প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কোনো একক পদ্ধতি নয়, বরং সমন্বিত বা একেক দেশের জন্য একেক পদ্ধতির ভোটব্যবস্থা প্রবর্তন করার চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে সব পদ্ধতিতে ভোটের ক্ষেত্রেই মগ বা পরীক্ষামূলক ভোটের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
এ ছাড়া প্রবাসীদের ভোটদান পদ্ধতি নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এ বিষয়ে চূড়ান্ত নিতে 'পরামর্শক কমিটি' গঠন গঠন করেছে ইসি।
বুধবার (৯ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
ইসি মো. সানাউল্লাহ বলেন, 'প্রবাসীদের ভোটের জন্য প্রস্তাবিত পোস্টাল ব্যালট, অনলাইন ও প্রক্সি ভোটিং। এই তিন পদ্ধতিরই কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, সুবিধাও আছে। কমিশনের কাছে বিষয়টি উত্থাপনের পর নির্বাচন, আইন, কারিগরি ও নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বুধবার কর্মশালা করেছি। যেখানে ১০টি টিম তাদের উপস্থাপনা উপস্থাপন করেছে। ঢাবি, বুয়েট, এমআইএসটি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।'
তিনি আরও বলেন, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপনার মধ্যে প্রস্তাবিত তিন পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধা দেখেছি। আমরা যে পদ্ধতিই অনুসরণ করি না কেন, তা বাংলাদেশের প্রবাসীদের বিস্তৃতসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনাসাপেক্ষে করতে হবে। যে পদ্ধতিতেই করি না কেন, প্রবাসীকে প্রাথমিকে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। বাংলাদেশের জন্য কোনো একটা পদ্ধতি নয়, বরং মিশ্র পদ্ধতি করতে হবে। কেননা, একেক এদেশের পরিস্থিতি একেক রকম। সব পদ্ধতির সফলতা ও দুর্বলতা আছে। সব পদ্ধতির জন্য মগ টেস্টিং প্রয়োজন হবে। সম্ভবত, সব পদ্ধতির জন্যই পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে করতে হবে। এটা অনেক দেশ করছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে এই কমিশনার বলেন, নিবন্ধন অনলাইন হবে। যে ধরনের ভোটই হোক না কেন, অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। এখন প্রবাসী যে দেশে থেকে ভোট দিতে চান, সেই দেশে ওই পদ্ধতি কার্যকর কি না, সেটা দেখতে হবে। অনলাইন ভোটিংয়ে যেতে হলে সময় আরও বেশি লাগবে।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোটের অধিকার নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। এ বিষয়ে এরই মধ্যে ১৭৮টি দেশে স্টাডি করে দেখেছি ১১৫টি দেশ প্রবাসী নাগরিকদের জন্য ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে অনুশ্রিত পদ্ধতি হচ্ছে দূতাবাসে, এর পর হচ্ছে পোস্টাল ব্যালট, এর পর হচ্ছে অনলাইন বা প্রক্সি ভোটিং। বাংলাদেশের প্রবাসীদের যে বিস্তৃতি তাতে দূতাবাসে সেটা সীমিত। এ জন্য তিন পদ্ধতি নিয়েই বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, পরামর্শক টিমের বিশেষজ্ঞরা তিন পদ্ধতির সফলতা, দুর্বলতা পর্যালোচনা করে কী করে সেগুলোর দুর্বলতা কাটানো যায়, সে ব্যবস্থা তারা করবেন। এর পর আমরা অংশীজনদের সঙ্গে বসব। আমরা যাই করি না কেন, যে সময়টা আমরা পাব তার মধ্যেই কার্যকর করতে হবে। তবে কোন পদ্ধতিতে ভোট হবে, সেটা কারিগরি টিম কাজ করার পর চূড়ান্ত হবে। আমাদের আশা, এবার আমরা প্রবাসীদের ভোটের আওতায় আনতে পারব।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ, জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল আলম উপস্থিতি ছিলেন।
এলিস/মেহেদী/