দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বোরো ধান উঠেছে। এ জন্য মিনিকেট চালের দাম কমেছে। কিন্তু দাম যেভাবে বেড়েছিল, সেভাবে কমেনি। ২৮ চাল আগের মতোই বেশি দামে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালও ৫৫ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৬০ টাকায় স্থির হয়ে আছে। আগের মতোই সেঞ্চুরিতে আটকে গেছে বেগুন, শজনে ডাঁটা ও কাঁকরোল। অন্য সবজিও ৮০ থেকে ৬০ টাকার কমে মিলছে না।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এখনো সেঞ্চুরির ওপরে বেগুনসহ তিন সবজি
সবুজ বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং তাল বেগুনের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শজনে ডাঁটার কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ থেকে ১৩০ টাকা।
আগের সপ্তাহের মতো অধিকাংশ সবজির কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙে, ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা, পটোল ৬০ থেকে ৮০ টাকার কমে পাওয়া যায় না। ঢ্যাঁড়সও ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। তবে লেবুর দাম কমে হালি ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা পেঁপে ৭০ টাকায় নেমেছে। মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. রমজান আলী ও হাতিরপুল বাজারের মো. রুহুল আমিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘গ্রীষ্মের সবজি বাজারে এলেও দাম বাড়তি। বেশি দামে কেনার কারণে চড়া দরেই বিক্রি করতে হচ্ছে। আড়তে কমলে তখন আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারব। এর বাইরে বলার কিছু নেই।’
কমেনি চালের দাম
হাওরসহ সারা দেশে বোরো ধান উঠেছে। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে মিনিকেট চাল কেজিতে ১২ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ৯৬ টাকা কেজির মোজাম্মেল কোম্পানির চাল ৮৪ টাকায় নেমেছে। মনজুর, রশিদ, সাগর কোম্পানির মিনিকেট ৯০ টাকা থেকে কমে ৭৫ টাকায় এসেছে। রোজার আগেও মিনিকেট চালের দাম কেজিপ্রতি ৭০ টাকার নিচে ছিল। বোরো মৌসুমেও আগের মতোই আটাশ চাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালও ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কৃষি মার্কেটের চাল বিক্রেতা সৈকত আলী বলেন, ‘মিনিকেট চালের দাম কমলেও ২৮ চালের দাম তেমন কমেনি। এখনো নতুন চাল ৫৮ টাকা ও পুরোনো ২৮ চাল ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।’ তবে পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে সেই চাল ৬৫ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।
৬০ টাকা দরে স্থির পেঁয়াজের দাম
চলতি মাসের শুরুতে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৬০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। গতকালও পাবনা ও রাজশাহীর পেঁয়াজ বিভিন্ন বাজারে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ও ফরিদপুরের পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। টাউন হল বাজারের খুচরা বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ভালো পেঁয়াজ ৬০ টাকার কমে বিক্রি হয় না। তবে অন্যগুলো ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের মতোই আলুর কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, দেশি আদা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, দেশি রসুন ১৩০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
কমেনি ডিম-মাংসের দাম
আগের সপ্তাহের মতো গতকালও বিভিন্ন বাজারে ডিমের ডজন ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়। মুরগির দামও স্থিতিশীল আছে। আগের সপ্তাহের মতোই ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে হাইব্রিড সোনালি ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টাউন হল বাজারের সোনালি ব্রয়লার হাউসের মো. ইদ্রিস আলী এবং হাতিরপুল বাজারের ফয়েজ খানসহ অন্যরা খবরের কাগজকে বলেন, আগের মতোই ব্রয়লার ১৭০-১৮০ টাকা ও সোনালি মুরগির দাম কমে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকায় বিক্রি হয়। খুচরা বিক্রেতারা বলেন, গরুর মাংসও আগের মতো ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের রুই-কাতলা মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা ও কাচকি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।