নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে এবং নারীর স্বাধীন চলাফেরায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে যাত্রাবিরতি করা একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে দুজন নারীকে প্রকাশ্যে নিষ্ঠুর মারধরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদও জানিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার (১১ মে) এক সংবাদ বিবৃতিতে এ কথা জানায় সংস্থাটি। এতে বলা হয়, বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল লক্ষ করা যাচ্ছে, সেখানে নারীর চলাফেরার অধিকার সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। শত শত মানুষের সম্মুখে মারধরের ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সমাজে নারীর প্রতি সংবেদনশীলতা কোন পর্যায়ে এবং কারও কারও দৃষ্টিভঙ্গি কতটা নিষ্ঠুর, এই ঘটনা তার একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো জায়গায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হতে দেখা যাচ্ছে নারীকে। অথচ বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, কোনো ব্যক্তিকে স্বেচ্ছায় আঘাত করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দেশের নারী সমাজ একটি অস্থিতিশীল ও ভয়ার্ত পরিবেশের মধ্যে দিয়ে দিন পার করছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার সদিচ্ছার বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করতে হবে। কেননা, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং ঘৃণা ছড়ানোর যে প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। নারীর স্বাধীনতা, নারীর পছন্দ করার বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার, চলাফেরার অধিকার সবই সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকারগুলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সনদ দ্বারাও স্বীকৃত। যেখানে নারীর মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা সর্বোত্তম উপায়ে নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেখানে নারীকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, ‘নারীর জীবন, স্বাধীনতা ও সম্মান রক্ষা আমাদের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। মুন্সীগঞ্জে নির্যাতনকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সহিংসতার শিকার নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে, যেটি বৈষম্যহীন সরকারের রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। নারীর মানবাধিকার সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।’ নারীর অধিকারগুলো সমুন্নত রাখতে সরকারসহ সব পক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।