে পরিদর্শনে আসার উদ্দেশ্যই ছিল প্রকৃত অবস্থা দেখা। আমরা এটাকে উন্নত করব, জায়গা আছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে হবে। হাসপাতালে যদি নেশা বা মাদক গ্রহণের পরিবেশ থাকে, তাহলে সেটা আর হাসপাতাল থাকে না। এতে কেউ নিরাপদ নয়, রোগীরাও অনিরাপদ। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।'

পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে অনেক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। আকস্মিক পরিদর্শনে এসে সেগুলোর সত্যতা পেয়েছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অনিয়ম দূর করে মানুষের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিত করা হবে। যারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোঃ আবুবকর সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল ও টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন।

জুয়েল রানা/এসএন

আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধে লিখতে পারে। আজকে গণতন্ত্র, বাক ও ব্যক্তির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণেই আজকে আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিলির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ অনুষ্ঠান থেকে সারা দেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এ দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। দেশের মানুষ যদি সতর্ক থাকে তাহলে আমাদের আর কোনো চিন্তা করতে হবে না। দেশ এগিয়ে যাবে। তাই আজ আমি জনগণের হাতেই এ দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সঁপে দিয়ে গেলাম।

তিনি বলেন, গত এক যুগ মানুষের ভোট ও কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে মানুষ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সেই অধিকার ফিরিয়ে এনেছে। ৫ তারিখ দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন মানুষ শান্তি চায়। কাজ চায়। ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চায়। দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা চায়, শান্তি চায়, কর্মসংস্থান চায়, চিকিৎসা চায়, শিক্ষার সুযোগ চায়।

তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা একটা দল ছিলাম। কিন্তু আমরা যখন সরকার গঠন করেছি তখন আমরা সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছে, যারা ভোট দেয়নি সবার সরকার। আমরা সব মানুষের জন্য কাজ রাতে চাই। বিএনপি সরকার সব জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে দেখেছি, যখন দেশ এগিয়ে চলে, অর্থনীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকে তখনই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে যারা আন্দোলন আন্দোলন খেলা করেছিল, তারা আজকে আবার বলছে, এ সরকারকে একদিনও সময় দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগণের স্বার্থে কথা বলছে, না নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে? তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে।

তিনি বলেন, আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। আমরা জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করি। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে। যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? মনে আছে তো একাত্তরে তারা কী করেছিল? ৮৬ সালে কী করেছিল? গত এক যুগ আন্দোলনেও তাদের পাওয়া যায়নি। এই সময়ে যারা শহিদ হয়েছে, জেল খেটেছে তারা সবাই বিএনপির কর্মী।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেএমএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান প্রমুখ।

পুলক পুরকায়স্থ/নাঈম

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাগজ

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং তাদের নিজভূমি মায়ানমারে প্রত্যাবাসন অনেকাংশেই মায়ানমার সরকারের সদিচ্ছা, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর চাপের ওপর নির্ভর করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার ছয় ধাপে ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৩ জনের তথ্য যাচাই সম্পন্ন করেছে দেশটি এবং ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬ জনকে ‘পূর্বে মায়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যু। রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অনিরাপদ পরিবেশে কাউকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রেখেছে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার রোহিঙ্গা সংকটকে পুনরায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর, কক্সবাজারে বিশেষ স্টেকহোল্ডার সম্মেলন এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে, যা ১০৫টি দেশের সমর্থন পেয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর মাধ্যমে ৫ হাজার ৭১২ জন এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) মাধ্যমে ৬৯৭ জন রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন উন্নত দেশে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনই একমাত্র সমাধান।

তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৩ সালে খুনের ঘটনা ছিল ৬৬টি, যা ২০২৫ সালে কমে ৩৫টিতে নেমে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ছয়টিতে।

এলিস/এসএন

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু
ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে/ খবরের কাগজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কাদীরদি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের পরে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ১২০ জন নারীর হাতে তুলে দেয়া হয় ফ্যামিলি কার্ড। এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরে শুরু হল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম। এরপর ধারাবাহিকভাবে জেলার অন্য সব উপজেলার ইউনিয়নে দেয়া হবে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হেলিন জেরিন খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, বোয়ালমারী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এসএম রকিবুল হাসানসহ আরও অনেকেই।

এন কে/আমান

জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি মিজ গীতাঞ্জলি সিংহের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় সংসদসহ দেশের সব খাতে নারীদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি মিজ গীতাঞ্জলি সিংহের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, বর্তমানে জাতীয় সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক দলসহ দেশের বিভিন্ন সেক্টরেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। গার্মেন্টস শিল্পসহ দেশের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য।

তিনি জানান, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৯ জন সদস্য বাজেট অধিবেশন থেকে কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শুরু করেছেন। চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার নারীরা এখন সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে স্পিকার আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলার বিচার এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন।

অস্বচ্ছল নারীদের ক্ষমতায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গৃহিণীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষক কার্ড প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এ সময় ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি মিজ গীতাঞ্জলি সিংহ বলেন, নারী অধিকার সুরক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিভিন্ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মিজ নবনিতা সিনহাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এলিস/নাঈম