ঈদুল আজহা উপলক্ষে আজ বুধবার (২১ মে) সকাল থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রা শুরুর ১০ দিন আগের আন্তনগর ট্রেনের আসন অগ্রিম হিসেবে বিক্রি করা হবে। আগামী ৩১ মে যারা বাড়ি যাবেন, তারা আজ টিকিট পাবেন। আজ সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চল রুটের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। বেলা ২টা থেকে পূর্বাঞ্চল রুটের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। এবারও রেলযাত্রার আগাম সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদযাত্রার আগাম টিকিট বিক্রি চলবে ২৭ মে পর্যন্ত। সেদিন সর্বশেষ ৬ জুন রেলযাত্রার টিকিট বিক্রি করা হবে। রেলযাত্রার টিকিট পেতে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয় প্রতিবছর। রেলের ওয়েবসাইট বা রেলসেবা অ্যাপে দুই-তিন মিনিটের মধ্যে সব টিকিট উধাও হয়ে যায়। এ নিয়ে যাত্রীদের আক্ষেপের শেষ নেই। টিকিট কালোবাজারির অভিযোগও নতুন কিছু নয়।
এবার সেই পরিস্থিতি সামলাতে রেলপথ মন্ত্রণালয় কী করছে, জানতে চাইলে রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, ‘ঈদযাত্রার টিকিট পেতে প্রতি মিনিটে লাখ লাখ মানুষ সাইটে, অ্যাপে হিট করেন। এতে সার্ভারও স্লো হয়ে যায়। এই সময়ে যারা আগেভাগে সব তথ্য দেন, তারাই টিকিট পেয়ে যান। ন্যানো সেকেন্ডের ব্যবধানে তারা এগিয়ে থাকেন। আর আমাদের পক্ষে লাখ লাখ যাত্রীর চাহিদা পূরণও সম্ভব না। আমাদের কোচসংকট, আসনসংকট রয়েছে।’
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ৪৩টি আন্তনগর ট্রেনে প্রতিদিনের আসন সংখ্যা হবে ৩৩ হাজার ৩১৫টি। ঈদুল আজহায় রেলওয়ে এবার ১০টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে। এ সময় নিয়মিত আন্তনগর ট্রেনগুলো আগের মতোই চলবে। শিডিউল অনুযায়ী, যাত্রীবাহী চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ ও ২ চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি ঈদের আগে ৪-৬ জুন এবং ঈদের পরে ৯-১৪ জুন পর্যন্ত চলাচল করবে। চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ চট্টগ্রাম থেকে বেলা ৩টা ২০ মিনিটে ছেড়ে চাঁদপুর পৌঁছাবে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে। চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-২ চাঁদপুর থেকে রাত সাড়ে ৩টায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে।
তিস্তা ঈদ স্পেশাল-৩ ও ৪ ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি ঈদের আগে ৪-৬ জুন এবং ঈদের পরে ৯-১৪ জুন পর্যন্ত চলাচল করবে। তিস্তা ঈদ স্পেশাল-৩ ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় ছেড়ে দেওয়ানগঞ্জ পৌঁছাবে বেলা সাড়ে ৩টায়। তিস্তা ঈদ স্পেশাল-৪ দেওয়ানগঞ্জ থেকে বিকেল সাড়ে ৪টায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাবে রাত ১০টা ১৫ মিনিটে।
শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল- ৫ ও ৬ ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি শুধু ঈদের দিন চলাচল করবে। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫ ভৈরববাজার থেকে ভোর ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টায়। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৬ কিশোরগঞ্জ থেকে দুপুর ১২টায় ছেড়ে ভৈরববাজার পৌঁছাবে বেলা ২টায়।
শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৭ ও ৯ ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি শুধু ঈদের দিন চলাচল করবে। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৬ ময়মনসিংহ থেকে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল সাড়ে ৮টায়। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল- ৮ কিশোরগঞ্জ থেকে দুপুর ১২টায় ছেড়ে ময়মনসিংহ পৌঁছাবে বেলা ৩টায়।
পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ ও ১০ জয়দেবপুর-পার্বতীপুর-জয়দেবপুর রুটে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি ঈদের আগে ৪-৬ জুন এবং ঈদের পরে ৯-১৪ জুন পর্যন্ত চলাচল করবে। পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ জয়দেবপুর থেকে সন্ধ্যা ৭টায় ছেড়ে পার্বতীপুর পৌঁছাবে রাত আড়াইটায়। পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-১০ পার্বতীপুর থেকে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে জয়দেবপুর পৌঁছাবে বেলা ২টা ২০ মিনিটে।
তবে ঈদের পর পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ জয়দেবপুর থেকে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে পার্বতীপুর পৌঁছাবে বেলা ২টা ৫০ মিনিটে। পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-১০ পার্বতীপুর থেকে রাত ১০টা ২০ মিনিটে ছেড়ে জয়দেবপুর পৌঁছাবে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে।
৩ জুন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল করা হয়েছে।
রেলওয়ে জানিয়েছে, ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ৩০ মে থেকে। সেদিন ৯ জুনের ফিরতি যাত্রার টিকিট মিলবে। ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি চলবে ৫ জুন পর্যন্ত, সেদিন পাওয়া যাবে ১৫ জুনের আগাম টিকিট।
বিআরটিসির টিকিট মিলবে ২৪ মে থেকে।
ঈদযাত্রা উপলক্ষে আগামী ২৪ মে থেকে বিআরটিসির ডিপোগুলো থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ঢাকার মতিঝিল, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপো (চাষাঢ়া) থেকে বিভিন্ন রুটগুলোর (ঢাকা থেকে) অগ্রিম টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিআরটিসি জানিয়েছে, এবার মতিঝিল বাস ডিপো থেকে রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট রুটে; কল্যাণপুর বাস ডিপো থেকে আরিচা, পাটুরিয়া, ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, বরিশাল রুটে বাস চলাচল করবে। গাবতলী ডিপো থেকে রংপুর, বরিশাল, খুলনা, গোপালগঞ্জ, পাটুরিয়া, বগুড়া রুটে বাস চলাচল করবে। জোয়ারসাহারা বাস ডিপো থেকে রংপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নওগাঁ, বরিশাল, বগুড়া, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল রুটে বাস চলাচল করবে।
মিরপুর বাস ডিপো থেকে রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, মাওয়া, পাটুরিয়া, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গোপালগঞ্জ, ভাটিয়াপাড়া, ময়মনসিংহ রুটে; মোহাম্মদপুর বাস ডিপো থেকে রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, নওগাঁ, বগুড়া, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, পাটুরিয়া, বরিশাল ও গোপালগঞ্জ রুটে বাস চলাচল করবে।
যাত্রাবাড়ী বাস ডিপো থেকে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, ভাঙ্গা, ফরিদপুর, বরিশাল রুটে বিআরটিসির বিশেষ বাস চলাচল করবে।