পবিত্র রমজান মাসেও পানিসংকট কাটছে না চট্টগ্রাম নগরে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বাসিন্দারা অজু থেকে শুরু ইফতার, সাহরিতে পানি ব্যবহার করতে ও খেতে পারছেন না। এমনকি কয়েক দিন ধরে গোসলও করতে পারছেন না তারা। এসব দুর্ভোগ থেকে অবশেষ ওয়াসা ঘেরাও করেছেন নগরের কিছু বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়াসায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শতাধিক বাসিন্দা ওয়াসা ভবন ঘেরাও করে রাখেন। মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম ওই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। তিনি নিজেও একজন ভুক্তভোগী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টায় ওয়াসায় ভিড় করেছেন বিভিন্ন বয়সের শতাধিক লোক। তারা ‘পানি দে, পানি দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এভাবে তারা ২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ওয়াসা ভবন ঘেরাও করে রাখেন। এ সময় সেখানে সিএমপি থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভ চলাকালেই বিএনপি নেতা ওয়াসার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এ সময় তারা কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি দেন। সেখান থেকে ফিরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার মধ্যে পানি দেবে বলে কর্মকর্তারা অঙ্গীকার করেছেন। যদি পানি না দেন, তাহলে আমরা আবারও ওয়াসা ঘেরাও করব। এমনকি পুরো নগরবাসীকে বিল পরিশোধ থেকে বিরত থাকতে বলব। একযোগে আমরা এই কর্মসূচি পালন করব।’
জানা গেছে, ওই সময় ওয়াসা কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ ছিলেন। তবে পানি পাওয়ার আশ্বাসে তারা ওয়াসা ছাড়লে কর্মকর্তাদের একে একে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। বিক্ষোভে নগরের ২৩ নম্বর পাঠানটুলি থেকে অনেকেই এসেছেন। তাদের অভিযোগ, ২০ দিন ধরে বাসায় পানি নেই।
নগরের ফকিরহাট থেকে আসা গ্রাহক আবু তাহের ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমার মিটার আবাসিক। কিন্তু আমাকে বাণিজ্যিক করে দিয়েছে। যেখানে প্রতি লিটার পানি ৩৭ টাকা করে দাম আসছে। যেখানে আবাসিক দাম হচ্ছে ১৩ টাকা। জানতে চাইলে কোনো উত্তর নেই। উল্টো নাজেহাল করছে। অথচ বাসায় পানিও নেই। রমজান মাস আসার পর থেকে পানি নেই।’
আব্দুল জলিল নামে আরেকজন বলেন, ‘মনে হচ্ছে, আমাদের এলাকায় যুদ্ধ লেগেছে। মালিক-ভাড়াটিয়া প্রতিদিন বিতর্ক হচ্ছে পানি নিয়ে। অজু করতে পারছি না, সাহরি ও ইফতার করতে পারছি না। আমরা মিনারেল ওয়াটার কিনে খাচ্ছি। এভাবে আর কতদিন?’ নগরের কদমতলী থেকে আসা মো. করিম বলেন, ‘পানি না পেয়ে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। আমার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে বাবার বাড়িতে চলে গেছে। মসজিদ, এতিমখানা, বাড়ি কোথাও পানি নেই। প্রতি মাসে ৮০০-৯০০ টাকা বিল আসে। এখন বোতলজাত পানি কিনে খাচ্ছি।’
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম বলেন, ‘রমজান মাসে ওয়াসার নিরবচ্ছিন্ন পানি দেওয়ার কথা। কিন্তু এর কোনো বাস্তবায়ন নেই। সন্ধ্যার (মঙ্গলবার) পর পানি দেওয়ার কথা রয়েছে। যদি না দেন, বিল না দেওয়াসহ ওয়াসা ঘেরাও কর্মসূচি আরও বড় পরিসরে দেওয়া হবে।’
গ্রাহকদের অভিযোগ, রমজান শুরুর পর থেকে পানি পাচ্ছেন না দেওয়ানহাট, হালিশহর, পাঠানটুলি এলাকার বাসিন্দারা। এতে করে দৈনন্দিন কাজ ছাড়াও মসজিদে অজুর পানিও পাওয়া যাচ্ছে না।
ওয়াসার লাইন কাটা পড়ার খবর শুনেছিলাম। এতদিনেও কেন এর সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না। রোজা রেখে পানির কষ্ট আর মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। খাওয়ার পানি কিনে খাওয়া গেলেও ব্যবহারের পানি নিয়ে অবর্ণনীয় কষ্ট করতে হচ্ছে।
তারা বলেন, ‘আমরা ওয়াসায় অভিযোগ জানাতে এসেছি। এখানে কার গাফিলতি আছে, তা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। আমরা চাই এ সমস্যা দ্রুত সমাধান হোক।’
এর আগে গত ৮ মার্চ গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) একটি প্রকল্পের উন্নয়নকাজ চলাকালে কাটা পড়ে ওয়াসার ১১০০ এমএম ব্যাসের পানি সঞ্চালন লাইন। এর ফলে নগরের আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক এলাকাসহ আশপাশের অন্তত ১৮ এলাকায় ওয়াসার পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।