মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলা এবং নিরাপদ অভিবাসনসহ এ সম্পর্কিত তৃতীয় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাজধানী ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শেষ দিনে দুই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট আগে তা বাতিল করা হয়।
জানা গেছে, রাজনৈতিক বিক্ষোভের কারণে লুৎফে সিদ্দিকী সাংবাদিকদের ব্রিফ করতে পারেননি। বৈঠকে উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের দেখে প্রায় ২০ মিনিট বৈঠকের কক্ষ থেকে বের হননি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সচিবকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার কথা বলেও ব্যর্থ হন। এ নিয়ে কিছুক্ষণ লুকোচুরির পর বৈঠক রুম থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের কিছু না বলে চলে যান সচিব।
জানা গেছে, এই বৈঠক থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে কর্মী প্রেরণসংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে লুৎফে সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রথম ধাপে গত বছর শ্রমবাজারটি বন্ধ হওয়ার কারণে সব প্রক্রিয়া শেষ করেও যারা যেতে পারেননি এমন প্রায় ৮ হাজার কর্মী মালয়েশিয়া যাবেন। তাদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় বোয়েসেলের মাধ্যমে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যায় অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও মালয়েশিয়া সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক নিতে আগ্রহী।
এর আগে গত মঙ্গলবার মালয়েশিয়া সরকারের ১৪ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসে। বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ড. ম. শাহরিন বিন উমর। বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম দিন নেতৃত্বে দেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। বৈঠকের দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।