পাঠ্যবই বা সিলেবাসভিত্তিক পড়াশোনার বাইরেও পৃথিবীর সেরা লেখকদের জানার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
শুক্রবার (৯ মে) সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী সভায় খুদে পাঠকদের তিনি এ পরামর্শ দেন।
অধ্যাপক আবু সায়ীদ বলেন, ‘খুদে পাঠক যখন পাঠ্যবই বা সিলেবাসভিত্তিক পড়াশোনার আনন্দ খুঁজে পাবে না, তখন সে যেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ লেখকদের রচনায় একটু চোখ বুলিয়ে আসে।’
কেবল কর্মজীবনের উদ্দেশে বই না পড়ে, আলোকিত মানুষ হতে সৃজনশীল বই পড়ার পরামর্শও দেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবু সায়ীদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবায়ের।
খুদে পাঠকদের অনুপ্রেরণা দিতে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচির আওতায় ৬৫টি স্কুলের ৫ হাজার ৯৪ শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। তারা সবাই ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
পুরস্কার বিতরণী সভায় অধ্যাপক আবু সায়ীদ বলেন, ‘পাঠ্যবই পড়তে পড়তে, মুখস্থ করতে করতে এমন ক্লান্ত হয়ে যাই, এমন বিরক্ত হয়ে যাই যে বই দেখলেই আর ভালো লাগে না। অথচ বইয়ের সঙ্গে পরিচয়টা হবে আনন্দের সঙ্গে। সেজন্য আমি মনে করি, পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বই পড়তে হবে। পৃথিবীর সেরা লেখকরা যা লিখেছেন, যা উপহার দিয়েছেন সেটা আমাদের জানতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যে নিয়মিত বই পড়ে, তার সামনে এক অন্য আলোর জগৎ উন্মোচিত হয়।’
এ সময় জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ খুদে পাঠকদের বলেন, ‘মনে রাখবে সবসময়, বইয়ের চেয়ে ভালো বন্ধু কেউ হয় না।’
সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবায়ের বলেন, ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এমন আয়োজন অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সৃজনশীল বই পাঠে বিনিয়োগে উৎসাহী করে তুলবে।’
শুক্রবার ঢাকা মহানগরীর ৩১টি স্কুলের ২ হাজার ৫৬৩ শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়।
তাদের মধ্যে স্বাগত পুরস্কার পেয়েছে- ১ হাজার ৫৪৫ জন, শুভেচ্ছা পুরস্কার পেয়েছে ৮২৬ জন, অভিনন্দন পুরস্কার পেয়েছে ১৪৭ জন, সেরা পাঠক পুরস্কার পেয়েছে ৪৫ জন। সেরা পাঠকদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে একজন বিজয়ীকে ২ হাজার টাকা সমমূল্যের বই দেওয়া হয়।
শনিবার (৯ মে) ঢাকা মহানগরীর ৩৪টি স্কুলের ২ হাজার ৫৩১ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হবে।
আয়োজকরা জানান, ১৬ মে বরিশালে ২ হাজার ৯৭৩ জন, ২৩-২৪ মে চট্টগ্রামে ৬ হাজার ২৮ জন এবং ১১ জুলাই খুলনায় ৩ হাজার ৯৪ জনকে পুরস্কৃত করা হবে।
জয়ন্ত/পপি/