জাতিসংঘের প্রতিনিধিত্বকারী, বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়ক, আইওএমের চিফ অব মিশন এবং জাতিসংঘ নেটওয়ার্কের (বিডিইউএনএনএম) কো-অর্ডিনেটর মি. ল্যান্স বোনো বলেন, ‘মানব পাচার চক্র চিহ্নিত ও ধ্বংস করতে হলে তাদের অর্থের পথ বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার, পুনর্বাসন ও সমাজে পুনঃঅন্তর্ভুক্ত করতে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সিভিল সোসাইটি, বেসরকারি খাত ও কমিউনিটি আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
বিশ্ব পাচারবিরোধী দিবস-২০২৫ উপলক্ষে বুধবার (৩০ জুলাই) সোনারগাঁও হোটেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশে অভিবাসনবিষয়ক বিডিইউএনএনএম আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
সেমিনারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, মানব পাচার একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক অপরাধ। এর সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে ভেঙে দিতে হবে। মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে। তিনি বলেন, ‘মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ প্রণয়ন করেছি এবং ২০১৭ সালে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিমালা প্রণয়ন করেছি। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানব পাচার প্রতিরোধবিষয়ক প্রটোকলে অনুসমর্থন দিয়ে তার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার মানব পাচার প্রতিরোধ আইনকে আরও কার্যকর করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় মানব পাচার প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষ’ গঠনের পাশাপাশি ‘মানব পাচার প্রতিরোধ তহবিল’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বাজেট বরাদ্দের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, ২০২৬-৩০ সালের জন্য চতুর্থ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ ছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে সাতটি মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে এসব ট্রাইব্যুনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি জাতীয় রেফারেল-ব্যবস্থা গঠনের কাজ চলছে, যাতে পাচার থেকে ফিরে আসা ভুক্তভোগীরা পূর্ণ সহযোগিতা, সেবা ও পুনর্বাসনের সুযোগ পান। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে তদন্ত, বিচার ও সাক্ষী সুরক্ষার বিষয়েও নজর দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুলিশের ইমিগ্রেশন ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদ উল্লাহ চৌধুরী, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব ড. আবুল হাসনাত, কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর সুজিন কং, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. বার্ন্ড স্প্যানিয়ার প্রমুখ।