অন্তত ১০ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগে সামিট গ্রুপের পরিচালক ও গ্রুপটির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফরিদ খানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অপর আসামিরা হলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ, লেক্স কাউন্সিলের স্বত্বাধিকারী ও বিটিআরসির প্যানেল আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব, সাবেক কমিশনার (আইন) মো. আমিনুল হক বাবু, সাবেক কমিশনার (স্পেকট্রাম) শেখ রিয়াজ আহমেদ, সাবেক কমিশনার (অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব) ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী ও সাবেক কমিশনার (সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস) মো. দেলোয়ার হোসাইন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেন সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মুখপাত্র ও মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন।
মামলায় বলা হয়েছে, বিটিআরসির কর্মকর্তা ও লেক্স কাউন্সিলের প্যানেল আইনজীবীর সহযোগিতায় সামিট কমিউনিকেশনস বেআইনিভাবে ১৪ কোটি ২০ লাখ ৮৮ হাজার ১৩৬টি নতুন অর্ডিনারি শেয়ার ইস্যু করে। এর মধ্যে ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯১১টি শেয়ার দেওয়া হয় সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান ও তার পরিবারের মালিকানাধীন সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক গ্লোবাল এনারিংকে। এ ছাড়া ৪ কোটি ৪ লাখ ৯৫ হাজার ১১৯টি শেয়ার দেওয়া হয় মরিশাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেকুওয়া ইনফ্রাটেক লিমিটেডকে। বাকি ৭১ লাখ ৪ হাজার ৪০৬টি শেয়ার দেওয়া হয় আগের শেয়ারহোল্ডার জনৈক আরিফ আল ইসলামের অনুকূলে। এই শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানির মূলধন প্রায় চারগুণ বাড়ার পাশাপাশি মোট শেয়ার সংখ্যা ৫ দশমিক ০৭ কোটি থেকে বেড়ে ১৯ দশমিক ২৮ কোটিতে পৌঁছে। ফলে মোহাম্মদ ফরিদ খানের মালিকানা ৯৫ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশে নেমে আসে। অন্যদিকে, দুই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিকানা দাঁড়ায় ৭০ শতাংশে।
২০০১ সালের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী, শেয়ার হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, বিক্রিত শেয়ারের মূল্যের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ রাজস্ব পরিশোধ করতে হয়। ২০২২ সালে একই কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সরকারি রাজস্ব আদায়ে ওই আইনের প্রয়োগ থাকলেও এ ক্ষেত্রে বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব সামিট কমিউনিকেশন থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্য পরিশোধ করা সামিট কমিউনিকেশনসের জন্য প্রযোজ্য নয় মর্মে মতামত দেন। এই মতামতের ভিত্তিতে বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কমিশনাররা মিলে নিজেরা অবৈধ সুবিধা নিয়ে শেয়ারের অনুমোদন দেন। ফলে আসামিরা ১০ কোটি ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৬৫২ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেন।
উল্লেখ্য, রাজস্ব ফাঁকি দেওয়াসহ সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর খবরের কাগজে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজস্ব ফাঁকি, অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয়ে আলাদা আলাদা অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ইতোমধ্যে ১৯১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ, বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারিসহ বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে দুদক। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে মামলা করা হলো বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।