ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য! ঘানাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার রাশফোর্ডের নাটোরে এক গ্রামেই ৪ শতাধিক ঘরজামাই! ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার? বিশ্বকাপে মিশরকে প্রথম ম্যাচ জয় উপহার দিয়ে উচ্ছ্বসিত সালাহ ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে ভাইরাল ভেড়া অপরাধ নির্মূলে কার্যকর ভূমিকার বিকল্প নেই চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা ‘মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছি’- ড্রেসিংরুমে ইরানের বার্তা যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম চকরিয়ায় সৌদিয়া বাস উল্টে আহত ৭ আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হবে ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে আগুন অসংক্রামক রোগের আগ্রাসন মোকাবিলায় ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে অভ্যন্তরীণ রুটে ১৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় গুজব মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয়: তথ্যমন্ত্রী শিবপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন বিতরণ সাতকানিয়ায় মিলল মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১৬টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র

হাতে পলিথিন থাকলেই জরিমানা

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:০৭ পিএম
হাতে পলিথিন থাকলেই জরিমানা
ছবি: খবরের কাগজ

পলিথিন ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় হাতে পলিথিন থাকলেই জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০০২ সালে পলিথিন নিষিদ্ধ করেছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এ মন্ত্রণালয়ের কাজ না হলেও তার অব্যবস্থাপনার জন্য নদী-নালা, খাল-বিল দূষণ ও ভরাট হচ্ছে। এমনকি তা মাইক্রো প্লাস্টিক আকারে মানব দেহে প্রবেশ করে মানুষের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করছে। আপনারা ফ্রিতে ক্যান্সার খাচ্ছেন। এটা না করে ক্রেতা ও ব্যবহারকারীকে পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। পলিথিন ব্যবহার বন্ধে আমরা শুধু এডভোকেসি করব, এটা হবে না। এখন থেকে আমরা আমরা এনফোর্সমেন্টে যাবো।’ 

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১০টায় সিলেট জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগন, বাজার মনিটরিং কমিটি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।।  

এসময় ড. ফারহিনা আহমেদ আরও বলেন, পলিথিন ফ্রি মনে হলেও এর মূল্য দিচ্ছে রাষ্ট্র। এর মূল্য দিচ্ছে আপনার সন্তান, বাবা, মা ও দেশের পরিবেশ। পলিথিনের অধিক ব্যবহারের কারণে বায়োডাইভারসিটি নষ্ট হচ্ছে। তাই বিকল্পের চিন্তা বাদ দিয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবহার বন্ধ করেন। না হলে পরের জেনারেশন আমাদেরকে শুধু গালি দেবে।

তিনি বলেন, যখন পলিথিন ছিল না তখন কি বাজার বন্ধ ছিল। ক্রেতাকে ব্যাগ পরিবহন করতে হবে। বাজারে পলিথিন না থাকলে এর বিকল্পও তৈরি হবে। তাই এনফোর্সমেন্ট ছাড়া উপায় নাই। সিলেটে একটি ট্রাকও যেন পলিথিন নিয়ে ঢুকতে না পারে এটা পুলিশবাহীনি নিশ্চিত করবেন। আমরা পলিথিন উৎপাদন বন্ধে কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, সিলেট অঞ্চল প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য বিখ্যাত। এখানে অনেক পর্যটন স্পট রয়েছে। সিলেটে আগত পর্যটকদের প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি লাঘবের জন্য সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে স্পটভিত্তিক কমিটি গঠনের অনুরোধ করেন। উক্ত কমিটি পর্যটন স্পটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে করবে। 

সচিব বাজার কমিটি ও সরকারি দপ্তরের সমন্বয়ে পলিথিন মুক্ত একটি মডেল বাজারের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং এক্ষেত্রে বাজার কমিটিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় আগে নিজে বদলাবো, পরে সমাজ বদলাবো। সরকারি পর্যায়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজ সেবা অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, পাট অধিদপ্তর, বিআরডিবি ইত্যাদি দপ্তরকে সম্পৃক্ত করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিষিদ্ধ পলিথিন সম্পর্কে সচেতন ও পলিথিনের বিকল্প পণ্য বাজারজাতকরণে সহায়তার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে মর্মে সবাইকে অবহিত করেন।

সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক ও রাজস্ব) দেবজিৎ সিংহ। সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জনাব সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডু নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে সরকারী উদ্যোগ, আইনগত বিধি-নিষেধ নিয়ে বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন। 

সভায় আরও বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার, পর্যটন পুলিশ এর প্রতিনিধি, সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেট এর বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা। এছাড়াও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, সিলেট জেলার সরকারী দপ্তরসমূহের অফিস প্রধানগণ, বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, হোটেল- রেস্তোরা মালিক সমিতির প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী , স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেছেন।

শাকিলা/সিফাত/

আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের আসন্ন আলিম পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।

সোমবার (২২ জুন) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ন্যূনতম ৭ দিন আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বা তার প্রতিনিধি এবং ট্রেজারির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সর্টিং করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ‘মেঘনা’ ও ‘যমুনা’ সেটের প্রশ্ন একই ট্রাংকে রাখা যাবে না।

এতে বলা হয়, প্রতিদিন পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক ৩০ মিনিট পূর্বে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছ থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে জানতে পারবেন ওই দিন কোন সেটে পরীক্ষা হবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে অন্য কোনো সেটে পরীক্ষা নিলে তার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরাসরি দায়ী থাকবেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষা কেন্দ্রে একমাত্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও শুধু নন-অ্যান্ড্রয়েড বা সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করার অনুমতি পাবেন। কেন্দ্রের কোনো কক্ষপ্রত্যবেক্ষক (ইনভিজিলেটর) বা পরীক্ষার্থীর নিকট স্মার্টফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং নিয়মানুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় গেইটেই পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে কক্ষে প্রবেশ করাতে হবে। ছাত্রীদের তল্লাশির জন্য অবশ্যই মহিলা শিক্ষক নিয়োজিত থাকবেন।

প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড ব্যতীত কোনো বই, খাতা, মোবাইল বা কোনো কাগজপত্র কক্ষে আনা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া, কক্ষে কোনো পরীক্ষার্থী যাতে একে অপরের উত্তরপত্র দেখতে না পারে সেজন্য ‘জেড’ প্যাটার্ন অনুযায়ী আসন বিন্যাস করা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীরা যাতে একই সেটের প্রশ্ন না পায়, সেজন্য বহুনির্বাচনী অভীক্ষার ৪টি সেট (ক, খ, গ, ঘ) সমানুপাতিক হারে বণ্টন করতে হবে।

বোর্ডের নির্দেশনায় জানানো হয়, সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষা বিরতিহীনভাবে চলবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পূর্বে কোনো অবস্থাতেই ওএমআর-এর উপরের অংশ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র এবং লিখিত উত্তরপত্রের টপ পোর্শন ওএমআর সম্পূর্ণ আলাদাভাবে সাজিয়ে পৃথক হলুদ কাপড়ের প্যাকেটে সীলযুক্ত করে বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট বরাবর পাঠাতে হবে।

ভুলত্রুটি এড়াতে আরবি বিষয়ের পরীক্ষার দিন সাধারণ বিষয়ের শিক্ষক এবং সাধারণ বিষয়ের দিন আরবি বিষয়ের শিক্ষকদের কক্ষপ্রত্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম বা সেরিব্রালপলসি আক্রান্ত) এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিতে পারবে এবং বোর্ডের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। এছাড়া অটিস্টিক পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবে এবং তাদের উত্তরপত্রগুলো বেগুনি রঙের কাপড়ে আলাদা প্যাকেট করে বোর্ডে পাঠাতে হবে।

প্রতিদিনের পরীক্ষা শেষে বেলা সাড়ে ১২টার মধ্যে মোট পরীক্ষার্থী, উপস্থিত, অনুপস্থিত ও বহিষ্কৃতদের সংখ্যা অনলাইনে বোর্ডে প্রেরণের জন্য কেন্দ্র প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাঈম/

বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবনে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। রাজনৈতিক বিতর্ক বা আইন প্রণয়নের ব্যস্ততার বাইরে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানের পাঠানো একটি বিশেষ উপহারকে ঘিরে ছিল ভিন্নমাত্রার আলোচনা।

সোমবার (২২ জুন) সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও পেয়েছেন ১০ কেজি ওজনের একটি করে উপহারের প্যাকেট।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকাল থেকেই সংসদ ভবনে উপহারের প্যাকেটগুলো নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। পরে জানা যায়, প্যাকেটগুলোতে ছিল মৌসুমি ফল— প্রিমিয়াম মানের আম। বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে এসব উপহার বিতরণ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, উপহার বিতরণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এর সমবণ্টন। সাধারণত এ ধরনের সৌজন্য উপহার উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে এবার সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও উপহারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

উপহার পেয়ে সংসদ সচিবালয়ের এক অফিস সহায়ক বলেন, “আমরা সাধারণ কর্মচারী। বড় নেতাদের উপহার সাধারণত দূর থেকেই দেখি। আজ বিরোধীদলীয় নেতা আমাদের কথাও মনে করেছেন। এটি আমাদের জন্য সম্মানের বিষয়।”

এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন দলের এক এমপি বলেন, “রাজনীতি তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তবে সংসদের ভেতরে এ ধরনের সৌজন্য ও পারস্পরিক সম্মানবোধ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। সব স্তরের কর্মচারীদের মূল্যায়ন করার বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ড. শফিকুর রহমান প্রথাগত ধারার বাইরে বিভিন্ন মানবিক ও সৌজন্যমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। তাদের মতে, এবারের উপহার বিতরণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়; বরং এর মাধ্যমে তিনি সব স্তরের মানুষের প্রতি সম্মান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা দিয়েছেন।

এলিস/নাঈম

আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য অপতৎপরতা রুখতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাফিয়া দল আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রুখতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার অ্যাক্টের আওতায় ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।’

সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো রয়েছে। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সেনাবাহিনী কাজ করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় আমরা দেখেছি তারা মিছিল মিটিং করার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তাতে আমাদের কাছে মনে হয়েছে তারা আইনশৃঙ্খলা অবনতির পাঁয়তারা করতে পারে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সব সময়ই সতর্ক থাকতে হয়। আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাসদস্যদের আইন মোতাবেক বেসামরিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যাতে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলা করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার কখনো বিজিবি, কখনো সেনাবাহিনীর সহায়তা নিয়ে থাকে।

প্রায় দেড় বছর মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর গত ১৫ জুন সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যেসব জেলায় নাশকতা বা অপতৎপরতার চেষ্টা হয়েছে, সেসব এলাকাতেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্র: বাসস

অমিয়/

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু
হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ছবি: সংগৃহীত

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১২৫ জন শিশুর শরীরে। এদের মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৬০ জন।

সোমবার (২২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৯০ শিশুর মৃত্যুর খবর জানা গেছে। এদের মধ্যে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৩ শিশু। মোট শিশু মারা গেছে ৬৮৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৯৩ হাজার ৭৫৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এদের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ১৭১ শিশুর শরীরে। হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৬ শিশু।

হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৭ হাজার ৭৪৩ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ৭৩ হাজার ৯৮৫ শিশু।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত বগচড ৮৮৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং হাসপাতাল ছেড়েছে ১ হাজার ১৩৬ শিশু।

নাঈম/

অসংক্রামক রোগের আগ্রাসন মোকাবিলায় ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
অসংক্রামক রোগের আগ্রাসন মোকাবিলায় ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ
ছবি: খবরের কাগজ

দেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগের উচ্চ ঝুঁকি কমাতে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছে সরকারি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি।

সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারি সব বিভাগকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় রোগ প্রতিরোধে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় বলা হয়, দেশে অকাল মৃত্যুর ৫১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটছে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ‘সর্বাত্মক সরকারি’ পদ্ধতি গ্রহণের পথ বেছে নিয়েছে। 

সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘নিছক ওষুধ বা চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধের ওপরই এখন থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘জনসাধারণকে সুস্থ রাখতে হাঁটাচলা ও কায়িক পরিশ্রমের বিকল্প নেই। আমরা যদি মানুষকে সচেতন করতে পারি যে প্রতিরোধের মাধ্যমেই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, তবেই অসংক্রামক রোগের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

গত বছরের ২০ আগস্ট স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘যৌথ ঘোষণা’র ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি এই সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়। সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি সহায়তায় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হল- আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে একজন করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ‘কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। মনোনীত প্রতিনিধিদের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত বৈজ্ঞানিক, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও কার্যকর কৌশল বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে সব মন্ত্রণালয় নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে, যেখানে নিয়মিত তদারকি ও পরিমাপযোগ্য সূচক নির্ধারণ করা থাকবে।

সভায় ‘সব নীতিতে স্বাস্থ্য’- এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ এই উদ্যোগে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সভায় উপস্থিত সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং সচিবরা নিজ নিজ খাতের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশগুলো তুলে ধরেন।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/