ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে আসন্ন ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা করছেন যাত্রীরা। সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইল প্রান্তে প্রায় ৪ বছরে ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এতে মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপসহ নানা কারনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। তবে প্রকল্প কর্তপক্ষের দাবি, ঈদে চারলেনের সুবিধা পাবে ঘরমুখো মানুষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার দাবী প্রকল্প কর্তপক্ষের। আর জেলা পুলিশ বলছে, নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা করতে ৬৫ কিলোমিটার মহাসড়কে পালাক্রমে সাড়ে ৬০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
সাসেক ২ সুত্রে জানা যায়, সাসেক ২ প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ফেইজ ৫ অংশে ৪ বছরে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ! ঈদে মহাসড়কের চার লেন চালুর কথা বললেও বেশির ভাগ অংশে মূল সড়কের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এখনও সড়কের কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। আসন্ন ঈদে উত্তরবঙ্গগামী পরিবহনগুলো স্বাভাবিকগতিতে চলাচল ও দ্রুত সেতু পারাপারের জন্য বাড়তি যমুনা সেতুতে বাড়তি টোল বুথ চালু করা হবে। এছাড়া সেতুর উপর দুর্ঘটনা কবলিত পরিবহন উদ্ধারে রেকার ব্যবস্থা রয়েছে।
গেল ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মহাসড়কের এলেঙ্গা হতে যমুনা সেতু পর্যন্ত তেমন কাজ করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে ঈদ ঘনিয়ে আসায় টুকটাক সড়কের কাজ করছে তারা।
মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা বলছেন, টাঙ্গাইল অংশ দিয়ে উত্তরাঞ্চলসহ আশে পাশের ২৩ জেলার লাখ লাখ মানুষ মহাসড়কটি ব্যবহার করে থাকে। আসন্ন ঈদে চার লেনের কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক গুণ বেশি যানবাহনের চাপসহ নানা কারনে চরম ভোগান্তি শঙ্কা রয়েছে।তবে পর্যাপ্ত পুলিশ থাকলে ও ট্রাক বন্ধ করে রাখলে যানযট হবেনা। এছাড়া এলোমেলো গাড়ি চলাচল বন্ধ করার দাবী জানিয়েছে যাত্রী ও চালকরা।
হানিফ পরিবহনের চালক মফিদুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত এই রোডে যাতায়াত করি। কিন্তু ঈদ আসলে এলেঙ্গার পর থেকে ভোগান্তি শুরু হয়। এই এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত মহাসড়কের কাজ চলার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এখন যদি কাজ শেষ হয় তাহলে ভালোভাবে বাড়ি যেতে পারব।
এনা পরিবহনের চালক রুবেল মিয়া বলেন, রাস্তায় হয়তোবা ভোগান্তি হবে না তেমন একটা কিন্তু এখন তো ডাকাতীর ভয় নিয়ে রাস্তায় চলতে হয়। দু দিন পর পর বাসে ডাকাতী হচ্ছে। ঈদে যেন পর্যাপ্ত পুলিশ থাকে মহাসড়কে সেই দিকে নজর দেওয়া জরুরি সরকাররের।
ফরিদ মিয়া নামে রাজশাহী গামী এক যাত্রী বলেন, গরু গাড়ি ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের গাড়ি বাদে ট্রাক যদি ঈদের আগে মহাসড়কে না চলে তাহলে গত ঈদের মতো যানযট মুক্ত ভাবে বাড়ি ফিরতে পারবো। আমরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে চাই।
এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই সৈকত হোসেন বলেন, আমরা হাইওয়ে পুলিশ সর্বদা মহাসড়কে টহলে থাকি। আশা করছি নিরাপদে ঘরমুখো মানুষ ফিরতে পারবে তাদের বাড়ি।
এলেঙ্গা থেকে যমুনাসেতু পর্যন্ত মহাসড়কে কাজ করা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের ব্রীজ ইঞ্জিনিয়ার সমরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ২০১৬ সালে একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর ২০২১ ডিসেম্বরে এই অংশের কার্যাদেশ পায় আব্দুল মোনায়েম নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ কাজ বাকি রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তারপরও ঈদে ভোগান্তি লাঘবে চারলেনের সুবিধার কথা বলছে এই কর্মকর্তা।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি লাঘবে মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হবে না। এছাড়াও স্বস্তিদায়ক ঈদ যাত্রা করতে ৬৫ কিলোমিটার মহাসড়কে প্রায় সাড়ে ৬০০ পুলিশ ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন করবে।
স্বাভাবিক সময়ে যমুনা সেতুতে ২৪ ঘন্টায় ১৮ হতে ২০ হাজার যানবাহন পারাপার হলেও বিগত ঈদে ২৪ ঘন্টায় ৫৫ হাজারের অধিক যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে। এবার ঈদে সেতু দিয়ে ৬০ হাজারের অধিক পরিবার পারাপার হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
জুয়েল/সিফাত/