বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), লালদিয়া টার্মিনাল ও বে-টার্মিনালে অপারেটর নিয়োগ দিতে চাই।
রবিবার (১০ আগস্ট) বন্দরের ৪ নম্বর গেট এলাকায় এজেন্ট ডেস্ক উদ্বোধন, কেইপিজেড গ্রিন চ্যানেল পরিদর্শন ও চট্টগ্রাম বন্দরের সিপিএআর গেটে ভেহিক্যাল ও কনটেইনার ডিজিটাল ডেটা এক্সচেঞ্জ সিস্টেমের উদ্বোধন করেন। এরপর বন্দরের ৪ নম্বর জেটি গেট এলাকায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, গত বছরের জুলাই মাস থেকে বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। অন্য ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। প্রায় এক মাস যান চলাচল বন্ধ ছিল। সেই কারণে বড় একটা ধাক্কা সামলাতে হয়েছে। তবে বাংলাদেশে যে বিশাল জনশক্তি রয়েছে, আমরা সেটাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। আমরা গ্লোবাল ফ্যাক্টরি খুলতে চাই। সেটা বাস্তবায়ন করতে গেলে চট্টগ্রাম বন্দরকে একদম নিখুঁতভাবে কাজ করতে হবে। বন্দরে ঠিকভাবে কাজ না হলে বেজা, বেপজা, হাইটেক পার্ক, শিল্পায়ন সব কিছুতে আমরা আটকে যাব।
তিনি বলেন, খুশির ব্যাপার হলো, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড এনসিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর বিগত এক মাসে ৩০ ভাগ কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে। এটা চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বড় পাওয়া। যদিও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, অপারেটর পরিবর্তন হলে দেশের কী হবে? টার্মিনালের কাজ ঠিকঠাক হবে কিনা? কিন্তু বাংলাদেশ নৌবাহিনী, ড্রাইডক লিমিটেড, চট্টগ্রাম বন্দর দারুণ কাজ করেছে। টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম (একটা জাহাজ ভিড়ে খালাস করে যেতে যে সময় লাগে) ১৩ শতাংশ কমে এসেছে।
আশিক বলেন, বৈশ্বিক তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরকে ভালো অবস্থানে থাকতে হবে আমাদের নিজেদের স্বার্থের কারণে। এ জন্য ভালো অপারেটরদের এখানে নিয়ে আসতে হবে। আমরা আজ একটা সফটওয়্যার সিস্টেম উদ্বোধন করেছি। তাই সব কিছু অটোমেটেড হয়ে যাবে। এর সুবিধা হলো, যে কাজটা করতে ৭ থেকে ১০ দিন লেগে যেত, এখন ঘরে বসে অল্প সময়ে অনায়াসেই করা যাবে। ব্যবসায়ীদের সময় বাঁচবে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরও কতটা উন্নতি করা যায়, সেটাই ভাবছি।
সব মিলিয়ে আমাদের পরিকল্পনা ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সব বন্দরের কার্যক্ষমতা ৪ থেকে ৫ গুণ বাড়ানো। এটার জন্য আমাদের যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। আমি মনে করি, আমরা তা নিচ্ছি। নইলে আমরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বর্তমান লক্ষ্য হলো, যাওয়ার আগে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কিছু চুক্তি স্বাক্ষর করে যেতে চাই। অর্থাৎ আমরা এমনভাবে কাজ করে যেতে চাই, যাতে কাজের চাকা ঘুরতে শুরু হবে, সেটা আর থামানো সম্ভব না। কারণ নির্বাচিত সরকার আসবে, তাদের সবকিছু গোছাতে সময় লাগবে। তাই আমরাই কিছুটা কাজ এগিয়ে দিয়ে যেতে চাই।
এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুকসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।