আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা এবং কোরবানির পশুরহাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে নাগরিকদের ২১টি পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। ঈদযাত্রা ও কোরবানির সময় যাতে কেউ প্রতারণা, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার না হন, সে জন্য পুলিশের সদর দপ্তর থেকে এসব পরামর্শ ও নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) ইনামুল হক সাগর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ বাহন পরিহার করুন
ঘরমুখী যাত্রীরা ঈদের আগে ও পরে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন। এতে ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও ফেরিঘাটের শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়ানো সহজ হবে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও স্টিমারের ছাদে এবং ট্রাক, পিকআপ বা অন্য পণ্যবাহী যানবাহনে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন। হাইওয়েতে নছিমন, করিমন, ভটভটি ইত্যাদি যানবাহনে চলাচল পরিহার করুন।
চালককে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে বলবেন না। চালক যাতে নিয়ম মেনে গাড়ি চালায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। অপেশাদার, ক্লান্ত বা অসুস্থ চালক যাতে গাড়ি না চালায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান শনাক্তকরণ এবং নৌযান মালিকরা নৌযানগুলোতে ১০০-১৫০ ফুট লম্বা দড়িসংবলিত বয়া এবং লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখুন।
হাইওয়েতে ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চালাবেন না।
অপরিচিত লোক এড়িয়ে চলুন
যাত্রাপথে অপরিচিত কারও সঙ্গে কোনো যানবাহনে শেয়ারে চড়বেন না।
যাত্রাপথে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে অপরিচিত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়ে কোনো খাবার খাবেন না। হকার বা ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কোমল পানীয়, ডাব, শরবত বা অন্য কোনো খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।
যাত্রাপথে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টিসহ প্রতারক চক্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কাউকে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি বা প্রতারক চক্রের সদস্য বলে সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ পুলিশকে খবর দিন বা ৯৯৯-এ ফোন করুন।
নিজের আশপাশের যাত্রীদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখুন। কেউ কোনো বিপদে পড়লে তাকে সাহায্য করুন; কাউকে সন্দেহ হলে নিকটস্থ পুলিশকে জানান বা ৯৯৯-এ ফোন করুন।
পশুবাহী যান ও হাট ব্যবস্থাপনা
ট্রাক, লঞ্চ, নৌকা বা ট্রলারে অতিরিক্ত কোরবানির পশু বোঝাই করবেন না। মহাসড়কের ওপর এবং রেললাইনের পাশে কোরবানির পশুর হাট বসাবেন না।
পশুর হাটে নির্ধারিত হারে হাসিল পরিশোধ করুন। কেউ অতিরিক্ত হাসিল অথবা চাঁদা দাবি করলে পুলিশকে জানান।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পশুর চামড়াবাহী যানবাহন সীমান্তমুখী হলে সেগুলো পাচার হবার সম্ভাবনা থাকে। এরকম সন্দেহজনক ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশকে জানান বা ৯৯৯-এ ফোন করুন।
পশুবাহী পরিবহনের সামনে পশুর গন্তব্যস্থান/পশুর হাটের নাম লিখে ব্যানার টাঙিয়ে রাখুন।
আর্থিক লেনদেনে সতর্কতা
কোরবানির পশুর হাটে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করুন।
বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা (মানি এস্কর্ট) নিন।
জাল টাকা সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কোনো নোট জাল বলে সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানান।
বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, নগদ ইত্যাদি মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। কোনো অবস্থাতেই আপনার গোপন পিন নম্বর কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
শপিংমল বা মার্কেটের নিরাপত্তায় সিসিটিভি, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করুন।
সহায়তা নম্বর
যেকোনো প্রয়োজনে পুলিশ সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম: ০১৩২০০০১৩০০, ০১৩২০০০১২৯৯; হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তর: ০১৩২০১৮২৫৯৮; রেলওয়ে পুলিশ সদর দপ্তর: ০১৩২০১৭৭৫৯৮; নৌ-পুলিশ সদর দপ্তর: ০১৩২০১৬৯৫৯৮: র্যাপিড অ্যাশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ০১৭৭৭৭২০০২৯ নম্বর এবং জেলা পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করুন।